দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও
প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সুবাদে সুদূর জাপানে বসেও বাংলাদেশের সমসাময়িক ঘটনাবলী সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। যদিও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া প্রায়শই দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সংবাদ প্রচার করে থাকে। বাংলাদেশের অধিকাংশ গণমাধ্যম নিরপেক্ষ খবর প্রচার করতে পারে না দলীয় আনুগত্যের কারণে। তারপরও সকল গণমাধ্যমে প্রচারিত খবর দেখলে একটা বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করার প্রয়াস পাওয়া যেতে পারে। ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩ তারিখে বাংলাদেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত শিরোনাম হলোঃ “সিলেটে শহীদ মিনারে হামলা-ভাঙ্চুর, গুলি”, “চট্টগ্রামে গণজাগরণ মঞ্চে হামলা”, “হামলায় ১৭ জন সাংবাদিক আহত”, “দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা, নিহত ৪” – (দৈনিক প্রথম আলো)। “উত্তাল সারাদেশ” “কুচক্রী মহলের ফাঁদে পা দিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষ ও সাধারণ মুসল্লীদেরকেও প্রতিপক্ষ বানানো শুভকর হবে না” “তৌহিদী জনতার আড়ালে জামায়াতে শিবিরের হামলা” “যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির এক দাবিসহ জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে ফের প্রকম্পিত শাহবাগ চত্বর”, “ইসলাম ও মহানবী (সা.) অবমাননা প্রতিবাদে গর্জে উঠছে চট্টগ্রাম” (দৈনিক ইনকিলাব)। “সিলেটে বেপয়ারা তাণ্ডব”, শহীদ মিনার ও জাগরণ মঞ্চ ভাঙ্চুর”, “আবারও উত্তাল প্রজন্ম চত্বর”, “পুলিশের পর টার্গেট সাংবাদিক”, (দৈনিক আমাদের অর্থনীতি)। “রাসুল (সা.) অবমাননার প্রতিবাদে গণবিস্ফোরণ: গাইবান্ধায় নিহত ৩ সিলেটে ১ ঝিনাইদহে ১ সারাদেশে আহত ৪ হাজার, কাল দেশব্যাপী হরতাল: বায়তুল মোকাররম এলাকায় পুলিশের হাজার গুলি”, “পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভে উত্তাল চট্টগ্রাম: খুলনা রাজশাহী বগুড়ায় মুসল্লিদের ওপর পুলিশ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের গুলিমহড়া: শতাধিক গুলিবিদ্ধসহ আহত কয়েকশ’, পাবনায় আজ হরতাল” (দৈনিক আমার দেশ)। “মহানবী (সা.) কে অবমাননার প্রতিবাদে ক্ষোভের বিস্ফোরণ”, “পুলিশের সাথে মুসল্লিদের সংঘর্ষে রাজশাহী নগরী রণক্ষেত্র” (দৈনিক নয়া দিগন্ত)। জামাত শিবির ঘরোয়ানার গণমাধ্যম ছাড়া প্রায় সকল গণমাধ্যমে জামাত শিবিরের সন্ত্রাসী তাণ্ডবের খবর সংবাদের মূল শিরোনাম করেছে।
উপরোক্ত খবরাখবর থেকে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, বর্তমানে বাংলাদেশ একটা ভয়ঙ্কর সংকটের মধ্যে দিয়ে দিন পার করছে। একদিকে যুদ্ধাপরাধী স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী রাজাকারের বিরুদ্ধে আনীত মানবতাবিরোধী অপরাধের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতকরত: সর্বোচ্চ শাস্তি বিধান। যুদ্ধাপরাধীর বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবিতে গত ১৮দিন যাবৎ ফুঁসছে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র শাহবাগসহ সারাদেশ। অন্যদিকে এই বিচার ব্যবস্থাকে বানচালসহ যুদ্ধাপরাধীদেরকে বাঁচানোর জন্য ১২টি ইসলামী দলের নামে জামাত শিবির সারাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে। শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলন শুরুর বেশকিছুদিন আগে থেকেই জামাত শিবির সারাদেশে সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা যন্ত্র পুলিশবাহিনীর উপর চোরাগুপ্তা হামলায় বেশ কিছু পুলিশ ভাইকে জীবন দিতে হয়েছ। সবচেয়ে ভয়ানক পরিস্থতির সৃষ্টি হয়েছে গতকাল (২২/০২/২০১৩ খ্রীঃ) শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর। আমাদের পবিত্র ইসলাম ধর্ম এবং মহানবী (সা.) এর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর বক্তব্যের অভিযোগ এনে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছে। ’৭১ সালেও ধর্মের দোহাই দিয়ে জামাত শিবির স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে, খুন করেছে, লক্ষ্য লক্ষ্য মা বোনদেরকে ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে। বাঙালী রমণীদের পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর নিকট উপঢৌকন দিয়েছে। আজকেও তারা শাহবাগ আন্দোলনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীর বিচারকে বানচাল করার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। জামায়াত শিবির ইসলামের ধোয়া তুলে রাষ্ট্রযন্ত্রকে অচল করার পাঁয়তারা করছে। বাংলাদেশের আপামর জনগণের প্রাণের পতাকা আমাদের জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে অবমাননা করেছে, বাঙালী জাতির ঐতিহ্য শহীদ মিনার ভেঙে দিয়েছে। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুকমি দিচ্ছে। পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছে। ইসলামের নামে জামাত শিবির একি শুরু করেছে ? তারা কি দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইছে ? সরকার কি করছে ? জামাত শিবিরের সকল প্রকার সহিংস কার্যকলাপের বিরুদ্ধে জাতিকে আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকে পরিহত করতে হবে।
বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর মহাপরিচালক এই মর্মে অভিমত ব্যক্ত করেন যে, জামাত ইসলামী এবং ছাত্রশিবিরের সাথে ইসলাম ধর্মের আদর্শগত কোন মিল নেই। জামাত শিবির ক্ষমতার লোভে ইসলামকে সিঁড়ি হিসাবে ব্যবহার করে। আমাদের প্রিয়নবী মু্হাম্মদ(সা.) অস্ত্র দিয়ে ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করেননি। মহানবী (সা.) ভালোবাসা ও চারিত্রক গুণাবলী দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। জামাত শিবির শান্তির ধর্ম ইসলামকে বিকৃতিভাবে উপস্থাপন করে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদেরকে সহিংসতা সন্ত্রাসীর পথে টেলে দিচ্ছে। জামাত শিবিরের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। জামাত শিবিরের উগ্রবাদী আচরণের জন্য বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দেশের বর্তমান সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে উত্তোড়নের জন্য সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে জামাত শিবিরের ধ্বংসাত্মক সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। এই সংগ্রাম বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই, এই সংগ্রাম আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। এই লড়াইয়ে আমাদেরকে বিজয়ী হতেই হবে অন্যথায় স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানের অঙ্গরাজ্যে পরিণত করবে।
শুভ্র সরকার, জাপান।





সহমত জানালাম!
সহমত।
নরাধম, আমরাবন্ধু ব্লগ।
সহমত জানালাম!
মন্তব্য করুন