শো-বিজে হাইব্রীড ‘তারকা’ ও আমাদের মিডিয়া
বাংলাদেশে এখন হাইব্রীড অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সময়। বেশ ভালো সময় । গত একবছর ধরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এক হাইব্রীড হিরো একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে যাচ্ছে। ওই হাইব্রীড হিরো নাকি তাঁর অভিনীত ছবিগুলোর প্রযোজকও। ‘গাঁজাখরি’ গল্পের ওই ছবিগুলোতে ওই ‘হিরো’র ভুল উচ্চারণের সংলাপ শোনার জন্যই নাকি ঢাকাসহ সারাদেশের মানুষ প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ভেঙে পড়ছে। দুই আড়াইঘন্টা হলে ‘হো’ হো’ করে হেসে বেরিয়ে এসে জনতা আবার দেদার গালিও দিচ্ছে। গত কিছুদিন ধরে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ওই হাইব্রীড হিরো বিভিন্ন টকশোতে উপস্থিত হয়ে দেশের মানুষকে চলচ্চিত্র ও অভিনয় সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়াও শুরু করেছে। ওই টকশোগুলোও ইতিমধ্যে তাঁর উচ্চারণের ক্যারিশমায় দমফাটানো হাসির উেস পরিণত হয়েছে। হাইব্রীড ‘হিরো’কে নিয়ে চ্যানেল মালিক ও অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারীদের উদ্দেশ্যটা এই মুহূর্তে ঠিক পরিষ্কার নয়। যতদূর জানি, ওই হাইব্রীড হিরো অগাধ অর্থের মালিক ও সে ইতিমধ্যে এদেশের নিম্নরুচির শোবিজ জগতের মজা পেয়ে গেছে। তাঁর হিসেবহীন অর্থকে টার্গেট করে ‘মৌ-লোভী’রা তাঁর চারপাশে ভীড় করেছে কীনা-সেটা আমার কাছে পরিস্কার নয়। কিন্তু আমাদের ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো এই হাইব্রীড হিরোকে প্রমোট করে যে সুরুচির পরিচয় দিচ্ছেনা, সেটা বলাই বাহুল্য।
আমাদের দেশে একজন উত্তম কুমার, একজন সুচিত্রা সেন, অমিতাভ বচ্চন, রাজেশ খান্না কিংবা একজন আশা ভোঁসলে তৈরি হয়না। যে নামগুলো বললাম, তারা কিন্তু একদিনে তৈরি হয়নি। এই নামগুলো বাদ দিন, আমাদের দেশের রাজ্জাক, ববিতা, ফারুক, ইলিয়াস কাঞ্চন, সাবিনা ইয়াসমীন, সুবর্ণা, আফজাল, হুমায়ূন ফরীদি, আসাদুজ্জামান নূর কী একদিনে তৈরি হয়েছে? দিনের পর দিন সাধনা, আর অধ্যবসায়ের ফল এই নামগুলো। কিন্তু কেউ কী একবারও ভেবে দেখেছেন হাইব্রীডদের ভীড়ে আমাদের মিডিয়াগুলো এই নামগুলো মাসে কয়বার উচ্চারণ করে? কলকাতার বাংলা চ্যানেলগুলো খুলেছি আর উত্তম কুমারের কথা শুনিনি-এমনটা খুব কমই হয়েছে। একজন সুস্থ রুচির ছেলে বা মেয়ে কিন্তু অভিনেতা-অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখলে একজন উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন কিংবা রাজ্জাক, ববিতাই হতে চাইবে। হাইব্রীড অভিনেতা-অভিনেত্রী বা গায়ক-গায়িকা হতে চাইবে না। আমাদের দেশে হাইব্রীডদের নিয়ে এতটাই মাতামাতি, যে অর্গানিকদের কোনো পাত্তা কোথাও নেই। এদেশে শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ‘আইকন’ তৈরি হবে কীভাবে?
