যানজট নিরসনে কমিউটার রেল
ঢাকা শহরের যানজট দূর করা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কেউ বলেন বেশি করে ফ্লাইওভার বানাতে। কেউ বলেন প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ করতে। কেউবা বলেন রিকশা উঠিয়ে দিতে। মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে , বাস ট্রানজিট বা বিআরটি ইত্যাদিও জনপ্রিয় সমাধান। কিন্তু এগুলো সবই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হওয়ায় স্বল্পমেয়াদে ঢাকার যানজটের সমাধান থেকে যাচ্ছে অনেক দূরের বিষয়। কিন্তু ঢাকা নগরবাসীর তো যানজট নিয়ে হাপিত্যেশ অবস্থা। এই মুহূর্তে সবচেয়ে সহজ সমাধানটা কী কেউ ভেবে দেখেছেন?
এখানে একটি কথা বলে রাখা ভালো। আমি যে সমাধানটির কথা বলব, সেটা যে আমিই প্রথম বলছি বা ভাবছি, এমনটা ভাবার কোনোই কারণ নেই। বরং এটা আগেও অনেকবার আলোচিত হয়েছে। কিন্তু মেট্রোরেল বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা বিভিন্ন আকারের ফ্লাইওভার নিয়ে যে পরিমাণ আলোচনা, এটি নিয়ে তেমন একটা নেই। আমি মেট্রোরেল বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিরোধী নই, কিন্তু আলোচ্য সমাধানটির ব্যাপারে সরকার বাহাদুর যদি একটু যত্নশীল হতেন, তাহলে ঢাকার অসহনীয় যানজট থেকে নগরবাসীকে খুব দ্রুতই নিস্তার দেওয়া যেতো। স্বল্প মেয়াদে ওটাই হতো সবচেয়ে ভালো সমাধান।
ব্যাপারটি আর কিছুই নয়। কমিউটার রেল সিস্টেম। ঢাকা শহরের মাঝখান দিয়ে যে রেললাইনটি বিদ্যমান, সেটি দিয়েই চালু হতে পারে দুর্দান্ত এক কমিউটার রেল ব্যবস্থা। যা ঢাকার জনসংখ্যার বিকেন্দ্রীকরণেও রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
ঢাকার মাঝখান দিয়ে যে রেললাইনটি আছে, সেটির ব্যপ্তি উত্তরে ভৈরব ও দক্ষিণে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বিদ্যমান। ঢাকা শহরের মধ্যে এই রেললাইনটি টঙ্গী, উত্তরা, খিলক্ষেত, বারিধারা, বনানি, মহাখালি, তেজগাঁও, মগবাজার, মালিবাগ, খিলগাঁও হয়ে এটি মতিঝিল-এই ১১টি এলাকার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। একটু পদ্ধতিগতভাবে, বৈজ্ঞানিক উপায়ে যদি এই রেলপথটি দিয়ে প্রতি ঘন্টায় একটি ট্রেন আসত এবং যেত, তাহলে উত্তর দক্ষিণমুখি একটা বিশাল অংশের মানুষের যাতায়ত হয়ে উঠত অনেকটাই সহজ ও আরামপ্রদ। এই ১১টি এলাকায় যদি একটু খরচ করে স্টেশন তৈরি করা হতো, তাহলে ঢাকার মানুষ সত্যিকার অর্থেই এই পথে যাতায়তের জন্য গাড়ি বা অন্যান্য বাহনে চড়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করত না, তাদের জন্য ট্রেনই হয়ে উঠত যাতায়তের জন্য সবচেয়ে প্রিয় মাধ্যম। এতে করে রাস্তার ওপর চাপও কমে যেত অনেকটাই। যানজটও নেমে আসতো সহনীয় পর্যায়ে।
আপনারা হয়ত অনেকেই জানেন, জাপানি সাহায্য সংস্থা-জাইকা ঢাকায় মেট্রোরেল স্থাপনের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। ঢাকার বিভিন্ন রুট নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে তারা মেট্রোরেলের জন্য ৬টি রুট চূড়ান্ত করে। ঢাকার বিদ্যমান রেললাইনটিকে তারা এমআরটি-৪ নামে অভিহিত করে এই রুটের সম্ভাব্যতা চূড়ান্ত করে। তবে তারা আপাতত উত্তরা তৃতীয় পর্যায় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত এই ২১ কিলোমিটার পথে মেট্রোরেল স্থাপনের জন্য ঋণ দেবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এমআরটি-৬ নামের এই রুটটিতেই বর্তমান সরকার মেট্রোরেল স্থাপনের চিন্তা-ভাবনা করে আসছে। এই রুট নিয়ে বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের ব্যাপারটি হয়ত সবারই জানা। বিমানবাহিনীর আপত্তির মুখে বিজয় স্বরনি দিয়ে মেট্রোরেলের রুট যেতে পারছে না দেখে এই মুহূর্তে ব্যাপারটি নিয়ে চলছে বিস্তর সময় ক্ষেপন। জাইকার ঋণই এই মুহূর্তে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। যদিও নতুন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অচিরেই জাইকার সঙ্গে মেট্রোরেল বিষয়ে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। আমরা ওবায়দুল কাদেরের কথায় বিশ্বাস রাখতে চাই।
