ইউজার লগইন

বোতাম সংস্কৃতির বৈষম্য অথবা নারীর চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্য বিষয়ে কিছু ভাবনা...

ইন্টারভিউ বোর্ডে শার্টের দুইটা বোতাম খোলা রাইখা গেলো একজন ছেলে আর একজন মেয়ে। মেয়েটার চাকরী হইলো ছেলেটার হইলো না।

নিরীহ ভঙ্গীতে উপস্থাপিত একটা গল্প। প্রথমবার যখন পড়ছি আমি মজাটা ধইরা উঠতে পারি নাই। আমার প্রথম পাঠে বোতাম খোলা রাখার সিগনিফিকেন্সটা শুরুতেই কেনো জানি ধরা দেয় নাই। সম্ভবতঃ উপস্থাপন ভঙ্গীর সরলতা শুরুতেই গল্পের উদ্দেশ্যটারে বুঝতে দেয় না। গল্পটার গল্প হইয়া উঠবার আগে পাঠকের জন্য একটা ধাঁধাঁ তৈরী করে। পাঠকের দায়িত্ব এই অকথিত ধাঁধাঁময় বাস্তবতারে বুইঝা নেয়া। একজন পুরুষের ক্ষেত্রে শার্টের বোতাম খোলা রাখা আর একজন নারীর বেলায় বোতাম খোলা রাখার অর্থ যে এক না সেই বিষয়ক প্রচলিত বিবেচনারে ইঙ্গিত করা হইছে দুই লাইনের ধাঁধাঁময় গল্পে।

এখন এই বিবেচনারে যদি আমরা সামাজিক মানদণ্ডে বিচার করি তাইলে কি পাওয়া যায় সেইটা দেখা যাক। পুরুষরাই মূলতঃ শার্ট পরিধান করে, তারা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশে বোতাম বিশিষ্ট শার্টের প্রায় সব বোতামই আটকাইয়া রাখে; এমনকি কলারের নিকটবর্তী বোতামটাও আটকানো থাকে টাই পরার সৌজন্যতায়। প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশে একজন আধুনিক জমানার পুরুষ তার শরীর যতোটা সম্ভব ঢাইকা রাখে, এইটাই প্রাতিষ্ঠানিকতার ফ্যাশান; বাস্তবিক এইটা ফ্যাশান না বরং এইটা রীতি হিসাবেই গ্রহণ করা হইছে শিক্ষিত পুঁজির চলন নির্ভর শহুইরা পরিবেশের সাপেক্ষে। শরীর ঢাইকা রাখার এই রীতি একান্তই শহুইরা মেট্রোপলিটান কালচার। গ্রামীণ সংস্কৃতিতে বরং এখনো অধস্তনের শরীরে পোশাকের বাহুল্য না থাকাটাই সমিচীন বইলা ধইরা নেয়া হয়। গ্রামীণ পটভূমিতে এই রীতি মূলতঃ সামন্তীয় অবশেষ হিসাবেই বিদ্যমান আছে। সামন্তীয় সমাজে জমিদার বা রাজা'রা ভারী পোশাক পরতো। ভূমিদাসরা মূলতঃ প্রভূর নির্ধারিত পোশাক পরতো। এই পোশাকে কৃচ্ছ্রতা থাকতো। গরীবের আবার সৌন্দর্য্য কিম্বা ভব্যতা কিসের! তবে সামন্তীয় কাঠামোর বিপরীতে বুর্জোয়া সমাজ কাঠামো বেশ কিছু পরিবর্তনের বার্তা নিয়া শোষিত মানুষের কাছাকাছি পৌছাইতে পারছিলো। তারমধ্যে পোশাকের রুচীবোধ কিম্বা রুচীবোধের স্বাধীনতা একটা বড় বিষয় বা বিবেচনা। সামন্তীয় সমাজের স্টাইল বা রুচীর বিষয়টা সামন্তপ্রভূর নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে নিয়ে আসা হলো। যার যেরকম ইচ্ছা সেরকম পোশাক পরার স্বাধীনতার কথা বলা হইলো। বাস্তবিক পোশাকের রুচীবোধটা ছাইড়া দেয়া হইলো সামর্থ্যের বিবেচনায়।

বুর্জোয়া বা পুঁজিবাদি সমাজে মানুষের পছন্দ অনুযায়ী চলবার স্বাধীনতা আছে। শর্ত হইলো এই স্বাধীনতার বিনিময় মূল্য দেওনের সামর্থ্য থাকতে হইবো। তবে এই সমাজে স্বাধীনতার বিষয়টারে সামষ্টিকের সাপেক্ষেও বিবেচনা করা হয়। বুর্জোয়া বিপ্লবের মধ্য দিয়া সামন্তীয় কালের প্রভূর ভূখণ্ডভিত্তিক সীমানার বিলুপ্তি ঘটে, জাতি রাষ্ট্র গঠিত হয়। জাতিগত সংস্কৃতির রূপরেখা তৈরী করা হয়। তবে তত্ত্বে বিষয়টা এমন হইলেও প্রারম্ভিককালে বুর্জোয়া রাষ্ট্রগুলি ব্যবসার নামে প্রান্তিক রাষ্ট্রগুলিতে আসে বুর্জোয়াতন্ত্রের শুরুতেই। আর ব্যবসার বা বাজার সম্প্রসারনের এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত পর্যবসিত হয় উপনিবেশ তৈরীতে। আর এই সব উপনিবেশে জাতিগত সংস্কৃতির বিষয়টা ধীরে ধীরে গোজামিলের রীতি অনুযায়ী দাঁড়ায়। উপনিবেশে ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের প্রভূরা তাদের শাসন পরিচালনার সুবিধার্থে নিজের সংস্কৃতির প্রভাব বলয় তৈরী করতে সচেষ্ট হয়। ক্ষমতার অভ্যাস মতোন চাপাইয়া দেওয়ার বা মানদণ্ড নির্ধারনে ঔপনিবেশিক আচরণ বা চর্চাও এইসময়ে ভালোই দেখা যায় ইতিহাসে। মূলতঃ পশ্চিমা দেশগুলি এই উপনিবেশ তৈরী করে।

পশ্চিমের শিল্প বিপ্লব শুরু হইছিলো স্টীম ইঞ্জিন আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায়। আর এই শিল্প বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় তারা বাণিজ্যমুখী হয়। সামন্তপ্রথা থেইকা বুর্জোয়াতান্ত্রিকতায় উত্তোরণ যেই পরিবর্তন আনছিলো পশ্চিমা জীবনে তা হইলো ব্যক্তিতান্ত্রিকতার উত্থান। তারা কইতে শুরু করে ইন্ডিভিজ্যুয়াল ফ্রিডমের কথা...এই ফ্রিডমের মধ্য দিয়াই এরপর থেইকা সভ্যতার মাপকাঠি তৈরী হইছে। যদিও দুর্মুখেরা কয় এই ব্যক্তিতান্ত্রিকতার শুরু আসলে পুঁজির প্রয়োজনেই। পুঁজি তার নিজের প্রয়োজনমতো ক্রেতা বাড়ানের উদ্দেশ্যে এই দর্শনের উদ্ভব ঘটায়।