সাকিব আল হাসান আমাদের দেশের সেরা খেলোয়াড়-এনিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি তাঁর পারফরম্যান্স দিয়েই নিজেকে এ পর্যায়ে এনেছেন। কিন্তু তাঁকে নিয়ে আমাদের মিডিয়াগুলোর বাড়াবাড়ি দেখলে মনে হয় এদেশে সাকিব আল হাসান ছাড়া কোনো খেলোয়াড় নেই; অতীতেও কোনো খেলোয়াড় ছিলনা। খেলাধুলার ক্ষেত্রে সালাউদ্দিন, নান্নু, আশীষ ভদ্র, কায়সার হামিদ, মোনেম মুন্না, ওয়াসিম, সাব্বির, মহসিন কিংবা রকিবুল, আকরাম, মিনহাজুল আবেদীন, আমিনুল ইসলাম, হাবিবুল বাশার, আতহার আলী খানদের বর্তমান প্রজন্মের স্মৃতিপট থেকে মুছে দেওয়ার যে কর্মকাণ্ড এদেশের মিডিয়া হাতে নিয়েছে, তার ফল কখনোই শুভ হতে পারেনা। সাকিব আল হাসানের যে অর্জন, তা অনেক। কিন্তু আমরা সাকিবকে এখানেই থামিয়ে দিতে চাইনা। আমরা চাই তিনি আমাদের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে নিয়ে আনুন। এদেশের অনন্ত প্রজন্ম যেন সাকিব আল হাসানকে তাঁর অর্জন ও কীর্তি দিয়ে মনে রাখে, সাকিবকে আমাদের সে লক্ষ্যেই হাঁটতে দেওয়া উচিত।
প্রথমেই হাইব্রীড অভিনেতা-অভিনেত্রীদের প্রসঙ্গে বলেছিলাম। বলেছিলাম, হালের এক হাইব্রীড হিরোর কথা। অভিনয় না জেনে ‘তারকা’ বনে যাওয়ার যে অসুস্থ প্রবণতা এদেশে চলে আসছে বেশ কিছুদিন ধরে, সেজন্য দায়ী সংবাদ মাধ্যমগুলো। এদেশে এত সহজেই তারকা হয়ে যাওয়া যায় যে বাবার টাকা খরচ করে একটা নাটক করে কিংবা একটা গানের অ্যালবাম বের করেই লোকজন ইদানিং সংবাদ-মাধ্যমগুলোর অফিসে পাগলের মতো ধর্ণা দেওয়া শুরু করেছে। এই ব্যাপারটি বন্ধ করার বোধ হয় সময় এসেছে। আর হালের ‘হাইব্রীড হিরো’র চারপাশে ‘মৌ-লোভী’দের যে ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সেটা ওই মৌ-লোভীদের ব্যক্তিগত অভিরুচির ব্যাপার। ওটা নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই। কিন্তু ওই ‘মৌ-লোভী’রা যেন মিডিয়াকে ব্যবহার করতে না পারে, লক্ষ্য রাখার বিষয় ওটাই।
(পুরো লেখাটিই আমার ব্যক্তিগত চিন্তা ও মতামত...এরসঙ্গে অন্যকিছু গুলিয়ে না ফেলার অনুরোধ রইল সকলের কাছেই)





১. হাইব্রিডের সংজ্ঞা কী?
২. আপনি কার কথা বলছেন বুঝতে পারছি; কিন্তু যতোই ভাঁড়ামো হোক, তার নন-স্ট্যান্টার্ড সিনেমাগুলোর কারণে এফডিসির একঘেঁয়েমি থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া যাচ্ছে- সে ব্যাপারে আপনি কী মনে করেন?
৩. মুক্তবাজার অর্থনীতিতে মিডিয়ার কাছ থেকে আপনি আসলে কী আশা করেন? কীসের ভিত্তিতে আপনি মনে করেন তারা হাবিবকে বাদ দিয়ে আব্বাসউদ্দীনের গান শোনাবে?
