কিছু সেটআপ গেমসের গেটআপ কথাবার্তা
সৃষ্টির আদিকাল থেকে মানুষ জীবিকার সন্ধানে এদিক সেদিক ছুটছেন যার যার সামর্থ্য আর যোগ্যতানুযায়ী। কেউ মুন্সীগঞ্জের লঞ্চে ওঠে সদরঘাট নামে আর কেউ কুর্মিটোলার প্লেনে ওঠে ভিন দেশে নামে। যার যার যোগ্যতানুযায়ী তাকে অনেক ধরনের ট্যারা ব্যাঁকা প্রশ্নের মাধ্যমে ঝাঝড়া হয়ে, তীক্ষন এক্সরে মার্কা দৃষ্টির সামনে ফালা ফালা হয়ে তার গন্তব্যের টেবলে পৌঁছতে হয়। এরমধ্যে অনেক প্রশ্নই থাকে নেহাত গৎবাঁধা আর বেহুদা। প্রশ্নকর্তাকে যেহেতু কোন একদিন ইন্টারভিউতে এপ্রশ্ন করা হয়েছিল, তাই তিনি আজ সেই প্রশ্ন প্রতিশোধমূলকভাবে তার অধঃস্তনকে ফিরিয়ে দিয়ে তার উশুল তুলবেন টাইপ ব্যাপার।যেমন ফালতু প্রশ্ন তেমন তেলানী উত্তর। যুগ যুগ ধরে এই মিথ্যের বেসাতী চলছে চলবে টাইপ অবস্থায় পৌঁছে গেছে।তার সামান্য একটু নমুনা আজ পেশ করছি।
প্রশ্নঃ এই কোম্পানীতে কেনো কাজ করতে চাও?
সত্যি উত্তর মনে মনেঃ এই কোম্পানীতে এই পোষ্টটা খালি আছে, অন্য কোম্পানীতে নাই তাই চাই, শালা। তাছাড়া এই কোম্পানীর বেতন - বোনাস ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ভালো।
মিথ্যে উত্তর সামনা সামনিঃ এই কোম্পানী অনেক স্বনামধন্য। অর্থনীতি, সমাজে অনেক অবদান রেখেছে। নিজেকে উন্নত করার এবং নিজের প্রতিভা দ্বারা কোম্পানীর ও কাজের মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখার সুযোগ পেতে চাই এন্ড সো অন সো অন
প্রশ্নঃ তোমার জব প্রোফাইলের কোন কাজটা তোমার কাছে আকর্ষনীয়?
সত্যি উত্তর মনে মনেঃ কোনটাই না শালা কুত্তা। কিন্তু এগুলার বাইরে কিছু জানি না, এইটা গুতাইয়া খাই তাই এই প্রোফাইলের জবের জন্য বাধ্য হয়ে এ্যাপ্লাই করেছি।
মিথ্যে উত্তর সামনা সামনিঃ আমি চিন্তা ভাবনা করতে ভালোবাসি। জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারলে অনাবিল আনন্দ লাভ করি। স্ট্রেস হ্যান্ডল করা কোন ব্যাপার না। খুব ঠান্ডা আমার মাথা ব্লা ব্লা ব্লা
প্রশ্নঃ কাজ করতে পছন্দ করো নাকি নটা পাঁচটার রুটিন চাও?
সত্যি উত্তর মনে মনেঃ শালা কাজ দেখলে পালাতে ইচ্ছে করে। সারাদিন শুয়ে শুয়ে বই পড়তে, রিমোট নিয়া চ্যনেল ঘুরাতে ইচ্ছে করে। ঠ্যাং এর ওপর ঠ্যাং দিয়া ফেসবুক, জিটক করতে ইচ্ছে করে। কাঁধে ক্যাম, মাথায় টুপি বেড়িয়ে পড়ো অজানায় সেই চিন্তা মনে ঘুরে
মিথ্যে উত্তর সামনা সামনিঃ কাজকে আমি সন্তানতুল্য জ্ঞান করি। যতোক্ষন ক্লায়েন্ট সন্তুষ্ট না হবে ততোক্ষন নটা – পাঁচটা কেনো, দশটায়ও বাড়ি যবো না। দ্বায়িত্ব নিয়া কোন ছেলেখেলা না ইত্যাদি ইত্যাদি
প্রশ্নঃ কোম্পানীকে কিভাবে কন্ট্রিবিউট করবে বলে ভাবছো?
সত্যি উত্তর মনে মনেঃ তুই যেমনে করতেছস আমিও ঠিক সেভাবেই করবো। টেবিলের ঐপারে বইসা ফুটানী ঝাড়স? আমাদের ট্যাক্সের টাকায় বুড়া বয়সের পেনশন খাবি আবার আমাদের সাথেই শাতিলি ঝাড়স?
