বিড়ালের গলায় তবে ঘণ্টাটা বাঁধতেই হয়...
পুলিশ কোনো এককালে এই দেশে জনগণের সেবক ছিলো। বা একটা গল্পের শুরু হইতে পারে এক দেশে এক সৎ পুলিশ ছিলো। কালের প্রবাহে সততা আর পুলিশত্ব এই দুই বিশেষণ আর ক্রিয়া পদ যেনো আজ তেল আর জল। তারা একসাথে মিশে না। তাপমাত্রা বাড়লে ছিটকাইয়া উঠে। যারা কাছাকাছি থাকে তারা তেল কিম্বা জলের আক্রমণের শিকার হয়। শরীরে ফোষ্কা পড়ে। আমাদের প্রত্যাশা হইলো সততা আর পুলিশের কর্মকাণ্ড তার পুলিশত্ব এই দুইয়ের দা-নকুল সম্পর্কের দায়ে আমরা সামাজিক ফোষ্কা নিয়া ঘোরাফেরা করি। সেই ফোষ্কার কোনো প্রতিষেধক নাই। ধীরে ধীরে আমরা মাইনা নিতে শুরু করি, পুলিশ মানে সমাজের সেই ক্ষমতার অপব্যবহারকারী অংশ যারা আমাদের আরোপ কইরা দেয়া চাওয়া-পাওয়া দিয়া চলে না। তাদের সামাজিক উপস্থিতি কেবল সহজ উপায়ে ধনী হইবার জন্য। পুলিশের আত্মীয়-স্বজনরাও এই সমাজে নিরাপদ থাকে। অপরাধ আর অপরাধীরে নিষ্কণ্টক করবার জন্যই এখন প্রত্যেক ঘরে ঘরে একজন কইরা পুলিশ জন্ম দিবার শপথ নিতে হইবো দেশবাসীরে।
পুলিশ কোনোকালে জনগণের সেবক ছিলো, এইরকম একটা মীথ আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজে প্রচলিত ছিলো। অথচ প্রচলিত গল্পে আমরা উল্লেখ পাই প্রশাসনের অর্গানোগ্রাম ধরতে না পারা গ্রামীণ সরল সোজা নিম্নবর্গীয় মানুষেরা এলাকার দারোগাবাবুরে ক্ষমতার আল্টিমেইট ভাবতো। অনেক গল্প উপন্যাসেও পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার ভালোভাবেই অনুভূত হয়। একজন পুলিশ লেখক আবু ইসহাকের নামে অভিযোগ ছিলো তিনি কোনো এক অজ্ঞাত লেখকরে মামলার ভয় দেখাইয়া সুর্য দীঘল বাড়ি'র লেখক সত্ত্ব কাইড়া নিছিলেন। যেই কারনে আবু ইসহাকের আর কোনো লেখা পাওয়া যায় না ঐ মানের, একটা দুর্বল ডিটেকটিভ উপন্যাস জাল ছাড়া।
এই অঞ্চলে ছিলো জমিদার শাসন। তারা নিজেগো সুবিধা অনুযায়ী তাগো মাবুদ পাল্টাইছে। সবসময় এলাকার রাজা বা অধিপতিগো খাজনা দেয়ার বিনিময়ে নিজেগো জমিদারী অটুট রাখছে। তখন মূলতঃ কর আদায়ের জন্য বা কোনো প্রয়োজনীয় অনৈতিক দখলদারীর জন্য জমিদাররা তাদের নিজেদের লাঠিয়াল বাহিনী পুষতো। এই লাঠিয়াল বাহিনী জমিদারের তাবেদারীর বিনিময়ে ভালো মাসোহারার পাশাপাশি ক্ষমতাও পাইতো অসীম। লাঠিয়াল শব্দটাই যেই কারনে বাঙালির জীবনযাপনের ইতিহাসে অন্যায়ের সমার্থক হইয়া গেছে। সম্ভবতঃ এই লাঠিয়াল সংস্কৃতি্ই আমাদের এতদ অঞ্চলের প্রাচীন পুলিশিং।
তবে জমিদারী প্রথার অবসান হইলে বৃটিশরা তাদের উদ্ভাবিত পুলিশিং কনসেপ্ট ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যান্য জায়গার মতোন বাংলাতেও চালু করলো। এই দারোগারা তখন হইতো ইংরেজ তাবেদার, তারা ইংরেজগো কাছকাছি থাকনের সুযোগ নিয়া বহু কুকর্ম জারী রাখছে বাংলার ভূখণ্ডে। এই সময়টাতেই খাকী পোশাকের হিটলারী গোফের দারোগা পুলিশের যেই আইকনিক পুলিশী ইমেইজ, তার উৎপত্তি হয়।
