যোগাযোগমন্ত্রীর অভিযান ও বাস্তবতা
স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে একটি হিন্দি ছবি প্রায়ই দেখানো হয়। অনিল কাপুর অভিনীত ওই ছবিতে দেখানো হয়, একদিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়ে নায়ক অনিল কাপুর রাজ্যের বিভিন্ন দুর্নীতি দূর করতে উদ্যোগী হন। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে অনিয়মকারী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অনিল কাপুর ব্যবস্থা নেন। আমাদের মান্যবর যোগাযোগমন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের বোধহয় ওই ছবি অনেকবারই দেখেছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে নায়ক ছবির নায়কের মতোই কাজ দেখানোর চেষ্টা করছেন। এতে কতটা কী হচ্ছে, তা নিয়ে বিচার করার দায়িত্ব ভুক্তভোগীদের; কিন্তু এতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের যে লাভ হচ্ছে, তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের সাংবাদিকেরা যোগাযোগমন্ত্রীর কল্যাণে প্রতিদিন একটি করে সংবাদ আইটেম পেয়ে যাচ্ছেন, তাদের জন্য এরচেয়ে আনন্দের ব্যাপার আর কী হতে পারে?
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, যোগাযোগমন্ত্রীর এই কার্যক্রমে আস্থা রাখতে পারছেন না দেশবাসী। গত পরশুদিন বাংলামোটর-ফার্মগেট এলাকার যানজট দর্শনে গিয়ে যোগাযোগমন্ত্রীর অভিজ্ঞতাও তাই বলছে। সেদিন ইফতারের আগ দিয়ে যোগাযোগমন্ত্রীর যানজট দর্শন তাদের মনের মধ্যে কেবল ক্ষোভই তৈরি করেছে। আস্থা তৈরি করতে পারেনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বিআরটিএর কার্যালয়, সড়ক ভবন ও বিভিন্ন রেলস্টেশনে ঝটিকা সফর দিয়ে কাজ দেখানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু নির্মম সত্য হচ্ছে, যোগাযোগমন্ত্রী চলে যাওয়ার পরপরই ওই জায়গাগুলো আগের পরিস্থিতিতেই ফিরে গেছে।
ঢাকার যানজটের অন্যতম কারণ ফিটনেসবিহীন বাস। প্রচলিত অর্থে মুড়ির টিন নামে পরিচিত এই লক্কর-ঝক্কর মার্কা বাসগুলো ঢাকার রাস্তায় অনিয়মের চূড়ান্ত করে। ঢাকার রাস্তায় প্রায় সব সড়ক দুর্ঘটনার কারণও এই বাসগুলো। ভুয়া ড্রাইভং লাইসেন্সধারী এই বাসগুলোর চালকদের চালনা দেখলে মনে হয়, আমরা নৈরাজ্যের মধ্যে বাস করি, দেশে কোনো আইন-কানুন নেই। মানুষকে জিম্মি করে যা-খুশি তাই করে গেলেও এগুলোর বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারেনি। বরং এসব বাসের দাপটে ঢাকার রাস্তা থেকে হারিয়ে গেছে অনেক আরামদায়ক, বৃহৎ পরিসরের বাস কোম্পানি। আমি কেবল একটি উদাহরণ দিতে চাই। ২০০৪ সালে ঢাকার রাস্তায় আজিমপুর-উত্তরা রুটে বেভকো নামের একটি এসি বাস নামানো হয়েছিল। বাস কম থাকলেও এই বেভকোয় যাত্রী সংখ্যা ছিল প্রচুর। ভদ্রোচিত গণপরিবহনের অভাব যে শহরে, সে শহরে বেভকো পেয়েছিল প্রচুর জনপ্রিয়তা। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই বেভকো বাস আর রাস্তায় চলতে দেখা যায় না।
