বিজয়ের মাসে ভারতের প্রাণে আমরা ফুল চন্দন ছিটাতে চাই...
সঠিক উত্তরের ঘরে টিক চিহ্ন প্রদান করুন।
প্রশ্ন ১ ।
কোন পণ্যটি জনগণের চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী দেশেই উৎপাদিত হয়:
ক) চাল।
খ) ডাল।
গ) রসুন।
ঘ) সিনেমা।
প্রশ্ন ২ ।
কোন শিল্পখাতে কোনো ধরনের উচ্চতর শিক্ষার প্রয়োজন নেই বলে ধরে নেয়া হয়:
ক) টেলিযোগাযোগ।
খ) আইসিটি।
গ) গার্মেন্ট।
ঘ) চলচ্চিত্র।
প্রশ্ন ৩ ।
জনগণের কাছে সবচেয়ে সহজে যেকোনো ধরনের বক্তব্য পৌছে দিতে কোন মাধ্যমটি অধিক কার্যকর:
ক) এসএমএস।
খ) দৈনিক পত্রিকা।
গ) এফ এম রেডিও।
ঘ) চলচ্চিত্র।
প্রশ্ন ৪ ।
অবকাঠামোগত এবং প্রশিক্ষণ খাতে দেশের সবচেয়ে অবহেলিত খাত কোনটি:
ক) মন্ত্রণালয়।
খ) সঙ্গীত।
গ) চিত্রকলা।
ঘ) চলচ্চিত্র।
আজকে আমার সত্যিই ইচ্ছা করতাছে আপনাগো পরীক্ষা নিতে। বিজয়ের মাস। জাতীয় পরিচয় অর্জনের মাস। মানুষের আশা জাগ্রত হওয়ার মাস এই ডিসেম্বর। দেশের ক্ষমতায় আছে লোকমুখে বিদিত স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এই দেশের মানুষরে যারা প্রথম স্বপ্ন দেখাইছিলো একটা আত্মপরিচয় তৈরীর রূপরেখা প্রণয়নে। যাদের হাতে বাঙালি জাতি যুদ্ধাপরাধীগো বিচারের দায়িত্ব দিয়া নিশ্চিন্ত হইতে চাইছে গতো নির্বাচনে। আমাদের জাতীয় জীবনের এমনি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নীরবেই বাস্তবায়ন শুরু হইছে পরিকল্পিত রঙীন নকশার।
আমরা বন্ধু ব্লগের মাসুম ভাই একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্য এবং ব্লগার। তার সিনেমা পরিচিতিমূলক ব্লগপোস্টগুলি কেবল আমরা বন্ধু ব্লগের সদস্যরাই না, ব্লগজগতের অনেকেই অনুসরণ করে। সেইখানে প্রতিবেশী দেশ ভারতের অনেক সিনেমারও উল্লেখ থাকে। আমরা ৬০/৭০ টাকার পাইরেটেড ডিভিডি কিনা সেইসব সিনেমার স্বাদ নেই। আমাদের মধ্যবিত্ত রুচিবোধ দিয়া সেইসব সিনেমারে বিচার-বিশ্লেষণ করি। কোনোটারে মানসম্মত রেটিং দেই কোনোটারে ছুইড়া ফেলি ভাগাড়ে।
আমরা যারা ব্লগে পরষ্পরের সাথে পরিচিত, তারা নিজেদের অভ্যাস-পছন্দ-অপছন্দটারেও মাপতে পারি। আর সেই মাপতে পারার ক্ষমতায় বুঝি আমরা কেউ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমা দেখি না। ঐসব সিনেমা দেখতে হইলে আমাদের যেইসব সিনেমা হলে যাইতে হবে, সেইগুলির কোনো ছিরি নাই; সীটের মধ্যে আরশোলা আর ছারপোকা ঘোরাফেরা করে। আবার কিছু সিনেমা থিয়েটারের যদি বসার সুবন্দোবস্ত থাকে সেইখানে সিনেমা দেখার পরিবেশ নাই। সিনেমা হল এখন আমাদের চাইতে নীচুশ্রেণীর মানুষ দখলে নিছে। তাদের বাড়িতে রঙীন টেলিভিশন আর ডিভিডি প্লেয়ার নাই...ল্যাপটপ নাই, ইন্টারনেট কানেকশন নাই। তারা কাটপিস দেইখা শীষ বাজায়। কাটপিস না থাকলে নায়িকার বিশাল বক্ষ আর গুরু নিতম্বের দুলুনিতে শীৎকার তোলে। ইন্টারমিশনের সময় ওয়াশরুমে গিয়া হাত মারে।
