একজন ফরহাদ মজহার এবং অনৈসলামিক রাজনীতি - এক
আমার ফেসবুকের ফ্রেন্ডলিষ্টের একজন বন্ধু গোত্রীয় Farhad Mazhar নামে অন্য একজনের স্টেটাসের লাইক দেয়ার সূত্র ধরে আমি সে স্টেটাসটা একটু পড়ে দেখি।
লোকটার স্টিটাসটা পড়লাম। পইড়া মনে একটা প্রশ্নের উদয় হইলো। তার আগে কই, উনি ঐ স্টিটাসে অনেক কতা লিখেছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু তুলে ধরলাম:
"আমরা চিৎকার শুরু করি তের দফা মানা যায় না। ফলে ধর্মতাত্ত্বিক বয়ানের মোড়কের মধ্যে এই মানুষগুলোর (হেফাজতে ইসলাম) নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উদ্বিগ্নতা আমাদের কানে এসে পোঁছায় না। কারন এদের আমরা মানুষ বলেই গণ্য করি না। আমরা আগেই প্রচার শুরু করি বাংলাদেশ তালেবান হয়ে যাচ্ছে।"
স্টিটাসটাতে আরো অনেক কতা আছে। এর আগে লেখা আছে,
"অন্যের অধিকার অস্বীকার করলে নিজের অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা আমরা হারাই। তাদের ‘অশিক্ষিত’, ‘বর্বর’, ‘অসভ্য’ বলার মধ্য দিয়ে নিজের অশিক্ষা, বর্বরতা ও অসভ্যতাই আমরা প্রকাশ করি। যে কারুরই আমরা বিরোধিতা করতে পারি, সমালোচনা করতে পারি, কিন্তু তার নাগরিক অধিকার যদি আমরা স্বীকার না করি তাহলে বাংলাদেশকে আরও অন্ধকার গহ্বরে আমরা ঠেলে দেব। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা আমাদের মধ্যযুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে না, কারন ইতিহাস যা অতিক্রম করে আসে সেখানে প্রত্যাবর্তন করে না, যদিও বর্তমানে থেকে অতীতের ভার কাঁধে নিয়েই তাকে ভবিষ্যৎ গঠনের কাজ করে যেতে হয়। সেই দিক থেকে নাগরিক অধিকার অস্বীকার করবার রাজনীতি ও সংস্কৃতিটাই বরং মধ্যযুগীয়।"
খুব ভাল ভাল কতা বলেছেন, বোঝা যায়। কিন্তু আমার মাথাটা একটু বেকা বলে, ওইকানে আমি তারে মন্তব্য করছিলাম:
"তালেবানরা ‘অশিক্ষিত’, ‘বর্বর’, ‘অসভ্য’।
'হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা আমাদের মধ্যযুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে না, কারন ইতিহাস যা অতিক্রম করে আসে সেখানে প্রত্যাবর্তন করে না, ...' (যা তিনি তার স্টেটাসে বলেছেন)
(আমার প্রশ্ন) - (তাহলে) তালেবান আফগানিস্তানে ইতিহাস প্রত্যাবর্তন করেছিলো কি করে তবে?"
আমার এই প্রশ্নের উত্তর আমি এখনো পাই নাইক্কা। জানিনা, পামু কী না। পাইলে কিছু জানা যাইতো। আমি কি ভুল কইছি, আপনারাই কন?
--------------------------------------------------------------------------------------------
এই ফেসবুকে দেখলাম, ফরহাদ মজহার নামে একজন নাকি আগে স্বঘোষিত নাস্তিক ছিলেন। মানে জন্ম হয়েছে মুসলমান হয়ে, তারপর নাস্তিক হইছেন এবং অন্যদের না কি নাস্তিক হইতে উৎসাহিত করেছেন। এখন আবার নাস্তিক থেকে বোধ হয় মুসলমান হয়েছেন। হইলে ভাল। তবে একখান কতা জাইনবার মন খুব চায়, আইচ্ছা, ইসলামে নাস্তিক থেকে মুসলমান হইবার আগে তার পূর্বের কর্মকান্ডের (পাপ-সাপের) জন্য কি তওবা করার বিধান নাই? যদি থাকে তবে এই যে, বিরাট এক হেফাজতে ইসলাম সমাবেশ হইলো ঢাকার মতিঝিলে, সেখানে জনসমুক্ষে মাওলানা আল্লামা শফীর কাছে সে যদি তওবা করিত, তবে কি বেশি সওয়াব আদায় হইতো না? নাস্তিকদের বিরুদ্ধের আন্দোলনে এই হেফাজতী জনগণ এক বড় নাস্তিককে মুসলমান হইতে দেখিয়া বড়ই খুশী হইতো না?
