ছবি ব্লগ: হারিয়ে যাওয়ার ঠিকানা...
বুড়া বয়সেই ছবি তোলার শখটা মাথায় চাপলো। যখন তারুণ্যে উদ্দাম ছিলাম, তখন ক্যামেরা কিননের সামর্থ্য ছিলো না...তখন ছবি নিয়া নানারকম এক্সপেরিমেন্টাল আগ্রহ কাজ করতো। তখন এলোমেলো হাটতাম-ঘুরতাম। এর ফাকে ফাকে খালি চোখে অবলোকন করতাম লাখো ছবির ফ্রেইম। মধ্যবয়স পার কইরা এখন আর আগের মতোন উদ্দেশ্যহীন থাকতে পারি না। কোথাও ঘুরতে যাওনের লেইগা পরিকল্পণা লাগে। পরিকল্পণার পারফেকশনের ভক্তও হইয়া উঠি মাঝে সাঝে।
গতোমাসের শেষ দিনে পেশাগত কাজে ঢাকার পাশেই মানিকগঞ্জের ত্বরা গ্রামে গেছিলাম। সাধারণতঃ কাজের সময় আমার কেনো জানি ছবি তুলতে শখ হয় না। তয় ঐদিন এক তরুণ বন্ধু আমার সাথে যাইবো বইলা গো ধরলো। সে উঠতি ফটোগ্রাফার। অকুস্থলে পৌছাইয়া তারে ক্যামেরা বাইর করতে দেইখা আমিও ভাব ধইরা কয়টা ছবি তুললাম। মনে হইলো ছবিগুলি ব্লগে শেয়ার করা যায়...

ভোরের সূর্য্য উঠার সাথে সাথে ত্বরা নদীর তীরে শুরু হয় মাছ বাজার। অবস্থা দেইখা মনে হইলো ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেইকা খুচরা মাছ ব্যবসায়িরা এই খানে আসে ঝাকা ভইরা মাছ কিনতে।

শীতের সময় এই দেশের অধিকাংশ নদীর মতোই ত্বরাও শুকায়। আন্তর্জাতিক নদী আইন ভাইঙ্গা ভারতীয় এই পানি বন্টনের সন্ত্রাস আমাগো অর্থনীতি-বাণিজ্য-ফসলের উৎপাদনের বেইসিক গতি প্রবাহ নষ্ট কইরা দিলেও এমন সৌন্দর্য্য আমার মধ্যবিত্ত অন্ত্যপ্রাণে ভালোই নাড়া দেয়।

এই ছবিটা আমি কেনো তুলছিলাম মনে নাই। পরে দেখি ইন্টারেস্টিং কম্পোজিশান! যন্ত্রের কোনো আগামাথা নাই, যন্ত্রের সভ্যতা যেমন মানুষের জীবনরে এক্সাইটিং করে, একইসাথে এমন এলোমেলোও হয় আমাগো সহজবোধ্য দিনলিপি।

গ্রামের ভেতরে রান্না করতেছিলো দুই প্রজন্ম। আসলে তিন প্রজন্ম। আমি দেখলাম স্পষ্টতঃ বিভাজন। তারা কিছু বুইঝা উঠার আগেই শাটার ক্লিক। মধ্যবিত্তের গ্রাম ভ্রমণের দিনে এমন ছবি হয়তো অনেক ক্লীশে। কিন্তু এই ছবিটা আমার মধ্যে আসলে বিভক্তির বোধ জাগায়। কোন কারণ ছাড়াই...

নদীবর্তী জীবন কাহিনী নদীর মতোই সরল। নদীবর্তী মানুষেরা মনে হয় অনেক রুটিন বদ্ধ চলে। অনিশ্চয়তা বোধ মানুষরে এমন নিয়মের বেড়াজালে বান্ধে। ছবির নারী চরিত্র প্রতি সন্ধ্যায়ই এমন কলসী কাখে নদীর জল নিয়া যায় ঘরের আঙিনায়। রাতের খাবারের আয়োজন শুরু হবে আর কিছুক্ষণ পর। আর পাড়ে বাইন্ধা রাখা নৌকাগুলি বাতাসে হালকা দোল খায়...

ব্রীজটা ঢাকার প্রান্তে। তুরাগ নদীর এপার ওপারে সংযোগ ঘটাইতেই এই ব্রীজের শুরু। এতো প্রাণময় সেতু কি আর আছে!? সূর্য যখন বিদায় সম্ভাষণ জানায় শহরের মানুষদের তখন কেউ কি ব্রীজের ভাষা বোঝে?





