বিকশিত আঁধার
: কেনো তুমি তার সাথে?
: তুমি ছিলে না আজ সপ্তাহ দুই।
: তাই বলে ওর সাথে বিছানায় যেতে হবে।
: দেখো, আমার শরীরের চাহিদা আছে, মনেরও আকাঙ্খা আছে।
: দু'টো সপ্তাহই মাত্র। জানো, আমি ফিরে আসছি।
: আমার ওকে ভাল লাগতো। খুবই কিউট।
: আমার চাইতেও বেশি?
: কারো সাথে আমি কারো তুলনা করি না। ওরে আদর দিতে চেয়েছিলাম, পেতেও। কেমন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। আমি তো আরেকটু প্রেমময় হয়ে উঠতে পারি! সে প্রেমে তোমাকেও তো ভেজাতে পারি।
: কি বলছো তুমি? আমাকে ভেজাবে তোমাদের প্রেমে?
: আহ্। ওভাবে দেখছো কেন? আমাদের প্রেমে নয়। আমার প্রেমময়তায়। জানো, ওকে ভালবাসা দিয়ে, ওর ভালবাসা আদায় করে নিয়ে, আমার প্রেমরসের বর্ধিষ্ণু তোমাকে ঢেলে দিতে চাই। তুমি আমার কাছের। তুমিও তাতে পূর্ণ হয়ে উঠো। তোমার শুষ্কতা আমার কাম্য নয়।
: আভিলা, এতবড় অসন্মান করলে তুমি আমাকে! এত দীন-হীন ভেবেছো আমায়! এত বড় অপমান!
: তোমরা এশিয়ানরা এত কনজারভেটিভ! জীবনটাকে এত সংকীর্ণভাবে দেখো, সেইফ। আমাদের এখানেও আছে অনেকে। কিন্তু জানো, তোমরা যে ধারায় ভাবছো, ভবিষ্যত পৃথিবী তাকে সমর্থন করবে না। মানুষ বৈচিত্র পিয়াসী, সে অনেক বেশি বৈচিত্রকে ধারণ করে পরিপুষ্ট হয়। ক্লান্তিকর একঘেয়েমীতে নিজেকে তিলে তিলে অথর্ব করবে না।
: বাস্ , বাস্ - আর বলতে হবে না। তোমাদের ভবিষ্যৎবাণী নিয়ে তোমরা থাকো। ভবিষ্যৎ পৃথিবী তোমাদেরই বরণ করুক। আমরা না হয় এখনকার পৃথিবী নিয়েই থাকি। এর নীতি-নৈতিকতাকে ধারণ করি। ভবিষ্যত মানুষকে নিয়ে আমি চিন্তিত নই একেবারে।
: কিন্তু বর্তমানের প্রপঞ্চ এবং প্রণোদনা থেকেই তো ভবিষ্যৎ পৃথিবী রচিত হচ্ছে। এসবকে অস্বীকার করবে কেমন করে তুমি?
: তাহলে তুমি বলতে চাচ্ছো, আমি তোমার মতই একজনের সাথে জড়িয়ে যাই? বিছানায় নিয়ে সময় কাটাই?
: তোমাদের তথাকথিত নীতিবানদের সব কিছুই এক স্থূল দৃষ্টিতে দেখার অভ্যাস আছে। মনের জোরে তো কিছু হয় না। মনকে মনের মত চলতে দাও না কেন? যা সুন্দর সে কি আদরনীয় নয়? আমি তো কারো কাছে ছুটে যাইনি, নিজেকে বিকিয়ে দিতে।
: হা হা হা। খুব সুন্দর বললে। আমার মন তো তোমাতেই বাধা ছিল। তা থেকে চোখ ফেরাতে চাই নি। সেটাই যদি ভুল বা অন্যায় হয়ে যায়, তবে আমার ভালবাসার কোন মূল্য ছিল না, থাকে না।
: মেনে নিলাম তুমি আমাকেই ভালবাসো। তারপরও কি আর কাউকে তোমার এতটুকু ভাল লাগে নি? ওই যে সুন্দরী কৌমার্যময়ী মেয়েটা, এতটুকু ইচ্ছে করে নি কখনো তাকে আলতো করে একটা চুমু দিই। তাকে বলি, তুমি খুব সুন্দরী-উদ্দীপনাময়ী! তোমাকে ভালবাসতে পেলে সুখী হতাম!
