ব্রাজিল জিতছিলো তিন R-এর কল্যাণে, শেখ হাসিনাও তিন R-এর কান্ধে চাপলো?
এক.
রমিজা বেগমের জামাই হাসমত আলী যখন তার ভার্চ্যুয়াল এতিম কন্যা শেখ হাসিনার লেইগা জমি কিনছিলো তখন তার ভালোবাসা ছিলো। এই ভালোবাসা শেখ সাহেবের প্রতি। যার জাদরেল কন্ঠের মোহময় ডাকে সে যুদ্ধে গেছিলো। যার ব্যক্তিত্যের টান তারে স্বপ্ন দেখাইতো হয়তো একটা স্বপ্নময় দেশের। শেখ পরিবারের শেষ প্রতিনিধি দুইজনের একজন শেখ হাসিনা তখন আরামেই ছিলেন বিদেশে। কিন্তু স্বাধীন দেশে চার/পাঁচ বছর কাটাইয়াও আসলে মোহমুক্তি ঘটে নাই হাসমত আলী'র। তিনি বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। শেখ হাসিনার নামে কেনা জমিতে তার কবরের অংশীদারিত্ব ঘটছে বেআইনীভাবে। তার স্ত্রী রমিজা বেগম সেই জমি আর কবরের স্মৃতি নিয়া বাঁইচা আছেন ৩৫ বছর হইছে। হাসমত আলী মারা যাওনের পর এই জমি বেইচা কিছু করনের উপায়ও মনে হয় না তাগো ছিলো। হাসমত আলীর ভাগ্য বিড়ম্বিত ছেলেরা মায়ের লগে ঝগড়া করে, কিন্তু রমিজা আলী সেই জমি শেখ হাসিনার নাগাল পান নাই বিধায় অনাবাদী থাকে দীর্ঘ সময়।
রমিজা আলীর এই ভালোবাসারে আমি নিজে অনুভব করতে পারি না। আমার মনে হয় এই ভালোবাসায় কোন স্বার্থ নাই। কিন্তু তারে সংজ্ঞায়িত করনের ভাষাও আমার জানা নাই। হয়তো মনোচিকিৎসক মোহিত কামাল কিম্বা ফিরোজ আহমেদ এই মানসিক অবস্থার কোন বর্ণনা দিতে পারবেন ভালো। আর ভুল কইরা হইলেও বিষয়টারে আমার মানসিক অসুস্থতা মনে হয়। মনে হয় রোমান্টিকতার এই প্রকাশে কোন না কোন যুক্তি বাক্যের অনুপস্থিতি আছে...যেইটা হইতে পারে হেল্যুজিনেটিভ ফ্যান্টাসীতে অথবা বাস্তব দুনিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতার কারনে।
কালের কন্ঠ পত্রিকায় চটকদার খবর পরিবেশনটা আমাগো পুরানা দিনের জনকন্ঠের কথা মনে পড়াইয়া দ্যায়। সেইখানে এইরম একটা সংবাদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরীতে কতোটা রস ঢালা হইবো সেইটাও আমি না পইড়াও অনুমান করতে পারি। যদিও হায়দার আলী নামের ঐ সাংবাদিকের উদ্দেশ্য নিয়া সংশয়ী হইতে আমি চাই না। সংবাদ ছাপানের বা তৈরী করনের প্রক্রিয়া নিয়া আমার অনেক প্রশ্ন থাকনের পরেও।
শেখ হাসিনা রমিজা বেগমের সংবাদ পাওনের পর তার বাকী জীবনের দায়ভার নিবেন এইটাই স্বাভাবিক। এতো বড়ো ত্যাগের প্রতিদানতো অবশ্যই হওয়াটা জরুরী, না হইলে বরং তার মানসিক সুস্থ্যতা নিয়া সন্দেহ দেখা দিতে পারতো। কিন্তু রমিজা বেগমের দায়িত্ব কি শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত ভাবে নিবেন নাকি রাষ্ট্র নিবো এই সিদ্ধান্তে আমি ভাবিত হই। আমার মনে হয় সবকিছুরে রাষ্ট্রের ঘাড়ে চাপাইয়া দেওনের অভ্যাস তো কম নাই এই পরিবারের...এক টাকায় ধানমন্ডির বাড়ি কিম্বা গণভবন কিনা নেওনের ধৃষ্টতাতো কয়েক বছর আগেই দেখাইছে এই শেখ পরিবারের সুযোগ্য সদস্যারা।
