ইউজার লগইন

কিছু ব্যক্তিগত চিন্তা: বালখিল্য ব্লগরব্লগর...

সাগর সারওয়ার কিম্বা মেহেরুন রুনি কাওরেই আমি চিনি না। যদিও টেলিভিশন চ্যানেলের বদৌলতে মেহেরুন রুনি নামটা পরিচিত ঠেকে, কিন্তু তার চেহারা দেইখা চিনতে পারি না। তবে পরিচিত সাংবাদিক আর টেলিভিশনে চাকরীরত বন্ধুবান্ধবের আহাজারীতে আর বিভিন্ন্ আড্ডার ফিসফিসানিতে তাদের সম্পর্কে আমার জানা হইতে থাকে। আমি নিজেও কোনো না কোনো ভাবে টেলিভিশন কেন্দ্রীক পেশাজীবীতায় থাকি। কিন্তু আমার নাম টেলিভিশনে শোনা যায় না বিধায় খানিকটা হতাশাগ্রস্ত হইয়া পড়তে থাকি। জনপ্রিয়তা বা গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতে কোনো একটা স্তরে উঠতে না পারার ডিপ্রেশনে পাইয়া বসে আমারে। মনে হয় আমার যদি এমন অপঘাতে মৃত্যু হয় তাইলে তো এমন কইরা ফেইসবুক ওয়ালে তোলপাড় উঠবো না! তাইলে কি এই জীবনটাই বৃথা!? সাংবাদিক হইলেই অবশ্য এমন প্রলয়ংকরী মাতম উঠে না সেই বাস্তবতা আমার জানা আছে। গতো বছরের মাঝামাঝিতে দৈনিক জনতার একজন বৃদ্ধ সাংবাদিকেরও এমন করুণ পরিণতি বরণ করতে হইছিলো মনে পড়ে। তার ইতালী প্রবাসী মেয়ে দেশে আইসা সংবাদ সম্মেলনও করছিলো, কিন্তু আমরা কেউ সেই বৃদ্ধ সাংবাদিকের মৃত্যুতে নাড়া খাই নাই।

টেলিভিশন একটা বড় ফেনোমেনন বর্তমান বিশ্বে। বাংলাদেশেও বিশ্বের সাথে তাল মিলাইয়া টেলিভিশন সম্পর্কীত মীথ শক্তিশালি হইতেছে। একদিক দিয়া অবশ্য শান্তিও পাই, যদি এমন হইতো যে মেহেরুন রুনি বা সাগর সারওয়ার মারা যাওনের পর তাগো সোওল বের হইয়া কিছুদিন পৃথিবীতেই থাকবো বইলা সিদ্ধান্ত হইলো...তখন তারা দেখতো, মানুষ কেমন কইরা মরনের পর তাগো ব্যক্তিগত বিষয়ে কেমন ইনভল্ভ হইয়া পড়ে। জীবন্ত মানুষের তথ্যে এমন কইরা নজর রাখলে তারে না হয় স্টকিং বইলা অপরাধের কোটায় ফালাইয়া দেওয়া যায়। সামাজিকভাবে স্টকাররে বিপদে ফেলা সম্ভবপর না হইলেও মর্যাদার প্রশ্নে ছোটলোকামীর অভিযোগে অভিযুক্ত কইরা দেওয়া যায়...কিন্তু মরনের পর তাদের জীবনে এমন অনধিকার প্রবেশরে কিসের দায়ে ফেলবো!

