ব্লগ কি বিকল্প গণমাধ্যম হতে পারবে?
আমাদের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক (বেতার ও টেলিভিশন) মিডিয়াগুলো নিজেদের গণমাধ্যম হিসেবে দাবি করলেও সত্যিকার অর্থে সেগুলোর কতোটুকু শুধু ‘মাধ্যম’ এবং কতোটুকু ‘গণ-মাধ্যম’ তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। একটি মিডিয়া বা মাধ্যম মানুষের কিছু বিষয় নিয়ে কথা বললেই সেটি গণমাধ্যম হয়ে যায় না। গণমাধ্যম হতে হলে মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকতে হয়; জনমানুষের নিজস্বতা, স্থানীয় ধ্যানধারণা ও সংস্কৃতি গণমাধ্যমের চরিত্রের মূল উপকরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে হয়। পণ্যের চেয়ে মানুষকেই সেখানে গুরুত্বপূর্ণ হতে হয়। চাপিয়ে দেয়া দর্শন, পণ্য বা তথ্য প্রচার করে; নাগরিক সমাজের স্ট্যান্ডার্ডকে সারাদেশের স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে বা অন্য সংস্কৃতিকে নিজ সংস্কৃতিতে জোরপূর্বক প্রবেশ ঘটিয়ে একটি মাধ্যম নিজেকে গণমাধ্যম বলে দাবি করতে পারে না-- যদিও আমাদের গণমাধ্যমগুলোর ক্ষেত্রে মূলত তাই দেখা যাচ্ছে। দেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কর্মকাণ্ডে মানুষের, বিশেষত নাগরিক সমাজের সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছে; কিন্তু নিজেকে এখনো সেই পর্যায়ে উন্নীত করতে পারে নি-- যে পর্যায়ে উন্নীত করলে নিজেকে সত্যিকার অর্থেই গণমাধ্যম হিসেবে দাবি করতে পারে। অতীতে বাংলাদেশ বেতারের এক ধরনের গণভূমিকা ছিল, কিন্তু এটিও আস্তে আস্তে সে অবস্থা থেকে সরে আসছে।
ব্লগ বা ব্লগিং আমাদের দেশে নতুন। শুধু আমাদের দেশেই না, বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতেও ব্লগ সংস্কৃতি এসেছে খুব বেশিদিন আগে নয়; কিন্তু এরই মাঝে এটি মিডিয়াজগতে কিছুটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একটা সময় পর্যন্ত ব্লগের ধারণা শুধু ব্যক্তিমানুষের লিখিত অনলাইন ডায়েরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আস্তে আস্তে এতে বহুমাত্রা যুক্ত হয়েছে। আজ থেকে বছর পাঁচেক আগেও অনেকে ব্লগের কথা জানতেন না। যারা ব্লগ লিখতেন, তাদের অধিকাংশ মূলত নিজেদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা পর্যবেক্ষণ ওয়েবে লিপিবদ্ধ করে রাখতেন। সে অবস্থা থেকে ব্লগ এখন এমন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে যেখানে ব্লগকে একটি আলাদা মিডিয়ার মর্যাদা দেয়া যায় কিনা, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্লগ মানুষের মত প্রকাশের অন্যতম একটি হাতিয়ার হিসেবেও দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মত প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে প্রচলিত ‘গণমাধ্যম’গুলোর সীমাবদ্ধতা হচ্ছে-- এগুলো মোটামুটি একরতফা বা একপাক্ষিক। সেখানে পাঠকের দিক থেকে লেখক বা বক্তার সঙ্গে সরাসরি মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ খুবই কম। কিন্তু ব্লগে লেখকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়, বক্তব্য পছন্দ বা অপছন্দ হলে তা সরাসরি বলা যায়। এমনকি লেখক ভুল তথ্য দিলে বা লেখায় অসততা থাকলে পাঠক সেখানে প্রতিবাদও জানাতে পারে। প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় লেখক-পাঠক মিথস্ক্রিয়ার এ চরিত্রটি মোটামুটি অনুপস্থিত। যে দুয়েকটি সীমিত ক্ষেত্রে পাঠক বা দর্শককে সরাসরি যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়, সেখানেও মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ ও সময় থাকে তুলনামূলকভাবে কম। আজকাল অবশ্য সংবাদমাধ্যমগুলোর কিছু কিছু তাদের ওয়েব সংস্করণে পাঠকের প্রতিক্রিয়া জানার ব্যবস্থা যুক্ত করেছে, কিন্তু সেটিও আসলে একতরফা যোগাযোগ। পাঠকের মতামতের ওপর ভিত্তি করে লেখকের প্রতিক্রিয়া জানা যায় না, এমনকি ভুল তথ্য থাকলে লেখকের সেটি সংশোধনের সুযোগ নেই। ব্লগ এ সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত।