সারা দেশে রমিজার সংখ্যাতো কম নাই, কেবল ভালোবাসার প্রকাশে তাগো খামতি আছে। এই খামতির বরাতে তারা কখনো সংবাদ মাধ্যমে আইটেম হইতে পারবো না। আর তাগো জীবন শুরু আর শেষ হইবো দোলাচলেই। শোষকের পলিসিতে তারা থাকবো তলানীতেই। দারিদ্র রেখার নীচে তাগো কায়ক্লেশের জীবন কাহিনী চলবো অনায়াশে। তাতে কোন উত্থান থাকবোনা জানি, ধারাবাহিক অবনমন থাকতে পারে বড়োজোর।
দুই.
কায়েতটুলির দেড় কাঠা জমির উপরে ফারুক হোসেনের বাড়িতে আগুণ লাগনে মারা গেলো দেড় শতাধিক মানুষ। অনেকে এই সংখ্যারেও যথেষ্ট মনে করে না। যদিও সরকার খাতা কলমে দেখাইতেছে ১১৭ টা লাশের উপস্থিতি। সরকার নিজের অবহেলাজনিত অপরাধের দায় বিভিন্নজনের কান্ধে চাপানের কাজটাও সম্পন্ন কইরা ফেলছেন প্রায়। এমন সময় শেখ হাসিনা দায়িত্ব নিলেন সেই বাড়ির বাঁইচা যাওয়া দুই কন্যার। রুনা-রত্না নামের এই দুই কন্যার দায় নিজের কান্ধে নিয়া তিনি হাসমত আলীর চাইতে আগাইয়া গেলেন যেনো। বাস্তবতা আসলে কোথায় অবস্থান করে এই সিদ্ধান্তে!? রুনা কিম্বা রত্না স্বাভাবিক ভাবে নতুন জীবন পাক সেইটা আমি কেনো যেকোনো সুস্থ্য মানুষের আকাঙ্খাই হইতে পারে। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকারের এই সিদ্ধান্তরে আমার হাসমত আলীর মতোন ভালোবাসা থেইকা উইঠা আসা কোন সিদ্ধান্ত মনে হয় না। এই সিদ্ধান্ত একেবারেই রাজনৈতিক গুটি চালনের কৌশলের অংশ মনে হয় আমার।
দেশের রাজনীতিতে গতো সাত দিনের মধ্যে এই তিন R অনেক গুরুত্বপূর্ণ হইয়া উঠে। ডিজিটাল খড়গহস্ত সরকারের কমনীয়তা প্রকাশের এই ধরণ আলোচনার বিষয়বস্তু হিসাবে নিয়া আসতে প্রচার মাধ্যমগুলিতো আগ বাড়াইয়া আছে। প্রতিদ্বন্দ্বী যমুনা গ্রুপরে যাতে কোনরম ছাড় না দেওয়া হয় তার লেইগা বসুন্ধরা গ্রুপের তো অনেক কিছু করনের আছে। বিশ্বকাপের প্রাক্কালে রমিজা-রুনা-রত্নারা আমারে তাই মনে করাইয়া দেয় ২০০২ সালের ব্রাজিল দলের কথা যেই দলে তিন R-এর উপস্থিতি ছিলো যার মাধ্যমে ব্রাজিল সেইবার পঞ্চমবারের মতোন বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়। আমাগো রাজনীতিতেও কি তিন R শেখ হাসিনারে চ্যাম্পিয়ন করতে পারবো শেষ পর্যন্ত!? নাকি জনগণ এখন অনেক সচেতন হইছে এই সব মায়াকান্নায় তারা এখন আগের মতো ভুলে না!?