দেশের বাণিজ্যিক ছবিতে না আছে পছন্দনীয় গল্প, না আছে পরিশীলিত অভিনয়। নায়করা যাত্রার ঢঙে ঠোটে লাল লিপস্টিক দিয়া বুয়েট থেইকা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে। আমরা যারা শিক্ষিত শহুইরা মধ্যবিত্ত তারা এই অর্ধশিক্ষিত নির্মাতাগোষ্ঠীর অজ্ঞানতারে ধইরা ফেলতে পারি খুব সহজে। ফেইসবুকে ভাইরাল ইউটিউব ম্যাটেরিয়াল দেখতে দেখতে হাইসা গড়াগড়ি খাই। বাসর রাইতের ঘটনার বিবরণ দেওয়া গানের লিরিক আমাগো যান্ত্রিক জীবনে আনে দুষ্টুমির হাওয়া। আমরা সেইসব অভিজ্ঞতা নিয়া আরো দূরে সরি সিনেমা অভিজ্ঞতা থেইকা। মেলোড্রামাটিক ডায়ালগে আমাগো বমি আসে। আমরা ইউরোপিয়ান সিনেমার ননঅ্যাক্টিং অথবা আন্ডারটোনের অ্যাক্টিঙে নিজেদের খুঁইজা পাই।
আমাদের জন্য আছে সিনেপ্লেক্স। সেইখানে ইংরেজী ভাষার ম্যুভি চলে। সেইসব সিনেমাতে আমরা নিজেগো সংস্কৃতির ছায়া দেখতে পাই। এই শহরে আরবানাইজেশনের বিস্তার ঘটানোর মহান দায়িত্ব আমাগো ঝুইকা পড়া স্কন্ধে নাজেল হইছে।
এই দেশের রুচিশীল বিনিয়োগকারীরা আমাগো সকল সমস্যা বুঝতে পারে। আর বুঝে সরকার। সাথে বোঝে আমাগো আইনী শাসনের দফতর বিচারিক আদালত। তারা আমাগো মধ্যে কালচারাল ভার্সেটাইলিটি তৈরীর জন্য ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী হয়। কেবল ইংরেজী ভাষার কোপানলে তো আরবান হওয়া যাইবো না এই যূগে। সাম্রাজ্যবাদের ধারক-বাহকের সংখ্যা দিনে দিনে আরো বাড়তেছে। আরবান হইতে হইলে আমাগো অ্যাসপিরেশন থাকতে হইবো সাম্রাজ্যবাদী ফুটস্কেলে। এখন আমাগো পাশের দেশ ভারতেও আমাগো উন্নয়ণের প্রেরণা তৈরী হয়। ৬০/৭০ টাকার পাইরেটেড ডিভিডি আর টেলিভিশন চ্যানেলে কেনো সিনেমার বৃহৎ ক্যানভাসরে আটকাইয়া রাখুম আমরা।
১৯৭১ সালে আমাগো যুদ্ধকালীন মিত্র ভারতও তো আমাগো স্বাধীনতার অনুভূতির অংশীদার। তাগো তো সম্মান জানাইতে হইবো। এই দেশের নতুন সিনেমার বিনিয়োগকারী আর সরকার মিলা তাই শিক্ষিত শহুইরা মধ্যবিত্তগো আশ্নাই মিটানের উদ্যোগ নিছে। আগামী ২৩ ডিসেম্বরে দেশের ১২টা পরিশীলিত সিনেমা হলে ৩টা ভারতীয় সিনেমার শুভমুক্তির মাধ্যমে আমরা আমাগো সাংস্কৃতিক মর্ষকাম মিটানের সুযোগ পাইতেছি।
কিছু বেকুব অবশ্য আমাগো এই খায়েশে জল ঢালতে চায়। তারা ভারতীয় সিনেমার বাণিজ্যিক প্রসারের বিরোধীতা করে। তারা প্রতিযোগিতায় নামতে চায় না। পুঁজিবাদের অবাধ বাণিজ্যের নীতি তাদের পঠিত হইলেও কোনো এক অজানা কারণে তারা ভারতীয় সংস্কৃতির সাথে সম্মিলনি চায় না। এইটারে তাগো বরং সাম্রাজ্যবাদের মগজ ধোলাইয়ের উপজীব্য মনে হয়। এই গরীব দেশে তারা ফিল্ম ইন্সটিটিউট চায়। তারা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা চায় বিকল্প ধারার আঁতেলীয় গল্পে সিনেমা তৈরীর জন্য। তারা চায় আমাগো জাতীয় সিনেমা ভাষা তৈরী করতে। এই গ্লোবালাইজেশনের যূগে জাতীয়গীরির কোনো ভাত আছে!