অহেতুক এতো ইতিহাস কপচাইতেছি। হয়তো পুলিশ কোনো এক কালে জনগণের সেবক ছিলো, হয়তো কোনোকালেই তারা ক্ষমতার তাবেদার কর্মচারী বাদে আর কিছু ছিলো না। তাতে বর্তমান অবস্থা নিয়া মূল্যায়ণ কি সামান্য পরিমাণেও পাল্টায়? পাঁচ বছর আগে পুলিশ সম্পর্কে পত্রিকাগুলিতে রিপোর্ট পাইতাম তারা মিথ্যা অভিযোগ দিয়া মানুষরে থানায় নিয়া নির্যাতন করতেছে চাঁদা আদায়ের জন্য। একবার এক পুলিশ একটা অবৈধ যৌনব্যবসার সাথে জড়িত থাকার জন্য খুন হইছিলো। এই ঘটনার পর পুলিশের মনে হয় টনক নড়লো টাইপ একটা নড়া চড়া দেখা গেলো কিছুদিন। কিন্তু আবার যে কে সেই। অবৈধ মাদকসেবন, নারী কেলেঙ্কারী, অস্ত্র চোরাচালানী'র গণ্ডি পার হইয়া পুলিশ এখন পেশাদার খুনির মতোন আচরণ করতেছে।
এই খুনের শুরু ২০০৪-এ তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি'র ছত্রছায়ায়। এক নতুন বাহিনী গইড়া তোলা হইলো, ড়্যাট-ড়্যাফ বিভিন্ন সংশয় পার হইয়া যার নাম দাঁড়াইলো ড়্যাব। তারা বিশেষ ক্ষমতা পাইলো গঠনগন্ত্র অনুযায়ী। কোনোরকম জবাবদিহিতার বিধান ছিলো না তাদের। শুরুতে এমন বলা হইতেছিলো যে এই বাহিনী একেবারে শেষমুহুর্তে তাদের টার্গেটরে গুলি করার আগে কেবলমাত্র পরিচয় উন্মোচন করতে বাধ্য। শুনতে বেশ রোমাঞ্চকর লাগে। সেই বাহিনীর শুরুতে সেনা-নৌ-বিমান বাহিনীর সদস্যদের সাথে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও অন্তর্ভূক্ত হইলো। আমার এক পরিচিত বড় ভাই ঐ সময়টাতে এই বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার পর আমারে বেশ গর্বের সাথে জানাইছিলো। এই বড় ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ে করতেন আওয়ামি ছাত্রলীগ, একবার নির্বাচনে অংশ নিছিলেন...সেই নির্বাচনে ক্যাম্পাসে মাদকদ্রব্যের হুলস্থুল পড়ছিলো। বিনা পয়সায় এতো এতো ফেন্সিডিল-গাঁজা-হেরোইন ছড়াইয়া সে জিততে না পারলেও তার প্রতিপক্ষ জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের নেতাকর্মীগো ভোটও যে সে পাইছিলো সেইটা ভোটের অংকে প্রমাণিত, আর সেই তথ্য বড় ভাই গর্বের সাথেই আমাগো শুনাইতেন।
যাই হোক, ড়্যাব বাহিনী'র শুরুতে ক্রসফায়ার শুরু হইলো, বেশ কিছু শীর্ষ সন্ত্রাসী মারাও গেলো। সাধারণ মানুষের একাংশ এই পদক্ষেপে খুশিই হইলো। যেহেতু তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প জানা নাই। পুলিশ তখন সন্ত্রাসীগো জিম্মাদার। তাদের ক্ষমতার বলয় ড়্যাব প্রশ্নের সম্মুখিন কইরা তুললো। সরকার ড়্যাব আর পুলিশরে মুখামুখি কইরা দিলো। আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে পড়লো পুলিশের সদস্যরা। শুরুতে তাই পুলিশবাহিনীর অসহযোগ ছিলো ড়্যাবের কর্মকাণ্ডে। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা গুছাইয়া উঠলো। তারাও ক্রসফায়ার শুরু করলো আইজিপি নূর মোহাম্মদের আমল থেইকা। একটা দেশের আইন ও বিচার বিভাগ কতোটা ভঙ্গুর হইলে এমন ক্রসফায়ারের প্রয়োজন পড়ে!
