ইউজার লগইন

meghna guha thakurta

ল্যান্ড কমিশন বিষয়ে:

চূক্তিতে উল্লেখ ছিলো চূক্তি পরবর্তী সময়ে একটা ল্যান্ড কমিশন গঠিত হবে। যার চেয়ারম্যান হিসাবে একজন রিটায়ার্ড জাজের থাকার বিষয়টা চূক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিলো। তবে চূক্তিতে এই ল্যান্ড কমিশনে পাহাড়ি রিপ্রেজেন্টেশন ম্যান্ডেটরি করা হয়নি। তো এ বিষয়টা নিয়ে পাহাড়ি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং অন্য যারা অ্যাক্টিভিস্ট আছে তারা বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীকে, প্রশাসনের অন্যান্য সেকশনগুলোতে অ্যাপীল করেছে, কিন্তু ল্যান্ড কমিশন গঠনের সেই অ্যাপীলের পরে নেয়া সরকারী উদ্যোগের ফাইল এখনো ল' ডিপার্টমেন্টে পড়ে আছে ওটা নিয়ে সরকারের কোনো মাথা ব্যথা নেই।

এর মধ্যে ল্যান্ড কমিশন তার কাজ শুরু করে দিয়েছে, এটা পার্বত্য এলাকার জননেতারা মানে পলিটিক্যাল লিডারশীপ মেনে নেয়নি। তাদের দাবী ল্যান্ড নিয়ে হাঙ্গামার সমাধান নাহলে কখনো শান্তি চূক্তির বাস্বায়ন সম্ভব না। অ্যাকর্ডের রুট ক'জ হলো এই ভূমি নিয়ে তৈরী হওয়া ঝামেলা। যুদ্ধটাও শুরু হয়েছিলো ল্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশান এবং সামরিক সরকারগুলোর দখলদারী মনোভাবের জন্য। আমাদের মধ্য থেকে স্বপন আদনান কাজ করেছেন ল্যান্ড কমিশনের এ বিষয়টা নিয়ে। তিনি এসে জানিয়েছেন যে জরীপের কাজ ১৯০০ অ্যাক্ট মেনে শুরু হয়নি। রাষ্ট্র কখনো একটা এলাকার জমিকে সঠিকভাবে জনগণ স্বীকৃত কোনো পন্থায় জরীপ না চালিয়ে খাস জমি বলে দিতে পারে না। আর পাহাড়ি এলাকায় এর আগে সেটলমেন্ট তৈরী হয়েছে, আগের সব সরকারের আমলেই জমি বন্দোবস্ত দিয়ে দেয়া হয়েছে। কারন মূল সমস্যাটা তৈরী হয়েছিলো জলাভূমি গুলো নিয়ে, এসব জলাভূমি তৈরী হয়েছিলো কাপ্তাই বাধের কারনে। এখন ডুবে যাওয়া পাহাড়ি জমিগুলোর মালিক কারা হবে সেটা আসলে সমতলের আইন দিয়ে বুঝলে হবে না। পাহাড়ের মানুষরা তো কমন ল্যান্ডে বিশ্বাসী। পাহাড়ের সব জলাভূমিই তাদের জন্য কমন টেরিটরি। পার্বত্য এলাকায় কোনো cadastral survey হয়নি, আপনি কখনো ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে ছাড়া একটা এলাকার জরীপে আস্থা রাখতে পারেন না। পার্বত্য নেতারা বা পলিসি আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে এমন মানুষরাও বলেছে জরীপ কাজ এবং ল্যান্ড কমিশনকে সঠিক ভাবে রিপ্রেজেন্টেশনাল একটা কাঠামোয় গড়ে তোলার কাজ সাইমালটেনিয়াসলি করতে হবে। কিন্তু ল্যান্ড কমিশনের চেয়ারম্যান একটা ল্যাটারাল ডিসিশন দিয়ে জরীপ শুরু করে দিয়েছেন, যেটা একেবারেই আবেদন নির্ভর। সবাইকে আবেদন জানাতে বলা হয়েছে সেখান থেকে ল্যান্ড কমিশন আইন অনুযায়ি সিদ্ধান্ত দেবে। এ ধরনের ডিসিশান ল্যাটারাল হলেও ল্যান্ড কমিশনের চেয়ার ম্যান বলছেন এটা মেইজর ডিসিশন। আমরা হিল ট্রাক্ট কমিশনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটা শো ক'জ অ্যাপীল জানানোর পর ল্যান্ড কমিশনে প্রধানমন্ত্রী নিজে সে অ্যাপীলটা পাঠিয়েছেন, এখনো সেটা পড়ে আছে, কিন্তু সেটা পড়ে আছে কোনো উদ্যোগ নেই সেটা নিয়ে। ল্যান্ড কমিশন যে বাঙালি সেন্টিমেন্টকে ক্যারী করছে বিষয়টা হয়তো এটাও না, কিন্তু যিনি চেয়ারম্যান তিনি ব্যুরোক্রেসি করছেন, একজন ল'ইয়ার ব্যুরোক্রেট অনেক ভয়ঙ্কর সেটা আমরা টের পাচ্ছি।

