কারখানা...(পাঁচ)
বারিস্তার কাঁচ ঘেরা লাউঞ্জে বসে সাদ অপেক্ষা করে নিরুপমার জন্য। তখন সন্ধ্যা প্রায় সমাগত। ক্যাফে’তে লোকজনের উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়ছে। বাইরে হালকা বৃষ্টি ঝরছে। সাদ কাঁচের দেয়ালে চোখ রেখে জলের গড়িয়ে পড়া দেখে। গ্রাফিতি’র উপর দিয়ে গেলে জলেরা যেনো অন্যরকম মুখোশ পরে। সাদ অপেক্ষা করে। তার পকেটে হোমিওপ্যাথির শিশি বোতলে ১৫০ গ্রাম থ্যালামিয়া লিকুইড। স্বাদ আর গন্ধহীন থ্যালামিয়া মানুষের রক্তের সাথে মিশে যেতে খানিকটা সময় নেয়। তাই সাথে সাথে অচেতন হওয়ার ঝুঁকিটা নেই। ধীরে ধীরে হয়তো শরীর বিবমিষা বোধ করবে, মাথা ঘুরবে, খাবারে অনীহা দেখা দেবে। তারপর সেই একই প্রতিক্রিয়া, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। মৃত্যু ঘটবে হঠাৎ করেই।
নিরুপমা পৌছনোর খানিক আগে ফোন করবে বলেছে। তার ফোনের সাথে সাথেই সাদ কফি অর্ডার করবে। আজ নিরুপমা বেশিক্ষণ থাকতে পারবে না জানিয়েছে। যেনো সাদ’কে খুন করবার স্পেইসটা প্রভাইড করতেই তার এই তাড়াহুড়ো। কফিটা যাতে নিরুপমা পৌছনোর সেকেন্ড ত্রিশেক আগে পৌছায় সাদের দায়িত্ব সেটা নিশ্চিত করা। পকেটের ১৫০ গ্রাম থালামিয়া সাদ ঢেলে দেবে নিরুপমার কফি কাপে। সাদের পছন্দ ল্যাটে আর নিরুপমার মাকিয়াতো। চরিত্র মতোই নিরুপমা ভালোবাসে বিটার সুইট। সাদ কখনো ভাবতেই পারে না ক্র্যানবেরিজ জুস খেয়ে কেউ ব্রেকফাস্ট করছে। ছোটবেলায় মা একবার বাড়িতে চিরতার রস খাওয়ানোর প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিলো। তারা দু ভাই-বোন মিলে তখন লুকিয়ে থাকতো। মা খুজে টুজে বের করে গ্লাস হাতে ধরিয়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো সামনে। নাহলে যে তারা বেসিনে ঢেলে দেবে পুরো গ্লাস, এটা মা বেশ ভালোই জানতো।
নিরুপমা’র ফোন আসে। সে জ্যামে আটকে আছে সোনার গা লিংক রোডে। সাদ যাতে অর্ডারটা এখনি করে দেয়। তার হাতে সময় মাত্র মিনিট বিশেক। সাদ ভাবে, এই নিরুপমাই যখন তার সাথে শুরুতে দেখা রতে আসতো। তখন সাদের সময় নিয়ে তার মহা হ্যাপা ছিলো। রাত ন’টা বেজে যেতো, হাজব্যান্ডের কল গুলি রিসিভ করতো না পুরোটা সময়। তারপর রাত ১০টায় বাড়িতে পৌছে আবার ফোন করতো পৌছনোর খবরটা দিতে। সাদ অর্ডারটা করে দেয়। এক কাপ ল্যাটে, আরেক কাপ মাকিয়াতো আর দুটো ব্লু-বেরী চিজ কেক...
: ভাইয়া, আই হ্যাভ রিটেন দ্য স্ক্রিপ্ট...ডু ইউ হ্যাভ টাইম টু হিয়ার দ্যাট?
সাদের সম্বিত ফেরে জায়না’র ডাকে। তার মনটা এখন বেশ ভালো। পুরো সময়টাকে আরেকটু ডিসেক্ট করে দেখতে হবে কয়েকবার। কিন্তু হি ইজ মোর অর লেস কনভিন্সড।
: হ্যা ভাইয়া, আই হ্যাভ টাইম...জাস্ট ক্লোজ দ্য ডোর এ্যান্ড হ্যাভ ইওর সিট।
কাজের সময়টায় আর খুন নিয়ে ভাবার দরকার নেই সাদ। বি প্র্যাকটিকাল, এটা তোমার রুটি-রুজি। কর্পোরেট অথরিটি তোমাকে টাকা দ্যায়। তোমার তারিফ করে। তুমি তাদের কাছে তোমার সময় বিক্রি করে দিয়েছো। এসময় অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে যাওয়াটা অন্যায়। এই বিষয়টা নিয়েও রুনার সমস্যা হতো। ওর পছন্দ ছিলো ৯টা-৫টা’র চাকুরী। যে কারনেই নাকি নিজে অনেক মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও এমবিএ’টা করলো হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টে। কর্পোরটে জবটাও বাগিয়ে নিলো শুরুতেই। আর তার প্রগ্রেস দেখার মতোই। অন্যদিকে সাদ হেড অফ ক্রিয়েটিভ এ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি প্ল্যানিং হয়েও কখনো নিজের মতো করে প্ল্যান করতে পারেনি সময়কে।





পড়া শুরু করতেই শেষ হয়ে গেলো।কি হয় কি হয় ভাবনাটা থেকেই যাচ্ছে।
চলুক......
কন কী বস, থ্যালামিয়া লিকুইড দিলেই কম্ম সাবাড়! ভয় পাইছি। সাদরে দিয়া খুনটা করায়েন্না বস, আমারও পছন্দ লাটে
জায়না আর সাদের সংলাপের কপিবুক ইংরেজিটা স্মুথনেসে খানিক চিড় ধরাইছে মনে হয়
ভিসেরা টেস্টে ধরা পরে যাবে থ্যালামিয়া। আরো জটিল জিনিস বের করতে হবে।
যেমনে প্ল্যান করা হৈছে পুলিশ ১ ঘন্টায় সব বের করে ফেলবো।
বউ না বান্ধবী খুন?
ছোট পর্ব, বেশি কিছু বলার নাই। ভাল্লাগছে।
ডেলি একটা, জোস..
মন্তব্য করুন