মৈথুনানন্দের মহোৎসব
মাইমুনা আসেনি। সে দেশেই আছে। বাচা গেলো, টেনশনটা কমলো। তবে বাবা মৃত্যুর আগে টেনশন বাড়িয়ে গেছেন। তার আগত নাতীর নাম আকবর রহমান রেখে গেছেন। আকবর নামটা শুনলে সবার মোঘল সম্রাটের কথা মনে পড়লেও আমার মনে পড়ে এক রিক্সা চালকের কথা। সেই রিক্সাচালক ভদ্রলোক কিশোরকুমারকে হুবহু নকল করতেন। তার গান গুলো ঠিক একই ভাবে গাইতেন। ছোটবেলায় ইত্যাদি অনুষ্ঠানে এই রিক্সাচালক "একদিন পাখি উড়ে " এমনভাবে গাচ্ছিলেন যে আমি তার গানে মোহমুগ্ধ হবার বদলে উল্টো স্ক্রিনে পাখি খুজতেছিলাম। কারন তার হাত আর মুখের ভঙ্গিটা সত্যি ময়না পাখি হারিয়ে যাবার দুঃখে কাতর ছিলো।
: বাবা কি আর নাম পান নাই?
: মুসলমান সম্রাটের নাম, খারাপ কি দেখলা বাবা?
: মনে হইতেছে এক রিক্সাচালক সারাদিন রিক্সা চালিয়ে দুপুরে ভাত ডান হাতে ভাত খাইতেছে আর এক হাতে হাতপাখা ঘুরাচ্ছে।
: তোর নাম পছন্দ না হলে একটা নিজে দিয়ে রাখ। তোর সন্তান, আমাদের তো কোনো অধিকার নাই।
: মেলোড্রামা শুরু করো না। সময়ের এক ভুল সারা জীবনের ভোগান্তি।
: তুই যে এত বড় সর্বনাশ করবি সেটা কি আমরা ভাবতে পারছি? তোর বাবা খুব দুঃখ পাইছে।
: ধুৎ! আমি সেইটা বলি নাই, আমি বলছি আকবর আলি খান।
: আকবর আলি খান না, তোরা খান বংশ না। আকবর রহমান।
ইদানিং আম্মা বিরক্তিকর পর্যায়ে চলে গেছে। প্রতিদিন ফোন দেয়ার চিন্তাটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। মাইমুনার ছবি পাঠিয়েছে, ছবিতে বিশাল আকারের পেট, বোরখা পড়ে ছবি তুলেছে। ঠিক বুঝতে পারলাম না ঢাকায় যখন দেখা হয়েছিলো তখন মনে হয়েছিলো মেয়েটা আল্ট্রা মডার্ন, একসাথে বসে বীয়ার খেলাম। টাকিলা অর্ধেকটা শেষ করে রাতের বেলাই ঘুরতে বেরুলাম। আর সেই মেয়ে বোরখা পরে পুরো মুখ ঢেকে ছবি। প্রথমে মাকে জিজ্ঞেস করলাম," ছবিটা কি ভুল করে পাঠিয়ে দিয়েছো? মানে লোকাল বাসে ঐ যে হারবাল ঔষুধ বেচে তাদের কারো ছবি?"
প্রশ্নটা শুনে মা এর দীর্ঘ ভাষন। মনে হলো মা ভুলে গেছেন তার ছেলের বয়স ৩০ ছাড়িয়েছে। মেজাজটা খিচে ছিলো এমনি সকাল থেকে। গোসল করতে যাবো, টেপের ডানে ঘুরিয়ে ছাড়লে ঠান্ডা পানি আর বামে ঘুরিয়ে ছাড়লে ফুটন্ত পানি। আজকে সকালে বাইরে ছিলো প্রায় শূন্যের কাছাকাছি তাপমাত্রা। ভাবলাম গোসল করে এক কাপ গরম কফি সাথে একটু ব্রান্ডি। এই ভেবে বামে ঘুরিয়ে টেপ ছাড়লাম, ওমনি বরফ ঠান্ডা পানি! টেপ ঘুরাঘুরি করে কাজ হলো না পরে দরজায় চেক করে দেখলাম গত সপ্তাহে তারা চিঠি পাঠিয়েছে যে আজকে সকাল ৬ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত গরম পানি বন্ধ থাকবে।
ঠান্ডা পানি গায়ে নিয়ে ২ ঘন্টা অপেক্ষা করা সম্ভব না, আবার ঘরে আগুন জ্বালানোর মতো সিস্টেম নেই যে পুরো গরম লাকড়ি তে বসে পড়ি। একটা ক্রোনিয়াকের বোতল খুলে গলায় ঢেলে বসে থাকলাম। কোনো মতে কাপর চড়িয়ে বেরিয়ে পড়লাম বাইরে, টুনিলবনার ট্রেনে উঠে হঠাৎ সোফিয়ার ফোন।
: হ্যালো শাফি, শরীর কেমন?