উপনিবেশের সংস্কৃতিতে পশ্চিমা ইনফ্লুয়েন্স এশিয়া-আফ্রিকার দেশগুলিরে আগাইয়া দিছে নাকি পিছাইছে তা এই আলোচনায় আসলেই অপ্রাসঙ্গিক হয়। কিন্তু এর মধ্য দিয়া একটা আধাখেচড়া শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে সবগুলি কলোনিতেই। এরা বিলাতে শিক্ষা আর সংস্কৃতির ট্রেনিং নেয়ার শেষে দেশে ফিরা উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে শুরু করে। বিশেষ কইরা ভারত উপমহাদেশে এই সম্প্রদায়ের নেতারা রীতিমতোন দাপাইয়া বেরাইছে। তারা আন্দোলনের কৌশল হিসাবে বিলাতি সংস্কৃতি বর্জন কইরা দেশীয় সংস্কৃতিরে আশকারা দিছে। কিন্তু বেশিরভাগ সময় বিদেশে কাটানো এই নেতাদের অস্থিমজ্জায় দেশীয় সংস্কৃতি আসলে কতোটা ছিলো সেইটা প্রশ্ন সাপেক্ষ। এই দলের সবচাইতে বড় উদাহরণ মহাত্মা গান্ধী আর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। পশ্চিমারা গান্ধীবাদরে আজো বিশ্ব শান্তির মটো হিসাবে উল্লেখ করে। যদিও নিজেরা চলে ক্ষমতার কন্সপিরেসী খেলায়। যাই হোক, ভারতীয় উপমহাদেশরে যদি আমরা একটা উদাহরণ বা আলোচনার বিষয় হিসাবে নেই তাইলে দেখতে পাবো যে এইখানে পশ্চিমাগো ব্যক্তিতান্ত্রিকতা ঢুকছে, পশ্চিমা সাংস্কৃতিক এক্সপ্রেশনগুলির প্র্যাক্টিস শুরু হইছে পুরাদমে। তবে পশ্চিমাগো অনুসরণের সাফল্য নির্ভর করে কার কতো টাকা আছে তার উপর। তাই দেশে দেশে যতো ধরনের অর্থনৈতিক শ্রেণী আছে ততোধরনের সাংস্কৃতিক এক্সপ্রেশন তৈরী হইতেছে।

আর দেশীয় সংস্কৃতির চাইতে পশ্চিমা সংস্কৃতিরে অ্যাসপিরেশন বইলা চালানো হইতেছে বেশি কারণ বিদেশী বণিকেরা দেশীয় বণিকগো চাইতে অধিক স্মার্ট ব্যবসায়ভিত্তিক সময়ের চর্চায়। পুঁজিতন্ত্রে ক্রেতাই ভগবান, পণ্য যা'ই হোক না কেনো কনজিউমার বাড়ানো বা টিকাইয়া রাখাতেই একজন বিনিয়োগকারীর ভবিষ্যত নির্ধারিত হয়। তবে এই অঞ্চলের মানুষরা যে আধাখেচড়া ভাবে বিষয়গুলি আত্মস্থ করছে কলোনিয়াল আমলে! তাই সবসময়েই উপমহাদেশ বিশেষ কইরা বাংলাদেশের মানুষরা পিছাইয়া পড়ে বিপনণ টেকনিকে। ক্যাপিটালিজমের ইন্ডিভিজ্যুয়ালিজম চক্কর যে কেবল বস্তু বা দ্রব্যরেই পণ্য বানাইছে এমন না। এখন একজন রিকসাওয়ালাও পণ্য, একজন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে চাকরী প্রার্থীও পণ্য, একজন বিবাহযোগ্য কন্যাও পণ্য, মহল্লার মাস্তানিতেও নিজেরে যে বেশি বেচতে পারে সে ততো বড় সন্ত্রাসী। আর তাই এখন বিউটি যেমন পণ্য, ভায়োলেন্সও তেমন ভাবেই বেচাবিক্রী হয়।

উন্নয়ণের পরিকল্পণায় পশ্চিমারা নিজেগো সুবিধা অনুযায়ী ক্ষমতারে বিকেন্দ্রীকরণ করছে। আর এই অঞ্চলের এককালের ঔপনিবেশিক দালাল রাজনীতিবিদেরা নিজেগো সুবিধা অনুযায়ী ক্ষমতারে আরো শহরমুখী করছে। তাই শহর আর শহরতলী আর গ্রামের মধ্যে কেবল অর্থনৈতিক পার্থক্য না, আচরণ-সংস্কৃতি এমন কি অ্যাম্বিশানেও পার্থক্য সূচীত হইছে। এর ফলস্বরূপ নিম্ন মধ্যবিত্ত শহুইরারা গতো শতকের আশির দশকের পশ্চিমা মানদণ্ড প্র্যাক্টিস করে। টাকার মানদণ্ডে মধ্যবিত্তরা মিনিমাম দশ বছর পিছাইয়া থাকে, এরজন্য টাকার সীমিত সামর্থ্য ছাড়াও স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি তাদের এক ধরনের ভালো লাগা বোধ কাজ করে, যেইটারে ট্যাবু বলা যায়। কেবল গুটিকতক ধনী সকাল-বিকাল লন্ডন আমেরিকা করতে করতে শিখে সঠিক নিয়মে পশ্চিমা কলা। পুঁজিপতিরা বুঝছিলো যে সামন্তপ্রভূরা অর্থনীতি ছাড়াও ভাষা-সংস্কৃতি-পোশাক-পরিচ্ছদে বৈষম্য টিকাইয়া রাখতো, তার জন্য তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সঞ্চার হইছে খুব সহজে। বুর্জোয়া বিপ্লবীরা এর সমাধান হিসাবেই সাধারণ মানুষরে যারা আগে ভূমিদাস অথবা প্রজা ছিলো তাদের অধিকারবোধ শিখাইছে, যদিও আধুনিক জাতিরাষ্ট্রগুলি তার নাগরিকগো প্রাপ্য অধিকারগুলি নিশ্চিত করতে পারে না। এইসব না পারা পারার বিভিন্ন প্রচেষ্টার প্রক্রিয়ায় তাই পুঁজিপতিরা সারফেইসে হাত দিতে চায়, এর অংশ বিবেচনাতেই তারা প্রাতিষ্ঠানিক পোশাকের বেইসিক গঠন কাঠামোতে সমতা আনার চেষ্টা করে। সফল পুঁজিপতি বা সেলিব্রেটিগো জীবনযাত্রারে আল্টিমেইট বইলা প্রচার দিয়া তাগো ব্যবহৃত সামগ্রীর রেপ্লিকারে ফ্যাশন হিসাবে বিবেচনা করে তারপর তার বিপনণ কইরা ব্যবসা করে। আর তাই আমাগো পিছাইয়া থাকা মিডলক্লাস গরমের দিনেও বসগো খুশি করতে স্যুট-কোট পইরা অফিসে অফিসে ঘোরে। টাইয়ের নট বানতে শিখে। চুলে জেল লাগায়।

ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় অনেক কিছু পাল্টাইয়া দিছে পশ্চিমা পুঁজিবাদ, আগে অন্তঃপুরে থাকা নারীরে তারা বাইরে বের করছে এখন, নারীরে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে গণ্য করছে, সামন্ত সমাজ পর্যন্ত যেইটা একেবারেই ছিলো না। পুঁজিতন্ত্রের উন্নয়ণমূলক ব্যবসা'য় কৃষিপণ্য-প্রক্রিয়াজাতকৃত দ্রব্য-প্রযুক্তি-তথ্য হইয়া এখন মানুষের শরীরও উপকরণ হিসাবে গৃহীত হইছে। মানুষের আয়-ব্যয়ের প্রকৃতি পাল্টাইছে, এখন একজন মানুষ টাকা থাকলেই অনেক চাহিদা মিটাইতে পারে। এতোকিছু পাল্টানোর পরেও কিন্তু দুইটা বেইসিক সিগনিফিকেন্স একেবারেই পাল্টায় নাই বলা যায়। এক: আগে মানুষের ইচ্ছানির্ভর স্ট্যান্ডার্ড তৈরী হইতো প্রভূর ইচ্ছায় আর এখন এই প্রভূর জায়গা দখল করছে মিডিয়া। মিডিয়া তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবসা দিয়া এমনকি এই বছর একজন এক্সিকিউটিভরে কোন রঙের টাই পরতে হইবো সেইটাও হয়তো ঠিক কইরা দেয় (আর এই সুযোগে টাই ব্যবসায়ি ঠিক করে তার ব্যবসার কৌশল)। দুই: একটা নির্দিষ্ট সমাজের নিয়ন্ত্রক ছিলো একজন প্রভূরূপী পুরুষ, আর বুর্জোয়া পরিবর্তনের পর এখনো পুরুষের নিয়ন্ত্রণেই সব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, কেবল তাদের সংখ্যা বাড়ছে বা বাড়তেছে। নারীদেরকেও পুরুষের আচরণমতো চলতে হয়। অনেক জায়গায় নারীদের চলতে হয় পুরুষের কোরিওগ্রাফেই। ধর্মগ্রন্থ থেইকা চটিবই পর্যন্ত সব হয় পুরুষেরা লিখে নাইলে পুরুষের সুবিধা আর রুচীবোধ অনুযায়ী লেখা হয়। ক্ষমতার রুচীবোধ, শাস্তির ধরণ, রোমান্টিকতা, আদরের ব্যাকরণ সবকিছু পুরুষের চাহিদা অনুযায়ী তৈরী হয়।

পুরুষ তাই প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশে নিজের শরীর ঢাকনের সিদ্ধান্ত নেয়। যাতে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা কইমা আসে পোশাকে-পরিচ্ছদে। অনেকে হয়তো পেশীর বাহুল্য তৈরী করে পৌরুষের প্রতীক হিসাবে কিন্তু তারে নগ্ন রাখনের বিধান নাই ভদ্র সমাজে। তাই পুরুষের বোতাম আটকানোটাই রীতি হইয়া উঠে। প্রাতিষ্ঠানিক এনভায়রনমেন্টে বোতাম খোলা রাখার নজীর ঔদ্ধত্য অথবা নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক হয়। আর উল্টাদিকে এই পুরুষই নারীর ক্ষেত্রে ডিসিশন নেয় ভিন্নরকম। নারীর শরীরের উন্মুক্ত অংশ তার দেখতে ভালো লাগে বিধায় তার পরিচ্ছদের খুল্লাম খুল্লা প্যাটার্ন স্মার্টনেসের নমূণা হয়; সামাজিক সম্পর্কের রাজনীতিতে পুরুষ ফ্যান্টাসাইজ করতে ভালোবাসে যে, নারী তার শরীরের বিনিময়ে পুরুষের ফেইভার নিতে চাইবো। এই সময়ে টাইয়ের নটে পুরুষ যেই খানে তার কলারবোন ঢাকে, সেইসময় নারীর জন্য লো কাট ব্লাউজরে ফ্যাশন হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। পুরুষের জন্য রাখঢাকের ব্লেজার হইলো অ্যাসপিরেশন, নারীর জন্য অ্যাসপিরেশন লেভেল তৈরী করা হয় ক্লিভেজ দেখাইয়া হাটতে পারার স্বাধীনতায়।


ইন্টারভিউ বোর্ডে শার্টের দুইটা বোতাম খোলা রাইখা গেলো একজন ছেলে আর একজন মেয়ে। মেয়েটার চাকরী হইলো ছেলেটার হইলো না।

এই দুই বাক্যের গল্পটারে আমরা কোন মর্তবায় পড়তে চাই? পুঁজি আর পুরুষতন্ত্রের বঞ্চনা আর বৈষম্যমূলকতায়? নারীর আধুনিকতার রূপকল্পে? নাকি তার ম্যানিপ্যুলেটিভ চরিত্রের প্রকাশে? ইন্টারভিউ বোর্ডের সকল সদস্য কি পুরুষ ছিলো? যদি তাই হয় তাদের লালসা কি এইখানে গুরুত্বপূর্ণ? বোতাম খোলা রাখার বিষয়টা কি নারীর জন্য অবমাননাকর? পণ্য মানসিকতার এই সমাজে একজন বোতাম বন্ধ রাখা পুরুষও তো বাস্তবিক নিজেরে চাহিদা মতোন সাজাইতে চায়...

কিন্তু বাস্তবতা হইলো এই দুই বাক্যের গল্পটা আসলে একটা হাস্যরসাত্মক গল্প। এইখানে নারীর শরীরের উন্মুক্ত অংশ দেখার এবং দেখানের বাসনারে নিয়া একটা ট্র্যাজেডি তৈরী হইছে ঐ শার্টের বোতাম খোলা পুরুষের জন্য। একই যাত্রায় ভিন্ন ফলের কারনে পাঠকের বা শ্রোতার পুরুষটার প্রতি করুণা তৈরী হবে। আর এই করুণাতেই শ্লেষ আর কৌতুকটা লুকানো থাকে।


এই গল্প সেক্সিস্ট হয় কীনা সেইটা যদি বিবেচনা করতে চাই তাইলে কেমন হয়?

এই গল্প যদি একজন নারীও লেইখা থাকে তবু এইখানে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতিফলন আছে পুরামাত্রায়। হইতে পারে এইখানে পুরুষের লালসা কেন্দ্রীক বিচার বোধরে কটাক্ষ করা হইছে, হইতে পারে বঞ্চিত পুরুষের মনোকষ্ট বুঝাইতে এই গল্পের অবতারণা, হইতে পারে এই গল্প কোনো বোতাম কোম্পানীর বা কোনো নতুন ব্র্যান্ডের শার্ট কোম্পানীর পক্ষ থেইকা পুরুষের প্রাতিষ্ঠানিক পোষাক নিয়া স্যাটায়ার, গল্পের উদ্দেশ্যের সাথে ভারকেন্দ্র বা প্রোটাগনিস্ট পাল্টায় খালি, কিন্তু নারী চরিত্রটার উপস্থিতি এইখানে ভিলেইন হিসাবেই থাকে। নারীরে এইখানে মনোরঞ্জনের উপকরণ হিসাবেই উপস্থাপণ করা হয়। বোতাম খুইলা নারী এইখানে সুবিধাভোগী হয়। নারী এখনো এই সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হিসাবে স্বীকৃত, ধইরাই নেয়া হয় যে নারীর মেধার বিকাশ পুরুষের তুলনায় কম হয়, যোগ্যতা হিসাবে বুদ্ধিমত্তার চাইতে নারীর শরীর এখনো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমন একটা বাস্তবতায় এই কটাক্ষ নারীরে হেয় করার উদ্দেশ্যেই লেখা হয়। আর এই কটাক্ষ পুরুষের দৃষ্টিকোন থেইকাই করা হয়। হইতে পারে এই পুরুষ বঞ্চিত, হইতে পারে প্রোটাগনিস্ট ইন্টারভিউ বোর্ডের পুরুষরা ক্ষমতার মানুষ, তাদের লালসা আছে...কিন্তু বোতাম খুইলা ঐ নারী তাদের প্রলুব্ধ করছে। এই অ্যাপ্রোচে নারীর উপর চাপাইয়া দেয়া চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বা প্যাটার্নরে জেনারেলাইজ করার চেষ্টাটা স্পষ্ট।

