প্যাট্রিয়ার্ক
[উপলক্ষ্য পেলেই কবিতা বেজে ওঠে। কেবল অ্যালিগরীগুলো সাজিয়ে সাজিয়ে সময় কাটানো অথবা সময়কে কেটে অসময়ের সাইরেন বাজাতে উৎসুক হয়ে পড়ে সেল্ফ, স্রেফ কবিতার শব্দ বাক্যে। আমি এই কবিতা উগড়াইলাম জুডিথ বাটলারের পোস্ট স্ট্রাকচারাল এনালিসিস জেন্ডার ট্রাবল বইটা পড়তে পড়তে। অগাস্ট মাস এলেই মনে পড়ে একদিন নারীর অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলাম ভীষণ। মনে পড়ে শ্লোগানে শ্লোগানে মুষ্টিবদ্ধ ছিলাম পথের প্রান্তরে...]
পিতা তোমার অভ্যাসে আমি কেমন ডুবেছি দেখো
আমিও পুরুষ হয়ে অধঃস্তন করেছি নারীর মূদ্রালেখ্য;
খুঁজেছি নধর ঠোট
ভেজা ঠোটে এঁকেছি অনেক আঁকাবাঁকা
খেলুড়ে চুম্বন, তবু
তৃষ্ণা মেটে নাই বেলা-অবেলায়।
আহা! স্বপ্ন-স্বপ্ন ফ্যান্টাসীতে আমি
শরীরের চড়াই অথবা উৎরাই পেরিয়ে
পৌছে গেছি পুরুষালি ত্যাগের মহিমা
মেনে, কিম্বা কখনো না মেনে।
করপুটে কোমল পৃথিবী
গদ্যের মতোন
কর্ষণে কর্ষণে থির কঠোর হয়েছে।
তারপর কবিতার ছন্দ রীতি মেনে
আর্দ্রতার চাদর জড়িয়ে
যথারীতি পুরুষালি আবেগে সবেগে
নারীরে পরিচয়ের সংস্কৃতি শিখাই...
আহারে ফ্যান্টাসী! আহা পুরুষ জনম যায়!
পিতা, আমি বুঝে নিয়েছি কেমনে চলে
পুরুষ পুরুষ খবরদারী,
কেমনে আমায় টানটান দাঁড়িয়ে যেতে
হবে ইতিহাসের অব্যর্থ রুচীবোধ মেনে।
কেমনে জানিয়ে দিতে হবে,
কেমনে চিনিয়ে দিতে হয়
পূণ্য প্যাট্রিয়ার্ক...





এইটা হইলো সহজ নিয়মে পুরুষ হওয়ার শিক্ষা...
এক জেনারেশন থেকে আরেক জেনারেশনে এইতো পুরুষ হওয়ার শিক্ষা! যারা একটু সংবেদনশীল আচরন করে তাদেরকে বলে "ভেড়া"। দুঃখ লাগে এখানেই। কারো মধ্যেই কোন ট্রান্সফর্মেশন নাই। বাবা- দাদাদের যা করতে দেখে আসে সেটাই নিজের জীবনের একমাত্র ব্রত বলে মনে করে।
নারীর অধিকার কথাটাতেই একটু পুরুষালী গন্ধ আছে
এই তত্ত্বের বিস্তৃত ব্যখ্যা দেয়াটা জরুরী। আশা করি সেইটা নারীরাও মানুষ তাদের নারী বলে কোনঠাসা করা হচ্ছে এই টাইপ হইবো না। ব্যখ্যা না পাইলে এই অভিযোগ নিয়া কোনো আলোচনা করতে পারতেছি না। আপনি আগেও একবার এইরম বক্তব্যে পুরুষতন্ত্রের ট্যাগিঙ দিছিলেন মনে পড়ে...এমন জাজমেন্টাল আচরণ কেবল ঈশ্বররে মানায়, মানুষের দুনিয়ায় যুক্তি-বিশ্লেষণ দরকার হয়।
আপনে "নারীর অধিকার" কি জিনিস, এইটার ব্যাখা দেন আমিও আমার কথার ব্যাখা দেয়ার সাধ্যমত চেষ্টা করবো। নিজে না পারলে, অন্যরে ধরে আনবো ব্যাখা দিতে।
মহিলা সীট, মেয়েদের আলাদা মেধাক্রম, টিকিট কিনতে - বিল দিতে মেয়েদের আলাদা লাইন সবকিছুতেই আমার পুরুষালী গন্ধ লাগে। ইনক্লুডেড মেয়েলিপনা কথাটাতেও।
পুরুষতান্ত্রিক একটা সমাজে বা রাষ্ট্রে পুরুষ আর নারীর সম্পর্কের আর শরীরের রাজনীতিতে পুরুষ সবসময়েই বাড়তি অধিকার নেয়। নারীর অধিকার কইতে একজন নারীর যা চাওয়া তারেই মনে করি আমি, জাহাঙ্গীরনগরে যেমন নারীর অধিকার ছিলো যৌন নিপীড়িত না হইতে চাওয়া। ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন যেই কারনে নারী অধিকার আদায়েরও আন্দোলন।
