হিস্ট্রি বিহাইন্ড দ্যা সিক্সটিন ডেইজ এ্যাকটিভিজম
প্যাট্রিয়া মিরাবাল, মিনার্ভা মিরাবাল এবং মারিয়া তেরেসা মিরাবাল নামের তিনবোনের জন্ম ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের সিবাও অঞ্চলে। ত্রুজিল্লোর একনায়কতান্ত্রিকতার বিপক্ষে শক্ত অবস্থান এবং নারীর অধিকার আদায় বিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহনের জন্য এই তিন বোনকে স্প্যানিশ ভাষায় ডাকা হতো "লাস মারিপোসাস" (প্রজাপতি) নামে। রাফায়েল লিওনিদাস ত্রুজিল্লো ছিলেন তৎকালীন সময়ে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের একজন সামরিক শাসক যিনি সম্পূর্ন অগনতান্ত্রিকভাবে নিজেকে রাস্ট্রপতি ঘোষনা করেছিলেন। তার শাসনামলকে ২০ শতকের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী শাসনামল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গনতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এবং নারীর প্রতি শোষনরোধে বিভিন্ন বৈপ্লবিক কর্মকান্ড পরিচালনা করার জন্য স্বামীসহ মিরাবাল ত্রয়ীকে বহুবার কারাবরন করতে হয়েছিল। ১৯৬০ সালের ২৫ শে নভেম্বর কারারুদ্ধ স্বামীদের সাথে দেখা করার জন্য রুফিনো থেকে পুয়ের্তোপ্লাতায় যাওয়ার পথে ত্রুজিল্লোর গোপন পুলিশ বাহিনী কর্তৃক এই ত্রয়ী গুপ্তহত্যার শিকার হয়। পরে খাড়া এক পাহাড়ের পাদদেশে তিন বোনের লাশ খুঁজে পাওয়া যায় শ্বাসরোধ করা এবং ছিন্নভিন্ন অবস্থায়। হত্যাকান্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশের মানুষ হতবিহ্বল হয়ে পড়ে এবং তারা প্রকাশ্যে ত্রুজিল্লো পতন আন্দোলন শুরু করে। মিরাবাল বোন ত্রয়ীর এই নিষ্ঠুর হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে জাতিসংঘ ১৯৯৯ সালে ২৫ শে নভেম্বেরকে "আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস" (International Day for the Elimination of Violence Against Women) হিসেবে ঘোষনা করে।
গত এগারো বছর ধরে বিশ্বব্যাপী "সিক্সটিন ডেইজ এ্যাকটিভিজম" বা "১৬ দিনের কর্মসূচী" নামে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়ে আসছে। মূলত সচেতনতা বৃ্দ্ধি, আইন প্রনয়ন এবং তা প্রয়োগ, অত্যাচারিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নারীর সাথে সঙ্ঘটিত যে কোন ধরনের সহিংসতা রোধের লক্ষ্য নিয়ে বছরে একবার ২৫ শে নভেম্বের "আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস" থেকে ১০ ডিসেম্বের "আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস" পর্যন্ত এই ১৬ দিনের কর্মসূচী পালিত হয়। দক্ষিন আফ্রিকাতে বহুদিন থেকেই নারী ও শিশুর সাথে সঙ্ঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনা রোধ এবং নারী নির্যাতনের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরীর উদ্দেশ্যে প্রচারনা চালানোর জন্য এই কর্মসূচী পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশও সম্প্রতি "সিক্সটিন ডেইজ এ্যাকটিভিজম" পালন করা শুরু করেছে। নভেম্বর ২৯, আন্তর্জাতিক নারী মানবাধিকার দিবস (International Women Human Rights Defenders Day); ডিসেম্বের ১, বিশ্ব এইডস দিবস; ডিসেম্বের ৩, আন্তর্জাতিক শারীরিক প্রতিবন্ধী দিবস (International day for disabled persons); ডিসেম্বের ৬, মন্ট্রিল হত্যাযজ্ঞ দিবস; ইত্যাদিসহ আরো বেশ কিছু দিবস এই ১৬ দিনের কর্মসূচীর মধ্যবর্তী সময়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।





ভালো লাগলো প্রিয়। এর পরেরগুলোও ধারাবাহিকভাবে দিতে থাকো। আমি প্রিয়তে রাখবো, দরকার হলেই এখান থেকে রেফারেন্স ইউজ করবো
ধন্যবাদ আপু
। আমি লেখা দিয়ে ভয়ে থাকি মনে হয় আমার কিছুই হইতেসেনা
।
ধন্যবাদ প্রিয়। প্রচলিত নয় এমন ইতিহাস ও তার কর্যক্রম ব্লগে আসা উচিত।
ধন্যবাদ আপু
। আপনি ভাল আছেন?
অজানা একটা বিষয় জানলাম। আরেকটু এলাবোরেট করলে আরও ভালো লাগতো...
লিখতে আলসেমি লাগে
।
আইলসামী বড়ৈ খ্রাপ জিনিস
জানিতো। তবু যে লাগে
। কি আর ক্রা
?
চমৎকার...
বৃত্তর সাথে একমত... আরেকটু বাড়লে কি ক্ষতি হয়?
ধন্যবাদ টুটুল ভাই
।
অনেক তথ্যবহুল একটি পোস্ট চমত্কার করে লিখেছেন।
ধন্যবাদ পড়ার জন্য
।
একটু অন্যরকম আর তথ্যবহুল পোস্ট।
.... আরেকটু বেশি হলে ক্ষতি কী ??
থ্যাংকু
ওয়েলক্যু ওয়েলক্যু
।
আপনি এই ধরনের লেখায় জোর দেওয়া উচিত।
সত্য ????????

প্রয়োজনীয় তথ্য...
ধন্যবাদ
।
এই প্রসঙ্গে একটা চমৎকার পোস্ট রয়েছে এইখানে..
http://www.sachalayatan.com/shashtha_pandava/28580
জেনে ভাল লাগলো। অসংখ্য ধন্যবাদ প্রিয়।
মন্তব্য করুন