যাই হোক, এমন গল্প এই সমাজে আনন্দের উপলক্ষ্য তৈরী করতেই রচিত হয়। আর এই আনন্দের ভাগীদার কেবল একজন পুরুষ অথবা বোতাম খোলার অ্যাসপিরেশন সমর্থন করে না এমন নারী হইতে পারে। এইবার আমি একটা গল্প উল্লেখ করি,

হযরত মুহাম্মদের স্ত্রী বিবি আয়েশা ধর্মযুদ্ধে অংশ নিতেন, তখনো আল্লাহ'র তরফ থেইকা নারী আর পুরুষের জন্য আলাদা কোনো বিধান আরোপ করা হয় নাই। এমন একদিনে মুহাম্মদ চলার পথে শুনতে পাইলেন তার সাহাবারা বিবি আয়েশার শরীর নিয়া আলোচনা করতেছেন। হযরত মুহাম্মদ বিষয়টা নিয়া ভাবিত হইলেন। তার ভাবনার ধারাবাহিকতায়ই ঈশ্বর এই সমস্যার সমাধান দিলেন। পবিত্র কোরআনে নারীর পর্দা বিষয়ক অংশটি নাজেল হইলো। বিবি আয়েশার কোনো অসদুদ্দেশ্য ছিলো না। তিনি স্বাভাবিক নিয়মেই যুদ্ধে যাইতেন...সেই ঘটনা পর্যন্ত তার ভূমিকার বেশ খ্যাতিও তৈরী হইতেছিলো। কিন্তু আল্লাহ এবং নবী মুহাম্মদের সমাধানে নারী অন্তঃপুরে গেলো পুরুষের অপরাধে।

ডিসক্লেইমার: কোনো উদ্দেশ্য নিয়া এই পোস্টের অবতারণা হয় নাই। তবে শওকত মাসুম ভাইয়ের উপস্থাপিত গল্পটা পড়ার পর মনে হইলো প্রচলিত এই ধারার গল্পের বিকল্প পঠন করা যাইতে পারে। আমি কোনোভাবেই কাওরে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে চাই না, কেউ আপত্তি জানাইলে সাথে সাথে এই লেখা মুইছা ফেলা হবে।

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


ভাস্করদা' বিষয়টার উপ্রে নতুনভাবে আলোকপাত করসেন এইজন্য আপনারে ধইন্যাপাতা। যদিও আপনে এই কৌতুক সমর্থন করলেন না কি করলেন না, সেটা আমি নিশ্চিত হইতে পারি নাই। আমারটা কই।
আমি ওই কৌতুক মনে হয় অনেক ডাইনোসরের আমল থেকে জানি। কখনো এই কৌতুক আমার পুরুষ সত্তাকে জাগায় তুলতে সফল হয় নাই। ওই খোলা বোতামের শার্ট পড়া নারীরে ভিজ্যুয়ালাইজ করার চেষ্টা কৈরাও দেখলাম। লাভ হইলো না; কারণ শেষ বিচারে এটা একটা কৌতুকই, যেখানে আছে ছোট্ট একটা পাঞ্চ লাইন। কেউ আগে না শুনে থাকলে, তার হয়তো একটু মৃদু হাসি পেতে পারে। ব্যস্। এর আর কোনো ফজিলত নাই। এবং এই গল্পটারে আমি কোনোমতেই সেক্সিস্ট হিসেবে মানতে রাজি না।
বরং আমার আরো যে কথাটা মনে হয়, ছেলে-মেয়ে কেমনে কি পড়বে সেটা তার নিজস্ব ব্যপার। এইটা নিয়া উত্তেজিত হওয়া অসুস্থতার লক্ষণ। মুল্লাহ্>মোল্লা'রা হয় বৈলাই দুনিয়ার নানা দেশে নানারকমের ঝামেলা চলতেসে। সেইসব জায়গাগুলাতেই নারীর অধিকার স্বীকার করা হয় সবচে' কম। একইভাবে এর উল্টাকারণে উত্তেজিত হইতে দেখলেও বিরক্ত লাগে।
প্রশ্ন হইতে পারে, তাইলে নারীর পোশাক নিয়া কৌতুক করতেসি ক্যান? কারণ কৌতুক বড় নির্দোষ বিনোদনের ব্যপার। ওই যে বললাম না, ছোট্ট পাঞ্চ লাইন। এইরাম অনেক পাঞ্চ লাইন থাকে পুরুষদেরকে নিয়া। আরো অনেক অনেক প্রজাতি-জাতি-ধর্ম-পেশা-এলাকা নিয়া। ভেড়াটাইপ স্বোয়ামী কেমনে চালাক-চতুর স্ত্রী'র কাছে নাজেহাল হয় সেইসব নিয়া। সো একটা ছোট কৌতুকরে, কৌতুক হিসাবে দেখা এবং কৌতুক হিসাবে সমর্থন করাই আমার কাছে সমিচীন মুনয়।
আর আমি নিজের ব্যপারে কিছুটা রিজার্ভ। এই কৌতুক নিয়া যদি বন্ধু-বান্ধব আইসা আমারে প্রশ্ন ছোঁড়া শুরু করতো- ইরাম কৌতুক কেন কৈলা? ইসব কথা ভালো না। ইসব কথায় নারীজাতিরে ছোট করা হইসে- তাইলে আমি তার কাছে মাপও চাইতাম, দোয়াও চাইতাম। আর বোনাস হিসাবে ১০০ গজ দুরত্বভি চাইতাম। কারণ এত সহজে কোনো জাতিরে সম্মান বঞ্চিত করা যায়, এই ফরমান আমি মানতে রাজি না।
অবশ্য এর মানে এই না যে, আমি সেই বন্ধুর অনুভূতিরে খাটো করতেসি। তয় আমার সামান্য কৌতুক নিয়া লাফ দিয়া পড়ার আগে (যদি কেউ আমারে প্রশ্ন যেগুলা আমি উপ্রে লিখসি সেগুলা করতো, তাইলে আমি সেইটা লাফ দিয়া পড়া হিসাবেই গুণতাম) তারও বিষয়টা একটু ভাবনের দরকার আছিলো না? কি কন?

