ইউজার লগইন

পরবত‍র্ী সরকারের করণীয় কি ???

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির জনাব সেলিম ০৫ জানুয়ারী, ২০১৪ এর সাধারণ নির্বা চনকে পোকা খাওয়া নির্বা চন বলে অভিহিত করেছেন৤ প্রধান বিরোধীদল বিএনপি এই নির্বা চনকে প্রহসনের নির্বা চন বলেছেন৤ বিশিষ্ট বৃদ্ধিজীবি এই নির্বা চনকে স্নেহের নির্বাচন বলেও অভিহিত করেছেন৤ আর ক্ষমতাশীন আওয়ামীলীগ এটাকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার নির্বা চন বলতেই আগ্রহী৤ গতকাল ০৬ জানুয়ারী, ২০১৪ নির্বা চনের পরদিন গণভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য রেখেছেন তাতে মনে হয়েছে তিনি এই নির্বা চন এবং এর ফলাফল নিয়ে বেশ খুশি৤ যদিও পরবর্তী নির্বা চন ব্যবস্থা নিয়ে সমঝোতা ও আলোচনার জন্য বর্ত মান প্রধান বিরোধীদল বিএনপি এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু তার বডি ল্যাংগুয়েজে মনে হয়েছে যে, তিনি নবগঠিত সরকারের মেয়াদ দীর্ঘা য়িত করবেন৤ এজন্য তিনি পরবর্তী নির্বা চনের জন্য বিরোধীদলকে ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন৤ অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে যে, নবগঠিত সরকার তার মেয়াদ পূর্ণ করার চেষ্টা করবে৤ পাশাপাশি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে সমঝোতার সংলাপ চালিয়ে যাবারও চেষ্টা করবে৤ কিন্তু আদৌ সমঝোতা হবে কি না তা বলা মুশকিল৤ কারণ সমঝোতার জন্য আওয়ামীলীগ ও বিএনপির পক্ষ থেকে যে শর্ত দেওয়া হচ্ছে তা উভয়ের পক্ষে পূরণ করা কঠিন৤ ক্ষমতাশীন আওয়ামীলীগ কখনোই নির্দ লীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শর্ত মেনে নিবে না৤ অপরদিকে বিএনপিও জামাত শিবিরকে ছাড়তে পারবে না৤

বিভিন্ন মহল থেকে জামায়াত শিবিরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করার দাবী আসছে৤ কিন্তু আওয়ামীলীগ ইচ্ছা করেই রাজনৈতিক কৌশলগত কারণেই জামায়াত শিবিরকে নিষিদ্ধ করবে না৤ কারণ জামায়াত শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হলে তাদের নেতা কর্মীরা বিএনপির সাথে মিশে যাবে৤ তাতে বিএনপির লাভই হবে৤ ফলে আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল হবে না৤ বরং বিএনপি জামাতকে বাদ দিলে জামায়াত অভিভাবক হারা হয়ে যাবে৤ তাদের রাজনৈতিক কর্ম কান্ড শীতল হয়ে যাবে৤ কোন সহিংসতা করার সাহস পাবে না৤ সেই সাথে জামায়াত শিবির ছাড়া বিএনপি কোন আন্দোলনই সফল করতে পারবে না৤ সুতরাং বর্ত মানে বাংলাদেশের রাজনীতি এক জটিল পরিস্থিতিতে রয়েছে৤

০৬ জানুয়ারীঁর সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেই দিয়েছেন যে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন করার জন্য জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে৤ সেক্ষেত্রে সরকার হরতাল-অবরোধের নামে কোন রাজনৈতিক সহিংসতা সহ্য করবে না৤ সহিংস রাজনীতি বন্ধের জন্য নবগঠিত সরকার রাজনৈতিক সহিংসতার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করতে পারে৤ বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে মায়ানমারের অং সাং সুচির মতো গৃহবন্দি করতে পারে৤ উপরোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সরকার সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিবে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বিচারের রায় কার্য কর করতে পারে৤ আগামী একবছরের মধ্যে সরকার যদি এসব কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে সেক্ষেত্রে বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে৤ জামায়াত শিবির অভিভাবক হারা হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতা চালাবে৤ এসবই আমার অনুমান৤ তবে বাংলাদেশের বর্ত মান রাজনীতি এমন এক জায়গায় দাড়িয়ে আছে যেখান থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লাগবে৤ অনেকেই মনে করছেন যে, ক্ষমতাশীন আওয়ামীলীগ দেশকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতিতে নিয়ে যাচ্ছে৤ কারণ বিএনপি যদি জামাতকে ত্যাগ করে এবং জামাত যদি রাজনৈতিক কর্ম কান্ড পরিচালনা করতে না পারে সেক্ষেত্রে তারা তালেবান স্টাইলে সহিংসতা চালাবে৤ কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেই জামায়াত বা শিবিরের ক্যাডার বাহিনী তালেবানী কায়দায় বিদ্রোহ করতে পারবে না৤

গত কয়েক দিনের হরতাল ও অবরোধে রাস্তা ঘাটের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে যে, সাধারণ জনগণ আর হরতাল অবরোধ খাচ্ছে না৤ আম জনতা এখন দেশে শান্তি চায়৤ আগামীতে বিরোধীদলের আন্দোলন সফল হবে বলে মনে হচ্ছে না৤ সরকার যদি বিরোধীদলের সহিংস আন্দোলন কঠোরহস্তে দমন করতে পারে এবং জনগণের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে তাহলে জনগণ সরকারের পক্ষেই থাকবে৤ বাংলাদেশের জনগণ আর যাই হোক জামাত শিবিরের সহিংস রাজনীতি চায় না৤ বিএনপি গত ৩/৪ মাসের সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষতিই করেছে৤ জনগণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাথে থাকলেও কোন সহিংস আন্দোলনকে সমর্থন করে না৤

এখন নবগঠিত সরকার নিম্নলিখিত বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দিতে পারেঃ (১) রাজনীতির নামে সহিংসতা, জ্বালাও-পোড়াও বন্দের মাধ্যমে জনগণের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দেশের স্বাভাবিক অর্থ নৈতিক কর্ম কান্ড নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ; (২) পরবর্তী সাধারণ নির্বা চন অংশগ্রহণমূলক এবং সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য করার জন্য একটি স্থায়ী নির্বা চনী পদ্ধতির প্রবর্তন ও বাস্তবায়ন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ এবং এজন্য সকল রাজনৈতিক দলের সাথে সমঝোতার সংলাপ চালিয়ে যাওয়া; (৩) যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধীদের চলমান বিচার ও বিচারের রায় বাস্তবায়ন করা৤ এগুলো স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা৤ দীর্ঘ মেয়াদী ব্যবস্থা হিসেবে দুর্নীতি দমনের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে৤

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মনিরুল হাসান's picture


বিভিন্ন খবরে ও বিভিন্ন সংবাদপত্রে বিরোধী দলের বডি ল্যাংগুয়েজ দেখে মনে হয় তারাও এই সরকারকে 'স্বনির্বাচিত সরকার', 'দূর্নীতিবাজ সরকার' মন্তব্য করেই সময় কাটাবে। মুখে মুখে নির্বাচন চাইলেও তার জন্যে কোনো প্রয়োজনীয় কোনো কর্মসূচী নেবে না।
দুই দলের যন্ত্রণা ভোগ করবে সাধারণ জনগণ। Sad

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

শুভ্র সরকার's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি রাজনীতি সচেতন মুক্ত চিন্তার মানুষ।