হেথাক তুকে মানাইছে নারে, ইক্কেবারে মানাইছে নারে...
এক.
আশা করছিলাম বিষ্যুদ্বারের চাপ থাকবো বাসে, তাই চরিত্রের সাথে বিরোধ কইরা টিকেট কাটলাম আগের দিন। ট্রাফিক জ্যামের ভয়ে তাড়াতাড়ি রওনা দিয়া কাউন্টারে পৌছাইলাম একঘন্টা আগে। দিনটাই যেনো আমার সাথে পরিহাস করতে শুরু করছিলো। যেইরম প্রত্যাশা নিয়া যা'ই করতে শুরু করি তার বিপরীত কোন কিছু ঘটতেই হইবো...যেমন এস আলম বাস সার্ভিসরে জীবনের প্রথম বারের মতোন কাটায় কাটায় ১২টায় বাস ছাড়তে দেখলাম...যদিও বাসের বেশ কিছু সিট তখনো খালি। পাহাড়ি একটা জনপদে আমরা একদল প্রাকৃত বাঙালি চেহারার মানুষ যাত্রা শুরু করলাম। খাগড়াছড়িতে যাওনের পরিকল্পনা করনের পর থেইকাই ধইরা নিছিলাম পাশের সিটে বসা পাহাড়ি সহযাত্রীর কাছ থেইকাই অনেক তথ্য জাইনা নেওন যাইবো। অথচ পাশের সিটে ক্যান পুরা বাসেও কোন পাহাড়ি কাওরে দেখলাম না বিষ্যুদ্বারের বাসে। পাহাড়িরা আর উইকেন্ড কাটাইতে বাড়ি ফিরে না। পাহাড়ের মতোন খাগড়াছড়িগামী বাসটাও তাই থাকে আমার মতোন খাটি বাঙালিগো দখলে। দূরে দেখি এক গেরুয়া বসনের বৌদ্ধগুরু তার লাঠিতে ভর দিয়া ঝিমায়...নাকি যাত্রাকালীন ধ্যান?
বিষ্যুদবার রাইতে রওনা দেওনের আগে বন্ধু-বান্ধবের সাথে থার্স্ডে নাইট পালনের উৎসব শুরু কইরা দিয়া আসছিলাম বিধায় খানিক ক্লান্ত ছিলাম। এক টিকেটে দুই সিট পাইয়া যাওয়াতে অপ্রত্যাশিত ঘটনার তালিকা আরো ভারী হইলো...তয় এই প্রথম বার যেনো মেঘলা রাতেও আমি হাতে চাঁদ পাইলাম। আরামের ঘুমটা ভাঙলো গিয়ো মাতৃভান্ডারে। বাসে উঠনের আগে ডিনার খাইয়া নিলেও রাত তিনটার সময় পেট কেরম মোচড় দিয়া উঠলো। দিনের প্রথম অপ্রত্যাশিত নেতিবাচক অভিজ্ঞতা ঘটলো এইখানে। চিটাগং হাইওয়েতে কোনো রেস্তোরাঁয় এই প্রথম গরুর মাংস অর্ডার করনের পর মেসিয়ার ৭ মিনিট পার কইরা বত্রিশ পাটি দাঁত বাইর কইরা সামনে ভাতের প্লেট আর মুরগীর মাংস রাইখা কয় বস গরুর মাংস শেষ, মুরগী দিয়াই খাইয়া লন। অন্য যেকোনো সময় হইলে আমি যা পাইছি তা দিয়াই খাইয়া নিতাম হয়তো। কিন্তু আজকের দিনে আমারেতো ভিন্ন আচরণ করতেই হইবো। আমি তারে ঠাণ্ডা গলায় কইলাম খাবার নিয়া যাও তোমার অর্ডার করা খাবারতো আমি খাবো না...আমার জন্য এক বোতল ঠাণ্ডা পানি নিয়া আসো। সেই ঠাণ্ডা পানি আমার খাওয়া হইলো না। বাস ছাড়ার তাড়ায় একটা সিগারেট খাইয়াই আবার বাসে উইঠা দিলাম ঘুম।
ঘুম ভাঙলো পাখিদের ডাকে। সবুজ উচু পাহাড়ি বুনো পথে বাস কি কারনে জানি থামানো হইছে। আমি মেঘলা চিবোনো আলোতে সবুজ আর পাহাড়ি পথে দেখলাম একদল পাহাড়ি নারী ঝুড়ি কাঁধে জুম্ম চাষে যায়...