হিল-ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল, রিজিয়নাল কাউন্সিল এবং পার্বত্য উন্নয়ণ:

রিয়ালিটি হলো হিল ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলই পার্বত্য এলাকায় সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে, রিজিয়নাল কাউন্সিলের ধার ধারে না। যদিও হিল ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল বিষয়টা অ্যাকর্ডের আগে থেকেই ছিলো। এরশাদের সময়েই হিল ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলগুলো ফর্ম করা হয়েছিলো। অ্যাকর্ডের এইচডিসিকে একটা ইলেক্টেড বডি হিসাবে ভিউ করা হয়েছিলো, যদিও অ্যাকর্ডের পর কোনো ইলেকশান হয়নি কখনো।

হিল এরিয়ার সব বিষয় ডিসিই দেখছেন। সে কারো কাছে জবাবদিহি করে কিনা সেটাও জানার কোনো উপায় নেই। রিজিয়নাল কাউন্সিল এখন পর্যন্ত একটা বিষয়েই কেবল হস্তক্ষেপ করেছিলো তাদের, ইকো ট্যুরিজমের জন্য নেয়া একটা প্রজেক্ট তারা থামিয়ে দিয়েছে বছর তিন চারেক আগে।

তবে হিল ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল বলেন আর রিজিয়নাল কাউন্সিল বলেন, সবাই শুধু মডার্নাইজেশন ডেভেলপমেন্টের কথা ভাবে। আসল সমস্যায় কারো কোনো আগ্রহ নেই। যতোদিন পর্যন্ত এ ধরনের প্রশাসনিক স্ট্রাকচারগুলোতে ইলেকশান না হচ্ছে ততোদিন পর্যন্ত পিপলস ওনারশিপের কোনো কম্পোনেন্ট রিজিয়নাল প্ল্যানিংয়ে আসবে না। কারণ সরকারের সিলেক্টেড লোকেরা সব লুটপাটে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

পাহাড়ি-বাঙালি সম্পর্ক:

আমরা দীর্ঘদিন ধরেই পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলছি। জেএসএস-ইউপিডিএফ, সমধিকার নামের যে বাঙালিদের সংগঠনটা আছে তাদের সাথে, অর্মিদের সাথে। পাহাড়িরা শুরুতেই বলে মিলিটারী ব্যাকিংয়ে সব ধরনের সন্ত্রাস বা দীর্ঘসূত্রিতা হচ্ছে বলে দাবী করে। তারা বলে পাহাড়ের সব ধরনের ঝামেলাই হয় আর্মির ব্যাকিংয়ে।

