এই পোস্ট কেবল মাসুম ভাইয়ের জন্য...
শওকত হোসেন মাসুম। একজন ব্লগার কিম্বা একজন সাংবাদিক হিসাবে উনারে যতোটা পছন্দ করি তার চাইতে অনেক অনেক বেশি পছন্দ করি একজন মানুষ হিসাবে। অনেকরেই দেখি উনারে নিয়মিত টেলিভিশনে দেইখা বেশ আহ্লাদিত হইয়া যাইতে। একজন সাংবাদিক, একজন ব্লগার হওয়ার পাশাপাশি উনি সবার কাছে একজন টিভি ব্যক্তিত্য হিসাবেও অ্যাপিয়ার করেন। কিন্তু আমি কষ্ট কইরা রাত জাইগা সংবাদপত্র বিশ্লেষণ শোনার আগ্রহটা কখনোই পোষণ করি নাই। মাসুম ভাই কখনোই আমার কাছে বৃহৎ মাপের কোনো ব্যক্তিত্য হিসাবে প্রতিভাত হন নাই।
বয়সে আমার চাইতে উনি কতো বড় হইতে পারেন? সেইদিন এক কাছের মানুষ উনার বয়স আন্দাজ করতে গিয়া কইলো, "উনি তোমার সমান বা একবছরের ছোট হইতে পারেন।" আমি সাথে সাথে তুমুল প্রতিবাদ জানাইলাম। কারণ মাসুম ভাই আমার ছয় বছর আগে এসএসসি পাস করছেন। বয়সে নিদেন পক্ষে আমার চাইতে ৫/৬ বছরের বড় হইবেন।
মাসুম ভাই একজন সাংবাদিক। এমন সাংবাদিক হরে দরে ঘোরাঘুরি করে আমাগো ধারকাছ দিয়া। আসলে ভুল কইলাম। উনি কেবল একজন সাংবাদিক না, প্রচার সংখ্যায় বাংলাদেশের সবচাইতে বড়ো পত্রিকার অর্থনীতি ও বাণিজ্য পাতা সম্পাদনা করেন। প্রথম আলো পত্রিকার নীতিনির্ধারক ৬/৭ জনের একজন তিনি। এমন নীতি নির্ধারক আরো ২/৪ জনের সাথে আমার পরিচয় আছে, কি হইছে তাতে! কিন্তু শওকত হোসেন মাসুম আলাদা হইয়া যান। কারণ বাকী নীতিনির্ধারকদের মতোন উনারে গাম্ভীর্য্য ধারণ করতে দেখি নাই কখনো। আমার মতোন নাদানরেও তিনি এখনো ভাস্করদা বইলাই ডাকেন।
মাসুম ভাইয়ের এই সাধারণ থাকার চর্চাটা এমন যে উনার সাথে কথা কইতে গেলে উনার সামাজিক অবস্থান, প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান, বয়স, জ্ঞান কোনো কিছুই আমার মাথায় কাজ করে না। যখন যা ইচ্ছা হয় তা বইলা ফেলতে পারি। যারা সামহোয়্যার, না সামহোয়্যার না, আমরা বন্ধুর ইয়াহু গ্রুপ থেইকা নজর রাখেন তারাই জানেন এই বিষয়ে...অনেকের সাথেই তর্ক বা আলোচনা না জমলেও মাসুম ভাইয়ের সাথে নিয়মিত চলতো। তাই মাসুম ভাইয়ের কোনো পোস্ট আমার ভালো না লাগলে সরসরি গিয়া তার পোস্টে মন্তব্যে জানাইছি সেই কথা। তিনি যে গুরুত্ব দেন আমার অনুভূতিরে সেইটাও টের পাইছি, একবার একটা পোস্ট উনি আমার মন্তব্যের পর মুইছা দিছিলেন।
মাসুম ভাইরে কোনোদিন রাগতে দেখি নাই। তারে কখনো স্বনামে কোনো মানুষরে গালি দিতে দেখি নাই। তিনি খুব ভালো লিখেন। না এইটা আমার মনের কথা হইলো না। আমার পছন্দের লেখক মানে ব্লগারদের কাতারে উনি প্রথম পাঁচজনের মধ্যে নাই। উনার সম্প্রতি প্রকাশিত বইটা আমি পড়ছি ভালো মতোই, খুব আহামরি কিছু মনে হয় নাই। ঠিকঠাক। যেই বিষয়টা চোখে পড়ছে সেইটা হইলো আরো দুই-চার-দশজনের মতোন উনারে ভাব মারতে দেখি নাই কখনো নিজের লেখা নিয়া (যেইটা আমি নিজে করি)।
সেই মাসুম ভাই দেখলাম আমরা বন্ধু ব্লগের মডারেটরের সাথে একটা সামান্য বিবাদের পর হঠাৎ বইলা বসলেন উনি ব্লগ ছাড়বেন। বিবাদ আর বেশিদূর আগায় নাই, মাসুম ভাই আমরা বন্ধুতে উনার যতো লেখা ছিলো তার একটা বড় অংশ এরমধ্যেই মুইছা দিতে শুরু করছেন। উনার চইলা যাওয়ার হুমকীটা যে কেবল হুমকী ছিলো না সেইটা এখন আমরা সবাই জানি। উনার একটা পোস্টের কিছু অংশ নিয়া বেশ কয়েকজন ব্লগার আলোচনা করতে গেলে উনি খানিক্ষণ উনার নিজের ম্যুডে থাকলেও হঠাৎ কইরাই উত্তেজিত হইয়া উঠেন, যার ফলশ্রুতিতে একটা হাদিস নিয়া আলোচনা কোথাও থেইকা কপি পেইস্ট করেন। আমার নিজের কাছে বিষয়টারে তখনো হাস্যরসাত্মক শ্লেষের মতোন লাগতেছিলো তর্কের বিপরীতে, কিন্তু নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক হওয়াতে মডারেটর বেশ সিরিয়াসলি সেই পোস্টটা প্রথম পাতা থেকে সরাইয়া দেয়। মাসুম ভাই এই সময়ে পোস্টটা কিছুটা এডিট কইরা মডারেটরের কাছে দাবী করেন পোস্টটা প্রথম পাতায় এক্সেস দেওয়ার জন্য। কিন্তু সিরিয়াস মডারেটর তার অবস্থান ব্যখ্যা কইরা অপারগতা জানান। এর ঠিক পরপরই মাসুম ভাই বিদায় নিয়া লগআউট করেন। পুরা বিষয়টাই আমার কাছে অপ্রত্যাশিত লাগছে। এর আগে আমরা বন্ধু ব্লগে এই ধরনের কোনো সিচ্যুয়েশান তৈরী হইলে মাসুম ভাই নিজে উদ্যোগ নিয়া সংশ্লিষ্ট ব্লগাররে ফেরত নিয়া আসছেন। কিন্তু তিনি নিজে এমন একরোখা হইবেন সেইটা অন্ততঃ আমি প্রত্যাশা করি নাই।
