ইউজার লগইন

কারখানা...(এক)

এক.
দুপুরে হঠাৎ মনে হলো মেয়েটাকে খুন করে ফেলাটাই জায়েজ হবে। সাদের কাছে বিষয়টা খুনের বদলা খুন। খুনী হিসাবে মেয়েটার ভূমিকা নিয়ে যদিও সে কিছুটা কনফিউজ্ড। তবু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার মতোন সাদের মাথায় খুনের চিন্তাটা বাদে আর কিছু আসে নাই। অস্থির সাদ এলোমেলো ভাবে প্লেইটের ভাত এদিক ওদিক নাড়াচাড়া করে হাত ধুয়ে বারান্দায় চলে গেলো সোজা। তারপর সিগারেট ধরিয়ে প্রথমবার ধোঁয়া ছাড়তেই মাথায় খুন শব্দটা খেলতে শুরু করে। অথচ কিছুদিন আগেও তার এমন মনে হয়নি। প্রয়োজনকেই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ লেগেছে সবসময়। নিয়ম করে সকালের নাস্তা খাওয়ার অভ্যেস তার। শরীরের প্রতি এক্সট্রা যত্নবান হওয়ার তাগীদের জন্য বন্ধুরা মাঝে সাঝেই তাকে খোঁচা মেরে বলে, "তোর আর কবি হওয়া হলো না'রে সাদ...কবিরা এমন নিয়ম মেনে চলে নাকি!" এমন কথায় সাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিলো না কখনোই। ঘুম ছাড়া আর কোথাও তার নিয়মের ব্যত্যয় ছিলো না কখনো। সেটাও কেবল ঘুমাতে যাওয়ার সময়ের ক্ষেত্রে। ওঠার বেলায় সর্বোচ্চ সাতটা তার সীমানা। এরপর আর বিছানায় গড়াগড়ি তার ধাতে সয় না।

তাই বলে রোবটের মতোন রুটিন ধরা জীবনও তার নয়। সকালের এক্সারসাইজের সময় তার চোখ চলে যায় পাশের বাড়ির ব্যালকনিতে। প্রায়শঃই ওবাড়ির মেয়েটা এসময় এসে দাঁড়িয়ে থাকে বারান্দায়। কি দেখে কে জানে! কিন্তু সাদ হয়তো খানিক্ষণ দাঁড়ায় রেলিং ধরে। শরীর থেকে মনোযোগ শিফট করে মেয়েটাতেই বেশি কাজ করে তখন। কখনো সখনো এমন মুহুর্তে মাথায় কবিতার লাইনগুলি এসে ভীড় করে। বেশ ক্লীশে সব বাক্যবন্ধগুলিও তার মাঝে সৃষ্টির আনন্দই দেয়। খানিক্ষণ এসব লাইনটাইন নিয়ে ভেবে তারপর তার ছুটি। ছুটি মানে ব্যালকনি থেকে ঘাম ঝড়ানো শরীর নিয়ে শাওয়ার নিতে ঢুকে পরা বাথরুমে। শাওয়ারের নীচে ঘড়ি ধরা সময় দাঁড়িয়ে থেকে বেরিয়ে ট্রিমার দিয়ে যত্ন করে অযত্নের দাড়ি গোফ ছাটা হলে, নাস্তার টেবিল। বেলায়েত'এর হাতে ধরিয়ে দেয়া রুটিন অনুযায়ী নাস্তার মেন্যু। তারপর অফিস।

শুনতে অনেক রুটিনবদ্ধ মানুষ মনে হলেও সাদ বাস্তবিক নিরাপদ থাকতে চায়, পজিটিভলি বললে যাকে নির্ঝঞ্ঝাট থাকার আপ্রাণ চেষ্টা হিসেবে ধরে নেয়া যায়। একসময়কার চরম অনিয়মে শরীর মাঝেসাঝেই বিগড়ে যাবার হুমকী দিয়ে বসে, যে কারনে নিয়ম মেনে চলে শরীরকে মানিয়ে রাখা। অবুঝ বেলায়েতের উপর নির্ভর করাটা বেশ বিপদের, শুরুর দিকে ক'দিন সে চেষ্টা চালিয়েছিলো একটা নির্ভরতার খোঁজে। কিন্তু নির্বোধের কোম্প্যানিতে চলার একমাত্র সল্যুশান হলো মিলিটারী ট্রেনিং। তাকে রোবটের এথিক্সে অভ্যস্ত করে তুললেই আল্টিমেট ইউটিলিটি। আদতে সাদ মানিয়ে চলাটাকেই জীবনের একমাত্র মটো হিসেবে বেছে নিয়েছে। একমাত্র রুনা'ই তাকে খানিকটা বুঝতে পেরেছিলো। আর পেরেছিলো বলেই সম্পর্কটা কন্টিনিউ করলো না একসাথে থাকতে শুরু করবার মাস তিনেকের পর। মানিয়ে চলাটাকে সারফেইসে সল্যুশান মনে হলেও আসলে বোরডোম তৈরী করতে এর চাইতে ভালো কোনো মেথড নেই। এ যূগের একজন ভিশনারী মেয়ে কেনোইবা মানিয়ে চলা পুরুষের পাশে দাঁড়িয়ে শান্তি পাবে! শেষ দিকে রুনা তার কাছে আব্দারও করতো,"ক'দিন অন্য কোনো মেয়ের সাথে শোও তুমি...তোমার আসলে ঐটাই দরকার।" এমন না যে সাদের সেক্স্যুয়াল লাইফে মহা বিপর্যয় নেমে এসেছে, কোনো মেয়েকে সন্তুষ্ট করবার সামর্থ্য নেই...অনেকের চাইতেই তার কোঅপারেটিভ পারফর্ম্যান্স মেয়েদের শুরুতে হয়তো মুগ্ধই করে। কিন্তু ইনোভেইটিভ কিছু দরকার লাইফে। সাদ'ও নিজেকে মিডিওকার'ই ভাবতে থাকে।

