এই আমি - এই আমরা
ছোট তিনটি ঘটনা বলি।
১-আমার এক প্রবাসি বন্ধু , যার প্রবাস জীবনের ছবি দেখে আমি হিংসায় জ্বলি আর ভাবি আহা , কি সুখেই না থাকে মানুষ বিদেশে ! -দেশে আসার পর আমায় বলে দোস্ত বিদেশে থাকি , টাকা ও কম কামাই না কিন্তু মাঝে মাঝে কেমন যেন লাগে । যন্ত্র হয়ে গেছি রে ! আমি তখন বিজ্ঞের মত একটা ভাব করতাম আর টেনে টেনে বলতাম - তোরে যাইতে কইছে কে ? এখানে ই চেষ্টা করতি । আর নিজের চেহারায় একটা বুদ্ধিমানের আভা ফুটিয়ে বলতাম - আমরা ভালো ই আছি।
২-দোকানে গিয়ে body spray খুঁজছিলাম , salesman আমাকে কিছু নমুনা দেখাল সাথে বুঝাতে চেষ্টা করল কোন্টার কি ঘ্রাণ। কোনটা lemon, কোনটা cool,আরো আছে নানা ধরনের ।আমি অনেক চুলচেরা বিশ্লেষণ করে পছন্দসই body spray কিনে বাসায় আসলাম।
৩-কুনমিং বিমানবন্দরের এক বাংলাদেশির সাথে পরিচয় , দশ বছর ধরে সেখানে থাকে - ছোট্ট একটা ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়েছে নিজের চেষ্টায়।দেশ থেকে একরকম পালিয়ে ই এসেছে। এখন ছোট ভাই তার malayasia এর একটা বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়াশুনা করে। সে চায় তার ভাই সেখানেই বসবাস করুক
ভাবছেন হয়ত 'তিনটা ঘটনার দুইটা বুঝলাম কিন্তু body spray এর সাথে এটার সম্পর্ক কি ?' আমি প্রতিদিন বাসা থেকে অফিস আর অফিস থেকে বাসা যাতায়াত করি - গত চার বছর ধরেই করছি-কিন্তু গত পাঁচ ছয় মাসে ঢাকা শহরে(?) পাবলিক বাসে যাতায়াত করা টা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। আমি সময় নিয়ে আগে ভাবতাম -কিন্তু অবস্থা এখন এমন সময় নিয়ে ভাবার সময় নেই - বাঁদর ঝুলে , চিঁড়ে চিপ্টে হয়ে কোন মতে বাসে পা ঝুলাতে পারলেই হল,আর কোনভাবে বাসের ভিতরে দাঁড়াতে পারলে তো জীবন ধন্য, তখন সিটে বসা লোক গুলা কে মনে হয় স্বর্গ বাসি।সময় যতই লাগুক- এক ঘন্টা - দুই ঘন্টা - ব্যাপার না। সরকার আমাদের সময় নিয়ে চিন্তা করা থেকে রেহাই দিতে পেরেছে এখন আর কিছুদিন পরে আর এই ভাবে বাঁদরের মত ঝুলে যাওয়াটা ও সয়ে যাব - হাসি মুখে ।
আমার কথা হচ্ছে , সময় লাগুক - সেটা - হতে পারে আমি ৮০ কিমি দূর থেকে এসে অফিস করছি - কিন্তু ১০ কিমি অথবা তার থেকে ও কম দূরত্ব যাচ্ছি দেড় থেকে দুই ঘন্টায়।দোকান থেকে কেনা যে body spray মেখে বের হলাম বাসে উঠা মাত্র তা ছড়িয়ে দিছি সবার মাঝে - পাশে জনের ঘামে ভেজা শরীর আর আমার ঘামে ভেজা শরীর আজ গন্ধ বিনিময় করছে অকাতরে- আমার নাকের কাছে আরেক জনের বগল , আমার কনুই গুতো দিচ্ছে অসহায় পাশের জনকে - পড়তে হয়ত খুব খারাপ শুনাচ্ছে -কিন্তূ এটা ই আজ ঢাকা শহরের বাস্তব চিত্র।
কোথায় ও যাবেন ? কিভাবে যাবেন ? CNG taxi ? পাবেন না - পেলে ও ভাড়া চাবে তিনগুন - আক্ষরিক অর্থে তিনগুন - (তবুও আপানার ভাগ্য ভাল আপনি গাড়ি পেয়েছেন)।
বাসের কথা তো বললাম ই - cab এ যাবেন ? এ ব্যাপারে কিছু না বলা ই ভাল।
আমরা এখন বাস করি একটা দেশের first citizen হিসেবে - আমার সেই প্রবাসী বন্ধু এখন ও second citizen ,হয়ত কুনমিং এ আলাপ হওয়া সেই ব্যাক্তি ও second citizen। কিন্তু আমি এখন বিশ্বাস করি তারা আমার থেকে বুদ্ধিমান - তারা যে কোন ভাবেই আগে টের পেয়ে গিয়েছে - এ দেশে সে কিছু করতে পারবে না থেকে ও বড় সত্য এ দেশ দিন দিন খারাপ অবস্থায় যাবে ।
আমার উল্লেখিত লাইন টি দেখে অনেকে এখন নড়ে বসবেন । please আমাকে দেশের পজিটিভ তথ্য গুলো দেবার চেষ্টা করবেন না। আমি তা ভালো ভাবেই জানি , আর শুধু মাত্র ঢাকা শহরের যাতায়াত ব্যাবস্থা দিয়েই আমি একটা দেশ কে মেপে ফেলছিনা।আরও factor গুলা ও আমি জানি -
অন্ন , বস্র , বাসস্থান , শিক্ষা , চিকিৎসা - পাঁচটি মৌলিক অধিকার এর সাথে এখন যোগ করা দরকার যাতায়াত। এর মূলে রয়েছে decentralization.সেটা আমি ও জানি আপনি ও জানেন। কিন্তু যারা করার তারা কিছু ই করছে না। কেন করবে ?