তবে ঘটনাটা এতো সহজ আর সরল না। এই আলোচনা-তর্কের ফাঁকে আমি নিজে মাসুম ভাইয়ের যেই কৌতুক নিয়া আলোচনা চলতেছিলো তার একটা বিকল্প পঠন দিছিলাম। একটা কৌতুকেরও যে সামাজিক ও ঐতিহাসিক মাজেজা থাকে সেইসব নিয়া আলোচনা করতে আস্ত একটা পোস্ট হাজির করছিলাম। পোস্টে আমি ঐ কৌতুক সম্পর্কীত যতো ধরনের আলোচনা বা সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া হইতে পারে সেইসব দেখাইছি। সেই পোস্টে আমি কেবল একটা সিদ্ধান্তমূলক অংশ লিখছিলাম,
কিন্তু বাস্তবতা হইলো এই দুই বাক্যের গল্পটা আসলে একটা হাস্যরসাত্মক গল্প। এইখানে নারীর শরীরের উন্মুক্ত অংশ দেখার এবং দেখানের বাসনারে নিয়া একটা ট্র্যাজেডি তৈরী হইছে ঐ শার্টের বোতাম খোলা পুরুষের জন্য। একই যাত্রায় ভিন্ন ফলের কারনে পাঠকের বা শ্রোতার পুরুষটার প্রতি করুণা তৈরী হবে। আর এই করুণাতেই শ্লেষ আর কৌতুকটা লুকানো থাকে।
আর পোস্টের শেষে এই কৌতুকটা মাসুম ভাইয়ের পোস্ট থেইকা নেওয়া হইলেও এইটা যে কেবলি একটা বিকল্প পঠনের চেষ্টা সেই বিষয়টা উল্লেখ কইরা দিছিলাম। কারণ ঐ লেখাটা লেখার সময় আমার মনে ছিলো বেশিরভাগ মানুষই আসলে বিশেষ পরিস্থিতিতে আবেগ সামলাইয়া রাখতে পারে না। আমি ভাবছিলাম ডিসক্লেইমারে অন্ততঃ আমার ইনটেনশনটা পরিষ্কার হইবো। কিন্তু আমার লেখনীর ব্যর্থতায় হোক, কিছু মানুষের ইন্টেনশনাল আচরনের কারনে হোক। বিষয়টা একটু ঘোলাটে হইয়া উঠলো।
তবে আমি যেইটা আশা করি নাই, সেইটাই ঘটলো বা সেই বিষয়টা আমারে জানানো হইলো অবশেষে। আমার এই লেখায় নাকি মাসুম ভাইয়ের নোংরা মানসিকতা বিষয়ে বলার চেষ্টা করছি। আর মাসুম ভাই সেই অবজারভেশনে ব্যক্তিগতভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হইয়া আমরা বন্ধু ব্লগ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিছেন। মডারেটরের সাথে তর্কটা ছিলো কেবলি অযুহাত মাত্র। আমি আসলে এই পরিণতি বিষয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা করতে পারি নাই। আমি ভাবতে চেষ্টা করলাম এই পোস্ট যদি আমি কয়েকদিন পর লিখতাম তাইলে কি এমন হইতো!? আমার নিজের কাছে মনে হইলো না হওয়ার সম্ভাবনা ১১০%। কিন্তু একজন কাছের মানুষের সাথে বিষয়টা শেয়ার করার পর শুনলাম, না এই পোস্টে নাকি এমনিতেও মাসুম ভাইয়ের চরিত্রে কালিমা লেপন হইছে অনেক ক্রুঢ় ভাষায়। একবছর পর প্রকাশিত হইলেও প্রতিক্রিয়া এমনি হইতো।
আমি বারবার পড়ি আর খুঁজতে চেষ্টা করি, কোথায় মাসুম ভাইয়ের মানসিকতা নিয়া আমি কিছু একটা লিখছি!? মাসুম ভাই আহত হইতে পারেন এমন সিদ্ধান্তমূলক কি লিখতে পারি আমি!? কিন্তু ঐ কৌতুকের সেক্সিস্ট ইনারশিয়া বের করা ছাড়া আমি কোথাও কিছু লিখি নাই। তবে সেক্সিস্ট হওয়ারে আমি অপরাধমূলক কোনো পদবাচ্য হিসাবে হাজির করি নাই ঐ পোস্টে। না ভুল হইলো সহব্লগার মীরের সাথে তর্কের এক পর্যায়ে, (মানে তখন মাসুম ভাই বিদায় নিয়া চইলা গেছেন) আমি সেক্সিস্ট বিষয়টা নিয়াও উত্তেজিত হইছি। তবে সেই উত্তেজনার দায় আমার নিজের ঘাড়ে যতটুক বর্তায় তার অনেক্ষানি মীরের ঘাড়েও দিতে চাই আমি। কারণ সে সেক্সিস্ট শব্দটার অর্থ বিকৃত কইরা আমার সাথে তর্কাইতেছিলো।
যাই হোক আমি লোকমুখে জানতে পারলাম মাসুম ভাই আমার আচরনেই মূলতঃ ক্ষুব্ধ হ্ইছেন। আমি ঐ পোস্ট না লিখলে তিনি আমাদের ছাড়তেন না। আমি পোস্টের বক্তব্য বা উপস্থাপনরে লাইনকে লাইন ব্যখ্যা কইরা দেখাইতে পারতাম যে কোথাও আমি কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ করি নাই। পোস্টের প্রতিটা শব্দের অর্থ নিয়া আমি এতোটাই কনফিডেন্ট যে আমি তার মর্তবা বিশ্লেষণ কইরা বুঝাইয়া দিতে সক্ষম যে মাসুম ভাইয়ের প্রতি সেইখানে কোনো বিষোদ্গার নাই। কিন্তু মাসুম ভাই ক্ষুব্ধ হইছেন এই বক্তব্য শুনবার পর আমি আসলে সেই বিষয়ক আগ্রহ হারাইছি। দুই একজনের সাথে আলোচনা করতে চেষ্টা করছি। কিন্তু তাদের উল্টা উপলব্ধি দেইখা আমি স্বভাবসুলভ তর্ক করতে পারি নাই। মাইনা নিছি এ আমার লেখনি শক্তির খামতি, যা বুঝাইতে চাইছি তা বুঝাইতে পারি নাই।
লোকটা মাসুম ভাই। অন্য কেউ হইলে আমি এই মুহুর্তে অন্য কোনো বিষয় নিয়া লিখতাম হয়তো। নৈতিকতা বিষয়ে আমার সম্প্রতি আগ্রহ তৈরী হইছে। সেই বিষয়টারেই আরেকটু বিস্তৃত করতাম। পাত্তাও দিতাম না কাউরে। কিন্তু যেই লোকটারে পছন্দের বেলায় তার সাংবাদিকতা-ব্লগিং-বিশেষ ব্যক্তিত্য'র জন্য পছন্দ করি না, তারে একেবারেই মাটির মানুষ-নিজের সমান্তরাল ভাইবাই পছন্দ করি তারে কিভাবে ইগনোর করি!?
