ইউজার লগইন

হিস্টোরী অফ ভায়োলেন্স...

এক.
কিছু মুহুর্ত খুব দাগ কাটে। এই সব দাগের কোনো অর্থ নাই। জীবনের ভৌগলিক তথ্য নিয়া একটা ম্যাপিং করলে হয়তো এমন সব দাগরে বিক্ষিপ্ত হস্তরেখার সাথেই কেবল তুলনা করা যায়। এই সব মুহুর্তগুলি মাথায় স্মৃতি হিসাবে তেমন ফোরগ্রাউন্ডে থাকে না। একেবারেই একরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হইলে মনে পড়ে আরে! আমার তো মাঝে মাঝে এমন হয়! এই যেমন সেইদিন যাইতেছিলাম বনানী-কাকলি থেইকা ঐ পাড়ের পুরানা ডিওএইচএসে...অভিজাত ঐ এলাকায় ঢোকার মুখেই একটা রেইলগেট। মাঝে-সাঝেই ট্রেইন গেলে ঐখানে অপেক্ষমান মানুষ আর গাড়ির ভীড় বাড়ে। সেইদিনও তেমন একটা পরিস্থিতি তৈরী হইলো। গোটা পচিশেক মানুষের সাথে আমিও অপেক্ষমান ছিলাম। নিশ্চিত ঐসব মানুষের তাড়া ছিলো তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে তার ছাপ ছিলো স্পষ্ট। কিন্তু আমার হঠাৎ ইচ্ছা করলো ছুইটা যাইতে। মনে হইলো মিটারগেজের পাকা লোহার পাতে শরীর বিছাইয়া দিতে পারলে ভালোই হইতো...ট্রেইনের চাকার ধাতব স্পর্শ টের পাইলাম আমি আমার শরীরে। মনে হইতেছিলো শরীরের বিচ্ছেদে অন্য আরেক অনুভূতির আবেশ তৈরী হইতে পারে। সেই অনুভূতি আমার চল্লিশ ছোঁয়া জীবনে অনুভব করা হয় নাই।

দুই.
আজকে টুটুলের বাইকের পেছনে চইড়া বাড়ি ফিরতেছিলাম। কনকনে শীতের হাওয়া ত্বক ছুঁয়ে যাচ্ছিলো। হঠাৎ সামনে একটা গর্ত থাকায় টুটুল ব্রেইক করলো। মোটর বাইকে চইড়া এর চাইতে বন্ধুর পথে ভ্রমণাভিজ্ঞতা থাকায় ব্যালান্স ঠিক কইরা ফেললাম মুহুর্তেই। কিন্তু যখন আবার সমতলে চলতে শুরু করলাম। তখন মনে হইলো ছিটকাইয়া পড়লে বেশ হইতো। মাথার খুলি চৌচিড় হইয়া হলুদ মগজ গুলি ছড়াইতো পীচের আবরনে। ছোটবেলায় দেখা একটা দূর্ঘটনার স্মৃতি তাৎক্ষণিক মনে পড়লো। মনে হইলো মৃত্যুর এই মুহুর্তের আস্বাদ আজ অবধি নেয়া হইলো না। হয়তো নিয়ন্ত্রণের আগেই একটা গাড়ির চাকা আমার একাধিক পাজরের হাড় ভাইঙ্গা বেশকিছুদূর চইলা যাইতো। আমি সেই চাকার ভর টের পাইলাম আমার পাজরে।

তিন.
আগে যখন দোকানে গিয়া শেইভ করতাম মাঝে সাঝে। তখন আয়নার দিকে একদৃষ্টিতে তাকাইয়া থাকতাম খুরের চলন অবজার্ভ করার জন্য। আর তার তীক্ষ্ণতারে অনুভব করতাম। মনে হইতো ড্রেসারের এক মুহুর্তের ভুলে ধারালো খুর নরম ত্বকের বন্ধনে ছেদ ঘটাইতে পারে যেকোনো সময়। একেবারেই শোনা যায় না এমন শব্দে ছিড়তো ত্বক। তারপর সাদাটে মাংস-তারপর রক্তের ধারা। আমি টের পাইতাম এই বিভাজনের অনুভূতি। আজকাল মিস করি। ডাবল ট্রিপল ব্লেইডের রেইজরে অভ্যস্ত বর্তমানের আমি খুব মিস করি রক্তের ধারাটাকে।

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নুশেরা's picture


১.
ইন্দ্রিয়ানুভূতির হাইপোসেনসিভিটি বলে একটা ব্যাপার আছে, এটা তীব্র হলে মানুষ নিজের শরীরে নিজেই আঁচড় কাটে, কামড়ায়... ... তীক্ষ্ণ ধ্বনি উচ্চারণ করে নিজেই নিজের কানের পর্দার সংবেদ পরীক্ষা করে... ... স্পিরিট শোঁকে... ... জিভের ক্ষেত্রে এই সমস্যা উদ্ভট অভ্যাসে প্রকাশ ঘটায়- কাঁচা আদারসুন পর্যন্ত খায়... ... পূর্ণবয়স্ক মানুষ ব্যাপারটা কোনমতে কন্ট্রোল করে নেয় কিন্তু শিশুরা মহাবিপদে পড়ে আর বাপমারেও বিপদে ফালায়

২.
দাগে বাড়তি চন্দ্রবিন্দুর দাগ পড়ে গেছে ভাস্করদা

নুশেরা's picture


** হাইপোসেনসিটিভিটি

কাঁকন's picture


আপু একটা আর্টিকেলে পড়েছিলাম অনেকে নাকি বিভি্ন্ন মানসিক সমস্যার সাথে মোকাবিলা করার জন্য শরীরে আঁচর টাচর কাটে, আপনি যখন শরীরের ব্যাথায় আক্রান্ত তখন মনের ব্যাথাটা চাপা পরে যায় টাইপ ব্যাপার আর কি Sad

হাসান রায়হান's picture


এদ্দিন পর কৈত্থিকা আসলা সোনার চান?