৪. সাকিব খানের উদাহরণটা এই লেখায় কীভাবে প্রাসঙ্গিক হলো বুঝলাম না। অলরাউন্ডার র্যাংকিং-এ এক নম্বরে থাকা একজনকে নিয়ে যে ধরনের মাতামাতি হওয়ার কথা- তা-ই তো হচ্ছে। সালাহউদ্দীন বা অন্য যাদের কথা বলছেন, তাঁরা তাঁদের সময়ে যথেষ্ট কভারেজ পেয়েছেন। একসময়ে তাঁরা যথেষ্ট ভালো করেছেন, তাই বলে তাদের নিয়ে সবসময়ই মাতামাতি করতে হবে? খেলোয়াড় সালাহউদ্দীন যেরকম অর্গানিক ছিলেন, সংগঠক সালাহউদ্দীনকে তো সেরকম হাইব্রিড হিসেবেই দেখা যাচ্ছে!
৫. মিডিয়াকে নিয়ে যে ক্ষোভগুলোর কথা আপনি বলতে চাইছেন, সেটা বুঝতে পারছি। আপনার প্রোফাইল থেকে বুঝলাম আপনি একজন সাংবাদিক। এখন বলুন, যখন একটি বিষয়ে কভার স্টোরি করেন, তখন সেটা কতোজন 'পাবলিক খাবে' সেটার কথা মাথায় রাখেন, নাকি অর্গানিকতার কথা মাথায় রাখেন?
গৌতম.. আপনার সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। হাইব্রীড বলতে ডিকশনারি কী বলে সেটা অন্য আলোচনা, কিন্তু মিডিয়াতে হাইব্রীড ভিন্ন অর্থে ব্যবহূত হয়। হাইব্রীড বলতে সাধারণত হঠাত্ করে উড়ে এসে জুড়ে বসা ব্যক্তিদের বোঝায়। কোনো প্রসেসের মধ্য দিয়ে না এসে বিভিন্ন উত্স থেকে ফেবার পেয়ে যারা হঠাত্ ‘কিছু একটা বনে যায়’ তাদেরই হাইব্রীড বলে। রাজনীতির ক্ষেত্রে হাইব্রীড তাদেরই বলে যারা, জনগণের সঙ্গে সম্পর্কহীন, কোনো জনভিত্তি নেই, কিন্তু হঠাত্ করে বড় নেতা হয়ে গেছে উচ্চ পর্যায়ের আশীর্বাদ নিয়ে। শোবিজেও ইদানিং এমন ব্যক্তিবর্গের দেখা পাওয়া যাচ্ছে। যারা কোনো প্রসেসের মধ্য দিয়ে আসছে না। এরা কখনোই বেশিদিন টিকবে না।
এফডিসির নিম্ন মানের ছবি বর্জন করে পরিবর্তনের আশায় আপনি যদি ভুল-উচ্চারণে সংলাপ বলা অভিনেতার অভিনয়কে ‘পরিবর্তন’ মনে করেন, তাহলে সত্যিই কিছু বলার নেই।
সাকিবের ব্যাপারটি অপ্রাসঙ্গিক নয়। ‘বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার সাকিব’ এজন্য মাতামাতি হবে-এটা নিয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু আপত্তি তাকে নিয়ে বাড়াবাড়িতে। সাকিবকে নিয়ে ফিচার আপনার কী প্রতিদিন পড়তে ভালো লাগবে? সাকিব সংবাদ হিসেবে প্রতিদিন থাকতে পারে, কিন্তু ফিচার হিসেবে নয়। পুরনোদের কথা মাঝ-মধ্যে বলতে হয়; মাঝে-মধ্যে নানা-দাদাদের কথাও মনে করতে হয়, এটাই নিয়ম, অতীতকে একেবারে ভুলে গেলে অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা হয়..
সাংবাদিক হিসেবে বলতে চাই, খালি ‘পাবলিকের খাওয়া’ নিয়ে ভাবলেই হয় না, মাঝে-মধ্যে পাবলিককে চিন্তার খোরাকও যোগাতে হয়, সাংবাদিকদের দায়িত্ব এটাই....আপনারও দায়িত্ব খালি হাবিবের গান না শুনে মাঝে-মধ্যে আব্বাসউদ্দীনের গানও মাঝে-মধ্যে শোনা...
