অহেতুক অ্যাবস্ট্রাক্ট (এক)
বেশ ক্লীশে শুনাইলেও আমি আসলে বিলীয়মান মানুষে পরিণত হইছি। যতোক্ষণ নিজের সত্ত্বায় আছি ততোক্ষণ আমি আর বাকিটা সময় আমি জেনব্রত পালনের নামে আসলে স্মৃতি মোছামুছির তাগীদে থাকি। যার কোনো ভিত্তি নাই। জেনরাও পারে নাই সমর্পনের ধারণারে মুইছা ফেলতে। তারা মনহীন স্তরের নামে বাস্তবিক ধর্মের বা ঈশ্বরের বা গৌতম বুদ্ধের কাছে যাইতে চায়। ইহজাগতিকতার সকল দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাইয়া তারা অপার্থিব কোনো স্তরের খোঁজাখুঁজি করে। তাতেই তাদের প্রেম। তবে পার্থিব ধারণার বিষয়ে তাদের অনাগ্রহের সূচনা হয় অপার্থিবরে পাইবার বাসনা থেইকাই। কিন্তু যদি ঈশ্বর কিম্বা ধর্ম অথবা গৌতম বুদ্ধ যদি পার্থিব হয়! তাইলে এই বিষয় জেন ধারণা কি বলে?
আমিও মনহীনতার নামে আসলে স্মৃতির কাছে সমর্পিত হই। জোর তাগীদে স্মৃতি বিষয়টারে ইগনোর করতে চাওয়ার প্রক্রিয়ায় আরো স্মৃতির ভেতরে ডুবি। স্বপ্নে আর দুঃস্বপ্নে আমি মনহীন হই...আমার মনহীনতা শেষ পর্যন্ত বেশ ত্যাগের মহিমায় পর্যবসিত হয়। ত্যাগ বিষয়টা আসে প্রত্যাশা নামের ফুলঝুড়িজাত ধারণাটারে অচল প্রমাণের পথে। কিন্তু এই ত্যাগে আসলে মহিমা নাই...কারণ বস্তুগত ধারণায় ত্যাগের চর্চা চলতে থাকলেও মননে তার ধারণা বরং দাবানো দাগ রাখে। প্রতিনিয়তঃ আমি আরো স্মৃতিময় হই। চোখ বুজতেই মনে পড়ে আমারে অমূক বিষয়টা ভুলতে হবে, লিখতে বসলেই আমার মনে রাখতে হয় তমূক শব্দ পরিহার বাঞ্ছণীয়; ধীরে ধীরে আমি নতুন কোনো চর্চায় প্রবেশের চাইতে বরং কোনসব চিন্তারে ভুলতে হবে তার তালিকা তৈরীতে মনোযোগী হইতে থাকি।
প্রত্যাশা - সময়ের সবচাইতে আলোচিত আচরণগত ধারণা। ক্লীশে লাইনটা লিখতেই হইলো। কারণ আসলেই এই ধারণার বিপরীত দ্বান্দ্বিক সংঘাতেই বর্তমানে সামাজিক আচার-আচরনের ধরণ ঠিক হয়। যারা ফাংশনালিস্ট অথবা স্ট্রাকচারালিস্ট তারা সামাজিক শৃঙ্খলা, সামাজিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, সামাজিক নৈতিকতা এইসব বিষয়ে গুরুত্ব দেয়। সমাজের ধারণারে টিকাইয়া রাখার প্রয়োজনে এইসব স্তর বা চর্চা বিশেষ ভূমিকা রাখে বইলাই তাদের বিশ্বাস। নীতি নির্ধারণ কইরা শাসকেরা বিশ্বাস করে রাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিকতা কিম্বা বৈশ্বিক ধারণায় অধীনস্ত বা অধঃস্তন মানুষেরা তাদের দেখাইয়া দেওয়া নিয়মরে মাইনা চলবো। এই যে প্রত্যাশার শুরু হয়, তার একটা চক্রানুক্রমিক অস্তিত্ব আছে। মানুষেরা প্রত্যাশা করে শাসকের কাছে, শাসক প্রত্যাশা করে জনগণের কাছে...আবার এক অংশ জনগণ প্রত্যাশা করে অন্য অংশের জনগণের কাছে। বিচার-বিবেচনা-বিশ্লেষণ-গবেষণা এমন কিছু ধারণার বাইরে সমাজ যাইতে পারে কীনা তা নিয়া কোনো মাথাব্যথার উপস্থিতি খুবেকটা জোরালো হয় না।
