টুকরো-টাকরা ২
ক.
দেশের বেশিরভাগ মানুষের মতোন সংবিধান বিষয়ে আমার জ্ঞানও বেশ সীমিত। ৭২'এর সংবিধানটা পড়ছিলাম নাদান বাঙালি' র মতোন। পরবর্তী বেশ কিছু সংশোধনি বিষয়েও জানা ছিলো, কিন্তু গতো কয়েকদিন ধইরা ৭২'এর সংবিধান পূণস্থাপিত হওয়া নিয়া আপীল বিভাগের মূল্যায়ণ বা সিদ্ধান্ত দেওনের ধরণ দেইখা খুব একটা জুইত পাইতেছিনা। সংবিধান কি কেবল কিছু আইনের সন্নিবেশন? নাইলে জাতিগতভাবে বাংলাদেশি হইলেও ৭১'এর সংবিধানে আমাগো কোনো সমস্যা হইবো না? ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হওয়ার পর কি সংবিধানে সংশোধিত হইয়া আসা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বাতিল হইয়া যাইবো? এইটা কি সরকারী অধিবেশনগুলিতে পালিত হইবো? আমি সংশয়ি মানুষ, আদালতের এহেন আচরণে আরো বেশি বিভ্রান্ত হইয়া পড়ি।
আমার কাছে সংবিধানের চাইতে মানুষের চাওয়া-পাওয়ারে বড় মনে হয়। আর তাই বিসমিল্লাহ বইলা শুরু করনের কার্যাদেশ বিষয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ না থাকলেও, জনগণরে কোনো কিছু বুঝতে না দিয়া, কোনোরম প্রচার না কইরা সংবিধান পাল্টাইয়া দেওন বা পূণস্থাপণের বিষয়টা আমার কাছে প্রতারণার মতোন লাগে। এই ধরনের পরিবর্তনের পরিণতি কখনো ভালো হয় না সেইটা বুঝি। এইরম প্রবণতা স্বৈরতান্ত্রিক...
দুই.
একজন ইসলাম ধর্মীয় আলোচক জাকির নাইকরে নিয়া বাংলাদেশের প্রগতিশীলগো মাঝে বেশ অস্থিরতা দেখতেছি। বাংলাদেশে জাকির নাইক ১২ দিন থাকবো, আলোচনা করবো, এই দেশীয় ওলামা-মাশায়েখগো লগে মত বিনিময় করবো। কারা তারে দাওয়াত দিছে এই তথ্য জানার সুযোগ যদিও আমার নাই...কিন্তু বুঝতে পারি এই দেশীয় ধর্মভিত্তিক দলগুলির দাওয়াত পাইয়া সে আসতেছে না।
জাকির নাইক এই দেশে পরিচিত একটা নাম। উর্দু আর ইংরেজী ভাষার টিভি চ্যানেল পীস টিভি আর দেশীয় ইসলামি টিভির বদৌলতে তার বয়ান সম্পর্কেও সারা পৃথিবীর মুসলিমগো মতোন এই দেশের ধর্মপ্রাণরা ভালোই জানে। একজন ইসলামি সবক দেওনের মানুষ হিসাবে জাকির নাইক টিপিক্যাল। পবিত্র গ্রন্থওয়ালা সব ধর্মের মতোই ইসলামে কিছু অনাধুনিক নির্দেশনা আছে, কিছু নারী বিদ্বেষমূলক ফতোয়া আছে। আর সব টুপিওয়ালাদের মতোই জাকির নাইকও এই সবের প্রচারণা করেন। তয় পার্থক্য হইলো টুপিওয়ালা পোপ ইউকে কিম্বা কানাডায় নিষিদ্ধ হয় না উল্টা বিবিসি'র মতোন টিভি চ্যানেল পারলে তার হাগামুতাও লাইভ টেলিকাস্ট করে। আর জাকির নাইক সেই দেশে ঢুকনের পারমিশন পায় না। পোপ তার পীরিতের প্রচারক পাদ্রীগো শিশু নির্যাতনরে জাস্টিফাই করলে সেইটা নিয়া ইউকেবাসীরা কোনো প্রতিবাদে মাতে না...কিন্তু জাকির নাইকের নারী বিষয়ক খোঁচাখুঁচিতে তারা উত্তেজিত হইয়া উঠে।
আমি জাকির নাইকের ধর্মরে অস্বীকার করি, কিন্তু তাই বইলা তার প্রচারণার বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হওনের কথা ভাবতে পারি না। আমি ডারুইন সাহেবের প্রচারণারে ধ্রুব না ভাবলেও তার বিশ্লেষণ শুনতে আগ্রহ পাই। জাকির নাইক তার অনুসারী বা অন্যান্য মুসলিমগো ডারুইন সাহেবের প্রতি বিষোদগার করে। তবু সে যদি আমারে মারনের চক্রান্ত না করে, সে যদি আমারে কেবল মৌখিক হেদায়েতেই শান্তি পায় তাইলে আমার কওনের কিছু নাই। এই দেশেও তার আসা না আসা নিয়া বক্তব্য দিতে আমি খুব বেশি আগ্রহী না। মুসলিম শেখ মুজিবের মুসলিম কন্যা শেখ হাসিনার সরকারী বডি যদি জাকির নাইকরে বাংলাদেশে ঢুকনের অনুমতি দেয় তাইলে আমি বড়জোর বিরক্ত হই।
এই দেশের ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করছে আদালত। কিন্তু এই বিষয়ক সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ভাবনাটা কি সেইটা এখনো অজানা। এইরম একটা পরিস্থিতিতে জাকির নাইক'এর ঢাকা আগমণ নিয়া সরকারী ভাবনাটা জানতে ইচ্ছা করে। আওয়ামি মতিগতি বিষয়ে আমার বরাবরের মতোই সংশয় বিদ্যমান থাকে।
তিন.
