ইউজার লগইন

ভালো লেখা আর মন্দ লেখা

মাঝে মাঝে এমন হয় একটা লেখা পড়লাম, মনে হলো যুক্তির অসারতায় ভর্তি, অহেতুক অনেক অপ্রাসঙ্গিকতার অলঙ্করণে ভরে ফেলা হয়েছে লেখাটার শরীর...বালখিল্য উদাহরণগুলো অনেক দূরবর্তী চিন্তার খোরাক তৈরী করে, লেখক আসলে লেখাটার শুরুতে সংশয়ী ছিলেন কি বিষয়ে লিখতে চান তিনি। আর তাই চিন্তার মূল বিন্দু খেই হারিয়ে এদিক ওদিক ঘোরাফেরাতেই ব্যস্ত ছিলো। এই ধরণের লেখা গুলোতে মনোনিবেশ করতে আমার রীতিমতো নিজের সাথে ছোটখাটো যুদ্ধ জয়ের প্রয়োজন পরে। কিন্তু সেই একই লেখা সম্পর্কে, অনেকেই দেখি তুমুল উচ্ছ্বাসের প্রকাশ দেখিয়ে যান! যেন ঐ লেখাটিই হতে পারে এই বিষয়ের উপর একমাত্র প্রকাশ...জেন সন্ন্যাসীরা বোধিসত্ত্ব পেয়ে গেলে যেমন অনেক সময় পরিত্রান খোঁজেন জীবনের সকল কৌলীণ্য থেকে, তেমনি করেই এই লেখকেরও সবকিছু পাওয়া হয়ে গেলো...কেবল পাঠকের পরবর্তী মনোরঞ্জন বা জ্ঞান আহরণের সুযোগ করে দিতেই তাকে পরবর্তী লেখায় যাওয়ার সময় করতে হবে। আর কোন মান তৈরী করনের কোন দরকার নেই।

আমি এই ডিলেমাতে আছি বহুকাল যাবত, আমার যেই লেখাটিকে মনে হয় মেলো-ড্রামাটিক, মেকী আবেগের সার্কাস্টিক এ্যাপ্রোচের প্রকাশ, সেই লেখাটিই তুমুল ঝড় তোলে অনেক পাঠকের হৃদয়ে। আবার আমার পছন্দের লেখাটি যেন চোখেই পরে না কারো, অপাংক্তেয় আখ্যানের উদাহরণ হিসাবে সে পরে থাকে নীরবে। আবার অনেক জনপ্রিয় লেখার ক্ষেত্রে ঠিক বিপরীতটাও ঘটে...সবার পছন্দের সাথে আমার পছন্দ এমনভাবে মিলে যায়, নিজেকে খুব মিডিওকার পাঠক মনে হয়...আর সবার মতোই আমিও জনপ্রিয় ধারার পাঠক হলাম শেষপর্যন্ত!

পাঠ রহস্যের এই বিভাজনটা আসলেই স্বাভাবিক, এমন ভাবে বলতে চাইবেন অনেকে, কারণ পৃথিবীটাই দাঁড়িয়ে আছে অমোঘ আপেক্ষিকতার নিয়তিতে। কিন্তু আপেক্ষিকতার নজীর কি এমন যে, একই লেখকের ক্ষেত্রেই পাল্টে যাবে পছন্দ-অপছন্দের বেসিক চরিত্র? বিষয় কিংবা প্রকাশের ভঙ্গী কি এই ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা রাখে? তাতো অবশ্যই...বিষয় আর প্রকাশভঙ্গী নিয়েই তো একটা লেখার শরীর গড়ে ওঠে। কিন্তু ভালো মন্দের স্ট্যান্ডার্ড কি এই সবে কোন ভূমিকা রাখে! বিষয় আর প্রকাশভঙ্গীতো কেবল একটা লেখার যোগাযোগের ধরণটা ঠিক করে দ্যায়, ভালো মন্দের কোয়ালিটি কি তাতে কোন ফ্যাক্টর হয়!?

প্রশ্নটাই আসলে এই ভালো লেখা-মন্দ লেখা নিয়ে। কিসের নিরীখে একটা ভালো লেখা তৈরী হয়? রেফারেন্সে? ভালো উদাহরণে? লেখকের সততায়? এই ব্যাপারটা নিয়ে ভাবতে গেলেই আমি খেই হারিয়ে ফেলি...নিজেকে ঠিক বিচার করে উঠতে পারি না। অনেক এলিয়েনেটেড লাগে। তবুও মানদন্ড পাল্টে ফেলতে পারি না।