আবার সমধিকারের নেতাদের সাথে সেটলারদের তুলনা করা যাবে না। মানে দুজনের জীবন যাপন, উদ্দেশ্য পুরো আলাদা। আমরা যখন সেটলারদের জিজ্ঞেস করেছি তারা বলেছে যেখানে তারা ভালো থাকবে সেখানেই তারা যাবে। তাদের কাছে তাদের সন্তানের ভবিষ্যত অনেক বড়। তাদের সন্তান যেখানে ভালোভাবে বড় হবে সেখানেই তারা যেতে চায়। কিন্তু সমধিকার নামের এই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সব বাজার কন্ট্রোল করে। দেখবেন সব জেলা শহরের বাজার গুলোতে বাঙালিরাই ব্যবসা করছে। পাহাড়ি এলাকার পুঁজি বাঙালিদের হাতেই বড় অংশ, পাহাড়িদের পুঁজে তৈরী হয়েছে অনেক পরে। শহরে দেখবেন এদিক ওদিক অনেক সাইনবোর্ড। অমুক সমিতি-তমুক সমিতি, হেলিকপ্টার পরিবহন সমিতি, রিকসা সমিতি, দোকান মালিক সমিতি। এসব সমিতির নেতারা মিলেই সমধিকার আন্দোলন করে। এদের পলিটিক্যাল আইডেন্টিটি আমরা জানতে চেয়েছি। কিন্তু কেউ তাদের দলের পরিচয় বলতে চায় না। এদের বড় নেতাদের মধ্যে রিসেন্টলি আমরা দেখেছি আওয়ামি লীগও আছে। শুধু জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতা তাদের দলের নাম বলেছে। জামাতের লোকরা কিছু বলতেই চায় না। জামাত কিন্তু ওখানে বাজারের ব্যবসায়ি সংগঠনগুলোতে বেশ স্ট্রং।

তবে মূল সমস্যা তৈরী হয়েছে অ্যাকর্ডের পর। এটার কারন ভূমি কার দখলে যাবে তার উপর। বাঙালি পুঁজির মালিকরা ভূমি আগ্রাসন শুরু করেছে। ধরেন মহালছড়িতে আগে কখনো কোনো সংঘর্ষ ছিলো না, কিন্তু তুলনামূলকভাবে সমতল ঐ এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়েছে...আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো fringe area গুলো। পাহাড়িদের মধ্যে তো তেমন মাছ ধরার প্রফেশান ছিলো না। বাঙালি ফ্রিঞ্জ এরিয়া গুলোতে মৎস্যবাধ দেয়। তারপর তারা আশেপাশের এলাকাগুলোও তাদের স্বার্থে দখল করতে শুরু করে।

তবে এখন সমস্যাটা আরো বেশ দূর চলে গিয়েছে। প্লেইন ল্যান্ডের পুঁজিও চলে যাচ্ছে পাহাড়ি ইকোনমিতে। বিশেষ করে ট্যুরিজমে বাঙালি পুঁজি খাটছে অনেকদিন ধরেই। আর উল্টো দিকে পাহাড়ি পুঁজি দেরীতে শুরু হলেও আস্তে আস্তে সেটাও এখন শক্তিশালি হয়ে উঠছে। জেএসএসের সুধাসিন্ধু খীসা আমাদের একটা গবেষণা পত্রে পাহাড়ি পুঁজির প্রটেকশানের জন্য বলেছিলেন। কারণ পাহাড়ি পুঁজি তৈরী হওয়ার কারনেই বাঙালি ব্যবসায়িরা সেখানে অ্যাগ্রেসিভ হয়ে উঠেছে। আর্মিও দেখা গেছে ওখানে বাঙালি পুঁজি বা ইন্টারেস্টকে প্রটেকশান দেয়। আর আদি বাঙালি যারা ছিলো, যারা আসলে লোকাল কালচারের সাথে মিশে গিয়েছিলো তারা এখন পুঁজির মালিক হলেও সিদ্ধান্তের কোনো জায়গাতেই নেই। কারণ তারা কখনোই কালচারালি অ্যাগ্রেসিভ না। বরং সেটলারদের একটা অংশ এখন পুঁজি বাজারে বড় ভূমিকা রাখছে। এইসব নতুন পুঁজির মালিকেরা অনেক অ্যাগ্রেসিভ। তারাই বিরোধ টিকিয়ে রাখে বেশির ভাগ সময়। যেসব পেশাভিত্তিক বাঙালিরা ওখানে একসময় প্রধান ছিলো তারা এখন মাইনরিটি হয়ে গেছে।