এই ক্রসফায়ারে কিছু সন্ত্রাসী মারার পর শুরু হইলো দেশের চরমপন্থী নামে খ্যাত রাজনৈতিক শিবিরের নেতাকর্মীদের খুন করা। এই খান থেইকাই প্রশ্নবিদ্ধ হইতে শুরু করলো ড়্যাব আর পুলিশের খুন জখমের মহোৎসব। ড়্যাব আর পুলিশের হাতে চরমপন্থীদের সন্ত্রাসী অংশের নেতা-কর্মীরা বাদেও যারা এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেইকা বের হইয়া বিকল্প রাজনৈতিক আচরনের চেষ্টা করতেছিলো, তাদের ভাষায় বলা যায় শ্রেণী শত্রু খতমের লাইন থেইকা বের হইয়া রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করতে চাইতেছিলো যারা, তাদেরও কয়েকজনরে যখন ড়্যাব আর পুলিশ খুন করলো। মোফাখখর চৌধুরী কিম্বা ডাঃ টুটুল হত্যার মধ্য দিয়া প্রথম উন্মোচিত হইলো এই ক্রসফায়ার কেবলি সমাজের বাইড়া ওঠা ক্যানসার অপসারনের পদক্ষেপ না, বরং এইখানে সমাজের সুবিধাভোগী শ্রেণীর সহযোগ আছে, তাদের চক্রান্ত কাজ করতেছে।
এরপর পুলিশ আর ড়্যাব মিলা শুরু করলো সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার। ড়্যাব আর পুলিশে যাদের আত্মীয়স্বজন কিম্বা পরিচিত ছিলো তারা তখন তাদের শত্রুদের ক্রসফায়ারের হুমকী দিতো। এই হুমকী কালা জাহাঙ্গীর কিম্বা সুইডেন আসলামের চান্দাবাজীর হুমকীর চাইতেও জোরালো শুনাইতে থাকে। একটা সময় পর্যন্ত দেশের মিডিয়াগুলিও ড়্যাব আর পুলিশের ক্রসফায়ারের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডরে জায়েজ করতো প্রচারের ধরনে। তবে দেদারসে শুরু হওয়া ক্রসফায়ার বাণিজ্য মিডিয়ারও টনক নড়াইলো। খুব বেশিদিন আগে না, এই বছরের শুরুতেই লিমন কাণ্ডের পর তারা বেশ জোরেসোরেই নামলো। কিন্তু তার আগেই সাধারণ মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যা যে সুবিধাভোগীদের অস্ত্র হইয়া উঠছে সেইটা টের পাইতে শুরু করছে।
দেশের বেশ কিছু মানবাধিকার নিয়া কাজ করা সংস্থা আর প্রগতিশীল বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা করে এমন বেশ কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশ আর ড়্যাবের এই কর্মকৌশল নিয়া লেখালেখি শুরু করেন। বিএনপি হইয়া গতো সামরিক তত্ত্বাবধায়ক আমল পার কইরা আওয়ামি লীগের ক্ষমতা পরিচালনার আড়াই বছরাধিককালে ক্রসফায়ার নতুন নাম পাইছে মিডিয়ার প্রকাশে। এখন বাংলাতে কোওট-আনকোওট বন্দুকযুদ্ধ লেখা হইতেছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী-চরমপন্থী-মহল্লার মাস্তান পর হইয়া এখন ব্যক্তিগত শত্রুতার লক্ষণেও এইরকম বন্দুকযুদ্ধ হয়।
তবে ক্রসফায়ার নিয়া পত্র পত্রিকায় লেখালেখি শুরু হওয়ার পর মনে হয় পুলিশের নীতিনির্ধারকেরা গবেষণা করতে বসে কি করলে বিষয়টা আবার গ্রহণযোগ্যতা পাইবো জনমানুষের মধ্যে। এই গবেষণার ফলেই নতুন আরেক কৌশলে মাতছে আমাদের তাবেদার পুলিশ। আমিনবাজার আর নোয়াখালিতে ঘইটা যাওয়া ঘটনা তারই প্রামাণ্য। আমিনবাজারে ছয় ছাত্র হত্যায় শোনা যায় ড়্যাবের সোর্স সন্দেহে প্রথম আক্রমণ করে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়িরা। এর মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যের অনুরোধে একজনরে বাঁচাইয়া রাখা হয়। তারমানে কথিত গণপিটুনির সময় ঐ পুলিশ সদস্যের গাইডেন্স ছিলো পুরামাত্রায়। তারপর বিষয়টারে গণপিটুনি বইলা প্রচার করা হয়, যদিও তা পুরাপুরিই ভেস্তে গেছে।