আর তাই এই পোস্ট লিখতেছি। মাসুম ভাইরে আমি জানাইতে চাই, যেই পোস্টের কারনে তিনি মনোক্ষুন্ন হইছেন সেইটা এরমধ্যেই সরাইয়া ফেলছি। যদি এমন সম্ভাবনা থাকে আমি দুঃখিত হইলে মাসুম ভাই আবার আমাদের মাঝে ফিরা আসবেন, তাইলে আমি তারে যেকোনো জায়গায়, যেকোনো পরিস্থিতিতে আমার অনুভূতি প্রকাশ করতে রাজী আছি। তিনি যেইভাবে চাইবেন আমি সেইভাবেই তার প্রতি ক্ষমা প্রার্থনা করতে রাজী আছি। তবু তিনি যেনো আমরা বন্ধুতে লিখেন, আমার নিতান্তই বালখিল্য লেখালেখিতে মন্তব্য করেন। আমাদের আড্ডাগুলিতে উপস্থিত থাকেন।
আমাদের সম্পর্কটা তো কেবল এই তিনবছরের না...দ্বিগুণ সময়েরও বেশি এই সম্পর্ক কিছু ইন্ধনে আশা করি নষ্ট হইয়া যাবে না। সবশেষে আবারো অনুরোধ জানাই,
মাসুম ভাই আমরা বন্ধুতেই আবার ফিরা আসেন, লেখালেখি শুরু করেন...





ফিরা আসেন মাসুম ভাই, প্লিজ!
সহমত।
আইসা পরেন মাসুম ভাই। কী আছে দুনিয়ায়...
আমরাই তো।
শুনলাম ভাস্করদা মাসুম ভাইকে এক পাচঁ তাঁরা হোটেলে আজ দূপুরে, না থুক্কু, রাত্রে খাওয়াচ্ছে....
~
এই ব্লগের অনেক দিন থেকে পাঠক। দুইজন মানুষকে লেখার কারণে খুব পছন্দ করি। একজন শওকত ভাই, অন্যজন মীর ভাই। লেখার মাধ্যমে দুইজনকেই আমার নির্ভেজাল ভদ্রলোক মনে হয়েছে। সেই দুইজনের একজন ব্লগ ছাড়ার কথা বললেন কেনো, সেটা কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিৎ বলে মনে করি। শুধু শওকত ভাই না, কয়েকদিন থেকে আরও ৩/৪ জনকেও দেখছিনা ব্লগে।
নন ভার্চুয়াল সংস্কৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিলো একসময়ে স্বাধীনতা, যা মূলত পরিচয়হীনতাকে একটা শক্তি হিসাবে ধরে বিকশিত। এখন সেটা নেই। কমিউনিটির ধরণটা প্রথম দিকে তেমন ছিলো বলে আমরা একটা ভুল ধারণাও তৈরী করতে সহায়তা করেছিলাম।
সোসাইটিতে যা যা হয়, এখন এখানে তাই তাই হয়। এটা ভার্চুয়াল নয়, ভার্চুয়াল টুল ব্যবহার করেও। এটা লেখালেখির মান এপ্রিসিয়েশনের ক্ষেত্রও নয়। এটা একটা সমাজ ব্যবস্থার এক্সটেশন মাত্র।
এই পোস্টটা সেই বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলেছে অত্যন্ত চমৎকারভাবে। আই লাইক দিস কমিউনিটি। থ্যাংক ভাস্কর দা।
নন শব্দটা হবে না। সরি।
এতগুলো স্ব-বিরোধী কথা আপনার পোস্টে ? অবাকই হলাম। লেখাটা কয়েকবার পড়ে মনে হল, বিচার মানেন আপনি কিন্তু তালগাছ আপনার চাই-ই চাই !!
সিদ্ধান্ত ছিলো এই পোস্টে কোনো কমেন্ট করবো না। কিন্তু ইন্টেনশনাল এই এ্যাক্টিভিটি দেখার পর মনে হইলো একটা জবাব অন্ততঃ দিয়া যাই।
১.
স্ববিরোধী শব্দটার অর্থ জাইনা তারপর ব্যবহার করাটাই মনে হয় ভালো হয়। স্ববিরোধ হইলো একই ভাষ্যে নিজের আগের বক্তব্যের সাথে পরের বক্তব্যের বিরোধ। সুতরাং আপনার অভিযোগ স্পষ্ট হইলো না...তবে যেইসব পয়েন্ট তুইলা ধরছেন, তাতে টের পাইলাম আপনি সাংবাদিক ব্যক্তিত্য শওকত হোসেন মাসুমের একজন ভক্ত, আর আমার বলতে কোনো দ্বিধা নাই আমি ঐ সেলিব্রিটি শওকত হোসেন মাসুমের ভক্ত না। একজন ডাউন টু আর্থ মানুষ মাসুম ভাইরেই আমি পছন্দ করি। তারে আমি যখন থেইকা চিনি তখন তিনি প্রথম আলোর অর্থনীতি পাতার প্রধান সম্পাদক ছিলেন না।
২.
আর তালগাছ আর বিচার বিষয়ে আমি নিজের কাছে বেশ স্পষ্ট বইলাই অনেক কথা সরাসরি বলতে পারি মুখের উপর। যেইটা আপনি কেবল এই ধরনের পোস্টে কমেন্ট দেওয়ার জন্য একটা একদিন বয়সী নিক নিয়া আইসা করতেছেন। যাই হোক, পরিস্থিতি ঘোলাটে না করি আর...উদ্দেশ্যমূলক আচরণ আপনে কয়দিন পরে কইরেন, এখন মেজাজ মর্জি খারাপ আছে। অনেক উদ্দেশ্যওয়ালারে দেখছি জীবনে। বিভিন্নজনার পেছনে লাগাতেই যাগো সকল আনন্দ। আমার পেছনে লাগনেওয়ালাদের সাথে কি ব্যবহার করতে হয় তা আমি জানি...একজন মাসুম ভাইয়ের ক্ষেত্রে আবেগী হইছি বইলা মনে কইরেন না সবক্ষেত্রেই আমার এমন আবেগ কাজ করে।
আপনার ২ নম্বর মন্তব্যের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে গেলাম কর্তৃপক্ষের কাছে।
আপনি নিজেই বেহুদা খাউজানি কমেন্ট করছেন। ভাস্করের ২ নং কমেন্ট সমর্থন করলাম।
২ নম্বর কমেন্ট আপনি সমর্থন করতেই পারেন কিন্তু
এটা কী ধরনের কথা বললেন ব্রাদার ?
