অহেতুক অ্যাবস্ট্রাক্ট (দুই)
যতোক্ষণ বাসায় থাকি ততোক্ষণ টেনশন থাকে। দুইজন রুগ্ন মানুষ, যেকোনো সময় তাদের অসুস্থতা বাড়তে পারে। তাদের ডাক্তার দেখানো-হাসপাতালে নেওয়া-নিয়মিত আপডেট রাখা, এর কোনোটাতেই আমি খুব অভ্যস্ত মানুষ না। বাপ আর মা দুইজন আমার চরিত্র সম্পর্কে ওয়াকিবহাল বইলা তারা আমার আচরণরে স্বাভাবিক মানলেও আশেপাশে এমনসব লোকজন জড়ো হইতেছে যারা সারাক্ষণ শিক্ষামূলক বয়ান শুনাইয়া চলে। এমনিতেই খুবেকটা সামাজিক মানুষ বইলা আমার গ্রহণযোগ্যতা নাই, দিনে দিনে আরো আসামাজিক হইতে থাকি।
অসুস্থ-রুগ্ন মানুষের সাথে থাকতে থাকতে আমি নিজেও যেনো খানিকটা অসুস্থ হইয়া পড়তেছি টের পাই। গতকাল বিকালে কাজ শেষে বাড়ি ফিরলাম তাড়াতাড়ি। এসিডিটি বাড়তেছিলো। ঢেকুড়ের সাথে এসিডিক গন্ধটা আমার অসহ লাগে। বহুদিন এমন বোধ হয় নাই। কিন্তু কালকে কিছুতেই ঠেকাইতে পারতেছিলাম না। মাঝরাতে শুরু হইলো বিবমিষা। ভোররাতে বিষয়টা আর ইচ্ছায় সীমাবদ্ধ থাকলো না। কিছুক্ষণ পর পর বেসিনে গিয়া শরীরের গ্যাস ফ্যাক্টরীতে উৎপাদিত অম্ল উদগীরণ কইরা আসি। সেই এসিড আবর্জনার সাথে ভাইসা যায়।
তবে বেলা বারটায় বের হওয়ার তাড়া ছিলো। পোলাপাইন অপেক্ষা করবো। আমি গা-হাত পা ধুইয়া পরিচ্ছন্ন হওনের তাড়নায় বাথরুমে গেলাম শাওয়ারের নিতে। বেসিনটা দেইখা একবেলার অভ্যাসেই দাঁড়াইলাম। এরপর আমার আর কিছু মনে নাই। আমার জীবন থেইকা প্রায় মিনিট দুই/তিনেক হারাইয়া গেলো নিমেষে। কখন যে মেঝেতে উপুর হইয়া সাতার কাটতে শুরু করছি সেইটা মনে পড়লো না আর। মনে থাকলো না আমার আজকে কাজে যাওয়ার কথা ভেজা জামাকাপড় খুইলা লেপমুড়ি দিয়া শুইয়া পড়লাম। আটটার সময় ঘুম ভাঙতে ফোনে টেক্সট পাইলাম, পোলাপাইনগুলি অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত হইয়া চইলা গেছে।
মা'র কথা মনে পড়লো। একটা সময়ের স্মৃতি মনে না করতে পারার যন্ত্রণাটা কতোটা কষ্টের! আমার তো কেবল ২/৩ মিনিট, মায়ের জীবনে গেছে ২টা সম্পূর্ণ দিন। অসংখ্য মানুষের হয়তো এর চাইতেও আরো বেশি সময় হারায়। অনুভূতিটা যে কতোটা মানসিকভাবে ট্রমাটাইজ্ড করে তার বাস্তবতা বুঝতে পারলাম যেনো। যতোই আমরা জীবনের অনেক ইভেন্ট ভুলতে চাই বইলা গলা চড়াই, আসলে মানুষের জীবন অনেক রহস্যময়। ভুলে যাওয়াটা আসলে পরাজয়ের অনুভূতি দেয়। বড়জোর অবদমন কিম্বা সুখস্মৃতি দিয়া দুঃখের সময়টারে লুকানোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছু সম্ভব না। কখনো সখনো ঝোলা থেইকা ভুলতে চাওয়া স্মৃতিগুলিরে বের কইরা নাড়াচাড়া করতে পারাটাও অস্তিত্বের অনুভূতি দেয়।
আমরা যেই কারনে অভাব অনুভব করি প্রিয়জনের, প্রিয় বস্তুর, প্রিয় মুহুর্তের। যদি ভুলে যাওয়া হয় তাইলে মানুষ পাগল হয়। এই পাগল হওয়াটা অস্থিরতার প্রকাশ। সামাজিক মানুষের অস্থির হওয়ার নিয়ম নাই। অস্থিরতারে মানুষ বড্ড ভয় পায়।





অস্থিরতাকে ভয় পাই। রোগ-শোককেও।
আমিও এসিডিটির সমস্যায় ঠিক আপনার মতো কষটের মধ্যে দিয়ে যাই
বাকি লেখা নিয়ে কিছু নাই বললাম
মন্তব্য করুন