নোয়াখালিতে বিষয়টা আরেকটু সোজাসাপ্টা ঘটে। তিন পুলিশের হাতে টাকা পয়সাসহ তুইলা দেয়া হয় একজন ষোল বর্ষীয় কিশোররে। তারা টাকা পয়সা রাইখা দিয়া ছেলেটারে কথিত ডাকাত বইলা বাজারের মানুষের হাতে তুইলা দেয়। দু্ইটা ঘটনাতে একটা আচরণ একরকম লাগে। দুই ঘটনাতেই পুলিশ সাধারণ মানুষের অপরাধ আর অপরাধী সম্পর্কীত ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার ভীতিরে কাজে লাগাইতে চাইছে। ক্রসফায়ারের অপরাধ এই গণপিটুনির কারনে যেনো খানিকটা লঘু হইয়া পড়ে। ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে পুলিশ আর ড়্যাবের যেই সম্মানহানি ঘটছে সেইটার দায় কিছুটা জনমানুষও বহন করতে শুরু করে। তারাও যে পুলিশ আর ড়্যাবের মতোই কথিত অপরাধীদের বিচার ব্যতিরেকেই খুন করতে আগ্রহী সেইটা প্রমাণ করতেই যেনো এইসব গণপিটুনির উদাহরণ তৈরীর চেষ্টা।
গতোকাল রংপুরে একজন ব্যবসায়িরে অপহরনের পর খুন কইরা বৈদ্যুতিক খুটির সাথে ঝুলাইয়া রাখার খবরের পর একজন এসআইয়ের জড়িত থাকার সংবাদ পাইয়া মনে হইলো আমি বেশ কিছুদিন মজা কইরা যা বলতেছিলাম, সেইটাই সত্য হওয়ার পথে। এখন পুলিশের সদস্যরা ভাড়াটিয়া খুনি হিসাবেও অংশ নিতেছে। এই আশংকা আমারে আসলেই উদ্বেগী করে। লাইসেন্স আর ট্রেনিং পাওয়া খুনির বিচার করবো কে? যেইখানে একই দিনের খবর হইলো সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ'র মামলার তদন্ত রিপোর্টেও পুলিশ গোজামিল দিছে। সম্ভাব্য কারণ পুলিশ রসু খাঁ'র টাকা খাইছে। পুলিশ সব পারে এখন। অচিরেই পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়া আমার আপনের ঘরে ঢুকবো যা মনে চাইবো সেইসব নিজের মনে কইরা তুইলা নিয়া যাইবো, অথবা ধর্ষণ করবো যখন যেই নারীরে ইচ্ছা। সমস্যা হইলো এদের হাত থেইকা তখন বাঁচার উপায় থাকবো না আমার কিম্বা অন্য কারো। আর কৌতুকটা হইলো দেশবাসীর ট্যাক্সের টাকাতেই এই খুনি-সন্ত্রাসীদের পোষা হইতেছে।





হিংসাপরায়ন, অযোগ্য, নীচুমনের মাতারি শ্রেনীর নেতৃত্ব দেশব্যাপী অরাজকতার মূল। শুধু পুলিশ না সব ক্ষেত্রেই এখন চরম ডিসএ্যারে।
সবজায়গাতেই বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য আছে তা সত্য, কিন্তু পুলিশের ট্রেনিং-অস্ত্র আর আইন বিভাগের সহযোগিতামূলক ভূমিকার জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করবার সুযোগ বেশি। আর সেই সুযোগটা নিয়া পুলিশ সম্প্রদায় একেবারে অফিসিয়াল ধরনে চান্দাবাজি কইরা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে। অপরাধী-চোর-ডাকাতের মতোন গোষ্ঠীকেন্দ্রীক থাকার চেষ্টা আর কি। পার্থক্য হইলো পুলিশ আইনের রক্ষক হিসাবে নিজের অ্যালিবাই তৈরী করতে জানে, আর অস্ত্র সংক্রান্ত ট্রেনিঙের জন্য সে নৃশংস হইতেও জানে মাত্রা ছাড়া।
আমিতো ভাবতাম সেনাবাহিনিতে থাকা দরকার একজন।
যেভাবে সরকার গুনডা পালতেছে, এটাই আমাদের ভবিষ্যত, এই দিকেই আগাচছে দেশ
তবে এই ভিডিও'র মতোন হইলে কিন্তু খবর আছে...কারে এইম কইরা ছোড়া গুলিতে কে মারা যায় কে জানে!