আমার নিজের লেখার আগ্রহ আছে ষোল আনা, কিন্তু যতোটা চিন্তক হিসাবে স্বীকৃতি মেলে...লেখক হিসাবে তার ধারে কাছেও থাকে না বিবেচনা। অধিকাংশ পাঠকের কাছেই আমি পৌছতে পারি না। কিন্তু অনেক লেখার পরেই আমার নিজের মনে হয়, এবার লিখলাম মনের মতো করে। কিন্তু যে কে সেই...আর কোন অর্থবহতা থাকে না...গড়পড়তাময় একজন চিন্তক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ছাড়া। কিন্তু ভালো লেখকের চাইতে চিন্তক আরো বিতর্কিত হয়। কারণ চিন্তার বর্ণমালাগত প্রকাশে অনেক সময়ই বিভ্রান্তি আসে, পাঠকের কাছে চিন্তার যেই ছোট ছোট প্যারাডক্স নির্ভরতা থাকে, তার কোন কদর থাকে না। পাঠকের কাছে এইসবকে ‍'প্যাচানো' মনে হয়।

আর তাই আমি আসলেই অনেক পেচিয়ে, অনেক কষ্ট স্বীকার করে আমার চিরাচরিত লেখার ভাষা পুরোটা পাল্টে এই ব্লগ লিখতে আগ্রহী হয়ে উঠি। আমার খুব জানতে ইচ্ছা করে অন্য সহযোগীদের কাছে, ভাল লেখা আর মন্দ লেখার মানদন্ড কিরূপে আসে? কে কি ভাবেন ভালো লেখা আর মন্দলেখার সুনির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া নিয়ে...

পোস্টটি ১৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

শিখর দবির's picture


লেখা নিয়া পড়ে হয়ত আলোচনা করা যাবে। এখন বলেন, ফ্ন্ট ঠিকাছে ? অন্য কোনো সমস্যা?

ভাস্কর's picture


না এখন ঠিক আছে সব মনে হয়। আমার কাছে পুরা ব্যাপারটা ভালোই এক্সাইটিং লাগতেছে। খালি এই লেখার জায়গার রঙটা পাল্টাইয়া দেন। আর মনে হয় রফলা দিতে ঝামেলা হয়।ইউনিজয় ডিস্টাবর্A দিতাছে।

শিখর দবির's picture


বাংলা নিয়া জেবনেও কাজ করি নাই। এই প্রথম। তাই কিছু সমস্যা আছে। বাট ভগবান চাহেতো সব ঠিক কইরা ফালামু ইনশাল্লাহ।

টুটুল's picture


কম্পিউটারের অভ্র দিয়া লেখা:  ক্র খ্র গ্র ঘ্র
সাইটের ইউনি জয় বাংলা : ক্র খ্র গ্র ঘ্র

শিখর দবির's picture


একই তো দেখায়।

টুটুল's picture


এর জন্যইতো দিলাম

ভাস্কর's picture


আমি রেফ লিখতে গিয়া র-ফলা লেইখা ফেলছিলাম ভুলে...

মুকুল's picture


এইটা কি জামাল ভাস্কর ?

টুটুল's picture


১০

নজরুল ইসলাম's picture


সেদিন বড় একটা মন্তব্য লেখছিলাম, কিন্তু ডিলিট খায়া গেছে। আজকে যা যা মনে আছে তা থেকে কিছু বলি...

আলোচনা করতে গেলে প্রথমে লেখার ক্যাটাগরি আলাদা করতে হবে। ভালো উপন্যাস যেভাবে লেখা যাবে, ভালো কবিতা সেভাবে লেখা যাবে না। স্টাইল ভিন্ন।
তবে সব লেখারই মূলমন্ত্র বোধহয় লেখকের সততা। এইটা একটা দারুণ ব্যাপার, ধরা যাক আপনি একটা উপন্যাস লেখবেন, একেবারে বানোয়াট একটা মিথ্যা বা কল্পিত গল্প। তো সেখানে সততা কোথা থেকে আসবে? এই বইয়ের সব চরিত্র এবং ঘটনা কাল্পনিক জেনেও যখন পাঠক এটাকেই খুব পছন্দ করবে লেখা হিসেবে। একটা বানোয়াট গল্পকে পাঠকের কাছে সত্য গল্প না বলে বা বিশ্বাসযোগ্য করার চেষ্টা না করে সেটাকে পাঠকের স্বপ্নের জায়গাতে নিয়ে যাওয়া। বাস্তবতার উর্ধ্বে উঠে পাঠক যে স্বপ্নে ভাসতে আকুল।
এগুলো মূলত গল্প উপন্যাসের ক্ষেত্রে।
এসব লেখায় কেউ কেউ মেলোড্রামা দিয়ে অন্য অনেক দূর্বলতা ঢেকে দেয়। অনেক লেখক কিছু টেকনিক কাজে লাগান। হুমায়ুন আহমেদ, মিলন, আনিসুল হকরা প্রত্যেকেই কিছু নির্দিস্ট টেকনিক বছরের পর বছর ব্যবহার করে চলেছেন।
কিন্তু হাসান আজীজুল হক বা আখতারুজ্জামান ইলিয়াসরা তা করেন না। তাদের টেকনিক ভিন্ন। দূর্বলতা ঢাকতে বা জনপ্রিয়তার উপাদানসমৃদ্ধ টেকনিক তারা দেন না। তারা লেখায় সত্ থাকেন। পাঠক নিলে নিলো না নিলে নিলো না।
পাঠক প্রকারভেদে লেখা পছন্দ করে। যার ইলিয়াস দরকার সে তাকেঁ পড়ে, যার হুমায়ুন দরকার সে হুমায়ুন পড়ে। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো পাঠকরেই ছোট ভাবতে রাজী না।
কবিতা নিয়া কিছু বলার নাই, আপনি নিজে কবি... নিজেই বিবেচনা করেন।