এই দেশে দরকার হইলো মন্ত্রী; তাইলে সেতু নির্মিত হইবো, রেলের নতুন বগী কেনা হইবো। নতুন বোয়িং কেনা হইবো। যুদ্ধজাহাজ ফ্রিগেট কেনা হইবো। এইসব না হইলে এই যূগে কোনো জাতিরে উন্নত বলা যায় কি? তারা বলে ভারতীয় সিনেমার চাপে আমাগো প্রায় ক্ষয়িষ্ণু এফডিসি ঘরানার সিনেমা পুরাপুরি ধ্বংস হইয়া গেলে নাকি হাজার পঞ্চাশেক লোক তাগো উপার্জনক্ষমতা হারাইবো। আরে ভাই, রিসেশনের কবলে কতো লাখ শিক্ষিত এক্সিকিউটিভরা চাকরী হারাইছে তার কোনো দিশা আছে! এই দেশে গরীব নিঃস্ব হইয়া মইরা যাওয়াটাই দরকার। তাগো লাশের উপর দিয়াই তো আরবানাইজ্ড হওনের পথ নির্মিত হইবো।
ভারতীয় সিনেমা এই দেশে দেখানো হইলে বরং আমরা কিছু শিখতে পারুম। কোলকাতা যেইটা এতোবছরেও শিখতে পারে নাই, সেইটা শিখতে পারলেই না আমরা হিন্দু বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করুম। মূর্খরা যেই শিল্পখাত চালায় সেইটার টিকা থাকার কোনো প্রয়োজন আছে নাকি! ওরা ফোকাল লেংথ বুঝে! ওরা হাইস্পিড ক্যাম, স্টেডি ক্যাম এইসব জীবনে চোখে দেখছে! অশিক্ষিত হাতুইড়া ডাক্তারের দলরে এই শিল্পখাত থেইকা এমনেও বিতাড়িত করা দরকার।
সিনেমা বড় যন্ত্রণার মাধ্যম। এইখানে শিক্ষিত লোকরা ঠাই নিলে, আমাগো দেশের ক্ষমতাপ্রত্যাশী দলগুলির তো ঝামেলা হইতে পারে! তারা যদি উন্মোচিত কইরা দেয় অনেক কিছু। এরচাইতে ভালো নাজিমউদ্দিন চেয়ারম্যানগো মতোন প্রযোজক। যারা কালো টাকা সাদা বানাইয়া দেশের অর্থনীতিরে সঠিকপথে পরিচালিত করার দিকনিশানা দেখাইবো। যারা গার্মেন্টস কন্যা সিনেমাতে বলিষ্ঠ নায়িকার ফ্যান্টাসী দেখাইতে পারবো। যারা বিজিএমইএ ধমক দিলে ঐটার গুরুত্ব বুঝবো, পোঁদপাকামী করতে যাইবো না। আপোষকামী বিনিয়োগকারী দরকার।
আফ্রিকা, ব্রাজিল, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ইরান এই সব দেশের সিনেমা পেশাদাররা বহুত নচ্ছার। তারা ভালো সিনেমা বানায় দেইখা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যূতেও নাক গলায়। আরে! ঐসব দেখার জন্য তো রাজনীতিবিদরা আছেই। সিনেমা হইবো গরীবের জন্য, যেইখানে ডিপজল নায়ক হইলেও কারো কোনোকিছু আসবো যাইবো না। নায়িকার ক্লিভেজ দেখানো যাইবো হরহামেশা, কারণে-অকারণে। ভারতে কতো সুন্দর কইরা দেখায়। নায়িকাগুলিরে কত্তো হট লাগে! নায়কগুলির ফিগার ব্র্যাড পিটের চাইতেও সুন্দর হয় অনেকসময়। গরীবে ঘোড়ারোগের মতোন ক্যাপ্রিওরে চেনার কোনো প্রয়োজন আছে নাকি?