মহিলা সীট আপনে সমর্থন করেন না বিষয়টা ঠিক আছে, কিন্তু এইখানেও সরলীকরণ করলেন। পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজ মহিলা সীটের বিধান দিছে কারণ সে পুরুষদের যৌন নিপীড়নের ধরণটা জানে। নিজেগো শুধরানোর চাইতে নারীরে দূরবর্তী রাখাটা সহজ বইলা সীট আলাদা কইরা দেয়া হয়। এখন পুরুষরা পরিবর্তীত মানসিকতা ধারণ না করা পর্যন্ত কি তবে যৌন নিপীড়ন চলতে থাকুক বইলা মনে করেন? যৌন নিপীড়নের শাস্তির বিধান দিয়াও কি পুরুষের নোংরামি বন্ধ করা সম্ভব হইতেছে বইলা মনে করেন? আমি মনে করি নারীর আলাদা সীটের বিধান সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হইলেও পুরুষের হাত থেইকা বাঁচার জন্য একটা সাময়িক পরিত্রাণ হইতেই পারে।
মেয়েলিপনা'র উল্লেখ কেনো করলেন বুঝলাম না। এইটাও একটু বিস্তৃত কইরেন উত্তরে।
যৌন নিপীড়ন এর শিকার মাদ্রাসার ছাত্ররাও হয়। তাই আমি বলবো মানুষের অধিকার আদায় কিংবা নির্যাতনের প্রতিবাদ করার আন্দোলন অনেক বেশি এপ্ররোপ্রিয়েট শব্দ।
মেয়েদের আলাদা সীট নির্ধারন করে দেয়ার মধ্যে আমি অন্যকিছু দেখতে পাই। তোমাদেরকে নির্দিষ্ট গুহা দিয়ে দেয়া হয়েছে, সেখানে মুখ গুঁজে থাকো। লড়াই করে নিজের অধিকার আদায় করার উৎসাহ ও উদ্দীপনা, পরিবেশ ছিনিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্রের প্রথম ধাপ হলো সীট নির্দিষ্ট করে দেয়া। সাময়িক পরিত্রান কিসের নাম আমি জানি না, কারণ কোন পরিত্রানই এই পর্যন্ত দেখি নাই চোখে। সমস্যা জিইয়ে রেখে আই ওয়াশের এই মেন্টালিটি কি কোন পার্মানেন্ট সমাধানের দিকে আমাদেরকে এগোতে দিবে? মানসিকতা কি আকাশ থেকে পড়বে নাকি আউট অফ ব্লু মুন গজাবে? লড়াই করে বাঁচতে হয়, হবে। সেটা আমাদের দেশের মেয়েরা যতো দ্রুত শিখবে ততোই আমাদের এই শব্দগুলো ব্যবহার করা কমবে।
আমার কাছে মেয়েদেরকে খাটো করে কথা বলার জন্যে বিভিন্ন সময় "মেয়েলিপনা" শব্দের উল্লেখটাকে এখানে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়েছে তাই উল্লেখ করলাম। বিস্তৃত করে বলার মতো এখানে আর কি আছে?
মাদ্রাসা ছাত্রের যৌন নিপীড়িত হওয়াটারে যদি আপনে সারাদেশের নারীদের সাথে এক কইরা দেখেন তাইলে আমার কিছু বলার নাই। এই ধরনের উদাহরণের পর কোনো যুক্তির ঠাই হয় না আলোচনায়। যেই মাদ্রাসার উদাহরণ টানলেন সেইখান থেইকাই দেশের পুরুষতান্ত্রিকতা নির্ভর রাজনীতির নেতৃত্ব জন্মায়। তারা ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোড অনুযায়ী নারী নীতির প্রণীত হওয়ার সম্ভাবনা দেখলেই কোরআন হাতে হরতাল করতে নামে। পুরুষতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে তাইলে আপনে কোন কৌশলের কথা ভাববেন?
এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আপনে কি আশা করতে পারেন? বড়জোর একটা লেডিস সীট। মানসিকতার পরিবর্তন নিয়া কইলেন...কিন্তু আপনি কি ভাবেন? কিভাবে এর পরিবর্তন সম্ভব? সমধিকার নামের সেই পুরুষতান্ত্রিক নারীবাদের আধুনিক কনসেপ্ট? পুরুষ যেইখানে ঠিক কইরা দিবো নারী কোথায় কোথায় সমান অধিকার পাইবো? নাকি নারী অধিকার আন্দোলনের মধ্য দিয়া নারীর অধিকার ঠিক হইবো?
মেয়েলীপনা বিষয়টা এইখানে আদৌ উল্লেখ্য মনে হয় নাই আমার কাছে। তবে আপনে যেহেতু তুলছেন তাই আমার উপলব্ধিটা বলতে পারি। মেয়েলীপনা বিষয়টা পুরুষের ঠিক কইরা দেওয়া একটা অ্যাটিচিউড। যাতে পুরুষের চোখে একজন নারী কমনীয় - রমনীয় হইয়া উঠে। পুরুষতান্ত্রিকতায় আবার এই মেয়েলীপনা বিষয়টারে গল্পচ্ছলে হেয় করাটাও স্মাটর্নেস। এ এক প্যারাডক্স...ভরা মজলিসে যেই ন্যাকামী দেখলে পুরুষ মেজাজ খারাপ করে, একান্ত পরিসরে আবার সেই ন্যাকামীই তারে উত্তেজিত করে।
নারী অধিকার আন্দোলনের মধ্য দিয়াই নির্ধারিত হইতে পারে পুরুষের পুরুষতান্ত্রিকতা কিভাবে দূর করা সম্ভব। পুরুষের নিয়মে-নৈতিকতায় যেই সমাজ গইড়া উঠছে সেইখানে এই বিষয়ক কমনীয় আলোচনা প্রচেষ্টা বৃথা...
আলোচনার গতিবিধী ঠিক ধরতে পারতেছিনা, ভাস্করের বক্তব্য কি? 'নারী অধিকার আন্দোলন' শুধুমাত্র 'নারী'দের অধিকারের আন্দোলন? সেইটাকে 'নারী'-র চোখ দিয়া দেখতে হবে এই ধরনের যুক্তি? তো 'নারী'-র চোখ কি পুরুষতান্ত্রিকতার বাইরে চইলা গেছে নাকি? সবকিছুই যদি পুরুষতান্ত্রিকতা হয় তাইলে যেই 'নারী' আন্দোলন হবে সেইটাও তো পুরুষতান্ত্রিক হইতে পারে।
"এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ" মানে আপনি কি পুরো পৃথিবীকে বুঝাতে চাইলেন নাকি এশিয়া নাকি শুধু বাংলাদেশ?
যেখানে যেখানে মেয়েরা মেয়ে না হয়ে কিছুটা মানুষের মর্যাদা পায়, সেখানে মেয়েদের জন্যে বাসে আলাদা সীট নেই। ঠেইল্লা গুতাইয়া বাসে ট্রামে উঠে, তাতে গুঁতাগুতিতে অভ্যস্ত হয়ে যায় ছোটবেলা থেকেই। দরকারমতো ব্যাটাদের লাথি মারতে হলে মেরে ফেলে, ঐযে অভ্যাস, লেডিস সীট ঐ অভ্যাস কখনোই আনতে পারবে না। আমার যেহেতু সুনীলের মতো পূর্ব পশ্চিম দুই বাসে ওঠার অভিজ্ঞতাই আছে, আপনার সাথে থিওরোটিক্যাল সমাজ বিল্পবের খুঁটা তর্ক এখানেই শেষ।
আমি যেহেতু ডারউইনের অনুসারী, আমি মনেপ্রানে বিশ্বাস করি, সারভাইভেল অফ দি ফিটেষ্ট। অধিকার কেউ কাউকে অর্জন করে দিতে পারে না, কখনোই না। অধিকার, মর্যাদা যার যারটা তার তার অর্জন।
নারী অধিকার/আন্দোলন টাইপ শব্দগুলা আমার কাছে, সুশীল স্বামীরা যেমন ড্রইং রুমে বসে গর্ব করে বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে স্বাধীনতা দেই, তেমন অন্তঃসারশূন্য মনে হয়।
ভালো থাকবেন।
আপনের বিপ্লবী খুঁটা(?) ভাষণ শুইনা কিন্তু মানুষ ধারণা করতে পারে পশ্চিমে নারীরা ধর্ষিত হয় না। ঐখানে নারীরা যা চায় তা'ই পায়। আমার পশ্চিম ধারণা যদিও আপনার মতোন পশ্চিমে জীবন যাপণ কইরা হয় নাই, তাই ভয়ে ভয়ে কই...ঐখানেও নারী অবমাননা আছে আর নারীগো প্রতিবাদী আন্দোলনও এখনো বজায় আছে, বাসে গুতাগুতি কইরা উঠতে পারলেও নারীরা ঐখানে পুরুষতন্ত্রের শিকার হয় নানাভাবে।
তবে পশ্চিমের অবস্থা দেশের মতোন না কেনো সেই তথ্যটাও স্পর্ধার সাথে কইতে চাই। কারণ হইলো ঐখানে নারীগো আন্দোলন ছিলো নারী হিসাবেই। যতটুক নারী অধিকার পশ্চিমে দেওয়া হয় সেইটা কেবল বাসে গুতাইয়া উইঠা কিম্বা ডারউইনের বেদবাক্য মাইনা নিয়া হয় নাই।
উদাহরণ?