একটা ব্লগীয় আচরণ নিয়া কয়েকদিন বেশ অস্থিরতায় আছি। কারনে অকারনে ট্যাগিং কইরা প্রতিপক্ষরে ধরাশায়ি করনের একটা কৌশল ব্লগ তার্কিকগো মজ্জাগত হইয়া যাইতেছে। এই ট্যাগিংয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ বিষয়টা প্রকট। কারো কোনো যূক্তি খেলো মনে হইলেই তার মনুষ্যত্ব খারিজ কইরা ছাগল শ্রেণীতে নামাইয়া দিয়া হাসি-তামাশা করনের এই প্রবণতা আসলে মানুষের দূর্বলতারেই প্রকাশ করে। ব্যক্তিগত আক্রমণের এই প্রবণতা এখন আর কেবল ব্যক্তিরে ছাগল বানানোতেই থাইমা নাই...ব্যক্তির একান্ত ব্যক্তিগত জীবনাচরণ, তার কাছের মানুষগো আচরণও অনেক সময়ে এই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হইতেছে আজকাল।
মতবিরুদ্ধতার অবস্থানটাও বেশ নড়বড়ে হইয়া গেছে, এইটা ভাবতে খুব আরাম লাগে না। সব কিছু ধীরে ধীরে নষ্টদের অধিকারে যাওনের সম্ভাবনাই দেখি। জাকির নাইক'রা যেরম মৌলবাদী, তেমন জাকির নাইক বিরোধীরাও মৌলবাদের হাতিয়ার হইতেছে। যূক্তির আকাঙ্খা কিম্বা প্রবণতা তার গুরুত্ব হারাইতেছে প্রতিনিয়তঃ...ভয় লাগে!





এই কথাটা আপনি আগেও কয়েকবার বলছেন।আস্থা রাখি নাই। এখন রাখতে চাচ্ছি।
৩০ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতার মান পর্যন্ত যেই দল রাখতে পারে নাই ব্যক্তি আর দলীয় স্বার্থ কারনে, সেই দলের উপর আস্থা রাখনটা কঠিন মাসুম ভাই...
স্যালুট বস, সেইসব প্রগতিশীলগো দলে আপনে যান নাই বইলা ।
জাকির নায়কের ভাষণ শোনার আগ্রহবোধ করি নাই ।
সেজন্য ওনার বক্তব্য শোনার সৌভাগ্য বা দূর্ভাগ্য কোনটাই হয় নাই ।
তবে, তারে নিয়া প্রগতিশীলগো ট্যাগিং দেইখা মনে লয়, ধার্মিক হইলে 'গরু-ছাগল' ট্যাগিং করাটা সোজা ,
তয়, প্রগতিশীল গোত্রীয় প্রাণী কেউ কেউ যে 'গরু-ছাগল' গোত্রীয় আচরণ করবেনা, তেমনও কোন কথা নাই !