তানবীরা's picture


পুরাই পুরুষ লেখা আর কমেনট Laughing out loud

সুশিলত বটেই। । পুরুষরা সব পুরুষের পখখ ধরবে স্বাভাবিক Big smile

মাসুম ভাই গলপটা মাসুমিয় ভাবেই দিছে, তার নিয়ত নিয়ে কেউ সনদেহ পরকাশ করে নাই। এখন ত্যানা প্যাচা^ন দেখে নতুন করে সনদেহ হইতেছে Wink Tongue

মীর's picture


এইটা তানবীরা'প্পুর একটা চাল। ফার্স্টে আস্তে করে ঢাকে একটা বাড়ি দিয়ে সরে পড়ে। এমনকি নিজের অবস্থানটা পুরাপুরি যে ক্লিয়ার করলো, এমনও না। এই সাপোর্টে অনেকে তেজী হয়ে উঠলেও উঠতে পারে। আ'ম নট শিওর। বাড়ি দেয়ার কথাটা বললাম, কারণ আপনে যদি মনে করেন, অল্প দু'এক লাইনে পুরা কথাটা আপনে বুঝাইতে পারসেন, তাইলে আমি বলবো আপনার ধারণা ভুল।
আর সুশীল ট্যাগিংটা যথাযথ হয় নাই। যদি বলতেন চাঁছাছোলা চাষা কমেন্ত তাইলে হইতো। Big smile
সুশীল কমেন্তে পয়লা সমর্থন আপনেই দিছিলেন, যতদূর মনে পড়ে।

কিছু বলার নাই's picture


মীর, বন্ধু বইলাই তার সবকিছু আমার ভাল লাগতে হবে, অন্ধ সাপোর্ট দিয়া যাইতে হবে, সেক্সিস্ট জোকরে জায়েজ করতে উইঠা পইড়া লাগতে হবে, এই ব্যাপারটার মধ্যে আমি নাই। তাই আপনের বক্তব্য ভাল্লগলোনা। রেইসিস্ট জোক-ও দুইন্নাতে কয়েকশ বছর ধইরা চালু আছে, আজকে যদি আমি কালো মেয়েরে নিয়া কোন হাসির গল্প বলি আর এই যুক্তি দেই যে ব্যক্তিগত জীবনে আমি রেইসিস্ট না এইটা সবাই জানে, গল্পটা অনেককাল আগে থেকে প্রচলিত, সাদা চামড়ার মেয়েদের নিয়েও অনেক রকম জোক আছে, তাই এই গল্পে রেইসিস্ট এলিমেন্ট খোঁজাটা বোকামী, তাইলে ক্যামন হবে? বন্ধুর কোন কিছু ভাল না লাগলে সেইটা সরাসরি বলাই ভাল। এখন সে আমার ওপিনিয়ন রেস্পেক্ট করল নাকি আমারে দূরে গিয়া মরতে কইল এইটা তার ব্যাপার।

মীর's picture


আপনেই কৈলেন; কালো মাইয়ারে নিয়া গল্প আছে, আবার সাদা মাইয়ারে নিয়াও গল্প আছে। তো তাইলে নির্দোষ গল্পগুলায় রঙ খোঁজাখুজি কি বোকামী না? আপনেই বলেন। সুতরাং আপনের সব যুক্তিই কি পরাস্ত কি না, তাও আপনিই বলেন।

কিছু বলার নাই's picture


'নির্দোষ গল্প'! মীর আপনের সাথে এই বিষয়ে তর্ক করতে যাওয়াটা অর্থহীন প্রমান করলেন। ভাল থাইকেন।

ভাস্কর's picture


এক.
পক্ষ-বিপক্ষ ছাড়া কোনো অবস্থান ভাবতে না পারার ব্লগীয় রোগটা আজকাল অসহ্য লাগে।

দুই.
ডাইনোসর আমল থেইকাই পুরুষ তার পৌরুষত্ব দেখাইয়া আসতেছে নারীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়া। সুতরাং আপনে সেইটা তখন থেইকাই জানতে পারেন।

তিন.
সেক্সিস্ট অভীধাটা পর্নগ্রাফির লগে গুলাইয়া ফেললে তো হইবো না। সেক্সিস্ট হইলো একটা অ্যাটিটিউড। পুরুষরা তার নিজের হেজিমনি রাইখা যখন নারীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়া কোনোকিছু আরোপ করে তখন সেই অ্যাটিটিউডটারে সেক্সিস্ট বলা যায়। এইটা সবলের ইন্টারপ্রিটেশনগত ঝামেলা। আপনের উত্তেজনা তৈরী হওয়া না হওয়ার সাথে তার কোনো সম্পর্ক নাই।

চার.
মোল্লারা উত্তেজিত হয় কারণ তারাও সেক্সিস্ট অ্যাটিটিউড ধারণ করে। ঠিক যেমন কইরা এই কৌতুকের রচনাকারীও হয়তো একজন মেইল শভিনিস্ট।

পাঁচ.
কৌতুক কখনোই নির্দোষ হয় না। যে কোনো কমেডির সাথেই কোনো না কোনো মাত্রায় একটা ট্রাজেডি'র যোগ থাকে। মানুষ ভুল বললে আমরা হাসি, মানুষের এলোমেলো আচরণ দেখলে বা শুনলে আমরা হাসি। অসংলগ্নতা দেখলে বা বুঝতে পারলে আমরা হাসি। এই কৌতুকে যেমন মেয়েটার ম্যানিপ্যুলেটিভ অ্যাটিটিউডের কারনে আমাদের চাকরী না হওয়া বোতাম খোলা ছেলেটারে বেকুব মনে হয় বইলা আমরা হাসি। খুব বেশি ক্ষতি হওয়া না হওয়া দিয়া আমরা কোনো কৌতুকে হাসি, কোনো কৌতুকে বিরক্ত বোধ করি...

ছয়.
একজন পুরুষরে ভেড়াটাইপ কইলে আপনার হাসি পায় কারণ পুরুষরে সিংহটাইপ হইতে হইবো বইলা একটা ধারণা আপনি পোষণ করেন। আর এই অ্যাটিটিউডটাও সেক্সিস্ট। পুরুষের পৌরুষ ধারণাটা আসে মেইল শভিনিজমের বাই প্রডাক্ট হিসাবেই...

সাত.
এই কৌতুকের কারনে একজন নারীর হয়তো তাৎক্ষণিক ক্ষতি হয় না। কোনো ইন্ডিভিজ্যুয়ালের সম্মানহানি হয় না। কিন্তু নারীর প্রতি একজন পুরুষের অশ্রদ্ধা প্রকাশ পায়। এই অশ্রদ্ধার সাথে আমি একজন মোল্লার কনজারভেটিভ ধর্মীয় মতাদর্শের কোনো পার্থক্য দেখি না।

আট.
বন্ধুরে কী ভাবনের দায়িত্ব দিলেন সেইটা বুঝলাম না। একজন আপনের বলা কৌতুকের ভিন্ন অর্থ করলে আপনে তার সাথে দূরত্ব তৈরী কইরা ফেলার চিন্তা করতে পারেন...আর বন্ধু একটা কৌতুকে (?) সম্মানহানি বোধ করার অধিকার রাখে না!? সম্মানের মালিকানা কেবল আপনের? এইরম স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন ওয়ালা সম্পর্ক মেইনটেইন করতে চাইলে আপনেরে আমি খুব ভালো বন্ধু হিসাবে অন্ততঃ জানুম না। যেকোনো ধরনের মতামত শেয়ার করার মানসিকতা না থাকলে কীসের বন্ধুত্ব!?