: খুব ভালো, আমি ট্রেনে নাচতেছি।
: ওহ আচ্ছা! সেলফি পাঠাও এখনি।
ফেসটাইমের কল দিলাম। ওর ভিডিও অন করতেই একটু অপ্রস্তুত হলাম কারন আমি মোবাইলটা এমনভাবে ধরেছিলাম যাতে পাশের জন সাথে পেছনে যারা সীট না পেয়ে দাড়িয়ে আছে তারা দেখতে পারে। আমি একটু অসতর্ক ছিলাম। আর সোফিয়া শুধু নীচের অন্তর্বাসটা পড়েই দাড়িয়েছিলো। কপাল ভালো সে মোবাইলে তাকায় নাই। আমি আমার মোবাইলের স্ক্রিনটা জানালার কাছে লুকোলাম।
: দেখো তো গোলাপী ব্রা টা মানাবে নাকি কালো?
: নীচের টার সাথে ম্যাচিং করলে তো কালো।
: নীচেরটা থাকবে না চিন্তা করো না। ওপরে এস কালারের টপস।
: চুলের কালারের সাথে মিল করে পড়তে পারে। নীলের সাথে লাল তাই লাল হলে ভালো হয়।
: ওকে।
এটা বলেই নীচেরটা খুলে পুরো ন গ্ন হয়ে মোবাইল হাতে নিয়ে শাওয়ারে ঢুকলো, মোবাইলটা পুরা এমনভাবে রাখলো যে বাথটাব পুরোটাই আসে। আমি স্ক্রীন থেকে চোখ টা সরিয়ে পাশের দিকে তাকাতেই দেখি সবাই চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। সবাই বলতে দুটো টিন এজ মেয়ে, একটা বৃদ্ধ, আমার পাশের বিশাল বপু এক সাদা চামড়া আর তার কোলের ৮-৯ বছরের পিচ্চি মেয়ে। বুঝতে পারছিলাম না নেক্সট স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে পড়বো কিনা।
স্ক্রীনে তাকিয়ে দেখি সে মনের আনন্দে শাওয়ার জেল দিয়ে গোসল করছে আর যারা কাজ করছে এখন আমার অবর্তমানে তাদের ফিরিস্তি বর্ননা করছে। সামনে ক্রিস্টমাস, প্রচুর ব্যাস্ততা। সোফিয়ার দীর্ঘ পক পকের একটাই মানে, পারলে আজকেই যেনো কাজে যোগ দেই। ডাক্তার নাকি আমাকে কাজের পারমিশন দিয়েছে এটা তারা জানতে পেরেছে। যদি আমি কাজে না যাই তাহলে নাকি নতুন লোক দেখবে। মনে মনে বললাম শালার ডাক্তার প্লেনে উঠতে দিলো না কিন্তু কামলার জন্য ঠিকই ছেড়ে দিলো। সাদা চামড়াগুলা আসলেই বজ্জাত।
সোফিয়ার লাইভ ভিড্যু শেষ হলে শপিং করার ভাবনা বাদ দিলাম। বাদ দিলাম আজকে তো কাজে যাবার প্রশ্নই আসে না, সোফিয়ার বাসায় যাওয়া যায়। তার আগে মাইমুনাকে একটা কল দেয়া যায়।
: কি করো?
: শুয়ে ছিলাম।
: তুমি কি প্লেনে উঠতে পারবা?
: ৭ মাস চলে, ডাক্তার বলছে রিস্ক।
: তুমি কি আমার সাথে ঘর করতে পারবা? আমার আলুর দোষ আছে।
: (কোনো উত্তর নেই)
: সে রাতে তোমাকে বলেছিলাম এরকম ভুল করো না। এখন আর কেদে কি হবে?
: আমি সেজন্য কাদছি না, আমি কাদছি কারন তুমি আমাকে এখনো বিশ্বাস করতে পারোনি। আমি তোমাকে পাল্টাতে পারবো। আমি সেটা ভেবেই এটা করেছি। তোমার সুইডেনের নাগরিকত্বও আমি চাই না। এজন্যই আমি আসিনি সুইডেনে। তুমি যদি ঢাকাতে না থেকে রাজশাহীর কোনো গ্রামে নিয়েও থাকে, আমাকে আর আমার সন্তানকে ভালোবাসো আমি তাতেই সুখি।
: তোমরা ইদানিং দেখি সবাই সাহিত্যিক বন্কিম চন্দ্র হয়ে গেছো। আমি কালকে টিকিট পাঠিয়ে দিচ্ছি বিসনেস ক্লাসে, তোমাকে সামনের সপ্তাহে সুইডেনে দেখতে চাই।
: আমি কিছু চাই না, শুধু তোমার পায়ে আমাকে জায়গা দাও।
: আবার মেলো ড্রামা! উফফফ!
ফোনটা রেখে পরের স্টেষনেই নেমে পড়লাম। সোফিয়ার বাসায় যাওয়া ক্যানসেল, কুঙ্গেনসকুরভায় বাচ্চাদের বিশাল একটা মার্কেট আছে। আজকে ছোট বাচ্চাদের জন্য বিশাল বাজার করবো, অনেক খেলনা, অনেকগুলা ফীডার আর এক বস্তা হাগুমুতু পরিষ্কার করার ডাইপার।





আপনারেতো বদলেই ফেলছে দেখি!!!!
লেজ কখনো সোজা হতে দেখেছেন?
সব ভালো যার শেষ ভালো।
কোনো কিছুর শেষ বলে কিছু আছে কিনা সেটাই তো দেখতে পাচ্ছি না
ভালোই!
ধন্যবাদ
মন্তব্য করুন