টুকরো-টাকরা ৪
এক.
প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে দেখতেই প্রায় চল্লিশ বছর পার কইরা দিলাম। আওয়ামি সরকারের আমলে এই রাজনৈতিক আচরণ একেবারে তার চরমে পৌছাইয়া গেলো অবশেষে। ফাঁসীর দন্ডপ্রাপ্ত আসামীগো মাপ কইরা দিলো আমাগো অথর্ব রাষ্ট্রপতি; তিনি একজন দলীয় রাষ্ট্রপতি। আর তার একমাস যাইতে না যাইতেই আসামীগো এলাকায় খুন হইলো আরেকজন বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতা। যারে খুন করা হইলো সে হয়তো ধোয়া তুলসী পাতা না। কিন্তু প্রতিহিংসার রাজনীতি আসলে নিম পাতা ধ্বংসের রাজনীতির অঙ্কে চলে না। এই রাজনীতির অঙ্ক অন্য।
ক্ষমতার কামড়া কামড়িতে বোঝা বড়োই দায় হইয়া উঠছে কে আমাগো, মানে জনগণের হিতাকাঙ্খী। নাটোরের বনপাড়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান বাবু হত্যাকান্ডের পর বিরোধী দল বিশাল জনসমাবেশ করছে বাবুর জানাজায়। প্রতিহিংসার রাজনীতি আবারো দানা বানতে শুরু করলো। আবারো হয়তো একজন গোকূলে পাড়তে শুরু করলো যে অচীরেই খুন করবো বাবু হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত খুনীগো। একবার যখন প্রচল হইলো হয়তো ফাঁসীর আসামিরা এখন ঘন ঘন মাফ পাইবো সরকারী দলের রাষ্ট্রপতির কাছ থেইকা।
দুই.
প্রতিহিংসার রাজনীতি আসলে আমাগো জনপদে এখন প্রতিহিংসার সংস্কৃতিতে পরিনত হইতেছে। সময়ের তারুণ্যও এই রোগে আক্রান্ত অংশ। আর তাই ব্লগে ব্লগে কোন্দল দেখি। মুসা ইব্রাহীম আর সজল খালেদের প্রতিহিংসায় জড়ো হয় তাগো সমসাময়িক বন্ধু-বান্ধবেরা। একজনের অর্জনরে আরেকজন আপাতঃভাবে স্বীকার কইরা নিলেও তলে তলে চলে একে অন্যরে অবিশ্বাস আর হেয় করনের রাজনীতি।
আর এই হেয় করনের রাজনীতিতে আমরা অনেকেই যূক্ত হইয়া পড়ি যার যার স্বার্থ সিদ্ধির লেইগা। আর এই সবের সুযোগে আমরা আরো একা একা হই। কখনোই আর হয়তো আমাগো যূথবদ্ধতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ফিরা আসবো না এইরম সন্দেহও দেখা দ্যায়। সদর্থে যদি গবেষণা হইতো তাইলে সেই গবেষকগো আলোচনায় তার ছাঁপ দেখা যাইতো। আমাগো কথিত গবেষকরা আসলে ছদ্মাবরণে রেষারেষির আচরণরে প্রকাশ করে।
আর তাই দেখি অদ্ভুত সব যূক্তি কাঠামোর অবতারণা হয়। যেই যূক্তি কাঠামোয় কোনো প্রেমাইজ থাকে না, থাকে সব সংশয়ী প্রশ্ন। এইসব প্রশ্নের দায় কে মিটাইবো তার কোনো উল্লেখ থাকে না, থাকে আড়ালের হাসাহাসির-তাচ্ছিল্যের শব্দ। মুসা হিমালয়ের চূড়ায় চড়ছে কি চড়ে নাই সেইটার চাইতে বড় বিবেচ্য হইয়া পড়ে তার পূর্বতন অসততার ইতিহাস। পূর্বের সততা কিন্তু সেইখানে আর উল্লেখ্য হয় না। একটা প্রতিহিংসামূলক জাতিতে পরিণত হইতে থাকি আমরা। কথিত প্রগতিশীলেরাই যার নেতৃত্ব দেওনে অগ্রগামী হয়।
তিন.
প্রতিহিংসার খেলায় আমরা যখন খেলোয়াড় হই, ঠিক তেমনি এক সময়ে আমাগো ক্রিকেট দল জিতলো শক্তিশালী নিউজিল্যান্ড দলের সাথে। এইখানে প্রতিহিংসার চাইতে খেলোয়াড়গো কৌশল-নৈপূণ্য বেশী কাজ করছে বইলাই ধারণা করি। দলের কোচ-অধিনায়ক-খেলোয়াড়গো বয়ান শুনলে সেইটাই বুঝতে পারি। আর এই বুঝতে পারায় শান্তি আছে। বুঝি প্রতিহিংসার যেই বাস্তবতা আমাগো আশংকায় ফেলছে তার বাইরেও অন্য কিছু ভাবনা এখনো সামাজিক আচরনে ক্রিয়া করে।
আর এই সব কারনেই এখনো আশায় বুক বাঁধি। বিভাবরী সূর্যটা একদিন উঠবোই...