দুই.
পরিচিত হোটেল জিরান'এ রুম পাইলাম না। তারা অবশ্য পথ দেখাইয়া দিলো শৈল সূবর্ণার। আমি একটা টিভিওয়ালা রুম নিয়া মোবাইল ফোন চার্জে দিয়া আবার সটান ঘুম। খাগড়াছড়ির বিক্ষুব্ধ জনপদ আমারে যেনো ঘুমপাড়ানি গান শুনাইতেছে কেবল...





এরপর কি ছবি পোস্ট আসবে? খাগড়াছড়িতে দেখার মতো কোথায় কি আছে ডিটেইলে একটা পোস্ট দিয়েন।
আজকে অন্ততঃ একটা ছবিও তুলি নাই...খাগড়াছড়িতে দেখার মতোন জায়গা হইলো আলুটিলা, আর পাহাড়ি জনপদ। যদিও এই এলাকায় সেনাবাহিনী রীতিমতোন সামরিক শাসনের মতোন আচরণ করে...যার লেইগা খুব বেশি ঘোরাঘুরি করনটাও যায় না।
ছবি পোস্ট দেন ভাস্করদা'। পাহাড়ের ছবি দেখতে চাই
কালকে ছবি তুলুম ভাবছি...
বর্ণনার স্টাইলটা পছন্দ হইছে খুব
... কেমন জানি খানিক টু দ্য পয়েন্ট ভাব নিয়া লিখা.. এইটাইপ ভাল্লাগে
ট্রাভেলের প্রশ্নে আমি পার্সোনালি ন্যারেটিভ ব্লগের পক্সে. কারন ছবি দিয়া দিয়া ফাকিবাজি প্রবনতা চইলা আসব আপনের
তখন আর বলার কথাটাও বলবেন না, ছবি দিয়াই খালাস :)।.
তয় স হায়িকা হিসেবে ছবি দিতে পারেন পোস্টের মইধ্যে
কে জানে...এতো ভাইবা লিখলেতো লেখক হইয়া যাইতাম...
চলুক... আপনার ভ্রমণ ব্লগ পড়তে দারুণ লাগে।
পুরাই সহমত।
এ গানটা দারুন। নাচো দারুন হয়। পরের পর্বের অপেক্ষায়
মাতৃভান্ডার দোকানটা ভালো না, পঁচা পঁচা জিনিস রাখে।
পাহাড়ের গল্প শোনার অপেক্ষায় থাকলাম, নিরাশ কইরেন্না।
গুহার ঠান্ডা স্বচ্ছ পানিতে হাত মুখ ধুইয়া লৈয়েন। এক মুখ দিয়া ঢুইকা আরেক মুখ দিয়া বাইরাইবেন। মশাল লৈয়া যাইয়েন অথবা টর্চ। ভিতরটা অন্ন্ধকার আর চামচিকায় ভরা...
পরের পর্বের অপেক্ষায়, আমি অনেক আগে গেছিলাম একবার খাগড়াছড়ী তে ।
সেই রকম ভাস্করীয় ভ্রমণকাহিনী... চলুক
~
চলুক!
ছবি দেন সাথে।
সত্যি, সবার সাথে আপনাকে ছবি দিতে অনুরোধ করছি.।
শুরু করলাম। আশা করি শেষ কইরা ফেলব খুব দ্রুত। কত্ত কত্ত পোষ্ট যে জমা হইয়া আছে।
মন্তব্য করুন