ডাইরী ৪০
কালকের রাতটা আমার কেরম উদ্ভট গেছে। বহুবছর বাদে কোন স্বপ্ন দেইখা আমি
এক্কেরে আক্ষরিক অর্থে ভয় পাইছি। কেরম অদ্ভুত সব মুখোশ পরা ভুতের মতোন
চরিত্র গুলি আসছে আর ভয় দেখাইছে। আর যারা বন্ধুবৎ ছিলো তারাও কেরম আচরণ
করতেছিলো...আমি টের পাইতেছিলাম স্বপ্নের গতিধারা কোন পথে
প্রবাহিত...কিন্তু কিছুতেই পাল্টাইতে পারতেছিলাম না। আর অনিশ্চয়তার দিকে
যাইতেছিলো সকল আকার। মুখোশগুলিও পাল্টাইতেছিলো ক্ষণেক্ষণে।
ছোটবেলায় ভয়ের স্বপ্নগুলি দেখলে কোত্থেইকা জানি মা আইসা উপস্থিত হইতেন। আর
আমি তার আঁচলে মুখ গুজতাম। কিন্তু কালকে আমি কারে জানি একবার কইলাম,
"এইবার আমি পলাইতে চাই...যেইখানে কোন সংকট নাই..."। মানে আমি বলতে
চাইতেছিলাম অচেনা এমন কোনখানে যাইতে চাই...যেইখানে তুমিও নাই...সবকিছুরে
সন্দেহ হইতেছিলো। রেস্তোরাঁর ওয়েটার থেইকা পানির গেলাস...সবকিছুরে...
দুঃস্বপ্ন আমি দেখি নাই এর মাঝে এইরম না। গতোকাল ছিলো ভৌতিক রাত। আজকের
কৃষ্ণা দ্বাদশীর চাঁদটার মতোন। কেরম ক্ষয়াটে। কেরম ঘোর লাগা। সিনিক্যাল
হইতেছিলাম। আর পলাইতে চাইতেছিলাম। কিন্তু কিভাবে পলাইয়া থাকা সম্ভব সেইটাও
বুঝতে পারতেছিলাম না। কাউরে বুঝাইতেও পারতেছিলাম না যে, আমার কোন
প্রত্যাশা নাই। এমন কি মুক্তির!
আমার সাধারণ স্বপ্নের কাহিনীতে অনেক জটিলতা থাকে প্রায়শঃ'ই। কিন্তু
ন্যারেটিভ একটা গল্প অন্তর্হিত থাকে। গতোকালের স্বপ্ন আসতেছিলো অযৌক্তিক
ধারাবাহিকতায়। রিপিটেশন হইতেছিলো একই ঘটনার। ভূত-ভবিষ্যত-বর্তমানের কোন
মা-বাপ ছিলো না। তবে সবচাইতে ভয় পাইতেছিলাম একটা খবরে...কোন একটা চিঠি
আসতেছে, যারে মনে হয় সমন বলা যায়...আমি বুঝতে পারতেছিলাম না কীসের সমন!
কিন্তু আশপাশের অপরিচিত মানুষদের জিজ্ঞাসিলে তারা হাসতেছিলো ইঙ্গিতময়তায়...
যাউগ্গা ভয়াল স্বপ্নের পর আজকে হঠাৎ রিচার্ড ফেইনম্যানের তিনটা লেকচারের
একটা প্রকাশনা পাইলাম হাতে...সংশয়বাদী এই পদার্থবিদের আলোচনার ভূমিকা
পইড়াই অনুবাদের খায়েশ জাগলো। কালকের স্বপ্নটা যে অনিশ্চয়তার ছিলো বারবার
তার কথা মনে পড়তেছিলো। ফেইনম্যানও মূলতঃ সন্দেহবাদী আর অনিশ্চয়তার
বিজ্ঞান, এই বিজ্ঞানের রাজনৈতিকতা আর ধার্মিকতার পরিভাষা এবং এইসবের
প্রভাবে সমাজ তার কাছে যেইরূপে ধরা দেয় তার ব্যখ্যা করতে চাইছেন। মজার
ব্যাপার হইলো তিনি এই বিষয় বাইছা নিছিলেন একটা তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার
সম্মেলনে বক্তৃতা দেওনের জন্য। যেইখানে উপস্থিত বিজ্ঞানীদের কাছে এই
বিষয়গুলিরে অপ্রয়োজনীয়'ই মনে হওয়ার কথা। কিন্তু ফেইনম্যান বইলা কথা...গত
শতকে তার চাইতে বিজ্ঞান নিয়া আর কয়জন ভাবছে!





রাত্রের ভয়ের স্বপ্ন দিনের বেলায় মনে পরলে আমার সব সময় হাসি পায়
আমারো...তয় গতোকালের স্বপ্নটা আমার হাস্যকর মনে হয় নাই কারণ ঘুমটা আসলে আধো আধো ছিলো...তন্দ্রার মধ্যে দেখা স্বপ্ন...
আমার স্বপ্ন বড় আজিব, দেখলাম আমার পাব্লিকের লগে একটা পুরান মালের দোকানে গেছি, সে খালি আমারে গুতায় একটা ভাঙ্গা টেবিল ফ্যান কিনার জন্য!!
মাঝে মাঝে স্বপ্নের মধ্যে বুঝতে পারি এটা স্বপ্ন, তাও চলতে থাকে... এইটাও আজিব লাগে
অনুবাদ শেষ হইলে ব্লগেও দিয়েন
আপনার দিনলিপি আমি চুপিসারে প্রায় পড়ি; সামুতে, ফেইসবুকে। আর মাঝে মাঝে তীব্র ইচ্ছে হয় নিজেই দিনলিপি লেখা শুরু করি!
গরমকালে ভয়ের স্বপ্ন দেখলে বিছানার চাদর মুড়ি দিই। ভয় কেটে যায়। শীতকালে সাধারণত ভয়ের স্বপ্ন দেখি না। কারণ কাঁথা অথবা লেপ গায়ে থাকেই।
নচিকেতার একটা গান ছিল
"যখন সময় থমকে দাড়ায়
নিরাশার বাহু দুহাত বাড়ায়
খুজে নিয়ে মন নির্জন কোন
কি আর করে তখন
স্বপ্ন স্বপ্ন স্বপ্ন ... স্বপ্ন দেখে মন"
ফেইনম্যান কবে ছাড়বেন?
আপনার লেখার ভক্ত সব সময়।
আমার দেখা সব বাজে স্বপ্ন সত্যি হয়
কোন ভালো স্বপ্ন হয় না
অনুবাদ পড়ার আশায় রইলাম
মন্তব্য করুন