ফেইসবুক স্টেটাসমালা,,,
এক.
হাত বাড়িয়ে তোমার নাকের উপর জমে থাকা স্বেদবিন্দু মুছে দিতে পারি; পারি অগোছালো চুলের এলোমেলোপনায় ছুটে আসা ভ্রমরটাকে দূরে সরাতে, আমার প্রয়োজন দু্টো মন্ত্র আর একটা ফু। ভুল করে পথ ভুলে যদি মাছিরাও ঘিরে ফেলে কখনো তোমাকে, একটা হুংকার ছড়িয়ে দেবো দিকদিগন্তে। আর পিপীলিকা গা বেয়ে উঠতে চাইলে ছড়াটা শোনাবো তাদের কানের কাছাকাছি। এতোটাই যেনো কাছে সরে গেছি...
তবে দূরত্বের মাপকাঠি যদি ফুটকাঠিতেই হতো, এ মুহুর্তে আমি টেবিল চেয়ার ক্লীবলিঙ্গ ভালোবেসে একলা বসে আছি নিথর অফিসে; বলে দেয়া যেতো নিঃসংশয়ে...
দুই.
জাদুবলে নিজেকে পাল্টাতে হলে, সবচেয়ে ভালো সময় আঁধার
কেউ দেখবে না কোত্থেকে বেরিয়ে এসেছে কোলা ব্যাঙ; কালো কুকুরের
উত্থান কোথায় হলো আচমকা, কেবল গলিপথে রোজ লেজ উচিয়ে অপেক্ষারত
স্থানীয় নেড়ি কুকুরটা খানিক্ষণ জায়গার দখল গেলো বুঝি বলে চেচামেচি
করতে করতে থেমে যাবে একসময়। অন্ধকারে কোলাব্যাঙ আর কালো
কুকুরের নৈশব্দে তোমার রেখাপাত ভুলে যাও, নিম্ন বর্গের পুরুষ
চাহনীর মোহ মদিরতা ছাড়াও আঙুল ছুঁয়ে জাগিয়ে তুলেছে নারী;
আমি এখন ঝলকে বাতাসের সাথে উড়ে যাবো তোমার বাড়িতে
আঁধারে সবার নজর এড়িয়ে উড়ে যাবো অনায়াসে; আঁধারে যেনোবা চোখ
মেলে তাকানোতে অপরাধ আছে। আঁধার মানেই নিজের মতোন স্বপ্ন দেখে
চাকার অজানা পথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলা। হারিয়ে ফেলার আগে
দাঁড়িয়ে চাকার পাশে কিছু ছবি তুলে নেয়া স্মৃতির স্বরূপ।
যেহেতু বাতাস অতএব আমি ছাড়া আর কেউ চিনবে না আমাকে।
আমি ছাড়া আর কেউ তোমার কপোল ছুঁয়ে শোনাবে না শান্তির সংগীত।
তিন.
জুড়ে দিলে দ্রুততম গাড়ি, একসাথে পৌছে যাবে নিশ্চিত গন্তব্যে
খুলে রাখতেই বিরহ কাতর...কারো চোখে বিরহের বেহাগ বেজেছে
জানলেও ভালো লাগে। যদি কেউ আমার বিরহ ভালোবেসে থাকে!
তাই বিরহের ঢেউ বানিয়ে রেখেছি। সেই ঢেউয়ে প্রাণের ছোঁয়া দিলে
জ্যামিতিক কাঠামোতে ভালো লাগার আবেশ ছড়িয়ে যাবে প্রয়োজন যার যার
তার তার কাছে। কোনো একদিন হয়তো আমারো বিরহের চাহিদা জাগবে
তখন আমাকে কাঙাল পনায় বিরহ ভিক্ষা সংগ্রহে যেতে হবে জানি...
চার.