১. রাজনীতির ক্ষেত্রে হাইব্রিড বলাটা যতো সহজ (কারণ এখানে হাইব্রিড হওয়াটা একমাসের ব্যাপার, নির্বাচনের দিনটাই মুখ্য), শিল্পসাহিত্যের ক্ষেত্রে ততোটা বোধহয় নয়। যে 'জনপ্রিয়' শিল্পীকে আমরা দেখি, তার পেছনে হয়তো আগের দশটা বছরের সাধনা (তা সেটা যে রকমেরই হোক) বিরাজ করে, যেটা রাজনীতিতে টাকা থাকলে না করলেও চলে। সুতরাং শিল্পসাহিত্যে হাইব্রিড বলাটা ঝুঁকিপূর্ণ। শাকিব খান বিবেচনায় ইলিয়াস কাঞ্চন হয়তো অর্গানিক, কিন্তু ছবি গোলাম মোস্তফা বিবেচনায় ইলিয়াস কাঞ্চন হাইব্রিড হতে পারেন। শোবিজে যারা আসছেন, তারা বেশিদিন টিকবেন কিনা সেটা সময় বিবেচনা করবে; কারণ গড়পড়তা মান নিয়ে অনেকে দিনের পর দিন টিকে থাকেন; অপরদিকে সাধারণ মানের কারণে দীর্ঘদিন টিকে থাকার রেকর্ডও আছে অনেকের।
২. আমি এটাকে পরিবর্তন হিসেবেই দেখছি (এফডিসির অভিনেতারাও হাস্যকর উচ্চারণ করেন- এই বিবেচনায়ও তাদের নিয়ে হাসাহাসি করা যায়- ইলিয়াস কাঞ্চন তো সাধারণ কথাও কাঁদতে কাঁদতে বলতেন!), যদিও সেটাকে ইতিবাচক পরিবর্তন বলা যাবে কিনা মুশকিল! যারা গত পাঁচ বছরে সিনেমা হলে যায় নি, অন্তত হাঁসির জন্য হলেও ওই ভদ্রলোকের সিেনমা দেখতে যাচ্ছে, সেটাকে কি আপনি ইতিবাচক হিসেবে দেখবেন না? মানুষকে সিনেমামুখী করার মূল দায়িত্ব এফডিসি-সংশ্লিষ্টদের, তারা যখন সেটা পারছেন না এবং অন্য আরেকজন নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সেটা করে দেখাচ্ছেন, তখন তাঁকে এটুকু কৃতিত্ব দিতেই চাই।
৩. সাকিবের প্রসঙ্গটা অপ্রাসঙ্গিক বলেছি এ অর্থে যে, এখন পর্যন্ত তাঁর অর্জন অতুলনীয়। তবে অবশ্যই তাঁকে অহেতুক পত্রিকার পাতায় দেখতে ভালো লাগবে না, তবে যখন দেশের সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকা তিল পরিমাণ উসিলা পেলে আফ্রিদিকে নিয়ে নাচানাচি করে, সেটা দেখার চাইতে সাকিবকে দেখা অনেক বেটার।
৪. সাংবাদিকরা পাবলিকের খাওয়াই দেখে- পাবলিকের চিন্তার খোরাক জোগানোর সময় তাদের হয় না - পাবলিক হিসেবে এটা আমার উপলব্ধি। আাপনার মন্তব্যটা আদর্শ সাংবাদিকের মতো লাগলো, কিন্তু সফল সাংবাদিকের মতো না! পত্রিকাগুলো পাবলিককে খাওয়ানোর জন্য সবকিছুই করতে পারে (প্রায় সাত বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থেকে বলা, অন্যভাবে নিবেন না প্লিজ); আদর্শবাদী সাংবাদিকতা ধরে রেখেছে শুধু বামপন্থী আর ধর্মপন্থী কাগজগুলো। একটা উদাহরণ দিই- দেশের ৬০ লাখ মানুষ পত্রিকা পড়ে বলে প্রচারণা চালায় যে পত্রিকাটা, সেই পত্রিকাটি তাদের প্রথম পৃষ্ঠার লোগোর দু'পাশের দুটো ছবি দেয়। একদিন দেখি সেখানে আফ্রিদির ছবি কিন্তু ভেতরে যে খবর সেটার কোনোই নিউজভ্যালু নেই (আমার সাংবাদিকতা জীবন থেকে এইরকম কয়েকটা শব্দ শিখেছি); পুরনো খবর ছাপিয়ে দিয়েছে। তাদের একজন সিনিয়র পর্যায়ের সাংবাদিককে বিষয়টি বলা হলে তিনি নির্বিকারভাবেই জানালেন- আফ্রিদির ছবি পাবলিকে খায়! এই অবস্থায় পাবলিককে চিন্তা করানোর বিষয়ে আপনার মন্তব্য শুনতে ভালো লাগলো, - কিন্তু এই পর্যন্তই! ...আর এই লেখা মিডিয়া নিয়ে, পাবলিক আব্বাসউদ্দীন শুনে কিনা, সেটা অন্য প্রসঙ্গ, তাই সেই আলোচনায় গেলাম না আর!