ব্লগ একসময় ব্যক্তিকেন্দ্রিক লেখালেখির ক্ষেত্র থাকলেও আস্তে আস্তে বেশ কিছু ব্লগ-প্ল্যাটফর্ম তৈরি হতে থাকে। এসবের কোথাও কোথাও মডারেশন রয়েছে, কোনোটি বা উন্মুক্ত। ব্যক্তিকেন্দ্রিক লেখার বাইরেও ব্লগের যে বৈশিষ্ট্যটি দিন দিন সমাজবিজ্ঞানীদের কাজের ক্ষেত্র হয়ে দাড়াচ্ছে, সেটি হচ্ছে এর সংবাদ প্রদানের ক্ষমতার বিশেষ বৈশিষ্ট্যটি। যারা ব্লগ লিখেন, অর্থাৎ ব্লগাররা প্রথাগত অর্থে সাংবাদিক নন (যদিও অনেক সাংবাদিক ব্লগ লিখেন); কিন্তু ব্লগের মাধ্যমেই অনেক তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়। সংবাদ মাধ্যমের আগে এখন ব্লগেই খবর আগে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা অনেকে জেনেছেন ব্লগের মাধ্যমেই। ব্লগাররা ঘটনা ঘটামাত্র ব্লগে লিখে ফেলতে পারেন। প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় খবর প্রকাশে যেসব পদ্ধতিগত দিক, সময় বা উপস্থাপনার বিষয় মাথায় রাখতে হয়, ব্লগে তার দরকার পড়ে না। ভাষার কারুকাজের চেয়ে ব্যক্তির তথ্য প্রদানের দ্রুততা এবং নিজস্ব পর্যবেক্ষণ সেখানে গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনা ঘটামাত্রই তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার যে ক্ষমতা ব্লগের রয়েছে, ‘মুহূর্তেই সব সংবাদ’-জাতীয় শ্লোগানের দাবিদার তথ্যমাধ্যমেরও সেই ক্ষমতা নেই।
ব্লগের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে-- সেগুলো পদ্ধতিগত নাকি ব্লগের চরিত্র নির্ধারণ না হওয়ার কারণে সৃষ্ট তা অন্য বিতর্কের বিষয়। এর সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা দায়বদ্ধতায়। প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে যে আপাত-দায়বদ্ধতা দেখা যায়, ব্লগের সেটি অনেকটা অনুপস্থিত। বিশ্বে অনেকেই নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতার সাথে ব্লগিং করে যাচ্ছেন, অনেক জনপ্রিয় সংবাদপত্রের চেয়ে তাদের প্রকাশিত তথ্য বা লেখার জনপ্রিয়তা কম নয়-- কিন্তু সেগুলো বিচ্ছিন্ন উদাহরণ। দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে ব্লগ এখনো নিজের অবস্থান পোক্ত করতে পারে নি। ফলে ব্লগ থেকে পাওয়া খবর অনেকে প্রথমে বিশ্বাস করতে চান না; খবরের সত্যতা যাচাই করতে চান। সন্দেহ নেই, অনেক ব্লগার কিছুটা বাড়িয়ে লিখেন, অনেক তথ্য ঠিকমতো উপস্থাপিত না হওয়ায় বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়, গুজবও রটে ব্লগ থেকে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ব্লগে ভুল বা অসত্য তথ্য উপস্থাপন করে পার পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ব্লগের দায়িত্বশীলতাও বাড়ছে দিন দিন। এ কারণেই তথ্য ও গণমাধ্যমে ব্লগ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যাত্রা শুরুর সময় উইকপিডিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন উঠেছিল, কিন্তু উইকিপিডিয়ার দায়িত্বশীল আচরণে আজকে এটি অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য। ব্লগও সে অবস্থানে যাচ্ছে দিন দিন।
লেখাটির শিরোনামে ‘বিকল্প’ ও ‘গণমাধ্যম’ শব্দদুটো ব্যবহার করা হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে। প্রশ্ন উঠতে পারে, বিকল্প কেন, মূল গণমাধ্যম নয় কেন? এছাড়া ব্লগকে শুধু ‘মাধ্যম’ না বলে ‘গণমাধ্যম’-ই বা কেন বলা হচ্ছে?
আমাদের পরিচিত মাধ্যমগুলো কোনো না কোনোভাবে প্রাতিষ্ঠানিকতার চর্চা করছে। এগুলোর প্রতিষ্ঠা, পরিচালন বা অগ্রগতি-প্রক্রিয়া-- সবকিছুর সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে প্রাতিষ্ঠানিকতা জড়িত এবং এর সবকিছুই কাজ করে নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে। মূলধারার মাধ্যম হতে হলে এর ব্যত্যয় নেই। অপরদিকে ব্লগের চরিত্র মূলত বৈশ্বিক। মূল মাধ্যমগুলোতে কারা লিখবেন ও কী লিখবেন, তাও নিয়ন্ত্রিত হয় একটি কাঠামোর মধ্য থেকেই। লেখক সেই কাঠামো ভাঙতে পারেন না। অপরদিকে ব্লগলেখকদের ভৌগলিক সীমানা নেই, নেই এই কাঠামোগত বাধ্যবাধকতা। নানা দেশ থেকে, ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অবস্থান করে তারা লিখছেন। মূল সংবাদমাধ্যমগুলোতে নামিদামি লেখকরা গুরুত্ব পায় বেশি। সেখানে তারকালেখকদের আলাদা মূল্য দেওয়া হয়। ব্লগে ঠিক সেরকমটি দেখা যায় না। অবশ্যই ব্লগে তারকালেখক রয়েছেন কিন্তু তাদেরকে ‘তারকা’ হতে হয়েছে ব্লগ-পাঠকদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে, নিজের লেখার গুণে। তারা মিডিয়াসৃষ্ট নন। অনেক মিডিয়া-তারকা ব্লগে লেখালেখি শুরু করলেও টিকতে পারেন নি এসব কারণেই। একটি মূল মিডিয়া হওয়ার জন্য যেসব চরিত্র থাকা দরকার, ব্লগ সেগুলোর বিকল্প চরিত্র ধারণ করে বলেই ব্লগকে বিকল্প মাধ্যম হিসেবে বলা হচ্ছে।