বহুদিন বাদে তুমি ফিরে এলে প্রেমিকা আমার,
প্রিয়তমেষূ মাইগ্রেন। আমি ঘোরমেখে ঘুরি
আর বিলা খাই অল্পেস্বল্পে। মাইগ্রেন তোমার সঙ্গ
আমাকে কেমন রূঢ় করে দ্যায়;
পান থেকে খসে এলে একবিন্দু চুন
আমি তুলকালাম করে দিয়ে নিজের উঠোন,
অন্যের বাড়া ভাতে ছাই ঢেলে দিতে গেছি;
মাইগ্রেন, কেবল তোমার প্রশান্তি হবে বলে
আঁধারে ডুব দিয়ে কোলা ব্যাঙ হতে রাজী আছি।
কোনো একদিন এক ঘুটে কুড়ানির চুমু খেয়ে
আবারো রাজত্ব ফিরে পাবো...
মাইগ্রেন! আমার মাইগ্রেন প্রেমিকা!
পাঁচ.
জল আর কাঁচের গেলাস নিয়ে শোনা সেই
অপেক্ষবাদি সান্তনার কথা মনে পড়লো
অভিজ্ঞতা হলো জল আর গেলাসে জীবন;
আমি ভাবতে থাকি এইতো বেশ ভালো
জল আর খরতাপে কেটে যাওয়া জীবনের
আর কিইবা প্রয়োজন পড়ে!
জল থৈ থৈ জলে মৎস্যজীবী
অথবা রোদ্দুরে পুড়ে পুড়ে তামাটে কৃষক,
এমন না হয়ে যদি কখনো জলজ-কখনো রোদ্দুর
অনিশ্চিত অ্যাডভেঞ্চারে জীবন কাটানো যায়
তবে মৎস্যকুমারীও এলো আবার রোদ্দুরে
সোনারঙ মৃত্তিকার কন্যা সীতাও সময় দিয়ে গেলো।
রোদ্দুরে জলের তৃষ্ণা ভুলে জীবন যাপন করি...
ছয়.
বাবা দিবসে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের বন্ধু-অবন্ধু-পরিচিত-অপরিচিত মানুষের বাবা সম্পর্কীত আবেগী বয়ান পড়ে মনে হচ্ছে, "ইশ! আমার যদি এমন একটা বাবা থাকতো!"
সাত.
চারদলীয় জোটের সরকার বিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচী আসলেই একেকটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। দিনপঞ্জি লিখতে ইচ্ছা করতেছে না। তবে ২০ বছর ধরে অনুপ্রবেশ করতে থাকা রোহিঙ্গা বিষয়ে সরকারের হঠাৎ অনড় অবস্থান। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কথা না বলে আভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে সমালোচনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা দেশগুলোর নাকি কান্না সত্ত্বেও হঠাৎ এমন দেশপ্রেম! সবকিছুতেই যেনো নাফ নদীর মাছ মাছ গন্ধ! আমি দিব্যচক্ষে দেখতেছি এইটা এইবারের চমক। নিজের পায়ে কুড়াল মেরে হলেও অপরের যাত্রা ভঙ্গের প্রশান্তি। নির্বাচনমূখী দেশপ্রেম। আহা! রাত পোহালে বুদ্ধি বাড়ে! যাও বাচ্চে সো রাহো!
তারপর? যেকে সেই...সপ্তম নৌবহর তাহলে কোথায় ভিড়তেছে? সীমান্তে সমুদ্রজয়ের পর ভারতের কাছে পরাজয়ের প্রস্তুতি? সবমিলিয়ে তো পুরা বিষয়টাই মহা প্রেডিক্টেবল! কেবল প্রাচীন কালের সেই আতিথ্যপরায়ণতা, যার টানে পর্যটকেরা বাংলায় নিয়মিতভাবে ভ্রমণে আসছেন তারে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়া হলো। অভাবী-অসুখী বাঙালি যে ক্রমশঃ যে ভারতীয় ঘটিদের মতোন হইতেছে, সেইটা অন্ততঃ বোঝা গেলো। "দাদা খেয়ে আসলেন নাকি গিয়ে খাবেন?"