আমারতো ধারনা ছিল ন্যুনতম ভদ্র আর শিক্ষিত মানুষরাই ব্লগিং করে !
একটি হারানো বিজ্ঞপ্তিঃ মাসুম ভাই নামক জনৈক ভদ্রলোক এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক, ব্লগার হারানো গিয়াছে। যদি কোন দয়াবান ব্যক্তি তার খোঁজ পেয়ে থাকেন তাহলে অতিসত্বর "আমরা বন্ধু" ব্লগে যোগাযোগ করুন। মাসুম ভাই আপনি যেখানেই থাকেন, যে অবস্থাতেই থাকেন প্লীজ ফিরে আসেন। আপনাকে হারিয়ে আজ আমরা বিপর্যস্ত।
ভাস্করদা'র ভাষায় বলতে গেলে বলি,
আসলেই, অন্য কেউ হলে আমিও এই মুহূর্তে এখানে থাকতাম না হয়তো।
কারন, আমি এমনিতেও অনেক দিন ব্লগে আসি না। না, একদম সময় করে উঠতে পারিনা যে তা না। চাইলে হয়তো ঠিক-ই সময় করতে পারবো, কিন্তু সেটার খুব একটা চেষ্টাও করিনা।
এখনও এসেছিলাম ঋহানের কিছু ছবি পোষ্ট করতে, এসে দেখি প্রথমেই এই পোষ্ট। পোষ্ট পড়ে বুঝালাম, এর মাঝে অনেক কিছুই ঘটে গেছে, যা আমি জানিও না। যদিও, সেদিন ব্লগের বাইরে কিছু জিনিস অব্জার্ভ করে টের পেয়েছিলাম যে, ব্লগে অনেক কিছু ঘটে গেছে। কিছুটা আন্দাজ করেছি কি ঘটতে পারে। তবে মূল ঘটনার অনেক কিছুই জানিনা। আমি জানতে জানতে মাসুম ভাই তার সেই ব্লগ মুছেও দিয়েছেন। এখন ঘটনা কিছুটা পরিস্কার হলো ভাস্করদা'র এই পোষ্ট পড়ে।
কি বলবো?
মাসুম ভাই কে আমি চিনি এই "আমরা বন্ধু" ব্লগের জন্মের আগে থেকে, "আমরা বন্ধু ইয়াহু গ্রুপ" থেকে। না, একজন সাংবাদিক বা একজন ব্লগার হিসেবে নয়, বরং একজন বন্ধু হিসেবে-ই চিনি। উনার সাথে আমার সম্পর্কটা যেমন বন্ধু'র মত, তেমনই আমার বড় ভাই এর মত আমি তাকে অনেক শ্রদ্ধাও করি। আর মাসুম ভাইও আমাকে তার ছোট বোনের মত আদর করেন, আমার ভুল সিদ্ধান্তে আমাকে শাসন করেন, সঠিক সিদ্ধান্ত কি হবে সেটা বুঝিয়ে দেন। আমার মনে আছে, ঋহানের জন্মের আগে মাসুম ভাই কোন এক ব্লগ পোষ্টে মন্তব্যের ঘরে লিখেছিলো, "এই ব্লগের সবাই চাচা হচ্ছে, আর আমি কিন্তু 'মামা' হচ্ছি"। সেই মন্তব্যের উত্তরটা আমি হাসতে হাসতে দিলেও, কি অদ্ভুত মায়া'য় সেদিন আমার মনটা যে ভরে উঠেছিলো তা কাউকে বলা হয়নি, বলা হবেও না কোনদিন। টুটুলের সাথে আমার সম্পর্ক, আমাদের বিয়ে, আমাদের মাঝে ঋহানের আগমন, আমার জীবনের এই বিশাল বিশাল প্রতিটা মূহুর্তে এই ব্লগের যে মানুষটা সবার আগে সাক্ষী হয়েছেন, সে হলো এই মাসুম ভাই।
এক কথায়, এই ব্লগে আমার খুব কাছের এবং খুব প্রিয় মানুষ গুলোর মাঝে একজনের নাম হলো "শওকত মাসুম"। যার লেখা পড়ার জন্য আমার খুব একটা চেষ্টা না থাকার ফাঁকেও আমি এই ব্লগে ঢু মারি, আজ সেই মাসুম ভাই "আমরা বন্ধু" ছেড়ে চলে গেছেন!
আসলেই কি বলবো জানা নেই আমার। কেবল এইটুকুই বলবো....
প্রিয় মাসুম ভাই, আপনার মতো কয়েকজন তারকা ব্লগারের জন্যই এই ব্লগে অংশ নিতে আগ্রহী হয়েছি। আপনি না থাকা মানে গুরুত্বপূর্ণ অনেকেই না থাকা। সেক্ষেত্রে আরেক সামু ব্লগ হবে এটি। অদূর ভবিষ্যতে এই বিকল্প গণমাধ্যমই প্রচলিত গণমাধ্যমের চেয়ে বেশী গুরুত্ব পাবে, আপনার মতো কয়েকজন থাকবেন নেতৃত্বে। বিরক্ত হলে কী চলবে? চলতি প্রজন্মের ক্রিয়া/প্রতিক্রিয়াও সামাল দিতে হবে। কখনো কোন বেহুদা প্রসঙ্গ সামনে এলে 'মন্তব্য নেই' ভূমিকা নিন। যা বলার আপনার ভক্তরাই বলবে।
কিছুতেই আমাদের রস বঞ্চিত করবেন না। আহারে, কতদিন পাশের চেয়ারে কাজ করতে করতে, ইসহাক ভাই-মঞ্জুর ভাইদেরকে ডাবল মিনিং শব্দের ওস্তাদি প্রয়োগে নাস্তানাবুদ করতে দেখি না!
অবশ্যই ফিরে আসুন, মাসুম ভাই। নাহলে আমাদেরও বিদায় নিতে হবে।
চলতি প্রজন্ম মানেই খারাপ মনে হচ্ছে !!