‘গণমাধ্যম’-এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বহুল ব্যবহারে গণমাধ্যম শব্দটির ভিন্নার্থ দাড়িয়ে যাচ্ছে; কিন্তু জনমানুষের মিথস্ক্রিয়া এবং মাধ্যমের যাবতীয় কাজকর্মে জনমানুষের সম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো মিডিয়া নিজেকে গণমাধ্যম বলে দাবি করতে পারে না। ব্লগ এখন পর্যন্ত যে চরিত্র ধারণ করেছে, তাতে তার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে নিজেকে গণমাধ্যম হিসেবে বিকশিত ও প্রতিষ্ঠা করার-- যেখানে সত্যিকার অর্থেই মানুষ নিজেদের বিষয় নিয়ে কথা বলবে। নিজের কথা অপরের মুখ দিয়ে বলানোর চেয়ে নিজের কথা বলবে নিজেই। নিজেদের চিন্তাভাবনা অন্যের সঙ্গে নিজেই শেয়ার করবে এবং পরস্পরের যুক্তিতর্কগুলো উঠে আসবে সরাসরি। ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তাভাবনা পণ্যের প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে নিজস্ব প্রয়োজনে আবর্তিত হবে। একটি কার্যকর বিকল্প গণমাধ্যম হওয়ার জন্য ব্লগমাধ্যমকে আপাতত পাড়ি দিতে হবে মাত্র দুটো পথ-- ব্লগারদের নিজেদের বক্তব্যের প্রতি আরো দায়িত্বশীল হওয়া এবং ইন্টারনেট ব্যবস্থার প্রসার। বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার সহজলভ্য না হওয়ায় ব্লগ এখনো শহুরে নাগরিক সমাজের নাগালের বাইরে যেতে পারে নি। এ সীমাবদ্ধতাটুকু কাটিয়ে উঠতে পারলে একটি কার্যকর বিকল্প গণমাধ্যম হওয়ার সব সম্ভাবনাই রয়েছে ব্লগের মধ্যে।





সুন্দর বিশ্লেষনের জন্য অনেক ধন্যবাদ। লেখাটি মূলধারার কোন দৈনিকে ছাপা হলে পত্রিকার পাঠকরা ব্লগ সম্পর্কে এবং সেটির বিকল্প গণমাধ্যম হবার প্রচেষ্টাকে জানতে পারবে। বাকস্বাধীনতা আছে এরকম ব্লগ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে একটিও ছিলনা, 'আমরা বন্ধু' সেরকম কিছু একটার ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই ব্লগটি নিয়ে আমি আশাবাদী। কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা কটিয়ে উঠতে পারলে 'আমরা বন্ধু'ই হতে পারে 'গুণে-মানে' একটি ভাল ব্লগ।
ধন্যবাদ লীনা আপা। লেখাটি একটি দৈনিকে পাঠিয়েছি-- দেখি তারা ছাপায় কিনা।
বাকস্বাধীনতা থাকাটা আসলে খুব আপেক্ষিক বিষয়। নিরঙ্কুশ বাকস্বাধীনতা বলে আদৌ কিছু আছে? যদি থেকেই থাকে, তাহলে আমরা নিজেরাও কি এর জন্য তৈরি? অন্য একটা উদাহরণ দিই-- একটি বাংলা ব্লগে তো মডারেশন বলে কিছু ছিল না, যে যা খুশি লিখতে পারতো। কিন্তু এর ফলাফল কী দাড়িয়েছে? আর তাছাড়া শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীতে কোথাও বাকস্বাধীনতার পূর্ণ ব্যবহার করা যায় এমন ব্লগ আছে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। যে রাষ্ট্রীয় কাঠামো আর বৈষম্যমূলক সমাজে আমরা বাস করি, তাতে বাকস্বাধীনতা এক ধরনের মগজধোলাইয়ে ব্যবহৃত শব্দবিশেষ।
শুধু 'আমরা বন্ধু' নয়, বাংলাদেশের সবগুলো ব্লগই 'ভালো' ব্লগ হওয়ার চাইতে যেন আস্তে আস্তে গণমানুষের ব্লগ হয়ে ওঠে- আমার চাওয়াটা সেখানে।
আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। কারণ এ কারণেই আরো কিছু কথা বলতে পারলাম যেগুলো মূল লেখায় ছিল না। আপনার মন্তব্যে উৎসাহও পেলাম যে, লেখাটা বিফলে যায় নি।
এই লেখাটা আজকের যুগান্তরে ছাপা হয়েছে। লিঙ্ক: ব্লগ কি কখনো গণমাধ্যম হতে পারবে?
চমৎকার একটা লেখা দিয়ে গৌতমের ডেব্যু
স্বাগতম
আমি আশাবাদী মানুষ। দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার প্রতিদিনই বাড়ছেই। শহর ছেড়ে গ্রামেও পৌছাচ্ছে যদিও গতিটা অনেক ধীর। তবে এই ছড়ানোর গতিটা আরো একটু স্পিডআপ করা প্রয়োজন। আর দায়িত্বশীলতা? সময়ের সাথে সাথেই এটারও পরিবর্তন হবে।
ধন্যবাদ টুটুল ভাই।
এই লেখাটা আমি আজকের দিকে তাকিয়ে লিখিনি। আগামী বিশ বছর পর ব্লগ হয়তো দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী মিডিয়া হয়ে দাড়াবে। তখন ব্লগের চরিত্রটা গণমাধ্যমের চরিত্র পাবে কিনা, সেই ভাবনাতেই এটা লেখা। আমিও আশাবাদী-- বিশেষ করে তরুণ সমাজই যেহেতু ব্লগের প্রাণ, সেখানে এই আশা করাটা মোটেও বাড়াবাড়ি কিছু নয়।
...তবে দায়িত্বশীলতা নিয়ে আমি কিছুটা সন্দিহান। একটু একটু করে হলেও বাংলা ব্লগের বয়স কিন্তু একেবারেই কম হয় নি, সেই তুলনায় আরেকটু বেশি দায়িত্বশীলতা আশা করাই যায়!
সহমত জানিয়ে গেলাম। সিউর।
কোথাও কোনো দ্বিমত-ভিন্নমত নাই?
