তখন নিভিয়া গেছে মণিদীপ, চাঁদ শুধু খেলে লুকোচুরি
বিকেলে আচমকা এক ঝড়। কালবৈশাখী, সঙ্গে শিলাবৃষ্টি। বিদ্যুত চলে গেলো। বিদ্যুত গেলেও সঙ্গে সঙ্গেই জেনারেটর চালু হয়ে যায়, তাই খুব একটা টের পাই না। ঝড় আর ফেইসবুক একসঙ্গে চলতে লাগলো।
একসময় ঝড় থামলো, কিন্তু ঝিরিঝিরি বৃষ্টি রয়ে গেলো। নামলো সন্ধ্যা। দুঘন্টা টানা সার্ভিস দিয়ে একসময় জেনারেটরটাও নিভে গেলো। বোধহয় ট্রান্সমিটার বিকল।
চব্বিশঘন্টা জেনারেটরের কারণে বিদ্যুতহীন থাকা হয়না অনেকদিন। আজ হুট করে অন্ধকার হয়ে যাওয়ায়, সঙ্গে বউ পোলাপান শ্বশুড়বাড়ি থাকায় একা অন্ধকার বাড়িতে প্রথমেই হাতড়ে খুঁজলাম মোম। পেয়েও গেলাম দুটো। একটা জ্বালিয়ে কম্পিউটার অফ করে বসে বসে ভাবছি এখন কী করা যায়? কিছু ফোন যোগাযোগ হলো।
এর মধ্যে পাশের ফ্ল্যাট থেকে দরজায় টোকা। অতিরিক্ত মোম থাকলে একটা যেন দেই, বাচ্চা কাঁদছে। দিলাম। তখন মনে হলো এই মোমটাই বা আর শুধু শুধু জ্বালিয়ে রাখা কেন? দিলাম নিভিয়ে। চারদিকে অন্ধকার নেমে এলো। জানালা দিয়ে বাইরের নীলচে আলো আসছে মৃদু। বসে বসে তাই দেখতে লাগলাম।
আর তখনই মনে হলো, অনেক অনেকদিন আমি এরকম সময় কাটাই না। কোনো কাজ নেই কিছু নেই, শুধু চুপ করে বসে আছি... এরকমটা হয় না অনেকদিন।
ঘুম থেকে উঠেই একহাতে খবরের কাগজ আর হাতে কম্পিউটার। টয়লেটে যখন যাই, তখনও হাতে বই বা খবরের কাগজ। যখন খাই, তখনও চোখ কম্পিউটারের মনিটরে বা বইয়ের পাতায়, অথবা নূপুরের সঙ্গে কোনো আলোচনায়। বাইরে যখন বের হই, তখনও গাড়িতে বসে বইপড়া বা ফোনে যোগাযোগ গুলো সেরে ফেলা... আবার যখন বাড়ি ফিরি হয় নিধি নূপুরের সঙ্গে খেলা গল্প করা আর নাহলে কম্পিউটার তো আছেই। রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্তই। ঘুমানোর সময়ও ঘরে বাতি জ্বলে, আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বই পড়া চলে।
সব মিলিয়ে এরকম শুধু চুপ করে বসে থাকাটাই হয় না। হয় না নিজের মধ্যে ডুব দিয়ে থাকা। হয়না অন্ধকার ঘরে জানালায় বসে থাকা। অতীতে ডুবে যাওয়া। চোখ বন্ধ করে চুপ করে বসে থাকা। হয় না অনেকদিন।
মনে পড়ে গেলো সেই দিনগুলো। উত্তরায় একটা বাড়িতে থাকতাম। বেশ বড় একটা ঘর ছিলো আমার। [আমরা বন্ধু গ্রুপের পুরানো সবাই সেই বাড়িতে গেছে, আড্ডা দিছে] সন্ধ্যা হলেই সেই বাড়ির সব আলো নিভিয়ে দিয়ে এক কোনে একটা ল্যাম্পশ্যাড জ্বেলে একপাশে চুপ হয়ে বসে থাকতাম কোনো এক তরল পদার্থ নিয়ে। সেল অফ করে দিতাম মাঝে মধ্যে। অথবা বারান্দায় গিয়ে বসতাম। গান বাজতো কেবল। খুব সুন্দর একটা গোল বারান্দা ছিলো আমার। অনেক বড়। বাড়ির সামনে তেমন বড় কোনো ভবন না থাকায় আর একটা মাত্র কিন্ডারগার্টেন স্কুল থাকায় সামনে শুধুই আকাশ, বাতিও তেমন জ্বলতো না আশেপাশে... খুব নিজের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া হতো।
আজ অনেকদিন পর আমি কিছু সময়ের জন্য নিজের মধ্যে হারিয়ে যেতে পারলাম। অনেকদিন পর।
আজ প্রথম বিদ্যুত চলে আসায় বিরক্ত হলাম।
শিরোনাম কৃতজ্ঞতা: জীবনানন্দ দাশ





ফার্মগেটের ধারে কাছে বাসা নাকি?
