ইউজার লগইন

জীবন অন্যত্র - মিলান কুন্ডেরা (সপ্তম কিস্তি)

দূর্ভাগ্যবশতঃ, নিজের শরীরের প্রতি তার ভালোবাসার জন্য বহুকিছুই সে এড়িয়ে যেতে শুরু করেছিলো, একদিন সে হঠাৎ আবিষ্কার করলো ইতোমধ্যেই তার পেটের ত্বকে ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে, সাদা সাদা দাঁগ পড়েছে মধ্যভাগ জুড়ে, চামড়ার টান টান ভাবটা চলে গিয়ে কেমন আলগোছে বাঁধা প্যাকেটের মতোন ঝুলে পড়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো এসব নিয়ে তার আদৌ কোনো ভাবনা তৈরী হলো না। ভাঁজ পড়া পেট নিয়েই মা এবং তার শরীরের সুখ অব্যাহত রইলো কারণ তার শরীরের একমাত্র ভোক্তা তখনো পৃথিবীকে কেবল অসার কিছু রেখার মতোন করেই দেখে, কিম্বা তার চোখ (স্বর্গীয় চোখের মতোন) এই ক্রুঢ় পৃথিবীর মাপকাঠিতে সুন্দর-অসুন্দর এই বিভাজনে দেখতে শিখেনি।

এই বিভাজন অবোধ শিশুর চোখে ধরা পড়েনি, এমনকি তার স্বামী, জেরোমিলের জন্মের পর যে সাহস করে শান্তি প্রচেষ্টা শুরু করেছিলো, তার চোখেও বিষয়টাকে ঠিকই মনে হচ্ছিলো। দীর্ঘ একটা বিরতির পর তারাও আবার শরীরি ভালোবাসার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলো; হয়তো তার সাথে আগের সেই ভালোবাসার কোনো তুলনা চলে না: তারা বেশ আড়ষ্টতা নিয়েই পরষ্পরকে জড়িয়ে ধরতো খুব সাধারন মুহুর্তের মতোন, অন্ধকারে রয়েসয়ে। মায়ের জন্যও বিষয়টা বেশ ভালোই হয়েছিলো, কারণ সে জানতো তার শরীর আর আগের মতোন নেই, যেকোনো ধরনের আবেগঘন মুহুর্তের জন্য হয়তো তাকে নিজের শরীরের প্রতি তৈরী হওয়া মমতা হারাতে হতে পারে, তার সন্তানের দেওয়া এই শান্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে যে কোনো সময়েই।

সে কখনোই ভুলতে পারেনা যে তার স্বামী তাকে আনন্দ দিয়েছিলো অনিশ্চয়তার আর সন্তানের ভালোবাসা এসেছিলো তার জন্য আশীর্বাদ হিসাবে; আর তাই সে খানিক আরামেই থাকতে চাচ্ছিলো নিকটজনের কাছ থেকে (সে তখন হামাগুড়ি থেকে অল্পস্বল্প হাটাহাটি কিংবা কথা বলতে চেষ্টা শুরু করেছে)। কবি হঠাৎ বড় অসুখে পড়লো এরমাঝে, দু সপ্তাহ ধরে মা তার পাশে বসে রইলো চোখের পলক না ফেলে, সে যেনো ছোট্ট শরীরটার ব্যথা অনুভব করতে পারছিলো্‌; এসময়টা মায়ের পুরো ঘোরের মধ্যেই কেটে গেলো। যখন শিশুটি সেরে উঠতে শুরু করলো মায়ের মনে হলো সে তার সন্তানকে মৃত্যুমুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছে নিজ হাতে ধরে; তার মনে হতে থাকলো এমন সময়ের পর তাদের দু'জনকে আর কখনো আলাদা করতে পারবে না আর কোনো শক্তি।

তার স্বামীর স্যুট কিম্বা পাজামা পরা শরীর থেকে তার আগ্রহ দিনকে দিন কমে যাচ্ছিলো, অন্য দিকে সন্তানের প্রতি নির্ভরতা যেনো বাড়ছিলো ধীরে ধীরে। যদিও বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো ততোদিনে, কিন্তু তখন ছেলেকে সে শেখাচ্ছিলো কিভাবে টয়লেট ব্যবহার করতে হয়, তার জামা কাপড় পাল্টে দেয়া, চুল ঠিক করে আচরে দেয়া, পছন্দের খাবার তৈরী করে তার সামনে সাজিয়ে দেয়াতে মায়ের দিন ভালোই কেটে যাচ্ছিলো। চার বছর বয়সে যখন কবি খাবারের প্রতি আগ্রহ হারাতে শুরু করলো, মা তখন খানিকটা কঠোরও হলো; জোর করে তাকে খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে সে হঠাৎ বুঝতে পারলো সন্তানের সাথে তার কেবল বন্ধুত্বের সম্পর্ক নয় বরং এই শিশুর শরীরের মালিকানাও যেনো একান্ত তার নিজের। যতোই না খেতে চাক, খাবার না চিবিয়ে মুকে পুরে রাখুক, কিন্তু তাকে মায়ের কাছে হার মানতেই হবে। এক ধরনের অদ্ভুত তৃপ্তি নিয়ে মা এই ব্যর্থ প্রতিবাদ, আত্মসমর্পন, কিম্বা মুখ ভর্তি করে খাবার চিবোনর দৃশ্য দেখতো।

আহা! তার সন্তানের শরীর, তার ঘর তার বেহেশত, তার উপলব্ধি...

ষষ্ঠ কিস্তি

পঞ্চম কিস্তি

চতুর্থ কিস্তি

তুতীয় কিস্তি

দ্বিতীয় কিস্তি

প্রথম কিস্তি

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মুকুল's picture


Beer

হাসান রায়হান's picture


চলুক।

অতিথি's picture


অনুবাদ চমৎকার হচ্ছে।

মীর's picture


ভাস্করদা' ব্যকরণে আমি অতি কাঁচা এবং বানান ভুলে আমি অতি পটু। যে কারণে অন্যদের কাছ থেকে নিয়মিতই বকা-ঝকা শুনি। আর এই শুনতে শুনতেই কিছু কিছু চিরাচরিত ভুল শুদ্ধ করে ফেলতে পেরেছি। প্রথম শব্দটা দুর্ভাগ্যবশত হবে। Smile

মীর's picture


মীর, আপনে পন্ডিতি বাদ দেন। দুই দিনের বৈরাগী হয়ে ভাতেরে অন্ন কইতে এসেছেন, অ্যাঁ? Crazy

রাখেন, আজকে আপনের একদিন কি আমার একদিন। ওই কই রে, লাডিডা গ্যালো কৈ..

মীর's picture


যাউক্গা আপনার অনুবাদ কেমন হচ্ছে সেটা আগের পোস্টে বলে এসেছি। এই পোস্টে শুধু এই কথাই বলবো, চলুক তেড়ে-ফুঁড়ে।

ভাস্কর's picture


সবাইকে ধন্যবাদ...

@মীর: আমার বানান জ্ঞানও খুব সুবিধার না। দেখতে কেমন লাগে সেইটা দিয়া বানান ঠিক করি এমনো হয়। ভুল ধরাইয়া দেওনের জন্য স্পেশাল ধন্যবাদ... Smile

নুশেরা's picture


ভাস্করদা আপনি এটা বইআকারে প্রকাশ করলে আমারে বাননটা দেখতে দিয়েন। আরেকদফা পড়ার সুযোগ হারাইতে চাই না Smile

তানবীরা's picture


সুন্দর

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...