মুখোশে কি বিষণ্নতা ঢাকে!
শুভ'র কবিতাটা পড়তে পড়তে মনে হইলো এই অনুভূতিগুলি আসলে আজকে ছবির হাটে যারা ছিলো তাদের সবার। তাই এই লেখাটারে রায়েহাত শুভ'র নামেই উৎসর্গ করতেছি। আশা করি একইরকম বিষয়ে কবিতা লেখাটারে কাবিল কর্ম হিসাবে নিবেন না কেউ, এইটা একান্তই ইচ্ছার স্বাধীনতা। মানে লেখাটারে নিজের স্বাধীনতা ধইরা নিয়াই লিখলাম। ................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
আলো নিভে গেলে অন্ধকার,
রঙ ছড়াতেই শ্বেত-শুভ্রতার মৃত্যু
গোপনীয়তার গণিত এতোটাই সরল।
তোমার বিষন্ন চোখে কাজল পরলেই হোতো,
ছলছল জলস্রোত ধারার সহজ নাম অশ্রু
না রেখে যেকোনো কিছু রাখা যেতো তবে।
আয়নায় তাকিয়েছিলে কি?
ছদ্মবেশটারে যে চেনা যাচ্ছিলো মুখোশ বলে
একবারো মনে হয়নি তোমার!
আমার খড়ের গাদার মতোন চোখে
তোমার বিষন্নতারা আটকে যাচ্ছিলো
কুয়াশার মতো...
মাঠটাকে ফেলে রেখে বাড়ি ফিরছি যখন
ততক্ষণে তোমার বিষন্নতারা পৌছে গেছে
আমার হৃৎপিণ্ডের গভীরে...রক্তপ্রবাহে।





আপনারটা পড়ার পর, আমার উপস্থাপনাটাকে কেমন জানি "র" টাইপের লাগতেছে। সেই তুলনায় আপনারটা অনেক বেশী পরিশীলিত লাগতেছে...
Raw মানে সোজাসাপ্টা লুকোছাপাহীন হইলে তাই হয়তো। পরিশীলিত মনে হয় দুইজনের লেখারেই বলা যায়।
একটা কথা আপনের লেখার মন্তব্যে কইতে ভুইলা গেছি। এই দেশের পাঠক কিভাবে পাঠ করবো সেইটা ব্লগ পোস্টের কমেন্ট করার ধরণ দেইখা অনুমান করা যায়। দারুণ তো! ভালো লেগেছে, অনুভূতি ছুঁয়ে গেছে, পড়লাম... ব্লা ব্লা ব্লা কমেন্ট হইলো পাঠকের ইন্টার্যাকশনের নমুণা। এর চাইতে মনোযোগী পাঠক আপনের কবিতার লাইন কপি পেইস্ট কইরা দিয়া বলবে অসাধারণ! বা এই লাইন গুলি ভালো লাগলো না।
ইন্টার্যাকশন মানে পাল্টাপাল্টি কথা কওয়া...
আমি "র" বলতে সোজাসাপ্টা/লুকোছাপাহীন এইরকমই বুঝাইতে চাইছি। আর পরিশীলিত মানে বুঝাইতে চাইছি আসলে অনেক পলিশড বা ডালপালা ছাইটা একটা আকৃতি পাওয়া অবস্থারে। আপনার লেখায় আমি নির্মোহ ভাব পাইতেছি, যেইটা কবির ব্যাক্তি অনুভূতি নিয়া কারুকার্যের বদলে সময়টা ধইরা রাখার ব্যাপারটাতেই জোর দেয়া হইতেছে বইলা মনে হয়।
আর লেখায় আলোচনা-পাল্টা আলোচনা হওয়াটাই আমার পছন্দের। হ্যাঁ অনেকেই হয়তো সময়ের বা স্পৃহার অভাবে আলোচনায় আগ্রহী হয় না, তারা যে শুধু ভালো লেগেছে কিংবা লাগেনাই এরকম মন্তব্য করেন, সেটাও আমার পছন্দ হয়
আমি ভালো লেগেছে, পড়লাম এই জাতের কমেন্টরে পছন্দ কিম্বা অপছন্দ হয় এমন কোনো বক্তব্যের ধারে কাছে দিয়া যাই নাই। আমি কেবলই বলতে চাইছি, এইভাবে ইন্টার্যাকশন সম্ভব না। ইন্টার্যাকশন বিষয়টার জন্য একটা স্পেইস লাগে পরবর্তী একটা কথার বা শব্দমালার উপস্থিতির জন্য। আমরা ইন্টার্যাকশন শব্দের সিগিনফিকেন্সের চিপায় আটক্ইয়া গেছি। আপনারে কেউ কেবল হাত দেখাইলো রাস্তায় এইটারে মনে হয় না ইন্টার্যাকশন বলা যায়; ইন্টার্যাকশন হইতে কাছে আইসা কেমন্ আছো জিগানোর একটা স্পেইস দিতে হয়।
এইটা ঠিক যে শুধু হাত নাড়াইলেই ইন্টার্যাক্ট করা হয় না, সেইজন্য কাছে আসা লাগে। কিন্তু সেইটাতো দুইপক্ষ থেকেই হইতে পারে। একজন পাশ দিয়া যাওনের সময় হাত নাড়াইলো, আমি তারে জিগাইলাম কেমন আছো? মানে স্পেসটা আমিই তৈরী কইরা দিলাম। এখন সে এই স্পেসটারে এড়াইয়া যাইবো, না গ্রহন কইরা ইন্টার্যাকশনে যাইবো এইটা তার ব্যাপার। তাই না?