মীর's picture


আপনে যে নিজের কেবলই নিরপেক্ষ অবস্থান ব্যাখ্যার জন্য ইয়া সাইজের পোস্ট দিছেন, সেইটা বুঝাইয়া কইলে আমি হয়তো আলাপেই যাইতাম না। বুঝতে খালি আমার একার ভুল হইসে এমন না। অনেকে এই পোস্টরেও পুরুষতান্ত্রিক পোস্ট মনে করতেসে। খেয়াল করলে পাবেন।
যাউক, সেক্সিস্ট অভিধা পর্ণগ্রাফীর লগে গুলাই নাই। আপনের কেন মনে হইলো কে জানে! আপনের কমেন্ত পইড়া নেটে ঘুতালাম। অজ্ঞানের জ্ঞান খুবই সীমিত। তদুপরি দেখলাম যে না, সেক্সিস্ট মূলত কোনো কিছুর সঙ্গে সুড়সুড়ি জুড়ে দেয়াকে বোঝানোর চেষ্টাকেই বলা হয়। তো এই কৌতুকে আমি কোনো সুড়সুড়ি পাই নাই।
মোল্লাদের কথাটাও একটু বলি। আপনার কথানুযায়ী; মোল্লারা দ্রুত উত্তেজিত হয়, তাই তারা সেক্সিস্ট। এই কৌতুকতো কাউকে উত্তেজিত করার জন্য না। তাই না? আপনের ভাষ্যমতে এইটা এক বিশেষ জাতির প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশের উদ্দেশ্যে নির্মিত। তাইলে এই কৌতুক কিভাবে সেক্সিস্ট হয়?
আর অশ্রদ্ধা সম্পর্কে আপনার আর আমার ধারণা ভিন্ন। সর্বোপরি আমার ব্যপারে একটা ধারণা নিজে থেকে করে না বসাটা বোধহয় উত্তম হবে। ওই স্ট্যান্ডার্ডাজাইশেন-ফাইজেশন কি কি বললেন সেইজন্য এ কথাটা বললাম। আমার কাছে মনে হয় না, যুগ যুগ ধরে নারীকে যে পুরুষেরা সম্মান করতে জানে নি, তারা একটা কৌতুক ব্যান করে সে সম্মান দিতে পারবে। নারীরাও তাতে সম্মানিত হবে।
সম্মান জিনিসটাকে নিজের ভেতরে লালন করতে হয়। খেয়াল করে থাকবেন হয়তো আমি কিন্তু প্রচুর আবজাব লিখি আর লিখতেই থাকি। সেখানে কোথাও নারীকে অসম্মান করে কোনো শব্দ বা বাক্য ব্যবহার হয় না।
কিন্তু কৌতুকটাকে আমি কৌতুকের জায়গা থেকে নিতে পারি। অসুবিধা হয় না। পাঞ্চ লাইনটা হাসির হলে একটু হাসবো, নাইলে নাই। বন্ধুত্ব বেশি হলে হয়তো জানতে চাইবো, এইটা কি কৌতুক? এখন কি হাসতে হবে? কিন্তু এই একটা কৌতুকের মধ্যে অন্যকিছুর গন্ধ খোঁজার চেষ্টা করা এবং আমারই বন্ধুকে আমাকে অজ্ঞাতসারে লৈঙ্গিক বৈষম্য পান করাচ্ছেন- এমন ভাবতে রাজি নই।
আর পুরুষের ভেড়াটাইপ-সিংহটাইপ বিষয়টাও ভুলভাবে বুঝছেন। কারণ আমি পুরুষকে কেমন হইতে হবে- সে ব্যপারে এখনো কোথাও কিছু বলি নাই। আমি শুধুই একটা কৌতুকুদাহরণ হিসেবে ওই লাইনটা লিখেছি। সেটার বদলে ওখানে পাঞ্জাবীদের ব্যপারে প্রচলিত কৌতুকগুলোর কথাও উল্লেখ করতে পারতাম।

ভাস্কর's picture


১.
আপনে কোন নেটে ঘোরাঘুরি করছেন সেইটা জানি না কিন্তু সেক্সিস্ট শব্দের শ'খানেক ডেফিনিশন পাইবেন সঠিক বানানে গুগল সার্চ করলে। এই বিষয়ে উইকি এন্ট্রিও আছে। আপনের যদি খুঁইজা নিতে কষ্ট লাগে তাই সংজ্ঞাটা তুইলা দিলাম,

A person who discriminates on grounds of sex; someone who practises sexism; Unfairly discriminatory against one sex in favour of the other

২.
মীর আপনি কৌতুক করার চেষ্টা করতেছেন কীনা বুঝতেছি না, নিজের কথা আমার মুখে বসাইতেছেন দেইখা আমার হাসি পায় নাই, আমি বিরক্ত হইতেছি। মোল্লাদের দ্রুত উত্তেজিত হওনের কথা আমি কই নাই। সেক্সিস্ট অ্যাটিটিউডের কারনে তাদের উত্তেজিত হওনের কথা কইছিলাম। সেক্সিস্ট অ্যাটিটিউড থাকলে কেবল উত্তেজিতই হওয়া যাবে এমন কইরা ভাবতে চাইলে আমার কিছু বলার নাই, আপনি কূটতর্ক করতেছেন। আপনের লেখায় উত্তেজনা কইতে কি বুঝাইতেছেন সেই বিষয়ে আমি একটু সন্দিহান হইতেছি।

৩.
কি করলে সম্মান দেয়া হবে সেইটা ভিন্ন বিষয়, অশ্রদ্ধা প্রকাশের মেইল শভিনিস্ট এক্সপ্রেশান কেবল সম্মান দেয়া নেয়ার বিষয় না এইটা না বোঝার তুমুল চেষ্টারে এইবার আমার কৌতুককরই লাগলো।

৪.
আপনি নিজের লেখাতে নারীর প্রতি কতোটা অসম্মান কিম্বা সম্মান বজায় রাখেন সেইটা এই আলোচনার সাথে অপ্রাসঙ্গিক।

৫.
কৌতুকরে আপনে কৌতুক হিসাবে নিতে পারেন কি পারেন না সেইটা এই আলোচনার উদ্দেশ্য ছিলো কীনা আমার জানা নাই। আপনার মা'রে নিয়া যদি কেউ কোনো সেক্সিস্ট কৌতুক করে সেইটারে কিভাবে নিবেন আপনি? মায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা নাকি একটি যেকোনো কৌতুক?