বলেন কী! এটাই গৌতমজির প্রথম ব্লগ? পড়ে তো মনে হলো কোনো জাতীয় দৈনিকের নিয়মিত কলামিস্টের ভাবগম্ভীর আলোচনা পড়ছি
আচ্ছা লেখা প্রসঙ্গে যাই। গণমাধ্যম হবার সব যোগ্যতাই ব্লগের রয়েছে, এবং পৃথিবীর অনেক দেশেই রাজনৈতিক এবং আর্থ-সামাজিক বিষয়াদির বিশ্লেষণ, আলোচনা, মত বিনিময় ইত্যাদিতে ব্লগ একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আমাদের দেশে এর কার্যকারিতা কতটুকু পর্যায় পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব সে বিষয়ে আমি এখনও ধন্দে আছি। মূলতঃ দেশের অধিকাংশ মানুষের ইন্টারনেট সুবিধা সুনিশ্চিত হবার আগ পর্যন্ত ব্লগের হালচাল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের মিথস্ক্রিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে হয়। তবে পরিচ্ছন্ন এবং বহুপাক্ষিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্লগ আরও অনেকদিন টিকে থাকবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।
ধন্যবাদ আপনার এই সুচিন্তিত লেখাটির জন্য, বিষয়টি বিশদ আলোচনার দাবী রাখে।
মামু ভাই, এরপর যদি খ্রাপ কথা বলেন, আমি কিন্তু আমার মেয়েদের কাছে বিচার দিমু! বাপেরে খ্রাপ কথা কইলে মেয়েরা কিন্তু আপনারে এমুন ধমক দিব... এটা কল্পনা করেই আনন্দ লাগছে
আমিও মোটামুটি আপনার সাথে একমত যে, ইন্টারনেট ব্যবহারটা সহজলভ্য করতে হবে। না হলে, অন্য সব সেক্টরের মতো এখানেও একটা ডিজিটাল ডিভাইড গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে আশার কথা হচ্ছে, ইতোমধ্যেই ডিজিটাল ডিভাইডের বিপক্ষে একটা সচেতনতা গড়ে উঠেছে, কিছু কাজকর্মও হচ্ছে নানাদিকে-- যেটা এর আগে অন্য সেক্টরগুলোতে দেখা যায় নি। সুতরাং, হোপ ফর দ্যা বেস্ট!
...আর আপনার কাছে এই বিষয় নিয়ে একটা বিশদ আলোচনা দাবি করতে পারি না?
চমৎকার লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ ব্রাদার। ওয়েলকাম টু এবি ব্লগ
ধন্যবাদ য়াযাদ ভাই। তবে এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে পারলে ভালো লাগতো। ইনফ্যাক্ট একসময় তো আপনিও মিডিয়ার সাথে কিছুটা হলেও যুক্ত ছিলেন!
" এই লেখাটা আমি আজকের দিকে তাকিয়ে লিখিনি। আগামী বিশ বছর পর ব্লগ হয়তো দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী মিডিয়া হয়ে দাড়াবে। তখন ব্লগের চরিত্রটা গণমাধ্যমের চরিত্র পাবে কিনা, সেই ভাবনাতেই এটা লেখা। আমিও আশাবাদী-- বিশেষ করে তরুণ সমাজই যেহেতু ব্লগের প্রাণ, সেখানে এই আশা করাটা মোটেও বাড়াবাড়ি কিছু নয়।
...তবে দায়িত্বশীলতা নিয়ে আমি কিছুটা সন্দিহান। একটু একটু করে হলেও বাংলা ব্লগের বয়স কিন্তু একেবারেই কম হয় নি, সেই তুলনায় আরেকটু বেশি দায়িত্বশীলতা আশা করাই যায়! "
আমি আশাবাদী মানুষ। আপনার এই কথার পর আর কোনো কথা নাই।
আপনি আশাবাদী মানুষ- এটা জেনে খুব স্বস্তি লাগছে। আশপাশ থেকে আশাবাদী মানুষজন কমে যাচ্ছে। এমনকি নানা পরিপ্রেক্ষিতে আমি নিজেও হতাশায় ভুগি। সেক্ষেত্রে আশাবাদী মানুষদের সংখ্যাবৃদ্ধি নিঃসন্দেহে উন্নতির জন্য সহায়ক। আপনার-আমার আশাবাদ ছড়িয়ে যাক সবখানে।
আমার মনে হয় না ব্লগ কখনো গণমাধ্যম হতে পারবে, বিশেষ করে আমাদের দেশে। জনবহুল ব্লগগুলার প্রথম পাতা দেখলে আশা করি বুঝা যাবে
আপনার কথাগুলো অমোঘ সত্য; কিন্তু তাও আশায় বাধি বুক! আরেকটি কথা হচ্ছে, এ ধরনের ভার্চুয়াল মাধ্যমগুলো দ্রুতই অবস্থান বদলাতে পারে। যে ব্যক্তিগত দিনলিপির মাধ্যমে ব্লগজগতের সূচনা হয়েছিল, সেখানে তো এখন অনেক ডাইমেনশন এসেছে। আরো ডাইমেনশন নিশ্চয়ই আসবে। আমাদের চেষ্টা থাকাটুকুও জরুরি।
বেশ বিশ্লেষণ ধর্মী লেখা। আপনি যা লিখেছেন তার প্রতিটিই আমারও কথা - কিন্তু শুধু আশার বাণীতে কার্যকরী কোন ফল আসবেনা বলেই আমার বিশ্বাস।
বাংলাদেশে ব্লগের আসল শক্তি উন্মোচিত হয়নি। ১/১১ এর পরের দিনগুলোতে যখন মিডিয়ার উপর অদৃশ্য টুটি চেপে ধরা হয়েছিল তখন অনেক ব্লগ হয়েছিল একটুকরো স্বাধীন স্থান যেখানে নিশ্বাস নেয়া যায় আর সত্য বলা যায়।