উইকিতে বলে এইভাবে,
এখন মনে হচ্ছে আপনার সাথে খুটা তর্ক আরো আগেই শেষ করা দরকার ছিল।
আমি কোথায় বলেছি পশ্চিমের পুরুষেরা ভালো, তারা নারীকে সম্মান করে? নারী পশ্চিমেও ধর্ষিত হয়, লাঞ্ছিত হয়, অত্যাচারিত হয় কিন্তু তার জন্যে সে নিজে লজ্জিত বা কুন্ঠিতবোধ করে না। ধর্ষিতা নিজে লজ্জিত না হয়ে বরং ধর্ষককে শাস্তি দিতে চায়। সমাজের ভয়ে নিজের জীবন বিসর্জন না দিয়ে নিজের পছন্দমতো বাঁচার চেষ্টা করে। রুমানা মাঞ্জুরের ঘটনা পশ্চিমে বিরল।
আমাদের উপমহাদেশে মেয়েদের শারীরিক গঠন বা পরিবর্তন নিয়ে মেয়েরা যে পরিমান কশাস থাকে তা খুবই দৃষ্টিকটু। যার কারণে পোষাকের নানা মাত্রা তৈরী হয়েছে নিজেকে আড়াল করার মনোভাব দিয়ে। এর প্রভাব সুদূর বিস্তৃত। পশ্চিমের এরা নিজেদেরকে এর থেকে মুক্ত করেছে। আবার মধ্যপ্রাচ্যের দশা আরো করুন। হেরেমবাসিনীরা মানসিকভাবে নিজেদের অধিকারের লড়াইয়ে আরো দুর্বল। পোষাক, বাসের সীট, আলাদা স্কুল প্রত্যেকটা জিনিসই মানুষের স্বভাব, মানসিক গঠনে অনেক প্রভাবে রাখে, তাই না?
আপনে ১৮৭২ থেকে ১৯৭২ এর ঘটনাগুলো আবারো ভালো করে স্টাডি করে, একটা তথ্যবহুল রচনা লিখেন। যার থেকে ২০১২ এর সালের পুরুষরা কিছু শিখে আন্দোলন করে “নারীর অধিকার” জাতীয় অন্তঃসার শুণ্য কিছু প্রসব করবে
আপনে বিংশ শতকের পশ্চিমা নারী দেইখা মনে করছেন এরা সম অধিকার বা মানুষের আন্দোলন করতে করতেই এই জায়গায় আইসা পড়ছে। আপনের খুটিটা এতোক্ষণ বুঝতেই পারি নাই। ১৮৭২ থেইকা যেই আন্দোলন শুরু হইছে পশ্চিমে তার ধারাবাহিকতায়ই যে বতর্মানের পশ্চিমা নারীর বতর্মান আচরণ-মূল্যবোধ আর প্রতিরোধ প্রক্রিয়া চলে সেইটা না বুঝলে খুটি নিয়া কেবল ঝুলাইতেই হইবো...কোথাও সেইটা গাড়তে পারবেন না।
আপনের খুঁটি আপনে ঝুলাইতেই থাকেন পশ্চিমের মাঠে-ঘাটে। তাতে মনে শান্তি পাইবেন কিন্তু কোনো স্থিতি আসবো না কখনোই। মনে হয় আপনের প্রথম কমেন্টটারে ইগনোর করলেই ভালো ছিলো...
আপনে জিতছেন বস, আপনে সিকান্দার
ধন্যবাদ

মন্তব্য করুন