মিথ্যে উত্তর সামনা সামনিঃ দিনরাত এক করে দিয়ে ভাববো কি করে র্যান্ডম প্রসেসকে আরো নির্ভুল, এফিসিয়েন্ট আর ক্লায়েন্টের মনমতো করা যায়। অতি দ্রুত অতি নির্ভুল সেবা প্রদানের জন্য সদা নিয়োজিত থাকিব।
মনে মনেঃ নইলে তার কয়দিন পরে আবার আমাদের চাকরী খাবার প্ল্যান করবি কি করে? আমাদের দিয়ে অর্গানাইজেশন ডিজাইন করাইয়া আমাদের চাকরী খাইয়া দিবি, এহসান ফারমোশ কুত্তে।
প্রশ্নঃ তোমার পজিটিভ দিকগুলো সম্বন্ধে বলো?
সত্যি উত্তর মনে মনেঃ আমার সত্যিকারের পজিটিভ দিক শুনলে তোর কোম্পানীর ফিট খাইতে লাগবো। মেজাজ খারাপ হইলে এমন জোরে চিল্লান দেই যে ১৭৬০ বর্গফুট কভার করি। মাথা গরম হইলে এমন ঝগড়া করি যে ভূ-ভারতে কেউ আমার সাথে জিততে পারবে না। রান্না করতে পারি, ঘর মুছতে পারি, ভালো ফুল সাজাতে পারি ইকেবোনা শিখা ছাড়াই, মজার ব্লগ লিখতে পারি কিন্তু সেইগুলা তোর জবের সাথে রিলেট করে না ব্যাটা।
মিথ্যে উত্তর সামনা সামনিঃ আমার মাথা ঠান্ডা, এ্যাডজাষ্টম্যান্ট পাওয়ার ভালো, সদা হাস্যময়ী, লাস্যময়ী এন্ড দিস এন্ড দ্যাট এন্ড দিস
প্রশ্নঃ তোমার নেগেটিভ দিকগুলো সম্বন্ধে বলো?
সত্যি উত্তর মনে মনেঃ আসল কথা কইলে আর তুমি জব দিছো।
মিথ্যে উত্তর সামনা সামনিঃ (বিণয়ে বিগলিত ভাব ধরে)ডাচ উচ্চারনটা ঠিক পার্ফেক্ট না অনেক সময় মনে হয় ভাষার পিছনে আর একটু সময় দেয়া দরকার
তানবীরা
২২।০২।১০





খিক খিক খিক ; আন্টি তো পুরা ফাটায়ফেলছেন;
; আপনার ডাচ উচ্চারনের অডিও শুনতে মন চায়
সব চাওয়া পূর্ণ হয়না গো আম্মাজী ঃ)
গ্রেট, তানবীরা!
আমি নিজের নেগেটিভ দিক কই এইভাবে- হার্ডলি ক্যান সে নো টু আদারস
(এইরম মিছাকথা আর কাউরে বলা হয়না)।
এইটার একটা টেকনিক্যাল প্রব্লেম থাকতে পারে। ব্যাটা যদি আমার মতো ত্যাঁদর হয় আর পরীক্ষা করতে চায়
অনেক মজা পাইলাম। আপনেতো যা তা স্যাটায়ার লিখেন...
যা তা স্যাটায়ার লিখেন...
যা তা বলতে এখানে কি বোখানো হয়েছে
যা তা=অতিরিক্ত ভালো
গবি নীরব (লজ্জার ইমো দেখি গায়েব সব)
বিগ বসের সাথে যখন ম্যানেজমেন্ট মিটিং-এ ইয়েস ইয়েস ইউ আর কারেক্ট, ইউ আর রাইট স্যার, বলতে বলতে আর কাষ্ঠ হাসিটা লটকে রাখতে রাখতে চোয়ালের দফারফা হয়ে যায়, ঘাড়ের রগ ব্যাথা হয়ে যায়, তখন এই সংলাপগুলো খুব কাজে দেবে!! :)
কিন্তু মনে মনে কারন আমরা পড়ছি...... কি পড়ছি...... বোবার শত্রু নাই
আমি জীবনে চাকরীর ইন্টারভিউ দেই নাই। আমার খুব ইচ্ছা দেওনের। বিষয়টা সম্পর্কে আমার প্রবল আগ্রহ। ভাবতেছি একটা জাঝালো সিভি বানায়া পাঠামু নাকি কোনো চাকরীর বিজ্ঞপ্তীতে?