আমি আসলে বলতে চাইতেছি, আমি সবসময়েই স্পেস দিতে আগ্রহী, গ্রহণ করা না করা অন্যপক্ষের ব্যাপার
কবিতার একটা স্বাভাবিক নিয়মতান্ত্রিকতা এখনো উত্তরাধুনিক কবিরাও ভাঙতে পারে নাই। সেইটা হইলো কবিতায় আপনে পাঠকরে এখনো আগেই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারেন না। লেখক পাঠকের জন্য স্পেইস তৈরী করবো এইটাই যদিও ঠিক। কিন্তু প্রশ্নটা পাঠকরেই করতে হয়। কারণ সে লেখকের অনুভূতিরে ছুঁইতে চায়। সে বুঝতে চায়। মহাদেব সাহা, নির্মলেন্দু গুণ, শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক আধুনিক যূগের এমন রথী-মহারথীরা স্টেইটমেন্ট লিখছেন...যেইখানে পাঠকের ভালো লাগা তৈরী হয়, কিন্তু পাঠকের ইন্টার্যাক্টিভ হওনের স্পেইস তৈরী হওয়ার সুযোগ থাকে কম; যতোটা ছিলো এমনকি জীবনানন্দে...অনেক স্টেইটমেন্ট লেখার পরেও স্পেইস থাকে বিনয় মজুমদারে।
ইন্টার্যাক্টিভ হইতে পরস্পরের বাক্যালাপ চলতে হয়। এখন আপনের কবিতা পইড়া আমার মনে হইলো আপনি অমূক-তমূক এবং সমূক সম্পর্কে আলোচনা করছেন। আপনি কি বলবেন? আপনি বলবেন না অথবা হ্যা। না কইলে ইন্টার্যাকশন শেষ, হ্যা কইলেও সেইটা যে শুরু হইবো তার নিশ্চয়তা নাই। আর ইন্টার্যাকশন যদি কম্যুনিকেটিভ অর্থে বইলা থাকেন সেইটা মনে হয় বিপজ্জনক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরী করে।
এখন আপনে নির্বেদের কবি মালার্মের কবিতারে বলতে পারেন ইনকম্যুনিকেটিভ এবং এবং পাঠকের থেইকা হাজার মাইল দূরের চিন্তার শব্দকরণ। কিন্তু উত্তরাধুনিক পাঠক মালার্মের নির্বেদে শূন্যতার শব্দ শুনতে পায়। ঠিক যেমন জেন কোয়ানে প্রশ্ন রাখা হয়, "একহাতে কি শব্দ করা সম্ভব?" উত্তর হইলো হ্যা, নৈঃশব্দের শব্দ বা শব্দহীনতার শব্দ হয়। যেখানে কখনো শব্দ বাজে নাই, সেইখানে নৈঃশব্দ বেজেছে যেই ভাবে...
এই মন্তব্যের যুক্তির সাথে সহমত হইতেছি।
আমি শুরু থেইকাই এই কথা বলতেছি। আগের যুক্তিবাক্য গুলিতে অনেক সোজাসাপ্টা ছিলাম। শেষ মন্তব্যটা একটু ধোঁয়াটে হইলেও উদাহরণ সম্বলিত লিখছি। কিন্তু ইন্টার্যাকশন আর তার সম্ভবপরতা নিয়া আমার বক্তব্যে একটুও পরিবর্তন আনি নাই...
ভাললেগেছে
আড্ডাগুলো মিস করেই যাচ্ছি
খড়ের গাদার মতো চোখ, এও পড়তে হলো
কয়দিন পর পড়তে হবে গোবর টালার মতো চোখ .।.।.।.।.।। কবিরা বড্ডো বেশি আধুনিক হচ্ছে, বেশি রিসার্চ করছেন আজকাল
বিজ্ঞানী হয়ে যাচ্ছেন তারা
ভালো লেগেছে।
ধৃষ্টতা না হলে, শিরোনামে বানান ভুল দৃষ্টিকটু লাগে।
ষ আর ণ এই দুই তত্ত্ব বিধান আমার অধিকাংশ সময়েই ভুল হয়। ধন্যবাদ ভুল ধরানোর জন্য।
কবিতা এবং কবিতা সম্পর্কিত আলোচনা - দুই'ই পড়লাম। বিশেষত ইন্টারঅ্যাকশন পড়ে আমার কিছুটা লাভ হলো। এটার চর্চা করতে পারি কিনা দেখা যাক। আপনার 'খড়ের গাদা' রূপকটা যেকোন কারণেই হোক, কোনো ইমেজ তৈরি করতে পারছে না আমার কাছে। হায় চিলে যে সমস্যাটা হয় নি। বিষয়টা আপনার দৃষ্টিগোচর করলাম।
খড়ের গাদার কোনো ইমেজ তৈরী হওয়াটা সহজ, কিন্তু চোখের সাথে বিষয়টা একেবারেই যায় না। খড়ের গাদা স্ট্যাটিক, খড়ের গাদায় কোনো নান্দনিকতা নাই। আর চিল শুনতেই তো ভালো লাগে। শব্দের দ্যোতনা, গতিময়তা, অস্থিরতা সব মনে পড়ে বা পড়ায়।
তবে এই কবিতায় আমার চোখের ভাষাহীনতারেই বুঝাইতে চাইছি, যেই চোখ কোনো বিনিময় মূল্য ধার্য্য করে না। যাই হোক পড়া এবং কবিতা নিয়া ভাবনার জন্য ধন্যবাদ।
বিষণ্ণ সুন্দর।
শেষেরে প্যারাটা অসম্ভব সুন্দর।
মন্তব্য করুন