লাইনটা ভালো লাগলো ভাস্করদা'।
আর ইয়ে, মুসা ইব্রাহিমের এভারেস্ট বিজয় সংক্রান্ত ঐসব ক্যাওয়াজরে পাত্তা দিলেই অনেক কিছু; না দিলে কিন্তু কিছুই না। লোকটা অনেকদিন আলুছানায় (!) ছিলো না। সেই কারণে একটু আলুছানায় আসার ধান্দায় এইসব পাগলামি করতেসে। এগুলো নিয়ে এত মাথা ঘামানোর দরকার কি?
তয় এই লোক ব্যপক এন্টারটেইনিং পাব্লিক। আমার ভাল্লাগসে। সচরাচর এমুন পাওয়া যায় না।
এই ধান্দাটা আসলে ঐ প্রতিহিংসার সংস্কৃতি থেইকা বাইর হওয়া একটা বিষয়। যেই কারনে আমি এন্টারটেইন্ড হই না, বরং আমার অ্যালার্মিং লাগে...
হিমালয় টপিকটা আর ভাল্লাগে না বস
অনেক তিতা। বিরক্তি ধরে গেছে। ফেসবুকে বন্ধুদের মধ্যে সচলের অনেক ভক্ত...কয়েক মাস ধইরা শেয়ার করা কিচ্ছা-কাহিনী+রঙ্গকার্টুন দেখতে দেখতে বিরক্ত। তার মধ্যে চতুরে-সামুতে মুসা-হিমুর পক্ষে বিপক্ষে পচানি চলতাছে। এইখানেও হালকা-পাতলা দেখতেছি, ভাল্লাগতাছে না।
আর সানাউল্লা মারা যাবার পরে চতুরে রোবোট নানার পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় একটা কমেন্ট করছিলাম...
আমার কাছে দুই পক্ষরেই সমস্যার মনে হইছে। আর ঐ প্রতিহিংসার সংস্কৃতির ধারকগো নিয়া কথা বলাটারে বিরক্তিকর আবার একই সাথে দরকারীও লাগে...এইখান থেইকা বাইর হওনটা জরুরী।
আদর্শহীন দল হওয়াতে তাদের সব খায়েশ টাকা মারায়, আর কিছুতেই কিছু যায় আসে না। সুতরাং পাঁচ বছরে মানুষজনকে বিরক্ত না করে চুপেচাপে টাকা মারার তালে থাকে বিএনপির সরকার। তাই ক্ষমতায় বসেই খালেদা জিয়া পিন্টুর মতো মাস্তানরে জেলে ঢুকায় দেয়
তানিমের এই অংশটুকু খুবই যুক্তি সংগত মনে হচ্ছে।
মুখে আমরা যতো সুশীল সাজি না কেনো, নিজের জীবনে সুশীলতার চর্চা করা অনেক কঠিন। তাই আজ সুশীলতা একটা গালি বই আর কিছু না।
প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে দেখতেই প্রায় চল্লিশ বছর পার কইরা দিলাম। amra shobai tai prai.... আওয়ামি সরকারের আমলে এই রাজনৈতিক আচরণ একেবারে তার চরমে পৌছাইয়া গেলো অবশেষে। ektu apotti achey - pore boli karon archieve er reference laagbe... ফাঁসীর দন্ডপ্রাপ্ত আসামীগো মাপ কইরা দিলো আমাগো অথর্ব রাষ্ট্রপতি; তিনি একজন দলীয় রাষ্ট্রপতি। - rastropoti bangladesh e to always OTHORBO - thorbo kobe chilo? aar JITU r fashi moukuf ki mone achey? আর তার একমাস যাইতে না যাইতেই আসামীগো এলাকায় খুন হইলো আরেকজন বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতা। যারে খুন করা হইলো সে হয়তো ধোয়া তুলসী পাতা না। evabey manush khun hoa hridoybidarok, dhoa tulshi pata na hoileo.... ekta jatiyo nirapottahinota ba oshohayotto kaaj kore, ami aapni je keo je kono somoye OI LOK hoye jetey pariকিন্তু প্রতিহিংসার রাজনীতি আসলে নিম পাতা ধ্বংসের রাজনীতির অঙ্কে চলে না। এই রাজনীতির অঙ্ক অন্য। turaag e dubey jaoa je bus uddhar hoyna 3 din e ba 7 jon morey jai rail line e.... jaati hishebe collectively amra kothai vashar da?
সেই আশায় বইসা আছি
... কবে যে উঠবো?
যেদিন প্রিয় কবি আবুল হাসানের কবিতার এই লাইনগুলো কাগজের পাতা থেকে
বুকে বুকে বেজে উঠবে সততার সাথে,
" কী লাভ যদ্ধু করে? শত্রুতায় কী লাভ বলুন?
আধিপত্যে এত লোভ....."
..আজ নয়, কাল নয় পরশু বিভাবরী সূর্য উঠবেই.....
মন্তব্য করুন