কি নাম দিব?
সরাসরি বলার সাহস নায়। তাই ইনিয়ে বিনিয়ে বলার চেষ্টা করেছি।
মেয়েটার সাথে আমার পরিচয় প্রায় আড়াই বছরের। বন্ধুত্বের সম্পর্ক। মেয়েটা আমার সাথে দুষ্টুমি করত। আমিও দুষ্টুমি করতাম। কিন্তু এই দুষ্টুমি যে আমার জন্য ভয়ানক একটা নাট্য মঞ্চের জন্ম দিতে যাচ্ছিল বুঝি নি।
ডিপার্টমেন্টের এক বড় ভাইয়ের গুণ কীর্তন গাচ্ছিল তারা দু'বান্ধবী। তাদের সেই গুনকীর্তন আমার হার্ট বিট বাড়িয়ে দিয়েছিল কয়েকগুণ। একদম ভালো লাগে নি। শুরু হল খারাপ লাগার বসবাস। বুঝলাম আমি গেছি। কিন্তু আমি ভালো করেও জানতাম সে রাজী হবে না। তাই আমি নিজেকে তার কাছ থেকে গুটিয়ে নিয়ে লাগলাম। যোগাযোগ একদম কমিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু সারাক্ষন অস্থির লাগত। একটা সময় এই অস্থিরতা কমে গেল। ভাবলাম আমি উদ্ধার পেয়েছি। সাথে সাথে মনের মধ্যে দৃঢ প্রতিজ্ঞা এই ভুল আমি আর করব না।
কিন্তু যেদিন মেয়েটারে আবার দেখলাম বুকের মধ্যে যেন সুনামী বয়ে যাচ্ছিল। আল্লাহ্রে বললাম, খোদা, তুমি এইটা কি কাজ করলা? আমি তো মনে হয় আর বাঁচব না।
মেয়েটার সাথে আমার আবারো ফ্রেন্ডশিপ। এবার আগের চেয়ে গাঢ়। আমাদের বন্ধুত্বের বন্ধনটা শক্ত হচ্ছে দিন দিন কিন্তু আমি প্রতিদিন একটু একটু করে ভেঙ্গে পড়ছি।
আমি খুব কবিতা পড়ি। কবিতা পড়তে আমার দারুণ ভালো লাগে। আমার যে কবিতাগুলো ভালো লাগত আমি তাকে সেগুলো মেসেজ করে পাঠিয়ে দিতাম। এভাবেই চলত আমাদের।
হঠাত একদিন, গত ২৭ ডিসেম্বর আমি তাকে কবিতা পাঠাচ্ছিলাম। সে আমারে মানা করল। তার নাকি ভয় করছে এই সব। তার এখন এগুলো আর ভালো লাগছে না। সে কিন্তু আমার কবিতাগুলো সবসময় দুষ্টুমি হিসেবেই নিত। ঐদিন সে নাকি এগুলো সিরিয়াসলি নিতে শুরু করল। আমিও তারে ব্লেইম করতে লাগলাম, জানতে চাইলাম- দুষ্টুমি করার জন্য কেন সে আমাকে নিল? আমি তো পুরা আনকোরা একজন মানুষ। সে কেন বুঝে নাই তার এই দুষ্টুমি নিবার মত ক্ষমতা উপরওয়ালা আমাকে দেন নি!