আমার মনে হয় আমাদের দেশে ব্লগ নিয়ে অনেক কিছুই করার আছে। আপনার এডুব্লগ উদ্যোগ এ্ই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। ব্লগকে ব্যবহার করতে হবে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন আন্দোলনে। পডকাস্ট বা ভিডিওর ব্যবহারও কম হচ্ছে।
আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আম জনতার বক্তব্যকে আমলে নেয়ার চল কম। ব্লগ হতে পারে প্রতিবাদ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার কণ্ঠ।
আমি একে গণমাধ্যম না বলে প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যম বলতে চাই - যদি একে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়।
ধন্যবাদ রেজওয়ান ভাই।
আমার এই কথাগুলো শুধু আশার বাণী না, এক ধরনের স্বপ্নও আমার। দেশে এখন পর্যন্ত সত্যিকার অর্থে কোনো গণমাধ্যম গড়ে ওঠে নি। যে সম্ভাবনা বাংলাদেশ বেতারের মধ্যে একসময় দেখা গিয়েছিল, সেটাও আস্তে আস্তে মুক্তবাজারের খপ্পরে পড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এখন পর্যন্ত ব্লগের সেই সম্ভাবনা রয়েছে গণমাধ্যম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার। আর এক্ষেত্রে মূল কাজটি করতে হবে ব্লগারদেরই। আর আপনি যেটা বলেছেন, 'স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যম'- সেটার সাথেও একমত। গণমাধ্যম হওয়ার আগে এই ধাপটিকে তো পেরুতে হবেই।
আমার এডুকেশন সাইটের সূচনাটাও সেই অর্থেই করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যথাযথ সাড়া না পাওয়ায় কিছুটা নিষ্ক্রিয় আছে ওটা। সেই অভিজ্ঞতা থেকেও বলি- ব্লগার ছাড়া ব্লগ নিজে আলাদা কোনো শক্তি না। ব্লগকে যদি আমরা গণমাধ্যম হিসেবে দেখতে চাই, তাহলে কাজটি শুরু করতে হবে ব্লগারদেরই।
চমৎকার লেখা ।
ব্লগ দিনকে দিন শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে । জব্বার এর কাহিনী কিন্তু তার প্রমাণ । জব্বার বাংলা ব্লগ পড়ে নাকি কান্না কাটি করছে!!
পত্রিকাগুলোয় বাংলা ব্লগে যেই তুলকালাম কান্ড হইছে সেই বিষয়ে লিখছে ।
তার মানে ব্লগের ক্ষ্যামতা বাড়তেছে
হুমম... অভ্র-বিজয় বিতর্কটা ব্লগের শক্তিকে মূল মিডিয়াকে কিছুটা হলেও প্রতিফলিত করেছে। কিন্তু বিতর্কটা এই ভাষার মুক্তি, কিবোর্ড, লেআউট বা কম্পিউটারের বাংলা লেখার সাথে সম্পৃক্ত না হলে কি এই বিতর্কটা উঠতো? আমি কিছুটা সন্দিহান।
তবে তারপরও বলা দরকার, ব্লগের শক্তি বাড়ছে। এই শক্তি যেন শেষপর্যন্ত জনমানুষের সহায়ক শক্তি হিসেবে দেখা দেয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
চমৎকার একটি লেখা পড়লাম।
ধন্যবাদ, মেঘ।
যখন মাটির কাছাকাছি বাঁচা সেই সব সাধারন মানুষের কাছে তথ্য প্রযুক্তি পৌঁছে যাবে সেই দিন ব্লগ গণমাধ্যম হবার পরীক্ষায় নামতে পারবে, নচেৎ এটা শহুড়ে উচ্চ/উচ্চমধ্যবিত্ত/মধ্যবিত্তে মাধ্যম হয়েই থাকবে যা এখন আছে। দেশের মূল সমস্যা, মাটির কথা, শেকড়ের কথা এখনতো ব্লগে আসে না।
দ্বিমত করার অবকাশ নেই। তবে আশাবাদী হতে চাই একদিন দেশের মানুষ সহজেই ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। তখন ব্লগকেও পড়তে হবে কঠিন পরীক্ষায়- সে কি গণমাধ্যম হতে চায়, নাকি পণ্যের বাহক হয়েই বাঁচতে চায়।
১. পত্রিকার সাথে পাঠকের সরাসরি যোগাযোগ নাই বলাটা পুরো ঠিক না। দৃশ্যমান বলতে পারেন। একটি সংবাদ ছাপা হওয়ার পর পাঠকরা এখন অনেক বেশি প্রতিক্রিয়া জানায়। ভুল হলে তো কথাই নেই। ফোন আসতেই থাকে। সেটি হয়তো বেশিরভাগ সময় অপারেটর পর্যন্ত থাকে। আর এখন তো অনলাইন এডিশনে প্রতিক্রিয়া জানানো যায়ই।
২.মূল ভাবটার সাথে একমত। অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে ব্লগারদের। না হলে কি হয় সে উদাহরণ তো একাধিক আছে।
৩. পত্রিকা আমার ধারণা পত্রিকার জায়গাতেই থাকবে। ব্লগ আরেকটা মাধ্যম হবে। বিকল্প আমি বলি না। পরিপূরক হতে পারে। ইলেকট্রনিক মিডিয়া আসায় এখানে কিন্তু পত্রিকার ক্ষতি হয়নি। যারা ধরণ পাল্টেছে তারা ভাল করছে। যেমন ধরনে. ইলেকট্রনিক মিডিয়া এখন তাৎক্ষনিক বিশ্লেষন দেয়, আর পত্রিকা সেই জায়গা থেকে সরে গিয়ে সংবাদের গভীরে যাচ্ছে। ব্লগ্ও যদি ব্রেকিং নিউজের জায়গা হয় তাহলেও পত্রিকার সমস্যা নাই।