আমি ইস্কাটনে থাকি
ব্যাপক হিংশিত হইলাম। সত্যি সত্যি। কতদিন একা থাকা হয় না।
হুমমম ...... একলা থাকতে বহুত মজা
অন্তত কিছু সময়ের জন্য যে একা হয়ে যাওয়াটা খুব দরকার, তা টের পেলাম আজকে। এই সামান্য আধাঘন্টা আমার জীবনের অনেক বড় একটা পাওয়া হয়ে গেলো।
মানুষ কিন্তু একা ই...বুকের ভেতর গোপন বাক্সে সবাই একা...একা আসি একা চলে যাই...অনেক ভিরেও হঠৎ একা হয়ে যাই...কস্ট পেলে বুঝতে পারি কত একা...!
ধন্যবাদ
আজকে অফিস থেকে ফেরার পথে এই ঝড়ের মধ্যে পড়লাম।এত ভয় পেয়েছি!!!!মনে হচ্ছিলো কিছু একটা জোড়ে এসে আমার মাথার উপড় পড়বে।
আপনার লেখা পড়ে মনটা কেমন বিষন্ন হলো।কত কি মনে পড়ে!কত কি হারিয়ে যায়!!
আমার মাথায় কিন্তু পড়েছে। বড় একটা হার্ডবোর্ড। কিন্তু তবু আমি সময়টা এনজয় করেছি পর্যাপ্ত
একাই কত সময় পার হল , হিসাব রাখিনি।
ঈর্ষা
তাইলে আমার ফোন কল টাও বিরক্ত দিছে। বুঝলাম
দোষ আপনার না। আমিই ভুলে গেছিলাম ফোনটা অফ করতে
তিন ঘন্টা পর কারেন্ট আসলো। আমার প্রায়ই একা থাকা হয়। যেকারনে আজকে আলাদা কিছু মনে হয় নাই। শুধু এত লম্বা সময় কারেন্ট না থাকায় ল্যাপ্টপের চার্জ শেষ হয়ে গেল। তাই বেশ কিছুটা সময় অন্ধকারে শুয়ে কাটাতে হলো। অনেকটা আপনার সেই উত্তরার রুমের মতন। পোষ্ট ভাল্লাগছে।
আপনাকেও ঈর্ষা
হলে থাকার কারণে আমাদের লোডশেডিং ১ সেকেন্ড করে। মাঝে মাঝে এর পরিমাণ বাড়লেই শুরু হয় চিৎকার চেঁচামেচি। এরই মাঝে বার দু'য়েক সুযোগ হইছে ছাদে গিয়ে অন্ধকার দেখার। অন্ধকার ব্যাপারটা কি করে উপভোগ করে, তা ঠিক জানা নাই, কিন্তু, এটা জানি, একলা থেকে অন্ধকারে চাঁদ দেখাটা খুব সৌভাগ্যের।
অনুভূতির চমৎকার প্রকাশে অভিনন্দন।
অন্ধকার না দেখতে পেলে আলোও দেখবেন না মশাই
মুক্ত আকাশে চাঁদ থাকলে আর অন্ধকার কেমনে হইলো; অন্ধকার উপভোগ করতে হয় অমাবস্যায়
মনে পড়ে ,ছোটকালে যখন নানাবাড়ি যেতাম ,রাতের বেলা পুকুরপাড়ে নানা আমাদের গপ্প শোনাতেন ...চারদিকে শুনশান নীরবতা ,থেকে থেকে তক্ষকের ডাক ,জোনাকীদের মিটিমিটি আলো ,সব মিলিয়ে আমার কাছে রীতিমত অপার্থিব মনে হত ...এই পোস্ট পড়ে আমি আচমকাই সেখানে চলে গেলাম ।
আহ, অন্ধকারে সহস্র জোনাক পাখী? আমার একটা প্রিয় স্মৃতি মনে করায়ে দিলেন...