লেখায় উত্তম জাঝা
ভূতের কিল খাইতে ইচ্ছা হইলে লুকে কতো কিছুইতো করে
হুই, ডাচে কৈলাম।
লেখা পইড়া বিমলানন্দ পাইলাম। জোস মজার হইছে।
পোস্টটা চাক্রির ইন্টারভিউয়ের আগে আরেকবার পইড়া যাব
...হি হি হা হা, কাকী তো ফাটাইয়াছেন....
এইটা পড়ার সময় জায়গায় খাড়াইয়া আমার নিজের ইন্টারভিউয়ের কথা মনে পৈড়া গেলো...কিসব করতাম...আবার কিছুদিনের মাঝেই করুম...আপনার টিপস কাজে লাগবো....
বাই দ্যা ওয়ে কাকী, আপনে কি আসলেই ডাচ ভাষা পারেন?
আসলেতো পারি না কিন্তু
আফুর ডাচ শুনতে মনচায়
আইসা পরো এখানে শুনায়া দেই পরান ভরে
ভরিয়া পরান শুনাবো ডাচ গাআআআআআআআআআআআন
হাহাহাহা...
আল্লাহ না করুক মনের কথা পড়ার কোন তরিকা নাই... তাইলে কি যে হইত!!
নেগেটিভ দিকের টিপ্সটা কাজে আসবে...
সেইটাইতো। এইযে মনে মনে গালি দিয়া সবাই বললো, জোশ ব্লগ। আমি সব তখন টের পেতাম কি না বলো?
হাহাহাহাহাহা। জোস লেখা। দারুণ পছন্দ হইছে। আহারে ডাচ দেশে যাওয়া হইল না। আফসুস।
আফসুস কেনো? আসেন জেন্টেলম্যান এগ্রিম্যান্ট করি, আপনি আমাকে টকশোতে টক করতে দিবেন আর আমি আপনাকে ডাচ ল্যান্ডে খাতিরদারী দিবো।
আহা ... আপ্নারা কত্ত কি জানেন
আমি আমার বস এর লগে পুরা তর্ক লাগাইয়া দিছিলাম
এরপরেও চাকরী হইছে তাইলে আপ্নের?
এখানে সব জানা কিছু ব্যাপার না বস। পড়াশোনার সিলেবাসের মধ্যে চাকুরীর ইন্টারভিউ থেকে শুরু করে কি করে ক্লায়েন্টের ফোন এ্যটেন্ড করবেন সব থাকে। সবই পড়ার অংগ প্রতংগ। পাশ করে যাবেন চাকরী করতে, তাহলে ইন্টারভিউ কেমনে দিবেন এইটা না জানলে আর পইড়া কি লাভ, বলেন?
হ
... এখনো আমি সেইখানেই কামলা দিয়া যাইতাছি
হৈছেতো
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডে একটা ইন্টারভিউ দিছিলাম ...
আপনার বর্তমান কর্মক্ষেত্র আর এসসিবির মধ্যে পার্থক্য কি?
কৈলাম আমরা দেশের সবচাইতে বড় এনজিও... আপনার বড় ব্যাংক না
কয় তারা বিশ্বের সব চাইতে বড় ব্যাংক।
কৈছিলাম এনালাইসিস দেন। আরো কৈছি আপনার বক্তব্য সারা বিশ্বে আপনাদের অবস্থান নিয়ে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে না ... যেহেতু ইন্টারভিউ হইতেছে বাংলাদেশের একটা পজিশনের জন্য সেহেতু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এসসিবি আমাদের চাইতে বড় কিছু আমরা মনে করি না
ব্যাটারা পুরা তব্দা মাইরা গেছিলো
আমার মেজাজ খারাপ ছিল... আমারে ১ ঘন্টা বসাইয়া রাখছিল। এর জন্য আমি পুরা এগ্রেসিভ ছিলাম। আর এই জবটাও আমার নিড ছিল না
বাংলাদেশে ইন্টারভিউতে পড়া ধরে আমার বোনও বলছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিল, এক্সেল করতে দিছে মাউজ না ইউজ করে। এধরনের ফাজলামীর মানে কি, কে জানে?
এখানে অবশ্য বলে, তুমি একটা প্রডাক্ট। নিজেকে কি করে জব মার্কেটে সেল করবা, দেখো। আমরা সেই ভাবেই নিজেদের দেখি ঃ)
দারুণ লিখেছেন
একজনের দুঃখ অন্যজনের কাছে দারুন লাগাই স্বভাবিক দাদা।
তাতাপু ফাটায়ালাইছো ... হেহে
তোমার পোষ্ট কোথায় ম্যম?