৪. পত্রিকার সাংবাদিক বা লেখকরা ব্লগে সুবিধা করতে পারছে না। কারণ ব্লগাররা মেইনস্ট্রীম লেখকদের গ্রহণ করতে পারে না।শুরু থেকেই আলাদা একটা পক্ষ হিসেবে ধরে নেয়। সুবিধাবাদী বা পত্রিকার পছন্দের ধরনের টাইপ কিছু ভেবে নেন। আবার প্রতিষ্ঠিতরা চায় বাড়তি মনোযোগ।ফলে দ্বন্দ্ব থেকেই যায়। সুতরাং প্রতিষ্ঠিতদের টিকে থাকতে হলে ব্লগে লেখার ধরণ পালটাতে হয়। আর আমার মতো এভারেজ টাইপ সাঙবাদিকদের তেমন কোনো সমস্যা হয় না ব্লগে।
১. যোগাযোগ নাই এ অর্থে যে, এখানে পাঠক-লেখক সম্পর্কটা একপাক্ষিক। যেটুকু প্রতিক্রিয়া জানানো হয়, সেটা আসলে কতোটুকু? আর শুধু প্রতিক্রিয়া তো না, শহুরে নাগরিক সমাজের কিছু সুবিধাপ্রাপ্ত পাঠক ছাড়া অধিকাংশ মানুষের অংশগ্রহণ সেই অর্থে নেই। সবার যে একেবারে সমান বা ১০০% অংশগ্রহণ থাকবে সেটা বলছি না, কিন্তু জনমানুষ এটাকে নিজের বলে ভাবতে পারে না। গণমাধ্যম হওয়ার জন্য এই একাত্ববোধটা জরুরি।
২. হুম। সেটাই। না হলে কী হয় সেই উদাহরণ যেমন আছে, হলে কী কার্যকর ভূমিকা ব্লগ পালন করতে পারে, সেটারও সম্ভাবনা মাঝেমধ্যে উকিঝুঁকি মারে।
৩. আমি কিন্তু সচেতনভাবেই 'বিকল্প' শব্দটি ব্যবহার করেছি- পরিপূরক নয়। পরিপূরক হলে ব্লগ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার চেয়ে বাড়তি কিছু হবে না- একই ধরনের কর্মকাণ্ডের আরেকটি টুল বা হাতিয়ার হবে মাত্র। ব্লগের মধ্যে এখনও সম্ভাবনা আছে এই পরিপূরকতাকে এড়িয়ে বিকল্প হওয়ার। সেই অর্থেই এই কথাগুলো বলা।
৪. এটা একটা ভালো বিশ্লেষণ। এই মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্বটা নিয়ে বাংলা ব্লগে লেখা খুঁজছিলাম। কিন্তু কোনো কারণে এটা নিয়ে লেখা দেখি নি। সম্ভব হলে এই বিষয়টাকে হাইলাইট করেই লিখুন।
৫. অনেক ধন্যবাদ, বিশদ মন্তব্য করার জন্য।
১. আসলে ব্লগ আতুড়কাল পার হচ্ছে। ছাপা পত্রিকার শত বর্ষের ইতিহাস, রেডিও আর টিভি সাংবাদিকতার ইতিহাসও কয়েক যুগের। সেখানে ব্লগ আসলেই বিকল্প গণমাধ্যম হিসেবে তার অবস্থান রাখতে পারবে কি না, সেটি বলার সময় এখনও আসে নি। একটা সম্ভাবনার দূরবর্তী রেখা দেখা যায়, কিন্তু সেটি কি আদৌ আলো ছড়াবে নাকি ঝলক দিয়ে হারিয়ে যাবে, তা দেখার জন্য অন্তত আরো ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে আমাদের।
২. এখন যেভাবে ব্লগ এগুচ্ছে তাতে করে ব্লগের একটা শক্তি দেখা যাচ্ছে, যা মূল ধারাকে পুষ্ট করছে। সবগুলো পত্রিকার তরুণ সাংবাদিকরাই ব্লগ লেখেন এবং কমিউনিটি ব্লগগুলো ফলো করেন। প্রধান প্রধান পত্রিকা যেমন প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, সমকাল এ ব্লগের লেখা জনমত বুঝার অন্যতম মাধ্যম। সুতরাং এ হিসেবে ব্লগ মূল ধারার সহায়ক শক্তি হিসেবেই এখনও আছে।
৩. পূর্ণ গণমাধ্যম হওয়ার ক্ষেত্রে যেরকম দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন, সেটি ব্লগ থেকে কখনোই পাওয়া সম্ভব না। এখানে যা ইচ্ছে তা লেখা যায়, এটা যেমন ব্লগের শক্তি তেমনই এটি আবার বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম হওয়ার একটি বড় অন্তরায়ও বটে।
১. খুবই একমত, এবং সে কারণেই ব্লগের শক্তিটাও এখানে। অনেকক্ষেত্রে মাধ্যম বা মিডিয়ার অনেক কিছু বুঝে উঠতেই সময় লাগে। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে যেভাবে গণহারে সংবাদপত্র এবং পরে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিকাশ ঘটেছে, তখন সামনে কোনো উদাহরণ ছিল না যেগুলোকে দেখে কিছুটা শিক্ষা নেয়া যাবে; সবলতা ও সীমাবদ্ধতাগুলো সম্পর্কে আগেই জানা যাবে। ব্লগ কিন্তু সেখানে এগিয়ে আছে। আঁতুড়ঘরে থাকা অবস্থায়ই ব্লগ অন্য মাধ্যমগুলোর বিশেষ করে সীমাবদ্ধতাগুলো জানতে পেরেছে এবং তাই ব্লগের পক্ষেই সম্ভব ওই সীমাবদ্ধতাগুলোকে এড়িয়ে চলা। ...আর অপেক্ষার সীমাটা আমি উপরের মন্তব্যে ১০ বছরের বদলে ২০ বছর লিখেছি। কারণ আমি আমাদের চরিত্রগুলো ঠিক বুঝে উঠতে পারি না... অনেক সময় বুঝতে পারি না আসলে আমরা নিজেরা কী চাই...