মাসুম ভাই ফিরা আসেন।
ইফতারিতে খাবেন 
বিখ্যাত লোকদের কাজ কারবার সবই বিখ্যাত হবে এটাই রিতি
মাসুম ভাই না আসলে কিন্তু
আর 
চান্দাও রেডি ড়াইকেন
কেবল আপনার পোস্টের কারণে ব্লগ ছেড়েছি এটা একটা ভুল তথ্য। যে জায়গায় একটা লেখা তৈরি করার সময় ভাবতে হয় কে কী ভাবে নেবে, সেই জায়গা আমার জন্য না। তারমানে এই না যে আমি যা ইচ্ছা তাই লিখি। মাঝে মধ্যে কিছু গল্প দেই, কৌতুক গল্প। সুতরাং নিতান্তই একটা গল্প, যা অনেক দিন ধরে প্রচলিত, সেইটা দেয়ার আগে যদি ভাবতে হয় এটা কে কিভাবে নেবে, তা ভাবার মতো দক্ষতা বা যোগ্যতা আমার নাই।
বোতাম সঙক্রান্ত গল্পটা লেখার পর দেখলাম নারীর প্রতি সম্মান নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। কিন্তু আমি বার বার পড়েও তা পেলাম না। এর একটা অর্থ হতে পারে যে আসলেই এর মধ্যে আসলেই কিছু নেই, নির্দোষ গল্প। আরেক হতে পারে এটা প্রবল নারী বিদ্বেষী গল্প, যেটা আমি ধরতে পারতেছি না। যেহেতু এ ধরণের প্রতিক্রিয়া একাধিক জন জানিয়েছেন এবং সবাই মেয়ে, তার অর্থ আমিই ভুল। গল্পটা দিয়ে মেয়েদের সম্মান দিতে পারলাম না, তাই ভাবলাম তাদের মন্তব্যের সম্মান দেই। তাই চলে গেছিলাম।
আমি যে রকম, আমার বন্ধুরাও সেরকম। আবোল-তাবোল, শ্লীল-অশ্লীল, মেয়েদের নানা বিষয় নিয়ে গল্প করি, গলা ফাটায়া হাসি। এসমস্ত মোটা দাগের মানুষদের মধ্যে থাকি, যা ইচ্ছা তাই বলি। আমি যেমন, আমার বন্ধুরাও তেমন। তাই সমস্যা হয় না।
কিন্তু এখানে তো তা নয়। আমি মোটা দাগের রসিকতা করি, তার মানে এই না যে সবাই তা মেনে নেবেন। উচিতও না। আর যেখানে্ এতো ভেবে কথা বলতে হবে সেখানে আমি আমি থাকতেও চাই নাই। কারণ এখানে থাকার যোগ্যতা আমার নাই।
আবার বলি, আপনার পোস্ট বা অন্য কারো মন্তব্যের জন্য না। ঐ দিন নিজের কাছেই মনে হয়েছিল এখানে আমাকে মানাচ্ছে না। আমি একটা গল্প দিছি, সেইটা নানা দোষে দুষ্ট। তাই নানা জন এসে মন্তব্য করছেন। আর আমার মধ্যে যেহেতু নানা সমস্যা আছে, তাই সেসব গ্রহণ করতে পারছিলাম না। এটা আসলে আমারই সমস্যা। আমি কিছু লিখবো ব্লগে, কেউ এসে পছন্দ বা অপছন্দ তার ভাষায় জানাবেন এটাই ব্লগীয় রীতি। কিন্তু আমার ভেতরের দৈন্যতার জন্য সেটা নিতে পারছিলাম না, তাই রেগে গেছিলাম। এটা আমার নিজের সমস্যা।
এবি ব্লগে একটা নীতিমালা আছে। মডারেটরো আছেন। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলে, কোনো একটা সমস্যা তৈরি হলে মডারেটরা নিজেদের মধ্যে কথা বলে একটা সিদ্ধান্ত নেন। কারণ এবি ব্লগ মনে করা না যে, কে থাকলো আর কে থাকলো না সেটা কারো কিছুই যায় আসে না। এবি সবাইকে চায়। কিন্তু এই নীতি থেকেও যে এবি সরে এসেছে তা জানতাম না। সেদিন বুঝলাম। নতুন এই নীতিটা ঠিক পছন্দ হয় নাই।
এতো কথা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনার কারণে ব্লগ ছেড়েছি তা ঠিক না। সব মিলিয়ে পুরো পরিস্থিতিতে নিজেকে বেমানান লাগছিলো।
শুভ ব্লগিং
মাসুম ভাই, উইথ ডিউ রেসপেকট, আপনার মনতব্যের সাথে ডিফার করছি। এবির মডারেটরদের বাইরেও লোকজন আপনাকে বনধু ভেবে, বড়ভাই ভেবে যোগাযোগ করেছে। হতে পারে তারা আপনার মতো বিখ্যাত না বিধায় আপনি সেটা গুরুত্ব দেননি।
আর আপনার পোষটের কমেনট এর ব্যপারে যদি ধরেন, সবার লেখা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা আছে, আইনের উরধে কেউ না, তাহলে আর এভাবে হয়তো ঘটনাটা আপনাকে আঘাত নাÓ করতে পারে। আপনার মেয়ে বনধু বা বোনেরা আপনাকে আপনভেবেই বলেছে।
শুভেচছা আপনার জন্যও
বাজি, দিলা তো মাটি কইরা। আমি ভাবলাম জবরদস্ত একটা পোস্ট লেইখা তোমারে উৎসর্গ কইরা বলবো তোমার সেই ফোনের কথা, আর তুমি দিলা এইখানে বইলা।
ঠাকুর ঘরে কলা আপনে খাইছেন আমি না। অকারণে আমার বড় ভাই অভিমান করলে, ভুল বুঝলে আমারও কোথাও লাগে। আপনাকে কষট দেয়ার ইনটেশন রাখছি এই ভাবনা আপনি ভাবেন কি করে আমাদের সম্বনধে?
যাক, এসব শেষ।
পোস্ট লেইখা উৎসর্গ করেন, নইলে মারামারি করবো, ছোটবেলার মতো
মারামারি না খামচাখামচি!!!

আমি কিন্তু এখনো বলি নাই আপনারে আমি মেসেঞ্জারে ম্যাসেজ এফবি তে ম্যাসেজ দিসি।আমারে উৎসর্গ কইরা একটা পোস্ট দিতে পারেন।
অনেকদিন সিনেমা দেখা হয় না।দেন না একটা সিনেমা পোস্ট!!আপনারে পিলিজ লাগে।আমি লিঙ্ক খুঁজে দিবো নি।

মাসুম ভাই,
এবি ব্লগে কয়েকদিন মাত্র হল এসেছি, এর ই মাঝে এখানকার পরিবেশ বেশ মুগ্ধ করেছে।
হঠাত্ করে কিছু অপছন্দনীয় মন্তব্যে এভাবে চলে যাবেন।
ভাবতেই খুব খারাপ লাগছে।
এরকম অপ্রীতিকর সময় গুলো খুব বেশি সময় থাকেনা,এই ঝামেলাটুকু কে এতটা গুরুত্ব না দিলেই কি নয়?