আমি এই ঘটনা খুব বেশি জানি না। ঘুরতে ঘুরতে একটা জিনিস দেখলাম:
আগমনের পর জোকার নায়েককে বিশ্বরোডের মাথায় কান ধরে দাঁড় করায় রাখা হউক
জাকির নাইকরে আমি ব্লগের পোস্ট থেইকাই চিনি। পীস টিভিতে দেওয়া তার বয়ান আমি কোনদিন শুনি নাই। স্যুট কোট পরলেই ধর্মের বয়ান পাল্টায় না এই তথ্য আমার জানা আছে। টেলিভিশন চ্যানেলে বক্তৃতা দেয় বইলা একটা লোকরে নিয়া ফাইজলামি করা হইবো, তারে কান ধইরা দাঁড় করাইয়া রাখনের স্বপ্ন দেখতে হইবো এইরম সুপার ফিশিয়াল স্যাটায়ারেও আমার আস্থা নাই। এই দেশে এইরম ধর্মীয় বক্তৃতা দিতে আসা ধর্মীয় নেতার সংখ্যা কতো হইতে পারে বইলা আপনের ধারণা? তাদের সবাইরেই কি ছাগল বানাইতে ইচ্ছা করে প্রগতিশীলগো? ধর্মের ধোঁয়ায় ফায়দা লুটতে আসা নেতারা এইসব ভার্চূয়াল প্রতিরোধকারীগো নজরেই পড়ে না। কিন্তু ঐসব লোকেরা জাকির নাইকের চাইতে জনপ্রিয় এই দেশে।
আমাগো দেশের ইমাম সাবেরা জুম্মাবারে ওসামার পক্ষে কেমনে খুতবা পড়ে সেই সম্পর্কে ধারণা মনে হয় না এইসব কথিত প্রগতিশীলগো আছে। একজন জাকির নাইকরে নিয়া স্যাটায়ারপ্রেমী এই কথিতগো সাধারণ মানুষ থেইকা দূরেই সরায়...তারা নিজেগো বিশ্বাস নিয়া থাকে। পিঠ চুলকানির খেলায় মর্ষকামে মাতে।
বাংলাদেশ ওলামা-মাশায়েখ লীগের নাম শুনছেন? ঐ সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে জনাব মহিবুল্লাহ। এই লোক জাবি ছাত্রলীগের রেইপিস্ট গ্রুপের নেতা ছিলো। এই লোক একবার শিবিরের সাথে বৈঠকে বসছিলো ক্যাম্পাসে ঢুকবার জন্য। তার ধর্মীয় ব্যখ্যা জাকির নাইকের চাইতে উদ্ভট হওনের কথা। ক্যাম্পাসে তার নামে শ্লোগান দেওয়া হইতো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ/ ছাত্রলীগের মালিক তুই মহিবুল্লাহ। বুঝতে পারতেছেন এই দেশের রাজনীতিতে ধর্ম কেমনে অপারেট করে?
ভাস্কর ভাই , আপনার লেখা পইড়া বড় ভাল লাগে।। কিন্তু অনেক ভারি লাগে অনেক কিছুই জানি না। না জানা কথা গুলা এক দিক দিয়ে ঢুকে আর এক দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। কিন্তু ভাল লাগে । ভাল থাকুন।
তিন নম্বরটা বুঝতে পারিনি।
পোস্টটা ভাল লাগলো।
সামুতে যাওয়া ছেড়ে দিছি, সচলেও টাইটেল/লেখক দেখে তারপর যাই। সব অর্থেই উল্টা-পাল্টা পোস্ট থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি...তারপরেও ফেসবুকে অত্যুৎসাহীদের শেয়ারহেতু চোখে পড়ে জাকির নায়েকের পক্ষে-বিপক্ষে ফালাফালি। মোটামুটি বিরক্ত।

পোষ্টের বাইরে একটা প্রশ্ন মনে আসলো ভাই, দেখেন ছাত্রলীগের ঐ মহিবুল্লাহের নামে যে এরকম স্লোগান দিলো তার বিরুদ্ধে কেউ কিছুই কয়নাই? শিবিরের কানে কী গেছিলো এই স্লোগান? না যাবার কারণ দেখিনা। অথচ আরিফের মতো সরল একটা ছেলে কার্টুন এঁকে কেমন যন্ত্রণায় পড়লেন! ছেলেটার মা আজকে অসুস্হ। এই সবের জন্যই দায়ী আমাদের নষ্ট রাজনীতি আর এই সব ধর্মীয় মৌলবাদীরা...বিরক্ত না বরং অভিশাপ দেই, ঠাডা পড়ুক এইসব পানি ঘোলা করার মানসিকতা সম্পন্ন মানুষগুলোর মাথাত

১. মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ ইসলামি ধর্ম নিরপেক্ষ সংবিধান দিবে।
২. মোল্লা জাকিরের বাংলাদেশে আগমন নিয়া হাউকাউ শুরু হওয়ার পর আমি চিন্তা করলাম আপনে সহ আরো কয়েকজন কোন স্ট্যান্ড নিবে। আমার অনুমান ঠিক এক্ষেত্রে
এই মোল্লার বয়ান আমি তেমন শুনিনাই। মধয়যুগীয় বিবি তালাকের ফতোয়ায় আমার আগ্রহ নাই বিন্দুমাত্র। তবে ব্লগারদের লেখায় মনে হয় জানছিলাম তার বাণী শুনে কাফেররা দলে দলে মুসলমান হয়। এই যদি সত্যি হয় তাইলে আমার প্রশ্ন বৃটিশ আমলের মত এখন যদি পাদ্রিরা এদেশে ধর্মান্তর করতে আসতে চায়, তাদের কি ভিসা দেয়া হবে?
মন্তব্য করুন