২.৩. সহমতের সুরে কিছুটা ভিন্নমত আমার এখানে। সহায়ক বা সম্পূরক বা পরিপূরক শক্তির বদলে আমার মনে হয়েছে ব্লগে আস্তে আস্তে বিকল্প গণশক্তি হয়ে উঠতে পারে। যে দায়িত্বশীলতার কথা বললেন, সেখানেও আমার মনে হয় এই মুহূর্তে ভবিষ্যদ্বাণী না করে ওই ২০টা বছর অপেক্ষা করা ভালো। ভবিষ্যদ্বাণীর পরিবর্তে আশা করতে পারি ব্লগ নিজের দায়িত্বশীল অবস্থানটা শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অনেক ব্লগ দেখলে এই শক্তিটা আমি আরো বেশি করে পাই। বাংলাদেশ বা বাংলা ব্লগ তো বিচ্ছিন্ন কিছু নয়, আন্তর্জাতিক অনেক উদাহরণও এক্ষেত্রে আমাদের সহায়তা করবে, আমরাও সেদিকে নিশ্চয়ই এগুতে চাইবো।
অনেক ধন্যবাদ আরিফ ভাই।
তোমার প্রথম লেখায় আমার প্রথম মন্তব্যটি দিয়ে এবিতে আমার নিজের যাত্রাও শুরু করলাম।
লেখাটি বেশ ঝরঝরে হয়েছে। ব্লগ গণমাধ্যম হবে কিনা সেটা সময় বলে দিবে। তবে তার চেয়েও যেটা দরকার সেটা হচ্ছে আমরা কী চাই? অর্থাৎ ব্লগাররা কি সেটা চান কিনা?
এটা নিসঃন্দেহে সত্য যে ব্লগের শক্তি এখন অনেক, যেটা জব্বার কাগু এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ে প্রমানিত। কিন্তু সমস্য রয়ে যায় ব্লগ যারা পরিচালনা করে তাঁদের ইচ্ছা নিয়ে। ব্লগকে গণমাধ্যমে পরিণত হতে হলে এটিকে ব্লগারদের মতামতের ভিক্তিতে চলতে দিতে হবে। সরাসরি গণতান্ত্রিক কিংবা প্রতিনিধিমূলক (মডারেটর) যেই পদ্ধতিতেই চলুক না কেন, মূল ক্ষমতা যদি ব্লগারদের হাতে থাকে তবেই সেটি একদিন পরিপূর্ণ গণমাধ্যম হতে পারবে। যদি ব্লগ কিছু মুষ্টিমেয় মানুষের ইচ্ছাতে পরিচালিত হয় তবে সেটা পত্রিকা গুলোর মতই হবে।
দেখা যাক। সামনে আরো অনেক সময় পড়ে আছে।
ধন্যবাদ স্বাধীন ভাই। খুবই ভালো লাগলো যে আমার লেখায় মন্তব্যের মাধ্যমে একটা প্ল্যাটফর্মে আপনার যাত্রা শুরু হলো। সামনাসামনি দেখা হলে আপনাকে নিজ হাতে না বানিয়ে চা খাওয়াবো
আপনি অন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলেছেন যেটা আমার মাথাতেই আসেনি। ব্লগ পরিচালনা অবশ্যই একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। সেখানে ব্লগারদের চেয়ে যদি গুটিকতক মানুষ পরিচালনা করে তাহলে আপনি যেটা বলেছেন সেটাই হবে। আমার মনে হয় এই বিষয়টি নিয়েই স্বতন্ত্র একটি আলোচনা শুরু হতে পারে এবং সেটা আপনিই শুরু করতে পারেন। বিশেষ করে মডারেশন এবং আমাদের স্বাধীনতার সীমানা আসলে কতোটুকু হওয়া উচিত এবং স্বাধীনতা পেলে সেই স্বাধীনতা যথাযথভাবে ব্যবহারের মানসিকতা ও ক্ষমতা আমাদের কতোটুকু আছে সেগুলো বিবেচনা করে একটা বিশদ আলোচনা হতে পারেন। শুরু করবেন কি?
আমার ধারনা ব্লগ বিকল্প গনমাধ্যম হয়ে গেছে ইতিমধ্যে অনেকের কাছেই। আমি যদি নিজেকে পাঠক হিসেবে ধরি যেকোন ধরনের খবর সংবাদপত্রে পড়ার পরই আমি ব্লগে ঢু মারি তার খোলামেলা বিশ্লেষন পড়ার জন্য। ব্লগে অনেক কোন থেকে একটি ঘটনাকে বিশ্লেষন করা হয় খোলামেলা ভাবে যেটা সংবাদপত্রে অনুপস্থিত থাকে। অনেক বেশি দৃষ্টিকোন থেকে ঘটনার বিশ্লেষনটা পড়তে পারি।যেকোন ঘটনার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষন আর ধর্ম কিংবা নৈতিকতার বিশ্লেষনতো সংবাদপত্রে প্রায় অনুপস্থিত বলা চলে। আমি তথ্য নির্ভর আর বস্তুনিষ্ঠ আলোচনার জন্য ব্লগের ওপর বেশি নির্ভরশীল সংবাদপত্র থেকে।
গৌতমকে আমাদের মাঝে পেয়ে ভালো লাগলো। আশাকরি নিয়মিত পাবো এখন থেকে।
আমার মনে হয় না ব্লগ ইতোমধ্যে গণমাধ্যম হয়ে গেছে। আবার গণমাধ্যম কি 'অনেকের কাছে' হয়? নাকি সবার কাছে হতে হয়?
ব্লগের সুবিধাটা এখানেই যে একটি নির্দিষ্ট ঘটনা নানা পরিপ্রেক্ষিত থেকে আসা মানুষের চিন্তন দ্বারা বিশ্লেষিত হয়। সেটাকে কাজে লাগাতে পারলে কিন্তু ব্লগের আসল শক্তিটা টের পাওয়া যাবে।
নিয়মিত হতে পারবো কিনা জানি না, ব্যস্ততা আমাদের দেয় না একটুকু অবসর!