আপনি একটা জোকস বললেন,
কয়েকজন একটু নেতিবাচক মন্তব্য করল,
কেউ কেউ হয়ত আপনার জোকসটাই বুঝতে পারলো না।
তাই বলে এভাবে চলে গেলে কিভাবে হবে?
আপনার একটা লেখা সবার পছন্দ না হওয়ায় চলে গেলে,
আপনি নিজেই কি নিজের লেখকস্বত্বা কে অপমান করছেন না?
একটু ভেবে দেখবেন।
আশা করি ফিরে আসবেন।
ভাল থাকুন।
অনেক ভাল, সবসময়।
রসিকতার মোটা দাগ আর চিকন দাগ বইলা কিছু আছে কীনা আমার জানা নাই। রসিকতা মানেই কোনো না কোনো ট্র্যাজেডি আছে সেইখানে। একটা সর্বজনগ্রাহ্য কৌতুকের চরিত্রগুলির নাম পাল্টাইয়া দিলেই সেই কৌতুকটা কোনো গোষ্ঠীর জন্য ব্লাসফেমাস হইয়া উঠতে পারে। স্বৈরাচারী এরশাদের নামে যতো কৌতুক আছে সেইসব শেখ মুজিবরের নামে চালাইলে হয়তো এই দেশে থাকাটাই দুঃসহ হইয়া উঠতে পারে। আবার যেই কৌতুক ভারতের নামে চালাইলে মনোকষ্ট তৈরী হয় সেইটাই পাকিস্তানের নামে উপস্থাপিত হইলে আমরা হাততালি দিতে পারি। বিষয়টা একেবারেই রাজনৈতিক হয়। যেই কৌতুক আপনের আমার কাছে নির্দোষ সেই কৌতুকেই হয়তো সমাজের প্রান্তিক সদস্য হিসাবে একজন নারী মাইন্ড খাইয়া বসতে পারে। কৌতুক বিষয়টা একদমই আপেক্ষিক অনুধাবন। আপনের পোস্টের কৌতুকটা আমি প্রথমে বুঝতেই পারি নাই...কেনো ঐ কৌতুকে হাসতে হইবো এইটাই বুঝি নাই, অন্যদিকে রায়হান ভাইয়ের কাছে ঐটা বেশ ইন্টেলিজেন্ট মনে হইছে। এমন হইতেই পারে বইলা আমি মনে করি। আমার পোস্টেও এই বিষয়টা স্পষ্ট করছি।
আপনি জানেন আমি নীতিমালার কঠোরতা নিয়া সবচাইতে অনাগ্রহী মানুষ। ডুয়াল পোস্টিং এমনকি জামায়াত-শিবিরের সমর্থক কারো উপস্থিতিও আমি মাইনা নিতে আগ্রহী। একান্তই ব্যক্তিগত কোনো দুর্বলতা নিয়া আক্রমণকারী বাদে আর কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নাই আমার। আমরা বন্ধু ব্লগেই সাহাদত উদরাজী নামের একজন ব্লগার আমার গায়ের রঙ নিয়া আক্রমণ করার পরেও আমি কর্তৃপক্ষের কাছে কোনোরকম অভিযোগ নাজেল করি নাই। এই সব নিয়াই বাংলা ব্লগ কমিউনিটি তৈরী হইছে বইলা মনে করি। আমার অপছন্দের অনেক লোক থাকতে পারে কিন্তু কখনোই একজন পুরনো বয়স্ক ব্লগার হিসাবে আমি ব্লগ কর্তৃপক্ষের উপর নিজের পছন্দ চাপাইয়া দিতে চাইছি তার উদাহরণ দিতে পারবে না কেউ।
আপনার মনে আছে কীনা, আমরা বন্ধু ইয়াহু গ্রুপে আমি শিশিরের সাথে টানা একমাস ছয় দফা আর ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়া তর্ক চালাইছিলাম। শিশিরের অবস্থান নিয়া কিন্তু তখন গ্রুপের অন্য সদস্যদের নানা টানাপোড়েন ছিলো। আমাদের একজন সেনাবাহিনী অফিসার বন্ধুর সাথে সেনাবাহিনীর যৌক্তিকতা নিয়া, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অবস্থান নিয়া কতোদিন তর্ক করছি...যার শুরুতে অনেক বন্ধুরে ভয়ও পাইতে দেখছি। আপনের তো আমার ধরণ জানা থাকার কথা, এই দাবীতো আমি করতেই পারি, নাকি?
মডারেশনের কঠোর নীতিমালা নিয়া আবারো বলি, এই ধরণটা আমার নিজের পছন্দের জায়গা না একেবারেই। আমরা বন্ধু কর্তৃপক্ষের কাছে আমার দুইটা দাবী ছিলো তারমধ্যে তারা একটা রাখছে। সদস্যত্ব প্রদানের ব্যারিয়ার নিয়া আমরা বন্ধুর শুরুতে আমার ভিন্ন অবস্থান আমি একটা গুগল গ্রুপে ক্লিয়ার করছিলাম, আপনিও সেই গ্রুপের সদস্য ছিলেন। আমার অনুরোধে পাল্টানো সুবিধা নিয়া দেখেন এই পোস্টেই ইন্টেনশনাল একজনের আগমন ঘটছে। আমি তার ইন্টেনশনরে আমার মতোন কইরাই মন্তব্য করছি কিন্তু তার উপস্থিতি নিয়া ব্লগ কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ জানাই নাই।
আশা করবো আপনি আমাদের একটা মুহুর্তে ঘইটা যাওয়া বিষয়রে ঐ মুহুর্তের বিষয় বইলাই মানবেন। সেইটা মনে রাইখা আমাদের আপনার সান্নিধ্য বঞ্চিত করবেন না। বন্ধু হিসাবে তো আপনেরে কাছের মনে করি। আর তাই তো আগের অনেক সময়ের মতোই স্পর্ধিত হই।
ভালো থাকবেন। পত্রিকায় বাড়তি দায়িত্বের ফাকেও আমাদের সাথে ব্লগিং করবেন।
মাসুম ভাই, কে কিভাবে নিল এ নিয়ে আর আপনার ভাবার দরকার নাই। আমি আর এখানে কমেন্ট করবো না।
অনেক ভালো থাকুন।
মাসুম ভাই আপনার আমরা বন্ধু ছেড়ে দেওয়াটা একটা অবাক করা সংবাদ, আর সেটা আপনার কৌতুকের কারণে, বিষয়টা আরও চমকপ্রদ। কৌতুক বিষয়টাই সব সময় অন্য কাউকে হেয় করে, পলিটিক্যালী কারেক্ট জীবন এবং পলিটিক্যালী কারেক্ট কৌতুক নিরামিষ, আমাদের বেঁচে থাকবার জন্য সুষম খাওয়ার দরকার, অনেক শাকসব্জী খেলেই হবে না নিয়মিত আমিষও লাগে, আমিষাসী কৌতুকও দরকার এজন্যই।
নীতিবাগীশ হাজার চোখের আড়াল খুঁজে, মডারেশনের ফাঁক খুঁজে লেখাটা বিড়ম্বনার, তারপরও লিখেন।
মাসুম ভাই অনেক এ্যাডাল্ট জোক পোস্ট করে মাঝে মাঝেই। সেইটা নিয়া আপত্তি তুলেনাই কেউ। সেক্সিস্ট জোক-এ মানুষ আপত্তি তুলতেই পারে। যেইরকম গায়ের রং নিয়া কোন কৌতুকে আপত্তি তুলতে পারে মানুষ।
