দ্যা এক্সপেরিমেন্ট
[ কোনো রকম ভূমিকায় না গিয়ে সরাসরি ঘটনায় যাই। ভূমিকা করার মতো শব্দ, বাক্য জোগাড় করে উঠতে পারছি না ]
মাস ছয়েক আগের ঘটনা। প্রচন্ড জ্বরে বেশ কিছুদিন যাবত ভুগছি। ডক্টর ব্লাড টেস্ট করতে দিলেন। টেস্ট করা হলো। রিপোর্ট পাওয়া গেলো ডেঙ্গু জ্বর।
দ্রুত ব্লাডের প্লেটলেট কমে যাচ্ছে। যদিও গরুর রক্ত কিন্তু শুরুতে ম্যানেজ করতে সমস্যা হচ্ছিল। বন্ধু, আত্নীয়, ভাইয়ের বন্ধু, ভাইয়ের অফিসের কলিগ, বোনের অফিসের কলিগ - অনেককেই জানানো হলো। এবং জানা মাত্র আসতেও শুরু করেছিল সবাই।
যাই হোক। ঘটনায় আসি। ভর্তি হলাম ধানমন্ডীর মর্ডাণ হসপিটালে। খবর পাওয়া মাত্র আপুর অফিসের কলিগ খুরশীদ ভাই পৌছে গেলেন হসপিটালে সবার আগে। ক্রস ম্যাচিং হলো। ব্লাড কালেকশন হলো। এরপর আমাকে রক্ত দেওয়াও হলো।
এক এক করে অনেকের সাথেই রক্তের সম্পর্ক স্থাপিত হলো। অসীম কৃতজ্ঞতার সাথে সবার কথা মনে রেখে বাসায় ফিরে আসলাম।
এদিকে খুরশীদ ভাই প্রতিদিন আপুকে অফিসে দেখা হওয়া মাত্র জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন আমি কেমন আছি। প্রতিদিন একই প্রশ্ন করেন আপুকে। আপু বলে যে আমি ভালো আছি। এখন সম্পূর্ণ সূস্থ। ক্লাস করাও শুরু করেছি ইত্যাদি।
যথারীতি পরদিন খুরশীদ ভাই আবারও জানতে চান।
সুমি, আপনার বোন কেমন আছেন?
প্রায় দুই মাস পর্যন্ত প্রতিদিন আমার খোঁজ নেয়া চলতে থাকে।
আপু একটু অবাক হতো যে প্রতিদিন জিজ্ঞাসা করার কি আছে। আর বলতো আমি ভালো আছি।
একদিন খুরশীদ ভাই নিজেই বললেন উনার এই অতিরিক্ত আগ্রহ আথবা উৎকন্ঠার কারণ। বললেন, উনি এ পর্যন্ত যাকেই রক্ত দিয়েছেন সে-ই মারা গেছে। আমি বেঁচে থেকে প্রমাণ করেছি যে উনার রক্তে আসলে কোনো সমস্যা নাই।
দাঁড়ান। এখনই উহু আহা হি হি হা হা করা লাগবে না। ঘটনা এখানেই শেষ না।
খুরশীদ ভাই যা করছেন তা তো করছেন। কিন্তু আমার বোন ----- আমার আপনা বোন... হি হি হা হা করতে করতে আমাকে ফোন করে এই কাহিনী ব্যক্ত করলো।
শুনে আমি বাকরহিত হইয়া থাকলাম।
কয়েক মুহূর্ত পরে তব্দা খাওয়া থেকে ফিরে এসে জিজ্ঞাসা করলাম কতদিনের মধ্যে মারা যায়? আপু বলল এটা সে জিজ্ঞাসা করে নাই।
আমি বললাম জিজ্ঞাসা করো। আমার তো এখনো ছয়মাস পার হয় নাই। আমার কি ডেট আছে? নাকি শেষের পথে তাড়াতাড়ি জানো।
তারপর সে আরও আনন্দের সাথে জানালো খুরশীদ ভাই এখন আর দেশে নাই। বাগদাদ চলে গেছেন। যাওয়ার আগে উনি এসব আপুকে বলে গেছেন। আর আপুর সাথে ওনার এখন যোগাযোগ নাই।
আমারও আর জানা হলো না আমার এক্সপায়ারি ডেট।
এই যখন আপুর সাথে ফোনে কথাবার্তা চলছিল, আব্বু আসলো ঘরে। ফোন রাখার পর জানতে চাইল কি হয়েছে!!
বললাম ঘটনা। সব শুনে আব্বু বলল - ও এই কথা? ওরে বল ঐ লোকরে ফোন দিয়ে বলতে ‘যা করার তো করসেন এইবার কিছু খরচাপাতি করেন’।
আর আব্বুর কথা শুনে আম্মু বলল - ঐ লোক খরচাপাতি করবে কেন? ঐ লোক তো আর মরতিছে না!!!





বাঁইচা আছেন তো?!
এখন থিকা ডেলি একটা পোষ্ট দিয়া জানাইবেন,আছেন নাকী নাই!ঠিকাছে?!
শুনছি দুনিয়ায় ভালো মানুষ তাড়াতাড়ি মরে।
আমি মানুষ ভালু না
কপাল একখান আপনার বাইচা থাকনের, মারবো কেঠায়?
সেইম হিয়ার। আমি যাদের রক্ত দিয়েছি তারা মারা গেছেন। শেষবার দিয়েছি পনের দিন আগে। এইটা নিয়ে বর্তমানে খুব টেনশনে আছি। দুঃসংবাদের ভয়ে খবর নিতে সাহস পাইনা।
মেজর সাহেবের ও এই কাহিনি
জি আপু, খুরশীদ ভাই লুক ভালা; আললা্য কইসে একবার না পারিলে দেখ শতবার, খুরশীদ ভাই তাই চেষটা করসেন
আজিব
অবশ্যই খুরশীদ ভাই লোক ভালো। আমি কি বলসি উনি খারাপ??
খুরশীদ ভাই যদিও এই লেখা পড়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ তবুও আরও একবার কৃতজ্ঞতা জানাইলাম।
ব্লগে প্রতিদিন হাজিরা দিবেন তাইলে
উপস্থিত
আমাদের সাথে থাকবেন ।
একবার যখন আসছি .......................
দেশে থাকবার সময় একবার এমনটি হয়েছিলো, পাশের বাসার ছোট্ট ছেলেটিকে রক্ত দেবার কিছুদিন পরই ছেলেটি মারা যায়। ছেলেটি যে মারা যাবে সেটা সবাই জানতো কিন্তু রক্ত নেয়া-দেয়া ছিলো কিছুটা সময় বাঁচানো। অন্যদের কথা জানি না, দাতা - গ্রহীতার যোগাযোগ রাখা হয়না সংগত কারনেই। গ্রহীতা মারা গেলেতো এরই মাঝে ৪৪ জন মারা যেতো।
৪৪!!!!!!!
ওহ,
টেনশনে আছে আইজুদদিন
নাহ................. বিন্দাস
রক্ত দেই না ম্যালাদিন। কেউ আজকাল চায়ও না। ক্যম্পাসে কিছু রক্তচোষা ছিলো। এক সময় তারা হিসাব রাখতো, কার কবে রক্ত দেয়ার চার মাস পার হইতেসে। এরপরে কোনো মাফ ছিলো না। রক্ত দেয়া লাগতোই। সেই রক্তচোষাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। যাদের জন্য রক্তদানের সুযোগ পেয়েছি, মানুষের প্রয়োজনের সময়।
আপ্নে তো তাইলে বীরপুরুষ
উহু আহা হি হি হা হা
মন্তব্য করুন