গৌতম-দার সাথে মোটামুটি একমত। সেটা নিয়ে পরে বলছি।
নাইর ইকবাল, আমি আপনার মতামতের উপর শ্রদ্ধা রেখেই বলছি।
১. সাকিব যদি আলোচনার কেন্দ্রে আসে, থাকে এবং তার ধারাবাহিকতা চলতে থাকে- তাকে নিয়ে মাতামাতি হবে- এটাই স্বাভাবিক। এতে দোষের কিছু দেখছি না। এমন কোন পাগলামি হয় নাই যে আমাদের "মুখ বন্ধ" রাখতে হবে। এমনকী সাকিব কিন্তু তার এই শীর্ষ র্যাংকিং-এর ধারাবাহিকতার মাঝেও অধিনায়কত্ব হারিয়েছে। আবার মাগুরাতে তার বাসাতে পাবলিক ঢিলও ছুড়েছে। এতো কিছুর পরেও যদি এই ছেলেটা বাংলাদেশের নাম অন্তত একটি পজিটিভ লিষ্টের শীর্ষে তুলে আনে, তাকে উৎসাহ দেয় আমাদের কতর্ব্য।
২. যার কথা বলছেন. সেই হিরো আর যাই হোক, অনেক টাকা খরচ করে সিনেমা বানাচ্ছে। তার সিনেমার ইন্সট্রুমেন্ট, অ্যাকশন সিন, মেদহীন নায়িকা, গানের মান- সবই ভালো। তার ব্যাক্তিগত উচ্চারণ খারাপ সত্য- কিন্তু সে চেষ্টা করে চলেছে। এখানকার কোন হিরো সঠিক ইংরেজিতে কথা বলে সেটাও প্রশ্ন, কি করে "বুয়েট থেকে ডাক্তার" হয়ে পাশ করে সেটাও রহস্য। এই উচ্চারণ খারাপ হিরোটাই চলচ্চিত্রের ঝকঝকে ব্যাপারটা আবার নিয়ে এসেছে। সেটা যেভাবেই হোক। তবে সেটা বেশি দিন থাকবে না- কারণ এই লোকের টাকার দিকে আমাদের "চালু" সিনেমার লোকদের নজর মনে হয় পড়েছে.. চারটি সিনেমার মধ্যে উন্নতির ক্রম নিম্নগামী। তারপরও এই লোকটির কারণেই মনে হয় চলচ্চিত্রের লোকেরা গেটআপ-মেকিং নিয়ে ভাবছে। যার প্রমাণ কিছু নতুন সিনেমা। একটা কথা মাথায় থাকা ভালো, দাগ থেকে দারুণ কিছু যদি হয়- তাহলে দাগ তো ভালোই..