'সেক্সিস্ট' শব্দটার মধ্যে 'সেক্স' শব্দটা আছে বইলা মানুষ ঐটা জেন্ডার না ভাইবা যৌনকর্ম ভাবতেছে দেইখা মজা পাইতেছি অনেক। 'আমিষাসী' কৌতুক নিয়া কথাটা উঠেনাই, কথাটা উঠছে 'সেক্সিস্ট' কৌতুক নিয়া। সব এ্যাডাল্ট জোক সেক্সিস্ট না, আবার সব সেক্সিস্ট জোক এ্যাডাল্ট জোক না। সেক্সিস্ট কৌতুকরে সেক্সিস্ট বলাটা দোষের কিছু বইলা আমার মনে হয়না। 'পলিটিক্যাল কারেক্টনেস' আমরা সবাই চাই। এই কারনেই জনগনের মধ্যে বহুল প্রচলিত 'আল্লার মাল আল্লা নিয়া গেছে' কিংবা 'আপনারা একটু কম খান' এই ধরনের কথা কোন মন্ত্রী কইলে আমরা চিল্লাচিল্লি কইরা ফাটায়া ফেলি। যাই হোক, পোস্টের কোনকিছু খারাপ লাগলে বলা যাবেনা, কেউ কইলে তারা 'নীতিবাগীশ' এই জায়গাটার মধ্যে একটা বিশাল সেল্ফ স্যাটিসফায়েড ব্যাপার আছে।
মাসুম ভাই, আবারো কই, আপনারে পারসোনালি কিছু বলিনাই, শুধু একটা সেক্সিস্ট জোকরে সেক্সিস্ট কইছিলাম। এই একখান ব্যাপারে আপনার সাথে আমার সম্পর্কের কোন সমস্যা হবে এইটা আমার মনে হয়নাই। আর আপনার সাথে আমি এই কারনেই কোন যোগাযোগ করিনাই। আপনার ব্লগ ছাইড়া দেয়াটা একটা ছেলেমানুষি লাগছে আমরা কাছে। বড় বড় মানুষরা ছেলেমানুষি করতে পারবেনা এইরকম কোন নিয়ম নাই, বরং ভাল লাগে ছেলেমানুষি দেখলে। আপনারে ভাল পাই। আবার লেখেন।
সম্পর্ক খারাপ হবে কেন? শুনলাম ইফতারির দাওয়ার দেওয়ার একটা পরিকল্পনা নিতাছেন? মেনু কি?
২২ তারিখ জন্মাষ্টমীর বন্ধ নাকি...চইলা আসেন। আমি ভাস্কর কিংবা আনিকারে ম্যানেজ কইরা খিচুড়ি মাংস রান্ধাইয়া রাখবো, ঐটা দিয়া দুপুরে যদি লোকজন আসে তাদের লাঞ্চ আর বিকালে আসা রোজদারদের ইফতারি দুইটাই হবে। আর ধরেন আপনেরা হাতে কইরা যদি কয়টা মুড়ি, পিয়াজু নিয়া আসেন তাইলে তো আরো ভাল :প
ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের কাছে মানুষের চাওয়া আলাদা, প্রতিষ্ঠানকে পলিটিক্যালী কারেক্ট হতে হয়, চেষ্টা করতে হয় সেক্যুলার হতে, ব্যক্তিকে এইসব যন্ত্রনা মেনে নিতে হয় না।
মন্ত্রীরা যখন কোনো উল্টোপাল্টা কথা বলে তখন সে ব্যক্তি হিসেবে বলছে না, বলছে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসেবে, সে কারণে তার কথার এত প্রতিক্রিয়া দেখায় মানুষ।
মাসুম ভাই ব্যক্তি হিসেবে পলিটিক্যালী কারেক্ট নাও হতে পারেন , সেক্যুলার হওয়ার দায়ও তার নেই, বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য তিনি করতে পারেন, তিনি সমকামী বিবাহ অপছন্দ করে সেটার বিপক্ষে বক্তব্য রাখতে পারেন, তিনি যেহেতু কোনো প্রতিষ্ঠান নন সুতরাং সেটাকে আমি অন্যায্য ভাবি না।
আমরাবন্ধু ব্লগ যদি কোনো প্রতিষ্ঠান হয় এবং সে প্রতিষ্ঠানের যদি নারীহেনেস্তাবিরোধী কোনো নীতিমালা বিদ্যমান থাকে কিংবা অপরাপর পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকতে চাওয়া নীতিমালা বিদ্যমান থাকে তাহলে তারা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন এবং আমার ধারণা সেটাই হয়েছে।
মাসুম ভাইকে যতটুক চিনি তাতে ব্যক্তি হিসাবে তাকে বর্ণবিদ্বেষী, নারীবিদ্বেষী কোনটাই মনে করিনা। একটা মানুষ এই সমস্ত কিছু না হয়েও এইরকম জোক পোস্ট করতে পারে, বুঝে কিংবা না বুঝে। সেইটা তার স্বাধীনতা। কিন্তু সেখানে আরেকজন, যে এই জোকটাকে আপত্তিকর ভাবে, সেও আপত্তি জানাইতেই পারে, এইটা ছিল আমার বক্তব্য। তারপর যেইটা চলতে পারে সেইটা হইল তর্ক, কিন্তু ঐদিন কোন এক কারনে মাসুম ভাই পুরাটা পারসোনালি নিয়া নিছিলেন। পারসোনালি আমি স্টিরিওটাইপিং, সেক্সিস্ট, রেইসিস্ট, ডিস্ক্রিমিনেটিং জোক পছন্দ করিনা। সেইটা আমি দেখলে আমার বক্তব্য রাইখা আসবো। 'নীতিবাগীশ' ট্যাগিং-এর কোন কারন নাই, যেহেতু এই সংক্রান্ত কোন নীতিমালা নাই। ঐ পোস্টে যারা আপত্তি জানাইছে তারা নীতিমালা নিয়া কোন টানাটানি করে নাই। যার যার মত কইরা তাদের খারাপ লাগাটা জানাইয়া আসছে।
আপনার ধারনা ঠিক না, আপত্তি প্রতিষ্ঠান থেকে আসেনাই, আসছে কয়েকজন মানুষের কাছ থেকে। আর আমার জানামতে আমরা বন্ধু থেকে এই সংক্রান্ত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নাই। নীতিমালা নিয়ে যেই গ্যান্জাম সেইটা অন্য প্রসংগে, তার সাথে এই গল্পের কোন সংযোগ নাই।
ভাস্কর দার জন্য,

বহু পুরানো একজন ব্লগার আমারে ফোন কইরা কয় ভাস্কর যে এরকম একটা পোস্ট লিখতে পারে এটা নাকি তার বিশ্বাস হচ্ছে না। আপনার অনেক বদল হয়েছে বলেই তার মনে হচ্ছে এবং এই বদলে যাওয়াটা ইতিবাচক বলেই তার ধারণা।
সত্যি বলতে আমিও একটু অবাক হইছি। আর আমার একটা নির্মোহ মূল্যায়ন পাইলাম, এইটা বিশেষ ভাল লাগছে আমার। আমার ধারণার সাথে মেলে।
আপনারে শুভেচ্ছা
সবার জন্যে লিখপে না,
পরমান চান?