.পড়লাম।
হ ঃ)
মনের কথা গুলান কইছেন ভইনডী ।
আর কি ভাইজান
হা হা। তানুদি যে এরকম রম্য লেখে আগে টের পাই নাই।
তোমার হট পট যখন ভাংগবো তখন টের পাইবা
খেক খেক খেক... জটিল জিনিস.।
তবে সবচে বিরক্ত লাগে ''এই কোম্পানীতে কেন কাজ করতে চাও'' এই প্রশ্নটা... ভাবসাব যেমন কি এক কোম্পানী বানায়া রাখছে যে মানুষ এইখানে কাজ করার জন্য পাগল হয়া গেছে... আরে ব্যটা তোর কোম্পানীটা সামনে পড়ছে তাই তোরটায় আসছি...
আরে ব্যটা তোর কোম্পানীটা সামনে পড়ছে তাই তোরটায় আসছি...
কোন একদিন সত্যি কথাটা কইয়া ফেললে কেমন হয়?
ফাটায়া দিসেন। পুরা ইয়রকার। আপনার লেখার পাংখা কি এমনি এমনি হৈসি?
অনেক দিন পর দেখলাম আপনাকে।
আমার সবচেয়ে অসহ্য প্্রশ্ন, where do you want to see yourself in five years from now?
আমিতো অনেক কিছুই চাই, তাতে কি আসে যায়, তুমি আমারে ৫ বছরে কোন প্রমোশন দিবা কিনা সেটা কও।
আমিতো অনেক কিছুই চাই, তাতে কি আসে যায়, তুমি আমারে ৫ বছরে কোন প্রমোশন
দিবা কিনা সেটা কও।
কঠিন সত্যি।
এরচেয়ে বড় সত্যি, রিসিশন কার্ভ বাড়তেছে। আগে প্রতি দশ বছরে ছিল এখন পাঁচ হয়ে তিনে নামতেছে। তাহলে কি আমরা বয়স কম হওয়ার অপরাধে বানরের তৈলাক্ত বাঁশের গল্পের মতো খালি ওপরে - নীচে হবো?
নাকি আমাদের চাওয়ার কোন মূল্য কোথাও আছে?
আনটি রিসিশন কার্ভ কি?
গ্রোথ চার্টে যে কার্ভ আঁকা হয় তা গ্রোথ কার্ভ আর রিসিশন চার্টে যে কার্ভ থাকে তার নাম রিসিশন কার্ভ। রান্নাঘরের চাল ডাল জমা খরচের গ্রাফে যে কার্ভ থাকে তার নাম কিচেন কার্ভ ঃ)
আপু কেমন আছেন ?
এই তুমি!!!! আমি ভালো, তুমি কেমন আছো?
কাকী কই গায়েব হৈয়া গেলেন?
বড়ো ছেঁড়া বেড়ায় আছিড়ে ভাই
তনু আফা, শুরু কইরা দিলাম এইখানে, গান্ধার ঠ্যালায় এইবার আপনারা এইখান থিকায় মনে হয় পলায়া যাইবেন
তোমার মুখে এইসব মানায় না। ভাইবোনেরা একসাথে আবার ব্লগিং করবো, এই হলো কথা।
ফুটুরি তে কামে লাগবো ।

ফিস দিতে ভুইলো না ভাইজান
আফামনি, অফিস রুমের দরজা লক কইরা হাসলাম... (যাতে পাগল উপাধী নিয়া চাকরী হারাইতে না হয়)
লেখা জব্বর হইছে।
যদিও জীবনের ডজনের মতো চাকরীর বেশির ভাগই কোনরকম ইন্টারভিউ ছাড়া পাইছি। (কারন হ্ইতে পারে গুলার বেশির ভাগই অখ্যাত প্রতিষ্ঠান ছিল)
প্রতিষ্ঠান ব্যাপার না বকলমজী, বেতনটা হইছে কথা
দীক্ষক দ্রাবিড়ের পোষ্টের লিঙ্ক:
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28709270
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28708663
আপু আমার পছন্দের আরেকটাপোস্টের লিংক ও দিলাম
নতুন ঈশ্বর আবশ্যক
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/2410
আল্লাহ করুন যেন আপনি বিশাল এক কোম্পানীর মালিকা হোন । তাহলে ইন্টারভিউ বোর্ডে আমি সব সত্য কথা বলে বাকি মিথ্যুকদের হারিয়ে চাকরিটা বাগিয়ে নেব
। হল্যান্ডে যাবার আর চাকরি অনেক সাধ 
বেশ লাগছে! আর ইনটারভিউ দিতে চাই না!
মন্তব্য করুন