পুরানা ঢাকার এক কলিগের কছে শুনলাম মৃতের সংখ্যা ২০০+
ভাস্করদা,
যদিও মনের ভেতরে পুষে রাখা অনেক কষ্ট এবং দেশ-রাজনীতি নিয়ে হতাশা থেকে লিখেছেন তবুও আপনার সাথে একমত হতে পারলাম না। বিশ্বাস করেন এমন রমিজ আলী সারা দেশের আনাচে-কানাচে অনেক আছে, যারা শেখ সাহেবকে আসলেই বাপের চেয়ে বেশি ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ আমি, আমার ক্ষুদ্র জীবনেই অনেক দেখেছি। তাদের এই ভালোবাসাকে আমি কখনোই মানসিক অসুস্থতার সাথে এক কাতারে ফেলতে পারি না।
রমিজের পরিবার, রুমা-রত্না এদের কাছে টেনে নেয়ার জন্য শেখ হাসিনা সাধুবাদের দাবিদার, তা সে যতটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হোক না কেন। আমি সাধারণ মানুষ হিসেবে আর একটা বা দুইটা সাধারণ মানুষের সামান্যতম মঙ্গল সরকারের তরফে ঘটতে দেখলে সেটার জন্য সরকারকে তার প্রাপ্য ধন্যবাদই দেব। তারপরে অন্যান্য যে হাজারও সব কারণে তাদের মুণ্ডুপাত করা দরকার সেটাও করবো। কিন্তু সব কিছুর মধ্য থেকেই নেগেটিভটিকে টেনে বের করব না, মাঝে মাঝে আশায় বুক বাঁধা ভালো, নিজের মানসিক সুস্থ্যতার জন্যই।
আমি রাজনীতি বুঝি না ভাইজান, নিজের মতামতটুকু জানিয়ে গেলাম। আশাকরি কিছু মনে করবেন না।
হাসমত আলী'র মানসিক অসুস্থতা কইতে আমি নেতিবাচক কোন ফেনোমেননরে বুঝাই নাই...কারণ দেখেন পরের অংশেই আমি কিছু ইঙ্গিত দিছি,
এইটা আসলে রাষ্ট্রের ব্যর্থতাই...স্বচ্ছতা দেখাইতে সরকার মন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা পত্রিকায় ছাপাইতে দেয়। কিন্তু আমরা আসলে কয়জন বাজেট বুঝি? জাতীয় আয় আর জাতীয় বাজেট যে আলাদা জিনিষ হইতে পারে এই ধারণা আমার নিজেরই তো ছিলো না। ভালোবাসার এই নমূনা যখন মানুষরে আরো দূরে নিয়া ফেলে, হাসমত আলী যেরম আসলেই ভাবতেছিলো হাসিনা এতিম হইবো, তারে কেউ নাই দেখনের লেইগা...এইটা একধরনের সরলতার প্রকাশ ঠিকি, কিন্তু তাতে ইমম্যাচিওরিটির বিষয়টাও থাকে। যাউগ্গা আমি খুব কাছ থেইকা এর চাইতে সরলতাময় সাহসী মানুষের অধঃপতনও দেখছি। ৭৫'এর ১৬ আগস্টে আমার এক চাচা মুজিব কোট পইরা শহরে বাইর হইছিলেন...সেইদিন এই সাহস দেখায় নাই অনেক প্রথিতযশা নেতারাও। সেই লোকের পরবর্তী ভূমিকাও খুব কাছের থেইকাই দেখনের দূর্ভাগ্য হইছে আমার।
শেখ হাসিনার এই উদ্যোগ হিসাবে না দেইখা যদি আমারে দেখতে হইতো একটা রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ, তাইলে সেইটারে আমি ইতিবাচক ভাবেই দেখতাম। কিন্তু এই দেশের রাজনৈতিকতারে আমি বেশ ভালোই চিনি। তাগো অনৈতিক কঠোরতারে কোমনীয় করনের কৌশল হিসাবেই যে এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হইতেছে এই বিষয়ে আমি নিশ্চিত। আশাবাদী হইতে পারি না কারণ একই সঙ্গে আমারে দেখতে হয় ছাত্রলীগ আর যুবলীগের মাস্তানিতে কতো রুনা-রত্না আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। যাগো বিয়া দেওনের স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী কখনোই ভাবতে পারেন না। কতো সন্তান এতিম হইছে এগো হাতে সেইটা একবার ভাইবা দেখছেন? প্রধানমন্ত্রী কয়জনের দায়িত্ব নিছেন?