এর বাইরে পাহাড়িরা হোয়াইট কলার সমাজে ঢুকে পড়াতে বাঙালি ব্যবসায়িরা ইনসিকিয়র্ড হয়ে পড়েছে ভীষণভাবে।

সিকিউরিটি:

আর্মি সবসময় পাহাড়ে স্টেইট আর পিপল'এর ইন্টারমিডিয়ারি হতে চায়। কারণ পাহাড়ের অভিজ্ঞতা তাদের মিশন'এর জন্য অ্যাপ্লিকেশনে পোর্টফোলিও হিসেবে যূক্ত হয়। তারা আমাদের যদিও বলেছে তারা ওখানে থাকতে চায় না। তাদের বাচ্চাদের তো তারা ভালো স্কুলে পড়াতে পারে না ওখানে এসব বলেছে, কিন্তু তারা তারপরেও পার্বত্য চট্টগ্রামে থাকতে চায় কারণ ওখানে তারা অপারেশন অমূক অপারেশন তমূক এধরনের অভিজ্ঞতা পায় যেটা মিশনের বিদেশিদের কাছে অনেক বড় মনে হয়। যে কারনে পাহাড়ি জনপদে ইনসার্জেন্স (insurgence) ঘোষণা দেয়া হয়।

আর্মিরা হিলট্রাক্টসে একেবারেই কর্পোরেট স্বার্থ দেখে। তারা ওখানে বাঙালিদের impunity maintain করে। ওখানে তারা বাঙালিদের ইমপিউনিটি দেখে ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেশনের দোহাই দিয়ে। আর্মিরা মানবতার পক্ষে এই ইমপিউনিটিকে জাস্টিফাই করে। এজায়গায় বাঙালিদের ইন্টারেস্টের সাথে একদম মিলে যায়।

পাহাড়ি এলাকায় অনেক প্রাইভেট স্কুল কলেজ গড়ে উঠেছে। এসবের সাথে অনেক আর্মি অফিসার যূক্ত আছে এখানে কিন্তু বাঙালিরাই শুধু পড়তে যায়না বরং পাহাড়িরাই বেশি যায়। কারন পাহাড়িরা শিক্ষার উপর জোর দিয়েছিলো যুদ্ধের শুরুতেই। এমএন লারমা সেসময় পাহাড়িদের শিক্ষা নিয়ে একটা ম্যুভমেন্ট করেছিলেন যাকে হেডমাস্টার ম্যুভমেন্ট বলতেন তিনি। শান্তিবাহিনীতে ঢুকতে হলে অন্ততঃ এবছর প্রাইমারী স্কুলে পড়ে আসতে হতো। তো বাঙালিরা কিন্তু এটা বেশ জাহির করে। তারা দেখাতে চায় তারা মোর ব্যাকওয়র্ড।

তবে কারেন্ট সরকারের সময় নিয়েই আলোচনা হওয়াটা জরুরী কারণ এর আগে যারা ছিলো তারা ক্যান্টনমেন্ট বেইজ্ড পার্টি। তারা এমনিতেই আর্মির প্রতি লয়াল ছিলো এখনো আছে। কারেন্ট সরকারের সময়ে দুটি ফেইজ আছে।
১) প্রি বিডিআর মিউটিনি
২) পোস্ট বিডিআর মিউটিনি