দ্বিতীয় ছবিটা অদ্ভুত সুন্দর।
৫ নং ছবির মতো করে অনেকদিন কোন গ্রামের বধুকে কলসি কাঁখে নদী থেকে ফিরতে দেখিনি।
ভাস্করদাকে ধন্যবাদ ছবিগুলো শেয়ার করার জন্য।
প্রিয় ছবিপোস্ট হিসেবে সংযোজিত হলো।
আপনার ছবি নিয়ে কিছু বলার সাহস নাই তবুও বলি যন্ত্রের ছবিটা বেশী ভালো লাগলো।
ব্যাপক হইসে, ভাস্কর ভাই! প্রথম দুইটা বেশি ভালো।
আবদার :: আমার কয়েকটা পোট্রেট তুলে দিয়েন।
ছবিগুলো অসাধারণ লাগলো ভাস্করদা। আপনি নিয়মিত ছবি ব্লগ দিবেন - এই আশায় থাকলাম।
ছবি ও ছবির গল্প ভালো লাগল। আমারো ইচ্ছা করে ছবির গল্প লেখতে। যন্ত্রের ছবিটা ভালো লাগছে বেশি। কোনো মেসেজ নাই জস্ট সুন্দর একটা কম্পোজিশন। কীসের বিভাজনের কথা কৈলেন?
যন্ত্রের ছবিটা হুদাই তোলা ছিলো...যদ্দূর মনে পড়ে আমি তুলছিলাম দরজার ছবি। তবে ঐ পাওয়ার টিলার দুইটার মুখামুখি অবস্থান দেইখা মনে হইলো একটার পেছন আরেকটার সামনের অংশ দেখা যায়...
ছবিগুলো দেখে মন খারাপ হলো কিছুটা। সত্যিকারের সহজ-সরল জীবনবোধের সাথে দূরত্ব কেবল বাড়ছেই..
চমৎকার ছবি সবগুলোই। রান্নার ছবিটা কেমন যেন লাগছে, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্সের কারণে কি?
হ...ওয়াইড অ্যাঙ্গেলের ডিস্টর্শন...
সবগুলো ছবিতেই কি যেন একটা অপূর্ণতা রয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। কেমন যেন মনে হচ্ছে বেশির ভাগ আন্ডার এক্সপোজ। আর পয়েন্ট অব ইন্টারেষ্ট কেমন যেন পয়েন্ট করা যাচ্ছে না। একটাই ভাল ব্যাপার ছবিগুলোর সেটা হলো সাবজেক্ট। একই দৃশ্যগুলো ভিন্ন সেটিংসে তোলার যথেষ্ট সুযোগ ছিল।
নোট: আহ্ আতেল মার্কা সমালোচনার মজাই আলাদা।
আমার বেশিরভাগ ছবিই আন্ডার এক্সপোজ্ড হয়...এর দুইটা কারণ, এক. এলসিডি মনিটর আর দুই. আমি একটু ডার্ক ফটোগ্রাফি পছন্দ করি। তবে বিষয়টা নিয়া আমি কাজ করতেছি...ঠিক হইয়া যাইবো আশা রাখি।
এই ছবিগুলোর দুইটা পার্ট...শুরুর ছবি দুইটার পয়েন্ট অফ ইন্টারেস্ট আসলে ছায়া আর তার গ্রাফিক্যাল প্রেজেন্টেশন। আর শেষের দুইটা একেবারেই ল্যান্ডস্কেপে লাইফস্টাইল। চার নাম্বার ছবিটা আসলেই অনেক দূর্বল...কম্পোজিশন অনেক ক্লামজি। তবে ভিন্ন সেটিংসের সমালোচনাটা আমার খুব একটা জুইতের লাগে না...এইটা এক্কেরেই পার্সোনাল।
রান্নার ছবিটা যেমন আমার নিজের অনেক ভালো লাগছে। এইটার মাঝখানে একটা কালো বাঁশ আছে...ঐখান থেইকা ছবিটারে দুই টুকরা কইরাও দেখা যায়। ডিস্টর্শনটা যেমন অনেকের কাছে খারাপ লাগলেও আমার চোখে ঐটাই মজার ঠেকে। এই ছবির ভিন্ন কম্পোজিশনগুলিও আমার ক্যামেরায় তোলা আছে...কিন্তু সেইসবে আমি এই বিশেষ মজাটা পাই নাই...
হহাহাহাহাহা, কান্নার ইমো হবে, তাহলেতো আমারো বেশি দেরী নাই
কারাখানা যতোদিন না দিবেন, ততোদিন ছবির কমেন্ট দিমু না।
ছবি সবগুলোই। সুন্দর ।।
মন্তব্য করুন