ঘটনা পরবর্তী মোরাল অনুধাবনের পর রেজোল্যুশান: এখন থেকে যখন তখন কারো বাসা-বাড়িতে উপস্থিত হওয়া যাবে না...দাওয়াত ছাড়া গেলে প্রতিবেশির দরোজাও বন্ধ থাকতে পারে। জিনিষপত্রের দাম যেই হারে বাড়ছে!
আর
অং সান সুচিরে নিয়া যাচ্ছেতাই খেলা চলতেছে। মায়ানমার সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে বিবিধ সন্ত্রাস নির্যাতনের অভিযোগ শোনা যায়। জানা যায় ভূতপূর্ব সোভিয়েত ব্লকের সমর্থক মায়ানমার সরকারের সাথে এইমুহুর্তে চীনাদের খাতির সবচে বেশি। তবুও মার্কিন হৃৎকম্পের গতি না বেড়ে এমপ্যাথিতে পরিণত হয়েছে। সমুদ্রতটে থাকা সকল জনগোষ্ঠীর সাথে মায়ানমার সরকারের নিয়মিত বিরোধ শুরু হইতেছে। বৌদ্ধ মনাস্ট্রি থেকে রোহিঙ্গা মসজিদ, সবখানে। তবু পশ্চিমারা চুপ...
আট.
ফুলের দোকানে যাই, লাল কার্নেশন গুলো
কেমন করুণ তাকিয়ে রয়েছে
শুকনো গ্ল্যাডিওলা হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে
একজন কিশোরী দুঃখময় চাউনীতে তাকায় আয়নায়
আমি বুঝতে পারি বাবা দিবসের আবেগ ফুরিয়ে গেছে।
এখন কোনো এক রাজকুমার টগবগ এসে তারে
তুলে নেবে হ্যাচকা টানে...
রাজকুমারদের অধিকার বোধ থাকতে হয়
কাঁচের ওপাশ থেকে তোমায় তাকিয়ে দেখবে শুধু ভিক্ষুকরাই।।
দুটো গোলাপের স্টিক কিনে আনি
পাপড়ি গুলো ছিড়ে ছিড়ে জেনে নিতে হবে
কোনোদিন তোমার নিকটে গিয়ে আর বসে থাকা যাবে কীনা...
নয়.
প্রত্যাশারে পাথরের নীচে চাপা দিয়ে
রেখে আসি জাদুকাটার নিষ্পাপ জলের গভীরে।
মাছের পোনারা তবু ঘোরাফেরা করে বড় হয়
প্রত্যাশা কেবল ফিকে হবে পাথর চাপায়
কোনোকালে তার রং সবুজ সবুজ হলে
ক্রমে ক্রমে হলুদের ছোপ পড়ে যাবে জানি
তখন তাহার নাম আর প্রত্যাশা রবে না।
প্রত্যাশারে প্রায়শঃ দেখেছি দুঃস্বপ্নে
সেখান থেকেও তারে তাড়ানোর তরে
সপ্তাহে দুইদিন মনোবিদ সঙ্গ কিনেছি টাকায়।
দশ.
মনে পড়লো মামদো ভুত বৌয়ের গল্পটা
তার হাত বাড়তে বাড়তে পৌছে যেতো
ঠিক ঠিক যেখানে দরকার...রান্নাঘর থেকে
উঠোনে শুকোতে দেয়া কাপড় তুলে এনে
রেখে দিতো আলনায়,
তোমার বাড়িয়ে দেয়া হাত ধরতে
ইচ্ছে করছিলো দিনের ক্লান্তি শেষে।
মনে হচ্ছিলো নাহয় তুমি মামদো ভুত হতে আজ;
দূরে...ব্যস্ত যখন অনেক কাজে অথবা আলাপে
মিনিট পাঁচেক তোমার বাড়ানো হাত ছুঁয়ে
ঠাহর পেতাম, ঠিক কিভাবে এখনো বেঁচে আছি!
