পাগলের দিনলিপি (দশ)
দূরে একটা পাহাড় ভয়ে কাঁপছিলো
বললাম, "পাহাড়টা আমার।"
দূরে একটা ঘুড়ি উড়ছিলো বিষণ্ন
বললাম, "ঘুড়িটা আমার ছিলো আগে।"
যেদিন আমিও উড়তে শিখেছি আকাশে
তারপর থেকেই ঘুড়ি উড়ানোর চাইতে
ভেসে যেতে ভালো লাগে এদিক-ওদিক
পাহাড় চূড়ায়, ঘুম নদী ঘেষে,
সমুদ্রের রোদেলা ফসফরাস ঢেউ ছুঁয়ে...
ঘুড়িটাও উড়ছিলো একলা, আমি তার পাশাপাশি
উড়ে দেখি পৃথিবীর সব ছোটলোকদের।
তারা পিপড়ার মতো ছোটাছুটি করে
ঘুড়িকে ঘিরেই তাদের ব্যস্ততা, লোভ
আর সুলভে নিজের করে নেয়ার চক্রান্ত।
ঘুড়িটা বিনয়ী চাহনীতে তাকায় আমার পানে
আমি এড়িয়ে যাওয়ার ভান করে তাকে ছেড়ে
চলে যাই সমুখে কোথাও, ঘুড়িরা তখনো
এতোদূর যেতে অনুমতি পায়নি আমাদের।
দূরের পাহাড়টা যেনো কাঁদছিলো
বললাম, "আমিও আগে সুযোগ পেলেই
কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছি হামেশা।"
ঘুড়িটা আবেগহীন যেতে থাকে
তার পিছু নেয় নিয়মের সুতা, মাঞ্জা দেয়া।
বললাম, "ঘুড়িটা আগে সুতোর বাঁধনে
বেশ সুখি সুখি ভান করতো..."
আমি উড়ে বহুদূর চলে যাই
মানুষগুলোকে মনে হচ্ছিলো তখন
মাংসের পোকা...পচন ধরেছে মৃতদেহে।
ঘুড়িটাকে স্বাধীন স্বাধীন মনে হতে থাকে,
সুতোটা হারিয়ে গেছে আকাশের বাঁকে।





প্লেনে চড়ছিলেন নাকি?
প্লেনে উঠনের ভাড়া ছিলো না। প্রথমে একটা রিকসা তারপর খানিক দূর হাটছি। তারপর দালানের ছাদে উঠছি। ঐখান থেইকা দিছি লাফ...দেখি যে একটা পিচ্চিও আমার পাশে উড়ে...
সেদিন বনমালীদের নীলপাহাড়ের ওপর দিয়ে গ্লাইডিং করতে করতে একটা শহরে ঢুকে পড়েছিলাম। বেশিক্ষণের জন্য না। তাও শরীরে এত কার্বন মনো অক্সাইড ঢুকে পড়লো যে এ্যন্টি-টক্সিন নেয়া লেগেছিলো শেষ পর্যন্ত। শহরের আকাশে চক্কর দেয়ার সময় একটা মানুষকেও পাশে পাশে উড়তে দেখেছিলাম। সেটা তাহলে আপনিই ছিলেন...
আপনিই সেই পিচ্চিটা!! ওর পিঠে ছোট সাদা ডানা আর গায়ে চাদর জড়ানো ছিলো...
মন্তব্য করুন