-----------------------------------------------------------------------------------------------
এই ফরহাদ মজহার নামে একজন না কি চ্যানেল আই এর তৃতীয় মাত্রায় বলেছেন,
"ভাষা এবং সংস্কৃতি নিয়ে রাজনীতি করা গেলে ধর্ম নিয়েও রাজনীতি করা যাবে।"
আস্তাগফেরুল্লাহ!, এইটা কি বলেন তিনি? আমরা কি দেখি নাই, ইসলামী রাজনীতি করতে গিয়া ইসলামের নাম দিয়ে '৭১-এ কিভাবে মানুষ নিধন এবং নারী নির্যাতন হয়েছিল? মিথ্যা অনেক বাত-চিৎ চিক্কুর দিয়া শান্তির ধর্মের কথা বলে শান্তি কমিটি তৈরি করেছিল?
আর অতি সম্প্রতি হেফাজতি ইসলামের হাতে মারা যাওয়া (খুব সম্ভবতঃ ভাঙ্গা-র আওয়ামীলীগ নেতা), সাংবাদিক পেটানো, হরতালে ভাংচুর এসবকে তো আল্লাহ্র প্রিয় এই বান্দারা 'তারা করেনি' বলে অসম্ভব মিথ্যাচার দেখছি। কেন যে পবিত্র ধর্ম এই ইসলামকে রাজনীতির মাঠে নামিয়ে অপবিত্র কুৎসিত করা, বুঝি না। এইটা কি ইসলামের হেফাজত, না অপমান/অবমাননা? প্রকারান্তরে রাসূল এবং কুরআনকে বিতর্কিত করা নয় কি? এভাবে চললে ইসলামের মুখোমুখি জনগণকে অস্বস্থিকর এবং বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয় না?
আর যদি ৪৫ কোটি টাকা নিয়ে হেফাজতি ইসলামের আন্দোলনের ঘটনা সত্য হয়, তবে তো এই হেফাজতীরা ইসলাম ধর্ম-র ভরাডুবিতে নেমেছেন বললে ভুল হবে না। আবার অন্যভাবে দেখলে বলা যায়, ইসলাম ধর্ম আজ যখন বিশাল ধর্ম-ব্যবসায়ীদের কবলে, ধর্ম-প্রাণ মুসলমানদের এবার এই কাঠমোল্লাদের হাতে প্রতারিত হবার সম্ভাবনা অনেক কমে আসবে।
আইচ্ছা, আমাদের নবীজী তো কখনো ইসলামের নাম নিয়া মিথ্যাচার করেন নাই। কোন গণহত্যা বা নারী নির্যাতনে মদদ দেন নাই। নাউজুবিল্লাহ! তওবা! তওবা!! তাইলে আপনারা ইসলামের নাম নিয়া মিথ্যাচার, হত্যা, নারী নির্যাতনে (এমনকি ঘুষ গ্রহণেও) মেতে উঠেন কেন? আপনাদের এই ভন্ডামী তৌহিদী জনতা দূরে থাক, বাংলাদেশের ইসলাম-ভীরু জনগণই মেনে নেবে না। '৭১-এর কর্মকান্ডের জন্য জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবী উঠেছে। আর রাজনীতির নামে ধর্মকে, রাসুলকে, পবিত্র কুরআনকে অপবিত্র এবং বিতর্কিত করার জন্য আপনাদের ইসলামের নামে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে দেয়া হবে না, ইনশাল্লাহ্। রাজনীতি করতে দেওয়া যাইতো যদি আপনাদের ঈমান ঠিক রাখতেন, বেঈমানী করতেন না।
এমনিতে ধর্ম নিয়ে নিদারুন ভন্ডামী এবং যুদ্ধাপরাধের মত গুনাহ্-র কাজের বিচার না দেখে, বাংলাদেশের তরুণরা ইসলাম থেকে দূরে সরে নাস্তিক হয়ে যাচ্ছে, আর এসব রাজনীতি যদি বাড়তে থাকে, তাইলে দিন দিন, মাস মাস, বছর বছর নাস্তিক্যবাদ আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠবে, বলাই বাহুল্য। সুতরাং মজহার সাহেবদের এসব খিয়াল থাকে যেন! পাশ্চাত্য তো অনেক আগেই ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করে নিয়েছে, তারা বুদ্ধিমান বলেই।
আবার যখন হুনি, "৬ এপ্রিলের তাৎপর্য ৭ মার্চের চেয়ে কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়।" তখন শরীর মনে একরকম বিদঘুটে বিবমিষা জাগে এসব মজহার বা মজহারপন্থীদের কারণে।





দুনিয়াজুড়া পচুর বিনুদুন
হুম। এতদিন কোথায় ছিলেন?
পতিত মাজহার!
মন্তব্য করুন