ডাইরী ৫৯
Life is elsewhere...
এক.
হয়তো সত্যিই জীবন অন্যত্র রয়েছে। আলসেমিতে কখনো খুঁজি নাই অন্যত্রে যাওয়ার পথ বরং ভেবেছি নিজের চারপাশে তুমুল আন্দোলনে একদিন পাল্টে যাবে সব, এইখানেই পেয়ে যাবো জীবনের দিশা। তবু দেখি অন্যত্রের পথ অন্বেষণে চলেছে অনেকেই...
সুমনা'র সাথে আমার একবার কথা হয়েছিলো, তিনি আক্ষরিক অর্থেই ছিলেন প্রেমময়। ঐ একবারের কথোপকথনে আমি তার সন্তানের প্রতি ভালোবাসা টের পেয়ে যাই। টের পাই জীবনের প্রতি অনুরাগ। তারপর থেকে তারে দেখেছি নীরবে আমার কবিতায় ভ্রমণের তরে এসে চিহ্ন রেখে যেতে।
কনিকা'র সাথে আমার কখনো কথা হয় নাই। তার ছবি দেখতাম প্রায়শঃ ফেইসবুকের পাতায় পাতায়। নিজেরে প্রকাশ করনের তরে তার তুমুল আগ্রহ দেখে প্রায়শঃই ঈর্ষা জাগতো। যদিও কনিকা আমার ফেইসবুকের বিশাল বন্ধু বহরের চাপে আড়ালেই চলে গিয়েছিলো ধীরে ধীরে।
হঠাৎ একদিন সুমনার আত্মহননের কাহিনী শুনলাম কার টেলিফোনে! নির্দেশমতোন খবরের কাগজেও দেখি একজন মেহেরুন্নেসা'র ঝুলন্ত লাশে দিনভর মাছি খেলা করে।
আর
আজকের খবরের কাগজে যখন দেখলাম কনিকার উরনায়িত লাশের ঠিকানা পেয়েছে মানুষ, আমি চমকে যাই! অন্তর্জালে রক্ষিত তাহার সকল ছবিতে ঘুরিফিরি খানিক্ষণ...যে কনিকারে আমার ঈর্ষা হতো, তার সব হাসিরে ভীষণ মেকী মনে হয়, মনে হয় অন্যত্র যাবার তুমুল আগ্রহ পুষেছে সে নিভৃতে...
দুই.
আমি স্মৃতি ঘাটতে থাকি ক্রমাগত। মনে পড়ে যায় গতো কয়েকদিন বেশ কয়েকজন নারীর চিন্তায় অন্যত্রের আকাঙ্খা দেখেছি। আমি আদৌ জানিনি কখনো অন্যত্রে সে স্বদেশ রয়েছে কীনা...পুরুষ হিসাবে বিদ্যমানতার সাথে লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখি আজীবন। আলসেমীতেও টান পড়ে যুদ্ধের ময়দানে গেলে...
তবে কি কনিকা কিম্বা সুমনার মতোন অসংখ্য নারী বন্ধুর, আত্মহননের পর ঝুলে থাকা লাশে মাছিদের ঘোরাঘুরি দেখাটাই আমাদের নিয়তি হয়েছে?
তিন.
আমি ভয় পাই...তুমিও তো অন্যত্রে সুখের হাতছানি দেখেছিলে...আমি ভয় পাই...সেই সুখে যদি মাছিদের আনাগোনা বাড়ে!
---------------------------------------------------------------------------------------
আমি ডাইরী লিখি। ডাইরী মানেই অনেক তাৎক্ষণিক উপলব্ধি। এই উপলব্ধি পুরানা হইলে তার আবেদন থাকে কীনা আমার জানা নাই বা যদি আজকেই এই ডাইরী না লিখতাম তাইলে আর কখনোই হয়তো লেখা হইতো না।
অনেক ভনিতা করলাম। আসল কথা আমরা বন্ধুর নীতিমালা ভাঙলাম। প্রথম পাতায় আমার দুইটা পোস্ট এর মধ্যেই ঝুলতাছে। তারপরও এই পোস্ট সাহস আর বিশ্বাস রাইখা প্রকাশিত করলাম। আমরা বন্ধু'র বন্ধুরা হয়তো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন সেই আশায়...