এটা সত্যি, বর্তমান সরকার সড়ক-পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের শীর্ষ নেতা জনাব শাহজাহান খানের হাতে জিম্মি। এই শ্রমিক নেতা মন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই গণপরিবহনের নৈরাজ্য সর্বকালের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এই শক্তিশালি শ্রমিক নেতার দাপটে আমাদের যোগাযোগমন্ত্রী দারুণ অসহায়। খুব সম্ভবত অসহায় আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও। কারণ, ওই শাহজাহান খানের ওপর আস্থা আছে বলেই তিনি তাঁকে মন্ত্রী বানিয়েছেন। এখন শাহজাহান খান প্রধানমন্ত্রীর গলার কাঁটা কিনা, সে বিষয়ক কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।
সরকারের চেয়ে শক্তিশালি কারো হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাংলাদেশে দেখা যায়, সরকারের চেয়েও অনেক ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নিজেদের শক্তিমত্তা প্রমাণ করেছে। সরকার ইচ্ছা করলেই বিআরটিসির মাধ্যমে ঢাকা শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থায় বিপ্লব নিয়ে আসতে পারে; কিন্তু সেটা সরকার কখনোই করেনা, অদৃশ্য শক্তিশালি গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থে। আমি এর আগে এই ব্লগে কমিউটার রেল নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম। কমিউটার রেল ঢাকার যানজট নিরসনের অন্যতম সেরা উপায় হতে পারে, কিন্তু সরকার স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কারণে ওটা নিয়ে তেমন কোনো উচ্যবাচ্য করছে না। সরকার ব্যস্ত ফ্লাইওভার বানানো নিয়ে; ফ্লাইওভার নির্মাণ নিশ্চয়ই কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করবে !
যোগাযোগমন্ত্রীর উচিত, রাজনৈতিক স্টান্টবাজি না করে সরকারের মেয়াদের এই শেষ সময়ে ছোট-খাট হলেও কিছু কাজ করে দেখানো। স্টান্টবাজি যে মানুষরে মধ্যে কোনো আবেদনই তৈরি করতে পারেনা, এটা বোঝার ক্ষমতা তাঁর থাকা উচিত। কারণ, তিনি মোটেও অনাভিজ্ঞ কোনো রাজনীতিবিদ নন।
যোগাযোগমন্ত্রী বলেছেন, আগামী ছয়মাসের মধ্যে তিনি ঢাকার যানজটকে একটা সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে নিয়ে আসবেন। কীভাবে নিয়ে আসবেন, সেটা অবশ্য আমরা জানি না। যেহেতু যোগাযোগমন্ত্রীর কথা, তাই আমরা তাতে আস্থা রাখতে চাই। ছয়মাস পর যদি তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না করতে পারেন, তাহলে আমরা ধরেই নেব, তিনি স্টান্টবাজিতে ওস্তাদ; কাজে নন। বর্তমান মহাজোট সরকারের অন্য সব মন্ত্রীদের মতোই তিনি কাজের চেয়ে কথায় বেশি পারদর্শী।
অপেক্ষার পালা কিন্তু শুরু করে দিয়েছি.. সময় মাত্র ছয় মাস।





এর আগে অবশ্য আরেক মন্ত্রীর কাছে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম শুনছিলাম... দেখা যাক কি হয়
তবে তার আগে যোগাগেযোগ মন্ত্রী বলুক যে তার কাছে কিছু পৌছে না
... তাইলে বুঝমু তার অনেস্টি 
যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ। আমরা ম্যাংগো-পিপল শুধু দেখে যাই
সংবাদ আইটেম হওয়ার একটা নিদারুন নেশা থাকে, আপনে বুঝবেন কি তা????
এমন শো-অফের সুযোগ আর কই পাওয়া যায়?
যোগাযোগমন্ত্রীর পেরতিবাদ এইযে এইখানে http://www.amadershomoy2.com/content/2012/08/08/news0205.htm
এই ঢাকা শহরে মানুষ যে কি কষ্টে বসবাস করে সেটা রোজই টের পেতে হয়। সব মন্ত্রী, সরকার সবার উপর থেকেই আস্থা হারিয়ে গেছে। কাউকে দিয়েই কিছু হবে না। হলে জাহান্নামই হবে।
অভিমান না করে তার উচিত ছিলো নোয়াখাইল্লা বুদ্ধি কাজে লাগানো!
পুরাই রাজনৈতিক স্টান্টবাজি
~
মন্তব্য করুন