এই দেশে ভারতীয় চাল-ডাল-পিয়াজ-আদা-রসুন-চিনি'র মতোন সিনেমারও অবাধ স্মাগলিং চাই। বিনিময়ে আমাগো সমস্ত ইলিশ আমরা দাদাগো পাঠাইয়া দিমু। বেকুবগুলি নাকি ২০ তারিখে তথ্য মন্ত্রণালয় অভিমুখে যাত্রা করবো। ২৩ তারিখ হলে হলে তারা অবস্থান ধর্মঘট করবো। আসলেই এদের ঘটে কোনো বুদ্ধি নাই। ঠেকাইতে পারবো নাকি! এতো টাকা খরচ কইরা যারা মাস্টার প্রিন্ট কিনা আনছে তারা ঘাস খায় নাকি? হাসিনার আওয়ামী সরকার কি সাধে অনুমতি দিছে নাকি! শেখ মুজিবর খানিকটা ঘাউড়া ছিলো বইলা নিষেধাজ্ঞা দিছিলো। আফায় কি অমন নাকি। তার চলন-বলন-কথন সবকিছুতে ডিজিটাল ঝংকার বাজে।
আসুন আমরা ভারতের দিকে হাত প্রসারিত করি। বিজয়ের মাসে বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থার সাথে পাল্লা দিতে এক ধাপ আগাইয়া যাই। এই দেশে কেবল ভারতীয় চলচ্চিত্রই চলবো সেই নিশ্চয়তা বিধানে সচেষ্ট হইতে হইবো আমার আপনের মতোন আরবান বেঙ্গলিরেই। আসুন ঐসব সিনেমা প্রাণ বাঙালদের আমরা পরিত্যাগ করি...





আম্লীগের এইবারের আচরণ বিম্পির দেশ বিক্রির জুজুবুড়িরে বিশ্বাস করায়া ফেলছে প্রায়...
লেটেস্ট হিন্দি সিনেমা আইব না ?
হিন্দি সিনেমা , হলে বইসা দেখতে বড়ই সৌন্দর্য্য।
আমাদের নাম্বার ওয়ান শাকিব খান কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেননা কেন?
হাসিনা আর দিপু দাদাদের খুশী করতে বদ্ধ পরিকর ।
যে হারে কলকাতার মুম্বাইয়ের সিনেমা, গান দেশের চিপা গলির মইধ্যে ঢুকে পড়েছে, তাতে হলে ছবি মুক্তি দিতে আর সমস্যা কি?
আজকাল কেন জানি ভারতকে অন্য দেশ মনে হয় না, মনে হয়, 'দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া...ঘর হইতে দুই পা ফেলিয়া...কিংবা 'বাড়ির কাছের আরশি নগর'...কিন্তু প্রবলেম হলো ভারতীয় পেঁয়াজে তরকারি রান্না করে আরাম পাই না...মনমোহন এসে খানাদানা করছে এটা দেখে অতিথিপরায়ণ অঞ্চলের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও গা জ্বালা করে...বুঝি না কেন যে এমন 'বন্ধু-বন্ধু গোলাপ ফুল' টাইপ দেশের অনেককিছুতেই আমার গা জ্বলে, মনে হয় আমি অনেক হিংসুটে মহিলা...
কথা সত্য! এই জুজুর ভয়েই এত্তো পরিকল্পনা!
বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে একদা সিনেমা হলে একখানা হিন্দি সিনেমা দেখেছিলাম। আল্লাহ মাফ করো।
আর কিছু বইলেন না ভাই,
দেখবেন চোখের পলকে রাজাকার আর যুদ্ধবিরোধী শক্তি হইয়া গেছেন!
হাত কোথায়! পুরো শরীর প্রসারিত করে বসে আছে
মন্তব্য করুন