তবে প্রত্যাশা'র বিপরীতে ব্যক্তির ইচ্ছাভিত্তিক কিছু টেনশন সমাজে আছে বইলা মনে হয়। ব্যক্তি এইখানে প্রত্যাশা করে তার স্বাধীনতায় অন্য ব্যক্তি হস্তক্ষেপ করবো না। ব্যক্তি প্রত্যাশা করে আজীবনের তরে কোনো বন্ধন সে তৈরী করবো না, বা অন্য কেউ তার কাছ থেইকা ঐ বন্ধন প্রত্যাশা করবো না। এইখানে প্রত্যাশা শব্দের মাজেজা তার শাব্দিক মহিমা নিয়াই থাকে। কেবল এই প্রত্যাশারে ব্যক্তি শাশ্বতঃ কোনো প্রক্রিয়া ভাবতে পারে না। কালের প্রবাহে এই প্রত্যাশাসমূহের পরিবর্তন না'ও ঘটতে পারে, কিন্তু তারমানে এই না যে পরিবর্তনটারেই ট্যাবু'র মতোন আকড়াইয়া ধইরা থাকতে হইবো। মানে একধরনের অসম্ভাব্যতার আচরণগত ধারণার কাছে সমর্পনের তাগীদ দেখা যায় এই পোস্ট স্ট্রাকচারালিস্ট ধারণায়। যারে পুরানা ট্যাবু পালনকারী টোটেমহীন আধুনিকরা কয় অনিশ্চয়তা...
আমার প্রত্যাশারে প্রত্যাশা করি দ্বিতীয় ঘরানার কাঠামোয়। তবে জোর না করায় বা এইটারেই নিয়ম না বানানের একধরনের আলস্যবাদী নিস্পৃহতায় এই কাঠামো আর কাঠামো থাকে না অনেক সময়। তবে প্রত্যাশার মতোই যেনো কিছু অনুভূতি অন্য কোনো নামে ঘোরাফেরা করে বিভিন্ন তন্ত্রে-রন্ধ্রে-যন্ত্রে। আমি মনহীনতার চর্চা করতে করতে আসলে ইহজাগতিক স্যাচ্যুরেটেড বাস্তবতারে অস্বীকার করতে শিখি...কিন্তু লয়াল-লিনিয়ারিটির বোধ ঠিকই অবচেতনে থাকে। প্রায়শঃ দূর্বল মুহুর্তে তারা চাগার দেয়। আমার ট্যাবু না থাকলেও প্রতিরোধের টোটেম পোল বের কইরা তখন মনোনিবেশ করতে হয় ভিন্ন কিছুতেই। সেইখানে বিপ্রতীপ আর বিপরীতের শক্তি টের পাওয়া যায়। মন যদি হয়রান হয় প্রেমে তাইলে টোটেম পোল'এ ছবি আঁকা থাকে আসূরিক সংঘর্ষের। যদি মন নিয়োজিত থাকে একক কোনোকিছুতে তাইলে আমি দেখি সামগ্রীকতার রাজনীতিরে। সাময়িক প্রত্যাশা আর সাময়িক অবদমনের খেলাতেই কাটে উত্তরাধুনিক সময়।
বেশ জটিল লাগতেছে আমার ভাবনাটারে। হয়তো এর সল্যুশান সামাজিক বা সামষ্টিক মনোবিদ্যায় বহুল ব্যবহৃত বা চিন্তিত। তবুও আমার নিজের কাছে এই ভাবনা নিয়া বেশ খানিকটা সময় কাটাইয়া দেওয়ার আগ্রহ তৈরী হইতেছে...কে জানে এই আগ্রহের ধারাতেই মোছামুছি'র ব্যর্থ প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা শেষ হইবো; কে জানে!





বড়ই কঠিন কথাবার্তা!
মন্তব্য করুন