এই কথা শুনে সে আমার সাথে কথা বলা বন্ধ রাখল একদিন। আমি বুঝলাম সে আমার সাথে রাগ করেছে। তাই আমি আবারো জিনিসটাকে হেসে উড়িয়ে দেয়ার জন্য বললাম, আমি পুরো জিনিসটাই জাস্ট ফান করেছি। তখন সে তো আরো ক্ষেপা। আমি নাকি মজা নিয়েছি। আমি নাকি তার রিএকশন দেখতে চেয়েছি। তার ইমোশন কে ভেঙ্গে ককটেল ফুটিয়েছি। কিন্তু সে তো আর জানে না আবার বুকের ভিতরে অনবরত গ্রেনেড ফুটছে।
আমি এবার সাহস করে বলে ফেললাম, তার প্রতি আমার একধরনের ফিলিংস কাজ করছে। আমার এতদিনের করা দুষ্টুমি বলে উড়িয়ে দেয়া সবগুলোই আসল ছিল। আমি মজা নেয়ার জন্য করি নি।
আমার এইসব শুনে তার পাগলামো দেখে ভাবলাম হয়তো আমার প্রতি তার ফিলিংস কাজ করছিল। সেটা তাকে জানাতেই সে আমারে এমন ধমক দিল মনে হল পৃথিবীর ছাদটা আমার মাথায় ভেঙ্গে পড়ছে। তার সেই মেসেজের প্রতিটা শব্দ আমাকে অস্থির করে দেয়। লজ্জায় এতটুকুন হয়ে যায়। সে আমারে জিজ্ঞেস করল, আমার কেন মনে হয়েছে তার ফিলিংস আসছে? আমি কিছু বলতে পারি নাই।
এরপর আমি তার সাথে আর ভালো মত কথা বলতে পারছি না। কথা বলতে গেলে পা কাঁপে, বুকের মধ্যে কেউ যেন পাথর দিয়ে বাড়ি দিয়ে গুড়ি গুড়ি করে ফেলে, জিহ্বা নড়তে চায় না।
আমি তাই তাকে এভয়েড করা শুরু করলাম। একদিন পর সে আমারে মেসেজ দিল। সে নাকি আগের আমিকে মিস করছে। আমাকে আগের মত করে সে পেতে চায়। আমার এই নীরবতা সে সহ্য করতে পারছে না।
আমি অধমের আবার তার কষ্ট সহ্য হয় না। তাই পারলাম না এডিয়ে চলতে।
আজ তাকে কথায় কথায় বললাম, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।
সে জানতে চাইল, কেন?
আমি বললাম, আমি বলতে পারব না।
সে বলে, কেন?
কারন তুই আমার সাথে কথা বলবি না।
সে বলল, আমি কি গেস করব?
আমি বললাম, কি?
সে উল্টা প্রশ্ন করল- তুই আমাকে পছন্দ করিস?
আমার গলা পুরা শুকিয়ে তক্তা। আমি কিছু বলতে পারি না।
শেষে বললাম, তুর কিছু অনুমান করা লাগবে না। আমার কষ্ট তুই বুঝবি না।
এরপর সে বুঝাতে লাগল আমার প্রতি তার কোন ধরনের ভালো লাগা কাজ করে না। উই আর জাস্ট ফ্রেন্ড। সে আমাকে রিকোয়েস্ট করল আবার আগের মত হয়ে যেতে। সেই আগের মত। নিজে প্রচুর হাসব। অন্যকেও প্রচুর হাঁসাব।
আমি কিন্তু আর পারছি না। কষ্টগুলো বেশি যন্ত্রনা দিচ্ছে 







ভালোবাসা কেবল কাঁদায় পারলে মন থেকে ভালোবাসা মুছে ফেলাই ভালো পৃথিবীর কঠিন সত্য কথা "মৃত্য" এবং কঠিন মিথ্যা কথা "আমি তোমাকে ভালোবাসি" মূলতঃ ভালোবাসা জিনিসটি কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধঃ (১) রূপ; (২) গুণ; (৩) যৌবন; (৪) ধনসম্পদ প্রকৃতপক্ষে মানুষ মানুষের জন্য নয়; বরং মানুষ সবসময় নিজের জন্য
ধন্যবাদ ভাইয়া।
ভুলতে চাচ্ছি কিন্তু পারছি না। আমার কেন জানি মনে হয় সে আমারে ভালোবাসবে আবার কোত্থেকে হঠাট বাঁধা একটা চলে আসে মনের মধ্যে। সবসময় খচখচ করে। সারাক্ষন শুধু অস্থির লাগে। কিছুতেই ভুলতে পারছি না
মন্তব্য করুন