৬.
ভেড়াপুরুষ শব্দটা দিয়া যখন আপনি একজন পুরুষরে ডিমীন কইরা কৌতুক করেন তখন আসলে সাবটেক্সটে পুরুষরে সিংহ হইতে হইবো এমন প্রত্যাশাই থাকে। পাঞ্জাবীদের নিয়া যেইসব কৌতুক প্রচলিত আছে সেইসবের অনেক্ষানিই রেইসিস্ট অ্যাটিটিউডের দোষে দুষ্ট। যেইটা ইংলিশরা করে আইরিশদের নিয়া।

১০

মীর's picture


সামওয়ান হু প্র্যাকটিস সেক্সিজম- সেইটাই আমি বাংলায় লিখছি। একটু বোধহয় ভাবানুবাদ হয়ে গেছে। তবুও সুড়সুড়ি জুড়ে দেয়ার চেষ্টা আর সেক্সিজম চর্চা একই মনে হয় আমার কাছে। যাক নেটের ঘুতাইসি মানেই এই জায়গাগুলাতে গেছি, তাই না? নেটে ঘুতালে সবাই এইসব জায়গাতেই যায়। তাই প্রথমবার লিংক তুলে দেয়ার মতো অভদ্রতাতে যাই নাই।
আমার কথা না; আপনে বললেন, মোল্লারা উত্তেজিত হয় কারণ তারাও সেক্সিস্ট অ্যাটিটিউড ধারণ করে। সেইটাকে আমি ডিফাইন করলাম। আর তো কিছু দেখি না। সর্বোপরি মোল্লাদের আলোচনাটা এত টানার দরকার আসলে আছে কি না, বুঝতেসি না।
হ্যা ভাই, সম্মানকে ভেতর থেকে লালন করলেই সম্মান দেয়া হবে। তখন আপনের কাজে-কর্মে-কথায়-চলনে-বলনে সম্মান প্রকাশ পাবে। একটা জিনিস ভেতর থেকে না আসলে তো আর কোনভাবেই সেটা স্বতঃস্ফূর্ত হয় না, তাই না?
৬ নম্বরে বোধহয় নিজের ভুল বুঝার কথাটা ঘুরায়-ফিরায় বলে গেলেন। না বললেও নাই। ম্যান আমার কথা হচ্ছে, কোনোকিছুতেই সমস্যা নাই। আপনের আমার সঙ্গে দ্বিমত আছে? সো কুল। আমিও সেইটা নিয়ে একসঙ্গে থাকতে অসুবিধা বোধ করি না।
কিন্তু চট করে আপনে ৫ নম্বরে যে, আমার মা'কে এড্রেস করে একটা কথা লিখলেন, সেই যে কাজটা কেন করলেন- এটার একটা যৌক্তিক ব্যাখ্যা দাবি করতে পারি কি? আলতু-ফালতু বক্তব্য ও ঘোর-প্যাঁচ না দিয়ে স্ট্রেইট আমাকে বলবেন, আপনের সঙ্গে কথার কোথাও এভাবে আপনার মা'কে নিয়ে টান দিয়েছি? এক বছরের বেশি সময় একসঙ্গে ব্লগিং করতেসি, আপনার এ কথাটা টাইপ করার আগে অবশ্যই বিষয়টা একবার চিন্তা করা লাগতো। তাই না মিস্টার?

১১

তানবীরা's picture


Amar mone hocche jothesto hoyeche. Amra nijederke sobai adault ar friend
Hishebe dabi kori kintu kono alochona cool rakhte pari na. Byakti ar bishoy
Ek bepar na. Sobkichu personally niye jhogra kora ekhon amader national
Habbit hoye geche.

Hath jor korchi, pl, sobai thamen. Jar ja bolar tato bola hoyee geche.

১২

ভাস্কর's picture


১.
আপনের ইংরেজী বোঝার ঘাটতির কারনে আপনি আমার জানা বিষয়টারে চ্যালেঞ্জ করার মতোন মহান দায়িত্ব নিয়া ফেলছেন দেইখা এখন এই আলোচনাটারেও একটা কৌতুক মনে হইতাছে। আপনের কাছে একটা শব্দরে কি মনে হয় সেইটা দিয়া তো আর শব্দের অর্থ দাঁড়ায় না...শব্দের অর্থ তার নিজের জায়গাতেই থাকে।

২.
মোল্লা প্রসঙ্গটা আমি আমার পোস্টে ব্যবহার করি নাই বেশ সচেতন ভাবেই কারণ ঐভাবে এলিগেশন আনাটাও একধরনের রেইসিজমের আওতায় পড়ে। আপনি আপনার প্রথম মন্তব্যে মোল্লা প্রসঙ্গটা তুলছেন বইলাই আমি মোল্লাদের উত্তেজনাতে সেক্সিজম কিভাবে এক্সিস্ট করে সেইটা বলার চেষ্টা করছি।

৩.
সম্মান শব্দটা আমার মূল পোস্টের বক্তব্যের সাথে যায় না। যেই কারনে আমি অশ্রদ্ধা শব্দটা ব্যবহার করছি। সেক্সিস্ট একটা কৌতুক নারীর প্রতি পুরুষের অশ্রদ্ধার বিষয়টাই ক্যারী করে। সম্মান দেওয়ার মনে হয় কোনো দরকার নাই, অশ্রদ্ধা প্রকাশ না করলেও নারীরা বাঁচে।

৪.
আমি না বুইঝা কইলাম নাকি আপনে আমার সাবটেক্সট সংক্রান্ত বক্তব্য ধরতে পারলেন না? সাবটেক্সটের সংজ্ঞাও ইন্টারনেট গুতাইলে পাইয়া যাইবেন আশা করি। তবে বিরোধ নিয়া একসাথে আলোচনায় থাকা নিয়া বক্তব্যে আমি আপনের সাথে দুইশতভাগ একমত।

৫.

কিন্তু কৌতুকটাকে আমি কৌতুকের জায়গা থেকে নিতে পারি। অসুবিধা হয় না। পাঞ্চ লাইনটা হাসির হলে একটু হাসবো, নাইলে নাই।

আর আমি বলছিলাম,

কৌতুক কখনোই নির্দোষ হয় না।

কৌতুক আসলে কৌতুক থাকে না সবসময়। একজন মা'কে নিয়া করা কৌতুক যেমন আক্রমণমূলক হয় তেমনি একজন নারীরে অশ্রদ্ধা করাটাও নারীদের জন্য আক্রমণমূলক। যেইটা সেক্সিস্ট অ্যাটিটিউড আর সেই অ্যাটিটিউড নোংরামি।

১৩

তানবীরা's picture


Ami sushil comment e support dey nai. Dayittoshil comment er pokkhye amar view janiyechi.
Meyeder niye e dhoroner procholito osommanjonok Jokes bondo houwa uchit bole amio mone kori. Amra bondhura bondhuke nijeder motamot respectively
Janate pari. Amra jara nijeder ke mediokar der theke ektuAlada vabi, tara to etuku gonotrantik monovab rakhtee
Pari, nijeder niye alochona somalochonar. Epur next comment ta thik hoi nai. Evabe karo lekhar secual diye tar gaye kono
Tag dite ami pokkhopati na. Shay jonnye ami MASUM bhai er kache khoma chailam.

Office theke bangla lekha jontrona. Sorry to write in English.