একবার বুকে হাত দিয়ে উচ্চারণ করো তো, তুমি, সেইফ!
: দেখো, আমাদের মাঝে ভালবাসা টিকিয়ে রাখতে গেলে, এরকম অনেক কিছুই বিসর্জন দিতে হয়। নিজেকে সামলিয়ে নিতে হয়। যা আমার নয়, তাকে কিভাবে নিজের বলি, আভিলা।
: হা হা হা। এখানে তোমরা থেমে গেছো। মনোজগতের বিকাশকে করছো রুদ্ধ। আর আমাদের বলছো, দ্বি-চারিণী। অথচ নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করে একটা আপোষ রফায় এসেছো। শুনেছি, কেউ কেউ না কি স্বমেহনে নিয়োজিত হয়েছে সেরকম এক সুন্দরী-যৌবনময়ীকে স্মরণে রেখে। মেয়ে-বন্ধু, প্রেমিকা বা স্ত্রী সংগমে সে সুন্দরীর কামজ-অনুভূতি চেতনায় মিশিয়ে তা উপভোগ করে। হা কী তৃপ্তি! রমণীটিকে কাছে নিয়ে শুলে তো কূল রক্ষা হয় না। এখন তো সব কূলই রক্ষা হয়েছে। কেই বা জানবে, সে ঐ রমণীটিকেই উপভোগ করলো মনে, অনুভবে, নিজ নারীর দৈহিক মিলনে। ভালই হিপোক্রেসী দেখালে সেইফ, ভালই হিপোক্রেসী।
: ওকে, তুমি যদি আমাকে হিপোক্রেট ভাবো, তবে তোমার মতই একজনকে বেছে নিও। আমার চলা না হয় আমিই চলি।
--------------------------------
বছর পাঁচেক থেকে সাইফ ইউএসএ-র এক কম্পিউটার কোম্পানীতে কাজ করছে। ইংরেজি উচ্চারণের কারণে তার নাম সাইফ থেকে সেইফ হয়েছে। আভিলা দক্ষিণ এমেরিকা এবং পর্তুগীজ বংশদ্ভূত। সহকর্মীনি হিসেবে সাইফের সাথে আভিলার এই অফিসেই পরিচয়। পরিচয় থেকে অফিসকালীন একসাথে লাঞ্চে যাওয়া, সপ্তাহান্তে মুভি দেখা, রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খাওয়া এবং শেষমেশ একত্রে বসবাস শুরু। সে বছর দুয়েক আজ।
রাতের শিফটে সাইফের কাজ। আজ ভারাক্রান্ত মনে সে তার রুমের সামনে বিশাল বারান্দায় পায়চারি করছে। নীচের তলায় এককোণে অন্ধকার। সেখানে হলুদ-কমলা পাতলা-রঙ বিষাদরুপের আলোর বিচ্ছুরণ। সে আলোয় আগুণযন্ত্রণাদগ্ধ এক নারীর মূহুর্ত দর্শন লাভ। নারীটি অন্ধকারে মিলাতে থাকে। সাইফের বুক ভয়ে কামড়ে উঠে।





শেষটা বুঝলাম না।
এইটা পেত্নী বা অশরীরি কিছু মীন করলেন? নারী দেখে বুক কাঁপলো ক্যান? ডরের কি হইলো? আমেরিকায় কি ভূত আছে?
শেষটা কেন বুঝলেন না?
"আগুণযন্ত্রণাদগ্ধ এক নারীর মূহুর্ত দর্শন লাভ" যিনি করেছেন, তিনি আপনাকে আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন বলে প্রতীয়মান। তবে কিছু তো বোঝাতে অবশ্যই চেয়েছেন। সেটা পাঠকের উপর ছেড়ে দিলাম। এখানে লেখক নীরব।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, আমার মনোযোগী পাঠক হবার জন্য। আপনার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।
ভাল থাকুন।
বেশ লিখেছেন। সতত শুভকামনা রইল ।
ধন্যবাদ আপনাকে।
মন্তব্য করুন