কখনো কখনো একাকীত্ব উপভোগ্য কখনো কখনো দূর্বিষহ; মানুষ খুবি আজব
বয়স আর চলৎশক্তি অনুকূলে থাকলে একাকীত্ব উপভোগ্য, নইলে বীভৎস
ভয়ংকর সত্য কথা!
আসলেই; এই ব্যাপারটা এইখানে খুব বেশি চোখে পড়ে
জানিনা বুড়াকালে কী করবো...
বই, তরল, খাদ্য, গান আর সিনেমা দিয়া আমারে দ্বীপান্তরে পাঠায়ে দেন। আমি আর এই জনবহুল নগরে ফিরতে চামু না সম্ভবত
একা থাকতে চাইলেই সংসারে অশান্তি........তোমার মন অন্য কোথাও, অন্য কারো কাছে
বেচারা নীড়দা, বিরাট ফেসিলিটির মধ্যে পড়ে গেছেন
খুব ভালো লাগলো লেখাটা, আঁধারময় একাকীত্বের স্মৃতি কমবেশী সবারই আছে, এমন লেখা পড়লে ঘুম ভেঙ্গে নড়েচড়ে ওঠে আবার।
আঁধারই জোগাড় করা মুশকিল এখন। এতো বাতি জ্বলে চারপাশে বিকেল না হতেই, অসহ্য লাগে। বাসার সামনেই ট্রাফিক সিগন্যাল; চোখ ঝলসানো আলো, মাঝে মাঝে রাতের বেলা মনে হয় ঢিল মেরে কয়েকটা স্ট্রিটলাইট ভেঙ্গে দিই!
একটা পুরনো বাংলা গান শেয়ার করতে চাইলাম এই লেখায়; মিডিয়াফায়ারের ফল্ট দেখাচ্ছে। আপাততঃ এই একটা ইন্সট্রুমেন্টাল http://www.esnips.com/doc/7c4a654f-9b0e-4c04-b89f-ccdd72d29673/Main-Aur-Meri-Tanhai nbsp;(সম্ভবতঃ শিবকুমার শর্মা-হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া জুটির কম্পোজিশন)। একাকীত্ব নিয়ে কাইফি আজমি অথবা জাভেদ আখতার কার যেন কবিতা আছে- ম্যায় আউর মেরি তানহায়ি...
ম্যায় আউর মেরি তানহায়ি... মনে হয় জাভেদ আখতারের--
http://www.youtube.com/watch?v=Q2ULL5YTMno
দৌড়ের উপর থাকায় গানটা শোনা হলোনা এখন, রাতে শুনবো।
আঁধারের সময়গুলো দারুণ। আমি আলোকিত মানুষ হতে চাই না
শ্রীকান্ত র একটা গান আছে - "আমি একটু আমার সাথে একলা হতে চাই" --মনে পড়লো লেখাটা পড়ে ।
---
নজরুল ভাই , বইমেলা নিয়ে একটা পোস্টে আপনার কিছু কমেন্ট আমার অনেক কাজে লেগেছে । কিছু হালকা উন্নাসিকতা দূর হয়েছে । থ্যাংকস ।
ভালো থাকবেন ।
ধন্যবাদ একলব্যের পুনর্জন্ম... আপনার উপলব্ধিকে স্বাগতম
আপনার উত্তরা বাসাটা সত্যি মিস করি ... এবির একটা পার্মানেন্ট আড্ডার জায়গা ছিল... কত আড্ডা রান্না করে খাওয়া হয়েছে... আহা .... মিসিং
নতুন বাড়িতে আড্ডা দিতে কে নিষেধ করছে?
নজরুল ভাই, একটা সময় আমরা বড় তিন ভাইবোন, বেশ রাতে এগারোটা বারোটার দিকে বারান্দায় বসতাম বাতি নিভিয়ে, চারধার তখন নিরিবিলি, শব্দ কম, পাশের বাড়ির আলোও নিভছে। বারান্দা ভর্তি চাঁদের আলো আর জগজিত সিং এর আপকা ঘার হ্যায় আয়া জায়া কারো, হাসকে বুলায়া কারো .........আর নিস্তব্ধ আমরা
কোথায় আজ সেই দিন। এখানেতো পোড়ার বিদ্যুৎও যায় না, নিজেকে ফিরে পাওয়াও হয় না, কিন্তু বড্ড সেই দিনগুলোকে মিস করি
মন্তব্য করুন