আমার মুখে কুলুপ পড়েছে!
কনফিউজড হয়া গেলাম। তারপরো সকালে এই খবরটা দেখে ভালো লাগছে।
কেন কেন?
উপসি! এই কমেন্ট টা উদরাজীরে করছিলাম
তবে পোস্ট তুখ্খার হইছে। চিন্তার খোরাক। ধন্যবাদ জাভা।
বস রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আপনার অ্যানালাইসিসের সাথে আমি পুরোপুরি একমত। বঙ্গবন্ধু নিজেই এদের বলে গেছিলেন 'চাটার দল'। দুর্ভাগ্যক্রমে আজকে এই চাটার দলের দখলেই আপনার আমার বাংলাদেশ। কিন্তু আমি এই ট্রিপল R বিষয়ক মুভগুলার মধ্যে রাজনীতি খুঁজতে যাই নাই। খুঁজলে হয়তো দেখা যাবে আপনিই ঠিক। আমি কেবল মানবিক দিকটা দেখছি। নির্যাতিত, নিপীড়িত, দেশ-দশের ভাগ্যবিধাতাদের হাতে নিষ্পেষিত, আগুনে পোড়া, বানে ভাসা, বুভুক্ষু কোটি কোটি আম-জনতার মধ্য থেকে হঠাৎ করে দুই একটা রমিজ-রত্না-রুমার মুখে যদি সরকারী উদ্যোগের কারণে আধাবেলার জন্যও হাসি ফুটে ওঠে, একজন অকর্মণ্য দেশপ্রেমিক হিসেবে আমি তাতে মুহূর্তের জন্য হলেও খুশি। ঘর পোড়া গরু বস, হতাশ হতে হতে আশাবাদী হতেই ভুলে গেছি, তবুও মাল্টি মাইনাস মামাদের ভিড়ে দুই একটা কানামামার ঝলক দেখলে খারাপ লাগে না।
বুঝাইতে পারলাম কিনা জানি না।
মামুন ভাই, ট্রিপল আর এর মধ্যে রাজনীতি খুঁজতে আপনি না গেলেও এরমধ্যে শুধু এবং ওনলি রাজনীতিই আছেন।
প্রধানমন্ত্রী এতো মানবিক হলে, এই ইস্যুগুলো অন্যরুপে আসতো।
ভালো লাগলো ভাস্করদার যুক্তিবাদী বিশ্লেষন
হ ।
বাহ্ এভাবে তো ভেবে দেখিনি!
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে
দারুণ লেখা পড়লাম একটা
আবেগ নিয়া ব্যবসা সবচাইতে ভাল পারে পলিটিশিয়ানরা। সুতরাং উনারা যখন ক্যামেরার সামনে কাউরে জড়ায় ধরে, কিংবা কারো পায়ে ধইরা দোয়া চায়, কিংবা যখন তাদের চোখ ফেটে পানি বের হয়... আমার কেবলই বাংলা সিনেমার কথা মনে হয়। আর কিছু মনে হয় না।
ভালো বলছেন
মন্তব্য করুন