১৪

একলব্যের পুনর্জন্ম's picture


আপু, ট্যাগ লাগানো আমার উদ্দেশ্য ছিলো না। আমার কাছে মনে হয়েছে, বারবার একই প্রকারের জোক দেখছি, যেটার প্রতিবাদ জানানো উচিত। মাসুম ভাই বললেন, "একটা" গল্প বলা যাবে না, "একটা" মেয়ে থাকতে পারবে না --- তাই এ গল্প যে কোনো একটা না, আরো আছে, সেটাই বলতে চাচ্ছিলাম।

১৫

মাহবুব সুমন's picture


একমত

১৬

মাহবুব সুমন's picture


হুক্কা চোখ টিপি পুরা পোস্ট পড়ে সংশয়ে পরে গেলাম

১৭

দুরের পাখি's picture


আলোচনার সাথে মোটামুটিভাবে একমত । তবে এইজাতীয় আলোচনায় অবশ্যাম্ভাবী যা ঘটে তা হইলো কিছু ভারী ভারী শব্দ আর তত্তের আগমনে আমজনতা বেশিক্ষণ মনোযোগ ধইরা রাখতে পারে না । ফলস্বরুপ , সোজা জিনিসরে এত কঠিন করার কি দরকার , এমন মন্তব্যও অবশ্যাম্ভাবী ভাবে চলে আসে ।

এই ধরণের কৌতুক নিয়া আমারও একটা সিরিয়াস থিউরি আছিলো । মানবজাতির সম্মিলিত জ্ঞানের যাত্রায় যেসব জিনিস নিয়া আমরা তাত্তিক এবং বৈজ্ঞানিকভাবে স্বিদ্ধান্তে চইলা আসি সেইগুলা পাবলিক ডোমেইনে মিশতে সময় লাগে কিছুটা । ল্যাগ টাইম ধরতে পারেন । এই ল্যাগ টাইমে পূর্বতন কুসংস্কার এবং অজ্ঞতাগুলা সিরিয়াস আলোচনাতে উঠাইতে কেউ সাহস করে না । কিন্তু ভিতরের পিছনমুখী হৃদপিন্ডটা কিন্তু ধুকপুক করতেই থাকে । ফলস্বরুপ কুসংস্কারগুলা জায়গা কইরা নেয় এমন একটা ক্ষেত্রে যেখানে সেন্সরের, এবং সমালোচনার জায়গা একেবারেই কম । চুদির ভাই বইলাও আপনে পার পাইয়া যাইতে পারেন, যদি পরে যোগ করেন , "মশকরা কইরা কইছি"

পুরুষ-নারীর যোগ্যতা, ক্ষমতা নিয়া আমাদের মধ্যে এখন আর আলোচনা সমালোচনার জায়গা নাই । অন্তত বিজ্ঞান এবং তত্তের জগতে এটা মিমাংসীত বিষয় । যেমন চামড়ার রং নিয়াও কোন বিরোধ আর অবশিষ্ট নাই । কিন্তু মানুষ বিবর্তনীয় সুবিধার কারণেই পুরাতন ধারণা ছাড়তে চায় না সহজে, এইজন্য সাদা কালো র‌্যাসিজম, পুরুষ-নারী শোভিনিজম এইগুলা এখন কৌতুকের জগতে স্থান কইরা নিছে । এইসব ক্ষেত্রের অর্জিত জ্ঞান যখন আমজনতার ওয়াটার সাপ্লাইয়ে আসবে, তখন এইসব কৌতুক ঠিকি অবসোলিট হয়ে যাবে ।

১৮

বিষাক্ত মানুষ's picture


এই জোক্স ভাস্কো-দ্য-গামা'র আমালের, এইটা শুইন্না আমার ভিতরের পুরুষ স্বত্তা কোন কালেই জাগে নাই।

তাইলে কি জোক্সটা আমার কাছে আইসা অকৃতকার্য হইছে?

১৯

ভাস্কর's picture


জোক শুনলে পুরুষ সত্ত্বা জাগার প্রসঙ্গ আনতেছেন ক্যান? বা আপনের পুরুষ সত্ত্বা জাগতে কি করতে হয়?

জোক আপনের কাছে অকৃতকার্য হইছে কীনা সেইটা আপনেই জানেন। জোক শুনলে হাসি পাইলেই যদ্দূর জানি ঐটা কৃতকার্য হয়। কিন্তু আমরা অনেক কিছুতেই হাসি। সার্কাসের ক্লাউনরা যেইসব কসরত কইরা লোক হাসায় তার জন্য তারে কতো কষ্ট করতে হয় সেইটা বুঝেন? তো ঐসব দেইখা লোকের কি কষ্ট পাইতে হয়, নাকি তারা হাসে?

এখন ক্লাউনরা কি মনের আনন্দে কষ্ট করে? নাকি পেটের দায়ে?

এই জোক সেক্সিস্ট, তারমানে এইটা শুইনা আপনের পৌরুষ অথবা পুরুষ সত্ত্বা জাগতে হইবো এমন ভাবনাই তো অনেক হাসির লাগতেছে আমার। যেমন আপনে ভাস্কো দ্যা গামা'র আমলের কথা কইয়া যেই জোকটা করলেন এইটা পইড়া অনেকেই আপনের গলা জড়াইয়া ধইরা হাসবো। কিন্তু ছোটবেলা থেইকা এই বিড়ম্বনায় পড়ার অভিজ্ঞতার কারনে আমার কিন্তু বিব্রতকরই লাগছে।

যাই হোক যুক্তি না বুঝলে অনেকেই আজকাল দেখি কুযুক্তি বলতে শুরু করে। কিন্তু ঐ না বোঝায় যে তার জ্ঞানের স্বল্পতাও থাকতে পারে...কিন্তু আমরা অন্যরে অপরাধী ভাবতেই আনন্দ পাই। তাতে অন্ততঃ পরবর্তী গ্যাঞ্জাম পর্যন্ত ভালো থাকা হয়।

২০

বিষাক্ত মানুষ's picture


এই পোস্টে এবং কমেন্টে নানান ধরনের উচ্চমার্গ শব্দের ব্যবহার এবং ত্বত্ত-বিশ্লেষন দেখে আমি নিজেও বেশ ভালো রকমের কনফিউজড হয়ে গেলাম।

এই পোস্টটা পড়ার পর আমার নাদান ক্ষুদ্র মস্তিস্ক থিকা যে ত্বত্তগুলা বার বার টোকা দিতাছে সেগুলারে ক্রমানুসারে যদি সাজানোর চেষ্টা করি, তাইলে -

* এইটারে যদি আমি আর দশটা সাধারন জোক্স হিসেবে না নিয়ে এটার উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবনায় পড়ে যাই তাহলে আমি সৃষ্টির আদিমকাল থিকা নারীদের হেয় করা পুরুষ শাসিত এই সমাজ ব্যবস্থার প্রতি সদা সজাগ একজন উদার মনা মানুষ। (?)

* এই জোক্স পৈড়া যদি কেউ কুৎসিত ইংগিত সহ খ্যাক খ্যাক কইরা ফিচেল মার্কা হাসি দেয় , তাইলে সে একটা নোংরা কিসিমের মানুষ। (?)

* এই জোক্সটা পইড়া যদি প্রথমেই কারো মাথায় আসে - 'তেমন হাসির জোক্স না' এইটা কেউ চিন্তা করলে সে সুপ্ত পুরুষতান্ত্রিক আদিম লালসাটাই তার নিজের অজান্তেই নিজের ভিতর লালন করতাছে। (?)

২১

ভাস্কর's picture


শেষের পয়েন্টটা বুঝি নাই। বাকীগুলি কি আপনে পোস্টে পাইছেন, নাকি নিজে বুঝছেন?

আপনের এইরম উপলব্ধিতে আমি কনফিউজ্ড হইতেছি। শুরুতে মীর সাহেব কইলো সে কোনো স্টেইটমেন্ট পায় নাই পোস্টে আর আপনে তিনটা পাইছেন। অনেক কনফ্লিক্টিং লাগে না?

২২

জুলিয়ান সিদ্দিকী's picture


এখন বিউটি যেমন পণ্য, ভায়োলেন্সও তেমন ভাবেই বেচাবিক্রী হয়

-কথাটা জবর পছন্দ হইলো।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...