একটু আগেই প্রথম আলোতে দেখলাম। কি বলবো বুঝতেছিনা ভাস্করদা। আপনার ডায়রী সিরিজটা ভয়াবহ সুন্দর। অনেক শক্তিশালী।
এইটার প্রশংসা করার মতন ভাষাও আমার নাই। আর নিয়মের কথা কইলেন? আপ্নে কইয়া না দিলে এই লেখা পড়ার পর কারো নিয়মের কথাটা মাথায়ই আসতো না। এই যে নিয়মরে সন্মান দিলেন এর লাইগা স্যালুট।
ধন্যবাদ রাকিব...আপনাদের ভাষাহীন প্রশংসাতেই ব্যক্তিগত ডাইরীগুলি প্রকাশ্যে ব্লগ সাইটে তুলতেছি...
ব্লগ মানেইতো ডিজিটাল ডায়েরী আসলে
ব্লগ মানে যা'ই হোক, বাঙালির কাছে ব্লগ মানে সাহিত্যের বিকল্প প্রকাশ মাধ্যমও হইছে...
এরকম লেখাকেই বোধহয় রোজনামচা বলতে যেটা বোঝায় সেটা বলে ...।
আমি আসলে ধরণগুলি সম্পর্কে কম জানি, রোজনামচা হইলে তা'ই সই। ধন্যবাদ...
মন বিষন্ন করা লিখা
ঘটনাগুলিরে আমার অনেক অ্যালার্মিং লাগছে...আর মন খারাপের তো বটেই...
সত্যিই হৃদয়-বিদারক.....
জীবনের সঙ্গে এই দূরত্ব কি মুহূর্তে তৈরি হয়, কে জানে!
এই দূরত্ব আসলে মনে হয় সমাজের সাথে তৈরী হয়...তার প্রকাশ হয় জীবনের সাথে বিচ্ছিন্নতার মধ্য দিয়া...
ভাস্করদা', আমি মাঝে মাঝে ফেইসবুকে কিংবা এখানে আপনার ডায়েরীর অংশগুলো পড়ে ফেলি; অনেকটা ভুলেই! আর যতবারই পড়ি একটা হাহাকার পাই, মনে হয় আমার ভিতরে কে একজন যেন খুব করে কাঁদছে। কেন কেন? আপনি কি একটু আনন্দের কিছু লিখেন না? বাস্তবিকই ডায়েরীতে তো সুখ-দুঃখ সব আসে। নাকি শুধুই আমি এরকম লেখাগুলো পড়ে ফেলি?
আনন্দের কিছু আসলে ঘটতেছে না অনেকদিন ধইরাই...একেরপর এক খারাপ খবর আসতেছে...কি করুম ক'ন...
জোড়া মিলে না ক্যানো ?
যখন সুখ অন্যত্র থাকে, তখন জোড়াও তো অন্যত্র'ই থাকবো কি ক'ন?
life is elsewhere কথাটা খুব পছন্দ হইছে। যদিও টিংকারবেলের মতো অবস্থা...টিংকারবেল দেখছেন না?
life is elsewhere এইটা বেসিক্যালি ৬০ দশকে ইউরোপের ছাত্র আন্দোলনের একটা শ্লোগান ছিলো...দেয়ালে দেয়ালে তারা এই চিকা মারতো তখন।
পরে এই নামে মিলান কুন্ডেরা একটা উপন্যাস লিখে এই নামে। তার প্রেক্ষাপট ছিলো ৬৮'তে চেকোস্লোভাকিয়ায় সোভিয়েত আগ্রাসন পরবর্তী সময়টা।
টিংকারবেল চরিত্রের একটা অ্যানিমেশন মনে হয় দেখছি...পিটারপ্যান...
সুমনার ছবিটা পাপড়িদির পেজে দেখলাম বোধহয়। কি মিষ্টি দেখতে। বুক পুড়ে যায় এরা নেই ভাবলে। জীবন এতো কঠিন ক্যানো?
মন্তব্য করুন