এগারো.
ঢিল ছুড়ে পুকুরের জলে স্রোত জাগাতে চেয়েছি,
পুকুরের জল শরীর দুলিয়ে খানিক্ষণ হেসে
থেমে যায়; থির জলে জলপিপি খেলতে খেলতে
উপহাস ছড়ায় চারদিকে। জল কেটে যতোটুকু
সাড়া ফেলে তারা অস্থির, তাতেই তাচ্ছিল্যে
আমার শরীরে শিহরণ! যাবতীয় জলজ প্রাণীরে
শাপশাপান্ত করেছি ক্রমাগত, "জলের জারজ কোথাকার!"
বারো.
ভুলে গেছি ঠিকানা সমগ্র, পথ ভুল করে অচেনা পথের বাঁকে
দাঁড়িয়ে থাকার বালখিল্য খেলাটা শৈশবে ভালোবেসে ফেলে
ভুল করেছিলাম স্বীকার করে নিয়ে সরলরেখায় চলেছি
জীবনের অসহায় চাকা গড়িয়ে গড়িয়ে;
ঘোর থেকে গুলশান চক্কর, গুলশান পেরিয়ে ঘর।
আমার সকল সুখ সমর্পিত এখন ভুলে যাওয়া; গন্তব্য একটাই।
আমার সকল অনুভূতি জুড়ে ভুলে যাওয়া, মুছে ফেলার সংগ্রাম।
সাত সকালে বসেছি নিয়মিত ধ্যানে।
অ্যামনেশিয়া! প্রিয়তমা প্রেমিকা আমার, তোমারে প্রণাম...
তেরো.
একদিন চলো হিমশীতল ফ্র্যাপেতে ডুবিয়ে নাক, সব স্মৃতি গিলে ফেলি এক ঢোকে;
তারপর? তারপর পূণরায় শুরু থেকে শুরু করি স্মৃতি নির্মাণের পুরাতন খেলাটারে...
চৌদ্দ.
জ্বরে ঘোরে মেঘবৃষ্টি পেরিয়ে অফিসে। ঘোরমাখা চোখে আষাঢ়ের বৃষ্টি দেখতে দেখতে ভাবি; ছোটবেলায় এমন হলে, ইশকুলে যেতাম না কখনো...বিছানায় শুয়ে শুয়ে কতো দৈত্য-দানো মেরেটেরে একাকার!
পনর.
প্রলাপের দিন শেষে আর কিছু নয়
শুধু চোখ বুজে ছুঁতে ইচ্ছে করে অস্থির আঙুল...
ষোল.
পুরাতন ইতিহাস বইয়ে কোথাও আমার নাম লেখা নেই,
ভূগোল বইয়ের পাতায় হাজারো মানুষের ছবি পাশাপাশি,
কোথাও আমাকে খুঁজে পাওয়া গেলো?
সাহিত্যে অথবা গণিতে?
ব্যাকরণে কদাচিৎ রয়ে গেছি উদাহরণ।
যেখানে আবেগ নাই, পথের ঠিকানা নাই
শুধু রয়েছে ভুলের সর্বনাম কিছু...





কবিতাগুলি বেশী ভাল্লাগছে।
কোনগুলিকে কবিতা মনে হইছে জানাইলে ভালো হইতো...
৬ মন খারাপ করে দিল।
৭ এ ৫ তারা,
শুধু এটাই আলাদা একটা পোস্ট হতে পারতো।
ভাল লেগেছে ৮ ও ১৩।
অন্যরকম পোষ্ট।
পুরা হাফ মাসের ফেসবুক?
হ...প্রায় তাই।
কিছু বুঝছি কিছু বুঝতে পারিনাই।
৮, থেকে শুরু করে সবগুলা ভালো লাগছে
কোনগুলি বুঝতে পারেন নাই বললে বুঝানোর চেষ্টা করা যেতো।
খুব মেলাঙ্ককলিক
মন্তব্য করুন