পোস্টের পর মন্তব্যগুলো পড়তে পড়তে একটা বড়সড় মন্তব্য করবো বলে মনে মনে সাজাচ্ছিলাম। মাসুম ভাই ফিরে এসে মন্তব্য করে আমার মন্তব্য করার আকাঙ্খার বারোটা বাজিয়ে দিলেন!
যে কয়েকজনের লেখা পড়ার জন্য আমরা বন্ধু ব্লগে নিয়মিত আসি মাসুম ভাই তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন। মাসুম ভাই আবার নিয়মিত লিখবেন তার শত কাজের ফাঁকে - এই আশাটা জানিয়ে গেলাম।
মাসুম ভাই চিরজীবী হোক।

ঘটনা তো দেখি অনেক প্যাচ খেয়ে গেছে। প্যাচ ঘোচ ইদানিং মাথায় ঢুকে না, কামলা খেটে খেটে সাদাসিধা গোবেচারা হয়ে গেছি।
এনিওয়ে মাসুম ভাই, আপনার ব্লগ পড়তে কিন্তু বেশ ভাল রকম ভাল লাগে। তাই সেই জিনিসগুলো আর পড়া হবে না সেটা ভাবতে ভাল লাগছে না। আর এবিকেও আমার একটা ফ্যামিলি ফ্যামিলি লাগে। মাঝে মাঝে এখানে এসে দেখে যাই কে কি করছে। সেখানকার পরিচিত পরিবেশটা আপনাকে ছাড়া খালি খালি লাগবে। সবকিছু ভুলে থেকে গেলে ভাল হত।
সেই বিখ্যাত নারী বিদ্বেষী গল্প বা কৌতুকটা পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে। আমাদের প্রগতিশীল নারী ব্লগাররা হঠাত কেন সেটাকে এত আপত্তিকর মনে করে সৌদি রক্ষনশীল হবার চেষ্টা চালালেন জিনিসটা ইন্টারেষ্টিং।
ঢাকা শহরে তিনদিন ছিলাম। বাবারে যেই রকম গরম আর জ্যাম। লোকজনের মাথা এমনেই আউলা। এইজন্যে কৌতুক নিয়েও সিরিয়াস কথাবার্তা, বিতর্ক ইত্যাদি ইত্যাদি হয়ে যায়। আরে বাবা সবসময় এত ভেবে ভেবে জীবন চালালে তো লাইফটা জেল খানা !
আবারও বলি ভাইজান, থেকে গেলে ভাল হত।
আমাদের প্রগতিশীল নারী ব্লগাররা হঠাত কেন সেটাকে এত আপত্তিকর মনে করে সৌদি রক্ষনশীল হবার চেষ্টা চালালেন জিনিসটা ইন্টারেষ্টিং।
মন্তব্যটা প্রচণ্ডভাবে আপত্তিকর মনে করছি।
লেবু বেশি চিপলে তিতা হয়ে যায়, এটা মনে করে এনিয়ে আর কোনো মন্তব্য করিনি। ভেবেছিলাম, প্রয়োজন নেই। কিন্তু একটা পোস্টে গিয়ে তার একটা অংশ নিয়ে আপত্তি জানানোর ফলে যে এতগুলো বিশেষণ পাবো, বুঝিনি। বক্র কথা বলে ব্লগিং করতে চাই, আমার মন্তব্যটা "চলতি প্রজন্মের বেহুদা ক্রিয়াকর্ম" ছিলো, এবং "সৌদি রক্ষনশীল হবার চেষ্টা" করছি ইত্যাদি-- এতকিছুর পর মনে হোলো কিছু বলা উচিত। সৌজন্যতাবোধ বজায় রেখে কোনো মন্তব্য করার স্বাধীনতা আমার আছে বলেই মনে করেছিলাম।
এর আগে সৌদি আরবের একটা আইন চালু নিয়ে মাসুম ভাইর পোস্টে আপত্তি জানানোর পর মাসুম ভাই বুঝতে পেরেছিলেন অনুভূতির জায়গাটা। একারণেই মূলত মনে হয়েছিল এখানেও আমি বুঝাতে পারবো কিছুটা হলেও। আমার এখানে যে সব পোস্ট ভালো লাগে, আমি যদি "ভালো লেগেছে" জানাতে পারি, তবে খারাপ লাগলে সেটা জানালেই কেন ২/৩ বছর একত্রে ব্লগিং করার পরেও, যাদের বড়বোনের মতই শ্রদ্ধা করেছি, আমার বক্র ব্লগিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের মত আনকমন মনে হয়নি আমার কাছে আমার মন্তব্যটা।
মাসুম ভাই, আমার মন্তব্যের উত্তরে আপনি "আমার পোস্ট থেকে দূরে থাকো" "ফারুক ওয়াসিফের মত নারীবাদী সিনড্রোম" ইত্যাদি -- এগুলো বলে ব্লগ ছেড়ে গেলে আমাদের কমেন্ট এর সম্মান দেওয়া হয়, আপনার কেন মনে হোলো জানিনা।
আপনারা অনেক ভালো থাকুন। হ্যাপি ব্লগিং !
সব কথার শেষ কথা , মাসুম ভাই ঠিক মতন তো আসতেছেন আবার ???
মন্তব্য করুন