হাসান রায়হান's picture


@কাঁকন

নুশেরা's picture


ব্যথা চাপা পড়ে কিনা কে জানে! তবে অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডারের হাল্কাপাতলা নমুনা তো খুব সাধারণ ঘটনা: টেনশানের সময় দাঁত দিয়ে নখ কামড়ানো, অধৈর্য অপেক্ষায় আঙুল মটকানো। এগুলো মানসিক সমস্যা। বিপরীতে সেন্সেস-এর হাইপোসেনসিটিভিটি ব্যাপারটা পুরোপুরি ফিজিকাল/ফিজিওলজিকাল।

অট- ভাস্করদার পোস্টের সুবাদে বহুদিন বাদে কাঁকনের প্রবেশ ঘটলো Smile

ঈশান মাহমুদ's picture


‌এ ধরণের সেল্ফডিসট্রাকটিভ এটিচ্যুড আমার মধ্যেও বিদ্যমান। ওপরে উঠলেই লাফাইয়া পড়তে মন্চায়। এখন দেখতাছি আমি একলা পাগল না...।

মীর's picture


আমি সেই চাকার ভর টের পাইলাম আমার পাজরে।

আমিও পাইলাম।

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


দুইএর একটা জ্বলজ্বলে স্মৃতি আমারও আছে

১০

তানবীরা's picture


ভয় পাইছি দাদা। মরার অনেক কারণ ছিলো জীবনে, বাঁচার কারণই বরং কম কিন্তু ভয়েই কোনদিন ব্লেড হাতে বসাতে পারি নাই।

ভালো থাকেন।

১১

মাহবুব সুমন's picture


কাউন্সিলিং করেন জলদি ( মজা করে বলছি না বস )

১২

রাসেল আশরাফ's picture


ডরায়ছি বস।

ভালো থাকেন।

১৩

নাজমুল হুদা's picture


মোটাদাগে অস্বাভাবিকতা মনে হলেও কোন কোন সময়ে কারো কারো কাছে দারুন স্বাভাবিক । আর সে জন্যই বোধহয় তাদের কাউন্সিলিং দরকার হয় । স্বাভাবিকদের কাছে ভীতিকর ।

১৪

লীনা দিলরুবা's picture


এরকম হয় নাকী! কেমন যেন ভয় পেলাম।

১৫

জ্যোতি's picture


Sad

১৬

নীড় সন্ধানী's picture


ছেলেবেলায় আমার মাথার ভেতর প্রায় ঘুর ঘুর করতো আমি ঘরের চুনকাম করা দেয়াল নখ দিয়ে ঘষে ঘষে উঠছি উপরে, ভীষণ গা শিউরে ওঠা অনুভুতি হতো একটা। অনুভুতিটা মোটেই পছন্দের ছিল না আমার, তবু এরকম হতো। আপনার অনুভুতিটা সেরকম ব্যাপার মনে হলো।

১৭

মেহরাব শাহরিয়ার's picture


ট্রেনের ব্যাপারটা কমন পড়ল
আমার এমন আরও হয় , রাস্তা পাড় হতে গিয়ে । আমি নিজে একবার গ্যারেজের মধ্যে ব্রেক ফেইল করসিলাম , মনে হতে থাকে , দাঁড়িয়ে থাকা কোন গাড়ি যদি ব্রেক ফেইল করে ...

পাহাড়ে উঠলে মনে হয় , এই যদি গাড়িটা ছিটকে পড়ে
প্লেনে উঠলে ...

অনুভূতিগুলো ভয়াবহ
যথাসম্ভব চেষ্টা করি এগুলো মাথায় না আনতে ... বেশি ভাবলে শেষমেশ হঠাৎ যদি ..

১৮

উলটচন্ডাল's picture


অনুভুতির বোধটা হঠাৎ কেমন তীব্র হয়ে উঠে। মনে হয় এমন অনেক কিছু টের পাই যা হয়ত এম্নিতে পেতাম না। আমি চক আর ব্ল্যাকবোর্ডে লিখতে পারি না। গা শিউরে উঠে।

১৯

বকলম's picture


এক সময় যখন নিজের জন্য বাঁচতাম তখন খুব মরে যেতে ইচ্ছে হত। এখন পরের জন্য বাঁচি, ইচ্ছেটা এখন গুরুত্বপূর্ণ নয়।

২০

নাজমুল হুদা's picture


এক সময় যখন নিজের জন্য বাঁচতাম তখন খুব মরে যেতে ইচ্ছে হত। এখন পরের জন্য বাঁচি, ইচ্ছেটা এখন গুরুত্বপূর্ণ নয়।

অতি মূল্যবান কথা । এই বাক্যটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে একটা পোস্ট দিতে পারেন, বকলম ।

২১

বকলম's picture


বোকারা অনেক সময় চালাকের মত কথা বলে ফেলে, এটাও তেমনই একটা কথা হুদা ভাই। Smile

২২

নাজমুল হুদা's picture


এইটা একটা কথা হলো !

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...