৩. অতীতের সব ভালো, এখন সব খারাপ- তা ভাবলে আগানো অসম্ভব। পরিস্থিতির বিচারে সব তো হণ্টকহীন হবে না. তাই এর মাঝ থেকেই ভালোটাকে খুঁজে নেয়া জরুরী। এক কালে বুলবুল সাহেব ভালো করেছেন বলে ক্রিকেটে এখন যারা ভালো করছে তাদের নাম নেয়া যাবে না তা নয়। এখন মিডিয়া বেশি, প্রচারণাও হবে বেশী। এটাই স্বাভাবিক। ছোট্ট দেশ, অনেক মিডিয়া, সামাজিক নেটওয়ার্কের জয়জয়কার আছে বলে একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে আলাপ-ঝড়া চলবে, তারমানে এই নয় এসবের আড়ালে একজন মহান লেখকের কীর্তি চাপা পড়ে যাবে। আমাদের সমস্যা কি জানেন? আমরা কাউকে সহজভাবে নিতে পারি না। সবকিছুতে আপত্তি। অমুকে নোবেল পাইলো কেন! তমুকে দুই বিয়া করলো কেন? ঐ জনের কন্যা "হাতাকাটা" জামা পড়ে কেন? ওরে নিয়া এতো খবর ক্যান ইত্যাদি ।
৩. আমাদের অবশ্যই হাবীব এবং আব্বাস উদ্দীন একসাথে শোনা কর্তব্য। কিন্তু এটা শোনানোর দ্বায়িত্ব কিন্তু মিডিয়ার। আজকাল কোন নাটকের সমালোচনা হয় না- হেডলাইন হয় "এই নাটক সাড়া জাগিয়েছে"। কেনো সাড়া জাগিয়েছে- সেটার কোন ব্যাখ্যা প্রতিবেদক দেয় না। গানের অ্যালবাম বিক্রি দিয়ে জনপ্রিয়তা নিধর্ারণ করে মিউজিক কোম্পানি- শ্রোতার গুনগুন করা দিয়ে নয়।
সব কিছু পাঠক, দর্শক, শ্রোতার উপর চাপিয়ে দিলে চলবে না। যারা চাপানোর চেষ্টা করছে দায় তাদের। যার বাসায় আব্বাস উদ্দীন, শাহনাজ রহমতউল্লাহর কালেকশন নেই সে আশা করতে পারে না যে এঁরা এসে তার বাসায় গান গেয়ে যাবে!
সবশেষে বলবো, আমাদের সবার পজিটিভ বিষয়টিকে মাথায় রেখে ভালো বিষয়টাকে প্রমোট করতে হবে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য। এই তো।
তবে হ্যা, আমিও আপনার সাথে একমত- ভালোটাকে গ্রহণ করে খারাপ বিষয় বর্জন করা বাঞ্ছণীয়।
আবার কথা হবে, আমার কোন কথায় দু:খ পেলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
লেখা ও আলোচনা দুইই খুব ভাল পেলাম
তুলনাটা ভাল লাগেনাই।
তবে, লেখার পেছনে আপনার ভাবনা টা ভাল লাগছে।
আলোচনা চলুক। ভালো লাগছে খুবই।
আলোচনা ভালো লেগেছে!
সিনেমা দেখিনা অনেকদিন।
আপনার সাথে একমত।
আবার এটাও সত্য যে, হাস্যকর এই হাইব্রীড তারকার সিনেমা দেখার জন্য আমরা এখন হলে যাই।
আফ্রিদি বা সানি লিওনের ছবি ছাপা হওয়ার চেয়ে প্রতিদিন সাকিব আল হাসানকে দেখতেই আমার বেশী ভালো লাগবে।
আলোচনা চলুক।
গৌতম দা এবং রূম্পা আপুর কথা গুলোর মতই আমার অনুভূতি! তাই আর কিছু বলছিনা! শুধু বলবো, হাইব্রীড যেই তারকার কথা আপনি বলছেন তার কাজ গুলোকে যদি আমরা সুন্দর করে গ্রহন করি তাহলে এই হাইব্রীড তারকা কে দেখেই তার থেকে ভালো একটি তারকা এই সিনেমা জগতে প্রবেশ করার সাহস পাবে! সুন্দর কাজ করার অনুপ্রেরনা পাবে!
মন্তব্য করুন