আবার কমিউটার রেলের প্রসঙ্গে ফিরি। মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ যদি এই মুহূর্তেও শুরু করা হয়, ওটা শেষ হতে হতে লেগে যাবে, আরও ছয়-সাত বছর। এই সময়ে ঢাকা শহরে যানজট সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে। তাই এই মুহূর্তে জাইকার সম্ভাব্যতা যাচাইকৃত এমআরটি-৪ রুটে কমিউটার রেল স্থাপন করাই হবে সরকারের জন্য ঢাকার যানজট দূরীকরণের সবচেয়ে সহজ ও দ্রুততর উপায়।
ব্যাপারটি নিয়ে বিস্তর আলোচনার ক্ষেত্র রয়ে গেছে-এনিয়ে অবশ্য সন্দেহেরে বিন্দুমাত্র অবককাশ নেই। তবে, কমিউটার রেল এই উপমহাদেশের অনেক বড় বড় শহরেই যানজট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কলকাতা, মুম্বাই শহরে একটা বিশাল জনগোষ্ঠী তাদের কমিউটার রেল ব্যবহার করে শহরের বাইরে থেকে অফিস করে থাকে। এতে করে এই দুই শহরের বিকেন্দ্রীকরণেও তাদের কমিউটার রেল রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
সরকারের উচিত ব্যাপারটি ভেবে দেখা। ফ্লাইওভার করে অর্থ অপচয় না করে কমিউটার রেলের মতো বিশাল মাত্রার গণপরিবহন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়াই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত উপায়। কিন্তু সরকার সড়ক পরিবহন ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ব্যাপারটিকে আড়ালেই রেখেছে।
এ ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমগুলোরও উচিত সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা। কমিউটার রেলই হতে পারে ঢাকার যানজট সহনীয় করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম।






ঢাকা- নারায়নগঞ্জ বিদ্যমান ট্রেন লাইনের কাম্য ব্যবহার করলেই অনেকটা জ্যাম কমে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না বাস মালিক আর চাঁদাবাজ রাজনৈতিক নেতাদের স্বার্থে। যদিও যাত্রীদের দৃষ্টিকোণ থেকে, ঢাকা- নারায়নগঞ্জের ট্রেন ভাড়া বাস ভাড়ার তিন ভাগের এক ভাগ মাত্র।
একই কারণে ঢাকায় কমিউটার রেল বাস্তবায়ন করা হবে না, কিংবা করতে দেয়া হবে না। তবে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কোন বিশেষ শক্তিশালী পক্ষ যদি মনে করে যে এই প্রজেক্ট করে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া সম্ভব, তাহলে এটা বাস্তবায়ন হতেও পারে!
~
কিছুই হবে না। জ্যামে বসে বসে মোবাইলে অপেরা মিনিতে ইন্টারনেট চালানোই এক মাত্র নিয়তি!
ঢাকার ভিতর যদি অহরহ ট্রেন চলে তো সারাক্ষন লেভেল ক্রসিং আটকানোই থাকবে, রাজপথে আর গাড়ি চলবে না ।
এমনিতেই আন্তঃনগর ট্রেনের জন্য কয়েকস্থানে সারাদিন জ্যাম লেগেই থাকে ।
উড়ন্ত রেলপথ বাদ দিয়ে উচিত ঢাকার সীমানা ঘেষে নতুন রেলপথ বসানো।
আমাদের সরকার বাহাদুররা যানজট কমাতে চায় কীনা সন্দেহ আছে। আর কমাতে চাইলে এইধরনের পদক্ষেপ অনেক আগেই নিতো।
কেবা কার সারা সারা
যানজট কমাইলে গাড়ির থিক্কা চান্দা উঠাতে কষ্ট হয়
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-08-07/news/279845
চিনতটা খারাপ না
মন্তব্য করুন