তথ্যমূলক লেখা, যেখানে যুক্তিপ্রধান থাকবে, সেখানে সততা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তবে এখানে আইডোলোজির ব্যাপারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য বা যুক্তিনির্ভর লেখার প্রধান তাড়না হইতেছে নিজের মতবাদ জাহির বা প্রতিষ্ঠা করা। একটা বিষয়ে আমি যা বলতে চাই, সেটা বলা। তখন লেখক সাধারণত নিজের মতবাদের পক্ষের ইনফর্মেশন আর যুক্তিগুলো নিয়েই কাজ করেন।
আমার নিজস্ব মতে এই ক্ষেত্রে শক্তিশালী লেখা সেটাই, যেখানে নিজের যুক্তি দেওনের আগে লেখক ভাবে প্রতিযুক্তি কী কী আসতে পারে, এবং তা খণ্ডানের পথ রাখলাম কী না লেখায়। কাগজে প্রকাশিত লেখাগুলো যেহেতু প্রশ্নর সম্মুখীন হয় কম, তাই এর লেখকরা এসব বিষয়ে উদাসীন থাকে বেশি। ব্লগ এর উত্তরণ ঘটাইতে পারবো মনে হয়।

আর এসব লেখা জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে লেখকের চেয়ে পাঠকের অবদান বেশি। আমরা আসলে সেই লেখাটাই পড়তে চাই যেই লেখার যুক্তিগুলো আমার নিজস্ব যুক্তির সঙ্গে মেলে। নইলে লেখকের চরণ বাঁকাই হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ পাঠকের মতবাদকে ধারণ করে যে লেখা, সেই লেখাই জনপ্রিয় হয়। তাতে ভুল যুক্তি থাকলেও।

অনেক কথা কয়া ফালাইলাম। ভুল হইলে শোধরায়েন।

আপনে এই সাধু ভাষায় লেখা শুরু করলেন কোন বিচারে?

১১

হাসান রায়হান's picture


জাভা কি বলে দেখি।

১২

ছায়ার আলো's picture


ইয়ে মানে অনেক জটিল বিষয় বস্তু নিয়া আলাপ আলচনা হচ্ছে...
ভয়ে ভয়ে একটা কমেন্ট কইরাই ফেললাম হেহে...

আমার মনে হয় কি, মানুষ ব্লগে আসে হাল্কার উপরে ঝাপ্সা কইরা কিছু লিখা পরা করতে। কন্টেন্ট বেশি ডিপ হইলে সেইটা মাথায় ঢুকার জন্য যেই মনোনিবেশ টা দরকার, অধিকাংশ সময় সেইটা থাকে না।
আমার যেইটা হয়, কখন এই লেখেটা পইরা আরেকজনের ব্লগে ফাল দিমু সেইটার চিন্তায় চিন্তায় বেশিরভাগ সময় পুরা লেখা না পইরা কোনোরকম চোখ বুলায়া যাই। আমার মনে হয় এইজন্যই গভীর লেখা গুলা মানুষ ব্লগে খায় কম।
আমি তো বেশি গুরুগম্ভির লেখা দেখলে চামে অন্য ব্লগে যাইগা ;)

১৩

হাসান রায়হান's picture


@ছায়ার আলো, এইটা শুধু ব্লগের না দুনিয়ার সব যায়গায় ই মানুষ হালকা, চটকদার জিনিসে মজা পায়। বেদের মেয়ে জোসনা সুপার হিট । আবার ওদিকে দেখো সূর‌য দীঘল বাড়ি দুই দিন পর হল থেকে নামায় ফেলে।

১৪

নরাধম's picture


 

নজরুল  ভাইয়ের কমেন্ট ভাল লেগেছে।

১৫

মীর's picture


পোস্ট আর নজু ভাইএর কমেন্ট প্রিয়তে।
পোস্টের কথাগুলোই আমার পেটের মধ্যে ছিলো, কিন্তু কোনদিন বের করতে পারি নি। আপনি এত আগেই যে বলে রেখেছেন জানলে পেটব্যথা অনেক কম হতো। Tongue out

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...