আজকে দিনের বেলাতে ফেইসবুক বাস্তবতায় ছিলাম না। পেশাজীবীতার বাস্তবতায় অনেক তথ্যের সাথে যোগাযোগ ঘটে নাই। সন্ধ্যার দিকে দেয়ালে তাকাইয়া দেখি সেইখানে মেহেরুন রুনি'র পরকীয়া সম্পর্কীত তথ্য আর তার নিরীখে খুনির অনুসন্ধান চলতেছে সমানে। আমাদের আড্ডায়ও খানিক্ষণ চললো মেহেরুন রুনি'র চারিত্রিক সনদপত্র বিতরনের আয়োজন। মৃত রুনি হয়তো মইরা বাইচা গেছে...কিন্তু যেই চর্চার সাথে আবারো যুক্ত হইয়া পড়বার সম্ভাবনা তৈরী হয় তার জন্য আমার মোটামুটি ভীতি তৈরী হইয়া গেছে। স্টকিং বিষয়টারে আজকাল বহুকষ্টে এড়াইয়া চলবার চেষ্টা করি। কিন্তু এই শহুইরা সোসাইটি বেশ স্টকিং বিরোধী হইয়াও স্টকিং থেইকা কোনোভাবেই কি মুক্তি পাইতে পারে? গোপণীয়তার বলিহারী যখন আছে তখন স্টকিংও থাকবো এমন কইরাই তো আমরা ভাবতে শিখি...আমরা অর্থাৎ কথিত প্রগতিশীল মানুষরা। সাধারণ্যের সমাজে স্টকিং বিষয়টা আদৌ অপরাধ কীনা সেইটা নিয়াইতো প্রশ্ন আছে। আমাদের বাংলাদেশী সমাজে তো আমরা বাপ-মায়ের স্টকিংয়ের মধ্য দিয়াই বড় হই। বাপ-মায়ের কাছ থেইকা যেই কারনে আমরা তথ্য লুকাইও অনেক। এই দুই অপরাধের পাল্টাপাল্টিতে বিষয়টারে না হয় মাইনা নেয়া যায়। কিন্তু বড় হওনের পর যখন আমরা অনেকরকমভাবে নিজের একটা জগত তৈরী করি যেই জগত একেবারেই নিজের। সেই জগত নিয়া আমরা কেবল গোপনীয়তা তৈরী করি এমন না...তার সত্যটারে মিথ্যা প্রচারণার ঢাল দিয়া লুকাই। এখন এই লুকানোর ইচ্ছা একেবারেই ব্যক্তিগত চাওয়া। ব্যক্তিগত এমন গোপন ইচ্ছা থাকবো আবার সামাজিক জীবন যাপনে পরস্পর মুখাপেক্ষি থাকা লাগবো এমন কন্ট্রাডিকশান নিয়া চলাটাই ধীরে ধীরে নিয়ম হইয়া দাঁড়াইতেছে। মানুষ যেহেতু ইন্ডিভিজ্যুয়াল হইতেছে সেইহেতু এই কন্ট্রাডিকশান জায়েজ। অনেক সরলীকৃত আলোচনা চালাইতেছি মনে হইতেছে। মেহেরুন রুনি যদি তার পরকীয়ার কথা সরাসরি বইলা বসতেন তাইলে কি হইতো? তার মৃত্যুর পর যারা আহাজারী করতেছে, এই মানুষগুলি দুই দলে বিভক্ত হইতো নিশ্চিত। কেউ তার পক্ষে যাইতো হয়তো, তবে এই অংশ নিতান্তই ক্ষুদ্র হইতো এই জাজমেন্টে যাইতে আমার তেমন কোনো সমস্যা হইতেছে না। আমার মাঝে সাঝে মনে হয় এই ধরনের সামাজিক জাজমেন্ট অর্থাৎ পরকীয়া বিষয়ে সোসাইটির বিরূপ মনোভাব থাকাতেই বিষয়টা গোপনীয়তার পরাকাষ্ঠে জড়াইতে বাধ্য হয় একজন ব্যক্তি। কিন্তু বিরূপ মনোভাব যদি না থাকে!?