একটা পাকিস্তানী জোক আছে, Every country has army, but Pakistan army has a country - আর আমরা বলি বাংলাদেশ আর্মি হ্যাজ সিএইচটি। আর্মিতে বহুদিন ধরেই একটা বিষয় প্র্যাক্টিস হচ্ছে, মিলিটারী ব্যুরোক্রেসি। কিন্তু সেটা এখন আগের চাইতে অনেক বেশি প্রকট। তারা এটার প্র্যাক্টিস করছিলো কিন্তু ইম্প্লিমেন্ট হচ্ছিলো না তেমন, লাস্ট কেয়ারটেকার গভর্নমেন্টের সময়ও তারা এ facade এর চেষ্টা করেছিলো কিন্তু তারা সেসময় মূলতঃ প্রিবিয়াস বিএনপি সরকারের বিপরীতে আওয়ামিলীগের উপর ভর করে তার চেষ্টা করছিলো। বিডিআর মিউটিনির আগ পর্যন্ত তারা সিভিল প্রশাসনের প্রতি একধরনের লয়ালটি দেখাচ্ছিলো, কিন্তু বিডিআর মিউটিনির পর দে ওয়্যার রিয়েলি স্কেয়ার্ড। তারা আওয়ামি লীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছে...এখন তারা সরকারকে একারনেই নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। দেখেন তারা বিডিআর মিউটিনি নিয়ে অনেক কথা বলে কিন্তু তার পরে ঘটা বসুন্ধরা সিটি'র ঘটনাটা নিয়ে সরকারকে বেশি নড়াচড়া করতে দেয়নি। এখন মিলিটারী কোঅর্ডিনেশন চায় তারা পার্বত্য এলাকায়। এখানে তারা পলিসি মেইকিংয়ে থাকতে চায়।

আওয়ামি লীগ কখনোই দল হিসেবে প্রো অ্যাকটিভ না কারণ তাদের রাজনীতি সবসময় ভোট সেন্ট্রিক। যে কারনে তারা একটা সিদ্ধান্ত দিয়ে আবার সেখান থেকে রিট্রিট করে পাবলিক অপিনিয়ন মাথায় রেখে। একটা জিনিষ দেখেন শান্তি চূক্তির পর আওয়ামি সরকারের সময় দুটো পাহাড়ি বাঙালি সংঘর্ষ হয়েছে দুটোই হয়েছে শান্তি চূক্তি নিয়ে কোর্টে কেইস চলার সময়। শান্তি চূক্তি নিয়ে যখনি কোনো মামলা চলেছে তখনি পাহাড়ে গন্ডগোল হয়েছে, এটা মাথায় রাখতে হবে।

আওয়ামি লীগের সময় কিন্তু আসলেই আর্মি ব্রিগেড সরানো হয়েছে পাঁচটি। এতে আর্মিরা একদমই মন খারাপ করেনি। কারণ তারা এখন পেট্রল ডিউটির নামে আরো বেশি বরাদ্দ পায়। পাহাড়ে বাস্তবিক লোকাল মিলিটারী কমান্ডের সাথে লোকাল ইন্ডিজেনাস পিপলদের কনফ্লিক্ট চলে।

আদিবাসী বিতর্ক:

আদিবাসী বিতর্কটাকে বা সংজ্ঞাটিকে কেবল ইনসাইড অর আউটসাইড দ্য বর্ডার এভাবে দেখলে চলবেনা। অনেকেই বলে exogenous হলে আদিবাসী বলা যাবে না, এটা ঠিক নয়। একটা জায়গায় কে আদিবাসী এটা ঠিক হয় মোড অফ প্রডাকশন দিয়ে। বাংলাদেশ তো সেদিনকার রাষ্ট্র। কিন্তু এখানে যখন পাহাড়িরা প্রথম এসেছে তখনতো নেশন স্টেট কনসেপ্টটাই ছিলো না। আরাকান রাজের অধীনেই ছিলাম আমরা। তাহলে কি মায়ানমার থেকে আসা মারমারা ওখানকার আদিবাসী হবে না!?

১৯৫০ সালের টেন্যান্সী অ্যাক্টে অ্যাবরিজিনিস শব্দটার স্পষ্ট উল্লেখ আছে। এখন আদিবাসী হিসাবে পাহাড়িদের স্বীকার করে নিলে সরকারকে তাদের ভূমির নিশ্চয়তা দিতে হবে। তাদের সিকিউরিটি অ্যাশিওর করতে হবে...এসব দায়িত্ব এড়াতেই রাষ্ট্র বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই বলে দিচ্ছে।

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...