তবে দুপুরে খাওয়ার ফাঁকে নিরুপমার ফোনটা নিয়ে ভাবতে ভাবতেই সে যেনো নিজেকে পেরিয়ে যায়। খানিকটা অস্থিরতা টের পেলেও খুন করার কথা ছাড়া আর কোনো সমাধানের কথা ভাবতেই পারে না সে। প্রায় ৫/৬ টা সিগারেট ফুকে তার সম্বিত ফেরে আলভীর ফোনে।

সন্ধ্যায় কি করবা ওস্তাদ? আইবানি আমাগো দিকে...

রুটিন অনুযায়ী আজ সাদের মগবাজারে যাওয়ার কথা, তবু আলভী ফোন দেয় সেই আগের মতোন। ইনডিসিপ্লিন্ড সাদের কাছে আলভীর কোনো চাওয়া নেই। আলভী হয়তো সাদের রুটিনবদ্ধ জীবনের ছদ্মবেশটাকে ভুলে থাকতেই চায়। সে হয়তো প্রত্যাশা করে এই শুক্রবার সাদ মগবাজারের দিকে পা বাড়াবে না। কিন্তু সাদের আজ অন্য কোনো প্ল্যান থাকে না। তাকে মগবাজারের আড্ডাতেই যেতে হবে। বন্ধুরা থ্রি কার্ডসে মাতলে সে পাশে বসে চুকলী কাটবে। মোহাম্মদ আলীকে একটা জিম বিম পৌছে দেয়ার অর্ডারটাও সে'ই দেবে। মাঝে ভরাট গলায় তার নতুন লেখা কবিতার একটা লাইন আউড়াবে এমন ভাবে যেনো আপনমনে নিজেকে শোনাতে চায় কেবল। বন্ধুরা শুনে তার দিকে ফিরে তাকাবে এমন সময়। তাদের কেউ একজন হয়তো বলবে, "তোর আর কবি হওয়া হলো না'রে সাদ...কবিরা এমন নিয়ম মেনে চলে নাকি!"
সাদ মুচকি হেসে তাকে ইগনোর করার ভান করবে।

নিয়মমাফিক সে আজ পাঞ্জাবীর ভাঁজ খুলতে গিয়েও রেখে দেয়। খুনের প্ল্যানটার কারনে কেমন অন্যরকম লাগে তার। জিন্স-টিশার্টেই মগবাজার যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শুক্রবার নিরুপমার সংসার দিন। আজ তার স্বামী সোহাগে থাকবার দিন। কোনো শুক্রবার তারা ডেইট করে নাই। কিন্তু সাদের মনে হয় খুন ছাড়া আর কোনো বিকল্প নাই। নিরুপমার একমাত্র বিচার খুন। মানে নিরুপমাকে খুন হতে হবে। খুনটা না করা পর্যন্ত সাদকে তৈরী থাকতে হবে মুহুর্তটার জন্য।

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

রশীদা আফরোজ's picture


তারপর?
পরের পর্ব জলদি চাই।

মীর's picture


আমার মনে হচ্ছে আপনে এবার একটা ঘটনাই ঘটাবেন ভাস্করদা'। বসলাম। শেষ না দেইখা উঠতেসি না। কেননা এইরকম লেখা আমার সবচে' বেশি ভালো লাগে।

ভাস্কর's picture


গল্পটা বেইসিক্যালি একটা টিভি ড্রামার জন্য ভাবতেছি। সাহিত্য গল্প হিসাবে এইটার দৌড় কদ্দূর যাইবো তা অনুমান করতে পারতেছি না।

তানবীরা's picture


আপনে আগে বলেন শেষ করবেন ঠিক করে। তারপর পড়বো।

অসাধারণ

ভাস্কর's picture


শেষ করতে পারি না বইলা কি আমরা লেখক না! Tongue

রাসেল আশরাফ's picture


ভালো লাগলো।তয় তাতাপুর মতো আমিও সন্দিহান। শেষ করবেন তো??

ভাস্কর's picture


দেখা যাক...

নুশেরা's picture


মনে করছিলাম পড়ব না (দু্ই দু্ইটা ভাল সিরিজ সিকিপথে আটকায় রাখছেন)। কিন্তু পয়লা বাক্যটা চোখে পড়ে যাওয়াতে পড়তেই হইলো। আচ্ছা, টিভি সিরিজ যদি করেন, সাদের এই ভাবনার ব্যাপারগুলি আনতেই তো কয়েক পর্ব চলে যাবে, তাই না?

ভাস্কর's picture


আমি আসলে চরিত্রের একটা কাঠামো তৈরী করতে এই লেখাটা তৈরী করতেছি...

১০

জেবীন's picture


দারুন!!...

টিভি সিরিজ বানালে, এটা দিয়াই তো কয়েক পর্ব টানবেন মনে হয়...

১১

ভাস্কর's picture


সিরিজ বানানের অবশ্য প্ল্যান নাই...এক পর্বের টিভি নাটক...

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...