অনৈসলামিক স্ট্যাটাস - ২
জাকারবার্গ, এদেরকে মুরতাদ ঘোষণা করুন!
কোন কিছুকে থিওরাইজ করতে পারাটা চমৎকার একটা ব্যাপার। তাতে আপনার লেখার কদর বাড়বে নিঃসন্দেহে। আপনার লেখার দীর্ঘায়ু হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে। পন্ডিতেরা, সাধারণতঃ একাডেমিক পন্ডিতেরা তা করে থাকেন খুব বেশী। তবে তারা কিন্তু পান্ডিত্য প্রমাণের জন্য তাদের পান্ডিত্যভরা লেখাগুলোকে সেরকম উঁচু দরের জার্ণাল-ম্যাগাজিনে পাঠান। এতে করে লেখকের থিওরীটাও আগা-পাছ-তলা বিচারে তুমুলভাবে তুলোধুনো হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। যা টিকে থাকার বা যার ভেতরে মাল-মশলা আছে, তা ঠিকই টিকে যায়। ফলশ্রুতিতে ওজনদার (higher impact factor) জার্ণাল-ম্যাগাজিনে লেখাটি প্রকাশিত হয়। এইভাবে কোন নতুন তত্ত্বকথার মূল্যায়ন হয়। কিন্তু যে লেখার ভেতরে জোড়াতালি আছে, বা ফাঁকা আওয়াজ ছাড়া কিছু নেই, সেটা টিকে থাকে না, জুরির বিচারে।
ফেসবুকেও কাউকে কাউকে তাদের লেখাগুলোকে অন্যভাবে তুমুল থিওরাইজ করতে দেখি। যেমন, কোন একটা গোষ্ঠীর গুটি কয়েকজনের বিকৃতিকে তুলে ধরে, সে পুরো গোষ্ঠীর বিশ্বাস বা কর্মকান্ডকে তুলোধূনো করতে। আরে, বিকৃতিতো সবখানেই আছে। এই পৃথিবীর কিছু মানুষের যৌণ-বিকৃতির কারণে এই মানব সমাজের নারী-পুরুষের যৌণ মিলনকে দোষারোপ করে পুরো সভ্যতার মানুষের যৌণ-সম্পর্ক নিষিদ্ধ করলে, তো এই পৃথিবীতে প্রজনন থেমে যাবে।
যাক্ - যে কথা বলছিলাম তাতে ফিরে আসি। কেউ কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে কোন বিষয় বা ইস্যুকে থিওরাইজ করে। যার বড় প্রমাণ, গণজাগরণ মঞ্চের দু'চারজন নাস্তিকের জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুটাকে আস্তিক-নাস্তিকের লড়াই বলে দাঁড় করাতে। উল্টোদিকে, হেফাজতে ইসলামকে আলেম শ্রেনীর মর্যাদায় অভিসিক্ত করতে। ইসলামে 'আলেম' শব্দের অর্থ যারা জানেন, সেসব ফেসবুক পন্ডিতেরা 'হেফাজতে ইসলাম'-কে কিভাবে আলেম বলেন, সেটা আমার মাথায় আসে না। হেফাজতের মন-মানসিকতা সম্পর্কে তারা কতটুকু সচেতন জানিনা। হেফাজতিদের সাথে তারা মেশেছেন কী না আমার জানা নেই। তবে বোঝা যায়, এইসব পন্ডিতরা হেফাজতিদের প্রতি খুবই সহানুভূতিশীল এবং সংবেদনশীল।
হেফাজতে ইসলামের নেতা আহমেদ শফি ওয়াজ মাহফিলে যা বলেন, সেটা কি আলেমের মত বক্তব্য বা আলোচনা? আমাদের ফেসবুক পন্ডিতেরা এতদিন ধরে হেফাজতে ইসলাম-কে যে 'আলেম সমাজ' বলে এসেছেন, সেটা কি অসৎ উদ্দেশ্যমূলক নয়? এখন খুব দেখার ইচ্ছে হচ্ছে, এইসব তত্ত্ববাজরা আহমেদ শফির ওয়াজ মাহফিলে দেয়া বক্তব্যকে গ্রহণযোগ্য করতে কোন অ্যাঙ্গেল থেকে তাদের স্বপক্ষে থিওরাইজ করেন। তাদের অসৎ পান্ডিত্য থেকে বন্ধুরা সহসা সাবধান হোন! আমি তাদের জ্ঞানের বহরের দিকে রীতিমত সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে তাকাই!! এইসব তথাকথিত বিকৃত ইসলাম-সহানুভূতিশীলরা, কেন যে নিরীশ্বরবাদী (নাস্তিক) জাকারবার্গের দেয়া সুবিধা নিয়ে রাত-দিন ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তা দেখে অতিশয় বিস্মিত হই!!!
[আহমেদ শফির বক্তব্যের শেষ অংশটা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায়। কারো যদি বুঝিতে অসুবিধা হয়, জানাইবেন।]
আহমেদ শফির ওয়াজে দেয়া বক্তব্যের ইউটিউব লিংক:
http://www.youtube.com/watch?v=R-cd6P-u4WY





বক্তব্যের সারাংশ অন্য একটা ব্লগে পড়েছি। আমরা দিন দিন অন্ধকারের দিকে যাচ্ছি!
আসলে এদেরকে কোন দিন আমরা সরাসরি মোকাবেলা করিনি, এখন যা শুরু হচ্ছে, নিজেদের মাধ্যমে প্রস্তুতির মাধ্যমে। এদেরকে সরাসরি মোকাবেলা করতে হবে। এরা তসলিমা নাসরিনের প্রতি নির্দয়। আর আমরা তাদের জেনেশুনে ছেড়ে দিয়ে তাদের মাথায় তুলছি। তার তারা গ্রামে-গঞ্জে একটা জনগোষ্ঠিকে রীতিমত কলূষিত করছে। এদেরকে প্রতিহত করতে যত দেরী হবে, ততই তারা মানুষকে অন্ধকারে রাখবে। ধন্যবাদ আপনাকে।
আহমেদ শফী একজন বিকৃত রুচির বস্তাপঁচা লোক। একে নিয়ে কম আলাপ-আলোচনা করা উচিত ।
আপনার সাথে একমত হতে পারছি না। এতে করেই এদেরকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। অথচ এরা গণজাগরণ মঞ্চ থেকে শুরু করে সামান্য বিষয়কে নিজেদের অস্তিত্বের প্রতিকূল মনে করলে, তাকে আক্রমণ করছে। তার বিরুদ্ধে জঙ্গী আন্দোলন করছে। এদেরকে থামাতেই হবে। এদের বিপক্ষে জনমতকে সংগঠিত করতে হবে। আমরা তা করছি না। তাই সব কিছুই নষ্টদের অধিকারে থেকে যাচ্ছে। এদের সাথে মুক্তবুদ্ধির সংঘাত তৈরি হয়েছে। এখন এটাকে আরো তীব্র এবং বেগবান করে সুস্থ ধর্ম এবং সংস্কৃতি চর্চার দিকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ধন্যবাদ আপনাকে।
মন্তব্য করুন