ঘন্টা বেঁধেও আদৌ কোনো লাভ হবে বলে মনে হয় না।
বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বান্ধার গল্পটা কিন্তু বিপ্লবাত্মক কোনো সিদ্ধান্ত না, বরং পলায়নপর ইদুররা বিড়ালের উপস্থিতি জানার জন্য বিলাইয়ের গলায় ঘণ্টা বানতে চায়। পুলিশরে যেহেতু আর পরিবতর্নের পথ নাই তাই তার উপস্থিতি আর মোটিভেশন জানা থাকাটা জরুরী। সেই অনুযায়ী আড়ালে থাকা যাবে...অনেক এস্কেপিস্ট ধারণা হইলেও এইটাই মনে হয় নিরাপদে জীবন যাপনের একমাত্র পথ।
মন্তব্যে উত্তম ঝাজা।
একটা সময়ে পুলিশের দ্বারা ঘটিত অনেক রেপ কেসের বিবরন পত্রিকায় পড়ার কারণে, আমি পুলিশকে প্রচন্ড ভয় পেতাম। আমি তখন ইউনির ছাত্রী, বালিকা না। আমার ট্রমা এই পর্যায়ে ছিলো যে আমার ভাই আমাকে সান্ত্বনা দিতো, এগুলো গ্রাম বা মফস্বলে বেশি হয়, তুই এতো ভয় পাইস না। এটা ফ্যাক্ট আমার জীবনের। ইউরোপে না এলে এখনো হয়তো সাইকো পেশেন্টের মতো আমি পুলিশ দেখলে উঠে ভয়ে দৌড় দিতাম রাস্তায়
পুলিশের সংস্কারের নামে ইউএনডিপির টাকা লুটপাট হয়।
বিজ্ঞাপনি সংস্থায় চাকরীর অভিজ্ঞতা থেইকা বিকল্প একটা দৃষ্টিভঙ্গীর কথা কইতে পারি, ইউএনডিপি লুটপাট করনের টাকা বেশ আগ্রহ ভইরাই দেয়।
আমার ধারনা দুর্নীতির এই ক্যাচ লুফালুফির খেলা আগামী ৩০/৪০ বছরেও ঠিক হওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। আমাদের প্রজন্ম নাও দেখতে পারি
পুলিশ কিন্তু এখন আর দুর্নীতিতে নাই, তারা এখন নীতিমালা বিনির্মাণে আছে।
ঘুষ খাওয়ার টার্গেট নিয়া চাকরি শুরু করলে এগো দ্বারা ভালো কিছু আশা করা বেকুবী। কোনো পুলিশের বাসায় গেলেই বোঝা যাবে ঘুষ কি হারে খাইতো বা খায় । সরকারের ধামাধরা না হইলে ঘুষ খাওয়া যায় না, ধামাধরা হইলে দোষ কি!
একটা সেক্সিস্ট মন্তব্য করি, যদিও পর্যবেক্ষনের মাধ্যমেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাইছি।
পুলিশ কি বিয়া করার পর বেশি ঘুষ খাই? নাকি ঘুষ খাইয়া বিয়া করে?
এইখানে সেক্সি শব্দ কোনটা নারু, বিয়া ?
দু্ইটাই ঘটে...আমি একজন পুলিশ সদস্যের কথা জানি যে ইয়াবা আসক্ত। এখন এই লোকের ইয়াবা'র খরচ মিটাইতেও তারে ঘুষ খাইতে হয়। সামাজিক নীতিবোধ আর চরিত্রের প্রকাশরে এমন সরলীকৃত পর্যবেক্ষণের দায়ে ফেললে তো হইবো না।
Sorry to say , আমরা জাতিগত ভাবেই খারাপ ।
মন্তব্য করুন