সম্পদ অর্জনের চেয়ে সৎভাবে বেঁচে থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মানুষ সারা জীবন কত কিছুই না অর্জনের পেছনে ছুটে বেড়ায়! বাড়ি, গাড়ি, জমি, টাকা-পয়সা একটা সময় এসবের পেছনে ছুটতে গিয়ে অনেকেই ভুলে যায়, জীবনের আসল হিসাবটা কোথায়। মনে রাখবেন, আপনি যে সম্পদ আজ নিজের বলে ভোগ করছেন, কাল সেই সম্পদ অন্য কারও হাতে চলে যেতে পারে। আপনার গড়ে তোলা বাড়িতে অন্য কেউ বসবাস করবে, আপনার জমানো টাকা অন্য কেউ খরচ করবে। কিন্তু আপনার জীবনের প্রতিটি কাজের দায়ভার আপনাকেই বহন করতে হবে। কারও হক নষ্ট করে, কাউকে ঠকিয়ে, মিথ্যা বলে কিংবা অন্যের চোখের পানি ঝরিয়ে হয়তো অনেক সম্পদের মালিক হওয়া যায়। কিন্তু সেই সম্পদ দিয়ে প্রকৃত শান্তি কেনা যায় না। বাইরে থেকে জীবনটা খুব সুন্দর মনে হলেও ভেতরে একটা অশান্তি থেকেই যায়। কারণ অন্যায়ের ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠা সাফল্য কখনো প্রকৃত সম্মানের হতে পারে না।
আজ যাঁর হাতে অনেক টাকা, কাল তাঁর হাতে কিছুই নাও থাকতে পারে। আজ যিনি ক্ষমতাবান, কাল তাঁকেও অসহায় হতে হতে পারে। মৃত্যু কাউকে ধনী-গরিব, ক্ষমতাবান-সাধারণ মানুষ হিসেবে আলাদা করে দেখে না। সবাইকেই একদিন এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। তাই সম্পদ অর্জন করুন, নিজের পরিবারকে ভালো রাখুন, সন্তানদের জন্য কিছু রেখে যান। তবে কারও অধিকার কেড়ে নিয়ে নয়, কারও সঙ্গে প্রতারণা করে নয়, অন্যায়ের পথে হেঁটে নয়।
একবার ভেবে দেখুন, আপনার চলে যাওয়ার পর মানুষ আপনাকে কীভাবে মনে রাখবে? আপনার রেখে যাওয়া সম্পদের জন্য, নাকি আপনার সততা, ভালো ব্যবহার ও মানুষের উপকার করার জন্য? দুনিয়াতে সম্পদের হিসাব মানুষ রাখে, কিন্তু জীবনের প্রতিটি কাজের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে। তাই সম্পদের পাহাড় গড়ার পাশাপাশি নিজের আমলনামাটাও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করুন। কারণ সম্পদ উত্তরাধিকারীদের হাতে রেখে যাওয়া যায়, কিন্তু নিজের কর্মের হিসাব অন্য কারও কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া যায় না।
দিনশেষে সবচেয়ে বড় সফলতা অনেক সম্পদের মালিক হওয়া নয় বরং হালাল উপার্জন, কারও হক নষ্ট না করা, মানুষের দোয়া নিয়ে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর কাছে একজন সৎ মানুষ হিসেবে ফিরে যেতে পারা।





মন্তব্য করুন