জব করি একজন software বানোনোর লোক হিসেবে। আফসোস - এমন কিছু করতে পারতাম - যা গ্রামে গিয়ে করা সম্ভব- যেমন , ডাকতারি - হয়ত চলে যাবার চিন্তা টা আরো জোরালো ভাবে করতে পারতাম - দেশে প্রতি তীব্র ভালবাসা রেখেই বলছি - হে বন্ধুরা - যারা এ দেশ ছেড়ে গিয়েছ - তোমাদের প্রতি আমার স্যালুট - আর কখনো দেশে ফেরার চিন্তা ও করোনা । এ দেশ এখন শকুন শেয়ালের হাতে - যোগ্যাতা হীন এই আমি পারবনা দেশ ছেড়ে যেতে - পারবনা বিদ্রোহ করে দেশ দখল করতে । গলে , পঁচে মিশে যাব । এই আমি - এই আমরা।





নেতৃত্বই বাংলাদেশরে খাইলো.............
আপনাকেও বলছি, সফটওয়্যারে যেহেতু আছেন, সুযোগ পেলেই বাইরে চলে আসার চেষ্টা করেন। প্রতিটি দেশপ্রেমিকেরই সেই চেষ্টা করা উচিত। চাইনীজরা এই করে চীনকে রক্ষা করেছে।
আর যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি দেশের উন্নতির প্রধান সোপান। ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পর্কে মন্তব্য না করাই ভালো। কেনো যে লোকজন বিদ্রোহ করে না বুঝি না। পাতাল রেল কিংবা সি।এন।জি বাস যাহোক নামিয়ে ঢাকাকে বাসযোগ্য করা আশু দরকার।
দিনে দিনে বড় দেশপ্রমিক হয়ে উঠছি।ভাবতেই ভালো লাগে।
কয়দিন আগে একটা প্রিন্টেড বিজ্ঞাপন দেখলাম। সকালের স্মার্টনেস দুপুরেই শেষ। ছবিতে দেখলাম সকালে স্যূট পড়া লম্বা চুলো চিকনা মতোন একটা লোক, দুপুর নাগাদ যে একটা ছাগল হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞাপনটা ছিলো বডি স্প্রে'র। আপনার বর্ণিত পরিস্থিতি আসলেই সত্য। কিছু বলার নেই।
এই ভালো-মন্দ মিলিয়েই আমাদের এই ঢাকা, যে শহরটাকে ভীষণ ভালবাসি।
অন্ন , বস্র , বাসস্থান , শিক্ষা , চিকিৎসা - পাঁচটি মৌলিক অধিকারই নিশ্চিত হয়নি তার উপর যাতায়াত !!
আজকাল এসব আর আমাদের এসব স্পর্শ করে না.......
আমাদের নেতারা আমাদের অনুভূতিও কেড়ে নিচ্ছে।
এর মাঝেই ভাল থাকতে হবে এই আমাকে, এই আমাদের !
খুব মনোযোগ দিয়ে পড়লাম । কারণ আমিও যে ভুক্তভোগী। মাঝে মাঝে কান্না পায় জ্যাম এ বসে থাকতে থাকতে। সি এনজি / ক্যাব এর কথা আমিও না বলি। শেষ পর্যন্ত রিক্সা। রিক্সা ভাড়া আগের সি এন জি ভাড়ার সমান। আর রিক্সায় চড়ে মরতে গিয়ে বাঁচলাম দুইবার। তবু নিরুপায়। ঢাকা শহরটা অসহ্য লাগে।
দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কিছুই করার নাই গো ভাই
অসংখ্য মানুষের মনের কথা বলে দিছেন ভাই । ঢাকা শহর ছাইড়া যাইতে পারলে বাঁচতাম ।
যোগ্যতা নাই, তাই বৈদেশ যাওয়ার উপায়ও নাই ।
এর মধ্যেই বেঁচে থাকবো , তারপর একদিন চলে যেতে হবে ........ এইতো......
দোস্ত এই সবই হলো ডিজি(টাল) সমস্যা বুঝলা। আমরা আজন্ম উন্নয়নের জোয়ারে ভাসতে ভাসতে এখন উদ্বাস্তু......
আমাদের চিটাগাঙ ও সেই পথে হাঁটছে....।
(
(
তুমি আমার কথাই বললা
-এই সমস্যার মূল কারণ আমার সাথে আপনার দেখা হচ্ছে না। আপনার দীর্ঘশ্বাস আর আমার দীর্ঘশ্বাস আলাদা অরন্যে রোদন করছে। আর ওদিকে ছাগলে ফর্দ খেয়ে ফেলছে।
-চাটগা থেকে মনে মনে বলি ঢাকার মানুষ অনেক ধৈর্যশীল। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন, তাই কেউ বিদ্রোহ করছে না এখনো।
-সবশেষে বলি, বিশৃংখলতায় সহিষ্ণু থাকা দেশপ্রেমের লক্ষণ।
মন্তব্য করুন