তবে স্টকিং বা ইনফিডেলিটি এইধরনের বিষয়গুলি অপরাধসম বা অধিকারসম হইছে ট্রাস্ট আর মিসট্রাস্টের বাস্তবতা তৈরী থাকাতেই, অনেক সময় এমনটা মনে হয় আমার কাছে। আর এই ইন্ডিভিজ্যুয়ালিস্ট সোসাইটিতে পারস্পরিক বোঝাপড়ার বিষয়গুলি এতো ভালনারেবল হইয়া উঠছে, এতো জাজমেন্টাল হইয়া উঠছে যে মানুষ সম্পর্কের বেলায় প্রায়শঃই আকড়াইয়া ধইরা রাখতে চায় তার বিপরীত লিঙ্গের মানুষটারে...কোনোক্ষেত্রে সমলিঙ্গও হইতে পারে বিষয়টা। সম্পর্কের জন্য স্যাক্রিফাইস শব্দটা এইসবক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত। আমি অবশ্য মিনিমাইজ শব্দের প্রতি আগ্রহী হই বেশি। তাতে স্যাক্রিফাইজের মতোন ত্যাগের বোধটা কমার সম্ভাবনা তৈরী হয়, সবচাইতে বাজে বোধগুলির মধ্যে ত্যাগ অনুভূতিটারে রাখতে চাই আমি।

ত্যাগ শব্দটা একেবারেই ক্ষমতার শব্দ।

পরকীয়া বা সম্পর্কের অবনতি যাই হোক না কেনো, এতো কথা মাথায় আসলো আসলে মেহেরুন রুনি'র ব্যক্তিগত জীবন নিয়া নিজের আগ্রহ তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা আছে বইলাই। একটা ব্লগ লেখার মাধ্যমে যদি নিজের বিবেকরে খাড়ার উপরে রাখা যায়...মেহেরুন রুনি বা সাগর সারওয়ার দুইজন খুন হইছেন সমাজে থাকা খুনধর্মীতার জন্যই। এই খুন ধর্ম দূর করার জন্য সংগ্রাম প্রয়োজন। দুর্নীতি বা খুন বা প্রতিশোধ ধর্মী সামাজিক বাস্তবতা কিন্তু বাস্তবিকই আশংকাজনক হারে বাড়তেছে। মানুষ এইসবে ভয় পাইতেছে আবার কোনো এক কারনে ভয় পাওয়া ভীতির প্রতি তার আগ্রহও তৈরী হয় জ্যামিতিক হারে...

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষাক্ত মানুষ's picture


হু

শাপলা's picture


দুর্নীতি বা খুন বা প্রতিশোধ ধর্মী সামাজিক বাস্তবতা কিন্তু বাস্তবিকই আশংকাজনক হারে বাড়তেছে।
হুম, কথা সত্য।

আরাফাত শান্ত's picture


লাশের ছবি বারবার দেখানো টেলিভিশনের এতো পছন্দের জিনিস কেন?

তানবীরা's picture


মেহেরুন রুনি বা সাগর সারওয়ার দুইজন খুন হইছেন সমাজে থাকা খুনধর্মীতার জন্যই। এই খুন ধর্ম দূর করার জন্য সংগ্রাম প্রয়োজন। দুর্নীতি বা খুন বা প্রতিশোধ ধর্মী সামাজিক বাস্তবতা কিন্তু বাস্তবিকই আশংকাজনক হারে বাড়তেছে। মানুষ এইসবে ভয় পাইতেছে আবার কোনো এক কারনে ভয় পাওয়া ভীতির প্রতি তার আগ্রহও তৈরী হয় জ্যামিতিক হারে...

এটাই মোদ্দা কথা।

তবে কায়মনে চাইছি আর যাই বের হোক, পরকীয়া টাইপ রগরগে জিনিস যেনো না বের হয় ফর মেঘ'স সেইক। ছেলেটার জীবন এমনিতেই ধ্বংস হয়ে গেছে। মায়ের কলঙ্ক বের হলে ছেলেটিকে সমাজ এতো গঞ্জনা দিবে যে এ আত্মহত্যা করবে।

লীনা দিলরুবা's picture


বাঙালী এইটা ভালো খায় তাই এই ইস্যু আসছে। বর্বরতার একটা সীমা আছে।

সামাজিকভাবে স্টকাররে বিপদে ফেলা সম্ভবপর না হইলেও মর্যাদার প্রশ্নে ছোটলোকামীর অভিযোগে অভিযুক্ত কইরা দেওয়া যায়...কিন্তু মরনের পর তাদের জীবনে এমন অনধিকার প্রবেশরে কিসের দায়ে ফেলবো!

টিপ সই

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...