shane alam
মোঃ শানে আলম
চেয়ারম্যান
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা
আদিবাসী বাঙালি
ভূমি সংস্কার আইন:
চূক্তিতে ল্যান্ড কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। তারাই সিদ্ধান্ত নিবে কিভাবে জমি দেয়া হবে। ল্যান্ড কমিশন অফিসের চেয়ারম্যান অফিস থেকেই আপনাকে এ বিষয়ে জরীপের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। ল্যান্ড কমিশনে বাঙালি-পাহাড়ি সবার আবেদন নেয়া হচ্ছে। আপনি সেখানে গিয়েই জানতে পারবেন কি ঘটতেছে। আমি আপনাকে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে পারি না। আমার জানা মতে চূক্তি অনুযায়ী তারা কাজ করতেছে। ল্যান্ড কমিশনের চেয়ারম্যানকে হয়তো সবসময় পাবেন না। তিনি ঢাকাতে থাকেন অনেকসময়, কিন্তু তার পরের কোনো অফিসার আপনাকে হেল্প করতে পারবে।
প্রশ্নকর্তা: বেশ কয়েকজনের কাছে শুনলাম সেনাবাহিনী ল্যান্ড কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করছে...
না একথা সত্য না। চূক্তির পর সেনাবাহিনী আগের মতো নাই। তারা এ অঞ্চলের নিরাপত্তার খাতিরেই কাজ করছে। তাদের অনেকগুলো ক্যাম্প ইতিমধ্যেই সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আরো ক্যাম্প সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়ায় আছে। তারা শুধুমাত্র সিভিল প্রশাসন কোনো হেল্প চাইলেই এগিয়ে আসে। নিজেরা সিভিল প্রশাসনকে চালাতে চায় না।
তবে আমি মনে করি ভৌগলিক কারনেই এই এলাকায় সেক্যাম্পের সংখ্যা বেশি। এই ক্যাম্পগুলি আসলে নিরপত্তা চৌকির মতো। একজন বাঙালি অধিবাসী হিসাবে আমি মনে করি সেনাবাহিনীর এই নিরাপত্তার দরকার আছে। ভূমি সংস্কার আইনে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে না। ল্যান্ড কমিশন গঠন করে সরকারই এ সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন।
পাহাড়ি বাঙালি বিরোধ:
বাঙালিদের নিরাপত্তার স্বার্থেই সেনাবাহিনীর দরকার আছে বলে মনে করি। কিন্তু সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপকে আমি ঠিক মনে করি না। চূক্তিতে কোথাও লেখা নাই যে বাঙালিদের পাহাড় ছেড়ে চলে যেতে হবে।
প্রশ্নকর্তা: আপনি মনে হয় একটু ভুল করছেন, পাহাড়িরাও কিন্তু আদিবাসী বাঙালিদের চলে যাওয়ার কথা বলে না। তারা রেশন কার্ড পাওয়া সেটলারদের চলে যাওয়ার কথা বলে...
হ্যা সেটেলারদের বিষয়ে আসলে কিছু একটা হওয়া উচিত। আমি একবার এক সাংবাদিককে বলছিলাম যে সেটলাররা তো রেশন কার্ডের চাল খাইতে খাইতে অলস হইয়া যাইতেছে, এদের আসলে পূণর্বাসন করাটা জরুরী এখনই। এইটা পত্রিকায় ছাপা হলো। একদম দিনের উক্তি হিসাবে। কিন্তু তারা পূণর্বাসনের কথাটা বাদ দিয়া ছাপলেন। ছাপা হওয়ার দিনেই ব্রিগেড থেকে ফোন পাইলাম, কি শানে আলম সাহেব এসব কি বলতেছেন?
সেটেলারদের আসলে পূণর্বাসন করাটা জরুরী। সরকারের যেই পূণর্বাসন কমিটি আছে তাকে আরো আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। আর আসলেই পাহাড়ি-বাঙালি বিরোধটা তৈরী করা হয় তৃতীয় কোন পক্ষের ইন্ধনে। দেখেন ভূয়াছড়ির দিকে বাঙালিরা রাত দেড়টা দুইটার দিকেও পাহাড়ি গ্রামের পাশ দিয়া তাদের জায়গায় যায়...সেইখানে কোনো সমস্যাতো আজ পর্যন্ত হয় নাই। দাঙ্গা যা লাগে এইগুলা একদম বানানো। এর পিছনে অন্য কোনো পক্ষের উস্কানি থাকে। পরে এইসবকে রাজনৈতিক ইস্যূ হিসাবে ব্যবহার করার চেষ্টা হয়।
তবে এখন খাগড়াছড়ি এলাকায় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মিছিল-মিটিং করতে হয়। তাই শান্তি তৈরী হয়েছে আগের চাইতে।
চূক্তি সম্পর্কীত মূল্যায়ণ:
চূক্তির অনেকগুলি জায়গায় আসলে অস্পষ্ট। এগুলি আরো বিস্তৃত করা দরকার ছিলো। আরো ডিটেইল করার দরকার ছিলো। অস্পষ্ট জায়গাগুলির জন্য কিছু কনফিউশন তৈরী হয়েছে, আর কিছু সুবিধাবাদী লোক সবজায়গায়ই থাকে যারা আপনের এইসব সুযোগ নেয়ার জন্য বসে থাকে। এর জন্য সিভিল প্রশাসনকে আরো আন্তরিক হতে হবে।
সেনাবাহিনী:
সেনাবাহিনী বেশ সেবামূলক কর্মকান্ডের সাথে থাকে। আমাকেও তাদের অনেক প্রোগ্রামে যেতে হয়। সিভিল প্রশাসনের সাথেই তারা এসব কর্মসূচী গুলি পালন করে। তাদের বেশ কিছু অপারেশন আছে পার্বত্য এলাকায়। যেমন অপারেশন শান্তকরণ। এর বাইরেও তারা আরো অনেক ধরনের পদক্ষেপ নেয়।
প্রশ্নকর্তা: কিন্তু আপনি যে বললেন সেনাবাহিনী এসব বিষয়ে ইন্টারফেয়ার করে না...
না আসলে তা...না। সেনাবাহিনী এই এলাকাকে অনেকের চেয়ে ভালো চিনে। তাদের তো কিছু Say থাকবেই। তবে আমি বলতে পারি পাহাড়ে সেনাশাসন চলে না। এখানকার সিভিল প্রশাসনই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে।





মন্তব্য করুন