ইউজার লগইন

কারখানা...(নয়)

ভডকায় সিপ দিতে দিতে ফোন বেজে উঠে। এমন সময়গুলোতে সাদ সাধারণতঃ কল রিসিভ করে না। কিন্তু কি মনে করে আন নোওন নাম্বারটাও সে ধরে ফেলে।
: হ্যালো! সাদ...
: হ্যা বলছি...
: সাদ আমি তোমার রমিলা ফুফু...বাবা একটা খবর দিতে তোমারে ফোন করলাম। আজকে সকালে তোমার এহতেশাম দাদু মারা গেছেন।
সাদ ঠিক ভেবে উঠতে পারে না এমন একটা খবর প্রাপ্তির পর তার কি প্রতিক্রিয়া থাকা দরকার। কিন্তু তার কেমন অস্থির লাগতে শুরু করে। সাদ কেমন নিষ্পৃহ টোনে বলে,
: আচ্ছা...
: তুমি ভালো আছো বাবা?
: হ্যা ফুফু...আপনাদের ওদিকে অনেকদিন যাওয়া হয় না।
: হ্যা বাবা, তুমি ব্যস্ত থাকো শুনছি তোমার মা’র কাছে...

ফোনটা রেখে সাদের মনে পড়ে এহতেশাম দাদুর কথা। ছোট্ট সাদ তাকে শাম দাদু বলে ডাকতো। একটা মানুষ চিরজীবন একলা কাটিয়ে দিলো। মৃত্যুর সময় তার পাশে কে কে ছিলো? হয়তো কেউ ছিলো না পুরনো ভৃত্য আশেক মিয়া ছাড়া। বা সে’ও কি ছিলো? তার নিজেরই তো মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসার কথা। মা বলে অন্যের জন্য নিজের জীবনটা উৎসর্গ করেছেন শাম দাদু। সেই কৈশোরে সাদের মনে হতো শামদাদু পৃথিবীর সবচাইতে জ্ঞানী মানুষ। একজন চিন্তাশীল কিশোরের রোল মডেল হয়ে ওঠার সব গুণই ছিলো দাদুর। দেশের সেরা এ্যাডভার্টাইজিং প্ল্যানার হিসাবে সাদের যেই খ্যাতি রয়েছে তার ফাউন্ডেশন তৈরীতে শামদাদুর অবদান কখনোই সে ভুলতে পারবে না। অপরাধী মনে হয় নিজেকে। দাদুর কথা কতোদিন ভুলে বসে আছে!
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একবার এক স্বপ্ন দেখে সাদ ভোর তিনটায় উঠে রওনা দিয়েছিলো কুষ্টিয়ায়। সে এক অদ্ভুত ভ্রমণের কাহিনী। কিন্তু স্বপ্নটা ছিলো আরো অদ্ভুত! তখনো গাঢ় হয়নি ঘুম, হঠাৎ সে দেখতে পায় বালক সাদ তাড়াহুড়োয় হেটে চলেছে কোনো এক পথ ধরে। পথটা বেশ চেনা কিন্তু কিছুতেই মেলাতে পারছিলো না স্মৃতির তালিকা খুঁজে। একসময় একটা বাড়ির সামনে অনেক মানুষ আর বেশ কিছু পুলিশ দেখে থেমে যায় সে। বাড়িটাও যেনো স্মৃতির পাতা থেকেই উঠে আসা, পথঘাটের মতোন সেই স্মৃতিও কোনো কারনে চাঁপা পড়ে থাকে সেইসময়টায়। বালক সাদ ভীড় ঠেলে ঢুকতে গেলে একজন সানগ্লাস পরা পুলিশ অফিসার তার হাত টেনে ধরে।

: কোথায় যাচ্ছেন!
: আমার দাদু আসছে এই বাসায়...
: আপনার দাদু! (পুলিশ অফিসারের গলায় স্পষ্টতঃ সন্দেহ)
: হ্যা! আমার শামদাদু!

আনইউজ্যুয়ালি ফুল স্লিভের ইউনিফর্ম পরা পুলিশ অফিসার মুখের সামনে ওয়াকিটকি ধরে চীৎকার করে কাউকে জিজ্ঞেস করে,

: ডাক্তারের ফরেনসিক রিপোর্ট কি এসেছে!

দূর থেকে কেউ একজন উত্তর দেয়,

: ইয়েস স্যার! তারা দুজনেই মৃত!

সাদ কিছু বুঝে উঠার আগেই পুলিশ অফিসার তার কপালে ওয়াকি টকি দিয়ে আঘত করে। সবকিছু অন্ধকার হয়ে এলে সাদ ধরফরিয়ে ওঠে। তখনো মা ঘুমে। তাকে ঘুম থেকে না তুলেই সাদ এক কাপড়ে রওনা দেয় কুষ্টিয়ায়। শামদাদুকে দেখার জন্যে।
পরবর্তীতে ঐ স্বপ্নের অনেকগুলি ব্যখ্যা তৈরী করেছে সাদ, কিন্তু কোনো ব্যখ্যাতেই শামদাদুর মৃত্যুরহস্য উদঘাটিত হয় নি কখনো। তার হঠাৎ মনে হতে থাকে বালক সাদ সেই হত্যার সাথে যূক্ত ছিলো কোনো ভাবে...

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মাহবুব সুমন's picture


জটিল

মীর's picture


স্বপ্নদৃশ্যটা জটিলভাবে ফুটেছে।

তানবীরা's picture


ওনি কোন এহতেশাম? ফিল্ম ডিরেক্টর?

যাক, ওয়েলকাম ব্যাক

ভাস্কর's picture


আপনে কি এই লেখায় সত্যিকারের চরিত্র খুঁজতাছেন নাকি!?

তয় এই চরিত্রের নামকরনের পেছনে একটা কারণ আছে সেইটা কোন এক পর্বে ক্লিয়ার হইবো...আমি তো সবসময়েই ছিলাম, তাইলে ওয়েলকাম ব্যাকের মর্তবা কি?

তানবীরা's picture


কারখানা নিয়ে ওয়েলকাম ব্যাক মিয়া

নজরুল ইসলাম's picture


আগের গুলা পড়া হয় নাই, এটা পড়ে দারুণ লাগলো

হাসান রায়হান's picture


এতদিন পর পর দেন পড়ার মজাটা থাকেনা। তাই ঠিক করছি শেষ হলে একেবারে প্রথম থেকে শুরু করে একবারে পড়ব।

ভাস্কর's picture


আমার কিচ্ছু করার নাই... Fishing

শওকত মাসুম's picture


রায়হান ভাইয়ের সাথে একমত

১০

নীড় সন্ধানী's picture


স্বপ্নটা অদ্ভুত!

১১

বাতিঘর's picture


হুট করে কারখানা-৯ এ ঢুকে গেছি। আগেরগুলো না পড়লেও এটা পড়তে ভালো লাগছে Big smile

১২

আনিকা শাহ's picture


পড়লাম... ভালই প্যাঁচ দিয়েছেন দেখছি, কিছুতেই কিছু ধরতে দিচ্ছেন না!
কিপ ইট আপ। Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...