ডাইরী ৫৫
১.
স্বপ্নের ডালপালা মেলে দিয়ে আমরা একটা কাঠের কেবিন বানিয়েছিলাম পাহাড়ের ওপরে। পাহাড়ে ওঠার জন্য দড়িতে বাধানো সিঁড়ি। পূর্ণিমার রাতে সাদা লগ কেবিনের বারান্দায় বসে বীন কফি...চুমুকে চুমুকে আর নীরবতায় সময় চলে যেতো কোন ফাকে...জ্যোছনা বদলে যখন ভোরের কুয়াশা ঝরতো শিউলি'র ডালে, আমরা তখন নগ্ন পায়ে সবুজ ঘাসের পথ ধরে চলে যেতাম হ্রদের কাছে। সেথা বেধে রাখা বেগুনী পালের নৌকা মৃদূ হাওয়ায় দুলছে তখন।
তুমি হ্রদের স্ফটিক জলে পা ডুবিয়ে বসতে আর আমি সরোবরে ডুবসাতারের খেলায় মগ্ন এপার-ওপার। সবগুলো বেগুনী শাপলা তুলে এনে তোমার পাশে গুটিশুটি বসতেই আমার ভেজা কাধে এলিয়ে দিয়েছো শরীর।
২.
যতোবার আমরা পাহাড়ের কাছে গেছি, দেখেছি পাহাড় কেমন নিস্পৃহ করে তোলে মানুষকে। আর নির্লোভ। অতএব আমাদের সাজানো কেবিনে পাহারা ছিলো না কোন। সিঁড়িটাকে কখনোই গুটিয়ে নেয়ার চেষ্টাও ছিলোনা।
৩.
আটজন পাহাড়ির লাশ পরে আছে বাঘাইছড়ির বনে। পুড়ে ছাই বহু ঘর। আমাদের স্বপ্নের কেবিনটাও তো পুড়লো তবে। আর কোন বাঙালি কখনো হাটতে পারবে একজন পাহাড়ির পাশাপাশি!? লজ্জাবনত আমরা কেবল পিছিয়ে যাবো...পেছাতে পেছাতে একসময় পৃথক হবো।
পৃথক মানুষ কোন পথে বাঁচে তার ঠিকানা আমার জানা নাই...





পাহাড়িদের সাথে আমাদের আচরন খুবি লজ্জাকর; আমার মনে হইতেসে ৭১ এর পাকিস্তানিদের ভুমিকায় ই আমরা অভিনয় করছি
.........................................................
নিরবতা। বন্ধী হাত।
মেজর জেনারেল জিয়াউর রাহমান উজবুক মেলেটারি বুদ্ধি দিয়া সমতলের যে সব লোকদের পাহাড়ে পাঠাইছিল তাদের ফিরাইয়া আনা না হইলে এই জিনিস চলতে থাকবে। বর্বরতা চলতেই থাকবে। আর আমরা লজ্জিত হইতে থাকব।
অনিবার্য বর্তমান, সম্ভবতঃ আগামীও।
ডায়েরী ভাল লাগছে...........চলুক
ভাল লেগেছে।
সেই তেমনই... সেনাবাহিনী পিষে রেখে যাবে অসহায় পাহাড়ীদের আর দর্শক এবার বাঙ্গালীরা যারা আছি তদানীন্তন পাকিস্তানীদের ভুমিকায়...
লেখা খুবই চমৎকার হয়েছে।
মন্তব্য করুন