তবে চেষ্টা থাকবে। ভালো থাকুন। 
গৌতম, চিন্তা করে কিছু পেলে? “সবার কাছে” বলতে তুমি কোন সবাইকে বোঝাচ্ছো? শিক্ষিত মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী? কিন্তু তারাই কি সবাই?
সার্বজনীন সবার কাছে কোন “একক” মাধ্যম কখনোই স্বীকৃত ছিলো না, কখনো হবে কিনা তাও জানি না। সাধারনভাবে দেখা যায় বাংলাদেশের উচ্চবিত্তরা কোন ধরনের বাংলা মাধ্যমেই আগ্রহী নন, তারা বিদেশী মাধ্যমের মাধ্যমে নিজেদেরকে আপডেটেড রাখেন। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ধর্মভীরু জনগোষ্ঠী একধরনের মাধ্যমে আক্রান্ততো ধর্ম নিয়ে কম মাতামাতির লোকজন অন্য মিডিয়াকে রিলাই করেন। অল্পশিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত আর নিম্নবিত্তদেরকেতো যা বোঝানো হয় তাই বুঝেন, তাদের মিডিয়া হলো উচ্চবিত্তরা।
আপনি যেটা বলছেন সেটা আসলে বর্তমান 'মাধ্যম'গুলোর কমন ট্রেন্ড। 'গণমাধ্যম' এই তরিকায় পড়ে না। কোনো মিডিয়াকে 'গণমাধ্যম' হতে হলে এই তরিকার বাইরে যেতে হবে- সেটাই বলতে চেয়েছি আমি।
এবিতে স্বাগতম গৌতম ।
ধন্যবাদ মানিক ভাই।
বেশ বিশ্লেষণধর্মী লেখা! মূল বক্তব্যের সাথে একমত!
পান্থ, আপনি তো মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন ও আছেন। এ ব্যাপারে আপনার চিন্তা কী?
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
ভালো লেখা ।
এবিতে স্বাগতম ।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
বিশেষ করে একলব্য যখন পুনর্বার জন্মগ্রহণ করে, তখন সাবধান থাকে দ্রোণাচার্যের কাছে যেন নিজের আঙ্গুলটি খোয়াতে না হয়। এ যুগের গুরুরা আরো বেশি ধূর্ত। সে হিসেবে পুনর্জন্মগ্রহণকারী একলব্যের বিশ্লেষণ বা চিন্তা নিশ্চয়ই ব্যতিক্রম কিছু হবে। 
এ ব্যাপারে আপনার চিন্তাগুলো জানতে পারলে ভালো লাগতো।
আমাদের দেশে ব্লগের ভূমিকা এখন পর্যন্ত মূলধারাপুষ্ট; তথ্যসূত্রের জন্য মূলধারার মাধ্যমের শরণ তাকে নিতেই হয়। আমজনতার নেটসুবিধার প্রাপ্যতা এবং ব্লগারের দায়বদ্ধতা তথা পেশাদারিত্বের মতো শর্ত পূরণ না হলে বিকল্প গণমাধ্যম হয়ে ওঠার সম্ভাবনা শুধু আশাবাদেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তারপরও, মালিকপক্ষের সন্তুষ্টি বা সরকারের নজরদারির উর্ধ্বে থেকে লেখকের স্বাধীনতা ও পাঠকদের মিথষ্ক্রিয়ার ইতিবাচক ভূমিকা প্রতিষ্ঠায় ব্লগের অনন্যতা অনস্বীকার্য।
গৌতমদাকে এবিতে স্বাগতম। চমৎকার সূচনায় অভিনন্দন।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ নুশেরা আপা।
আপনার কথাগুলোর সাথে একমত। সেই সাথে সুবিধাটা হচ্ছে, এই কথাগুলো প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার দাসত্ব দেখে আমরা মানে ব্লগাররা আগেই জেনে গেছি বা উপলব্ধি করছি। সে হিসেবে বয়সে ব্লগ তুলনামূলক নতুন হলে পুরনো অভিজ্ঞতাগুলো জেনে অনেকটুকুই শিখে ফেলেছে। এখন সেটা থেকে যদি ব্লগ নিজের গন্তব্য নির্ধারণ করে নেয়, তাহলে সেটাই দেখার বিষয় যে ব্লগ কোনদিকে যেতে চায়। গণমাধ্যম হতে চায়? নাকি চায় না। আমার আশা, একটা সময় ব্লগ গণমাধ্যম হওয়ার দিকেই পা বাড়াবে।
গৌতম, আপনাকে স্বাগতম।
চমৎকার লেখা এবং বিশ্লেষণ।
আপনার লেখার শিরোনাম একটি প্রশ্ন দিয়ে "ব্লগ কি বিকল্প গণমাধ্যম হতে পারবে?"
আমার মতে এখানে বিকল্পতার কিছু নেই। পত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশন, ব্লগ- সবগুলোই যার যার জায়গায় গণমাধ্যম। কেউ কারো বিকল্প কী?
যার কাছে যেটা সহজলভ্য এবং নির্ভরযোগ্য সেটাই সে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করবে।
প্রত্যেকটা সেক্টরেরই কিছু সমস্যা এবং সীমাবদ্ধতা আছে। পত্রিকাগুলোকে একটা কাঠামোর ভেতর দিয়ে চলতে হয়। জনগণের কাছে তাদের পৌঁছানোর গতিটা একটু ধীর। কিন্তু পত্রিকার সববেচেয়ে বড় নির্ভরযোগ্যতা হচ্ছে এটি অমোচনীয়। ৭১ এর সংগ্রাম পত্রিকায়া যা যা ছাপা হয়েছে, এখন কেউ চাইলেও তা মুছে ফেলতে পারছে না।
গণমাধ্যম হিসেবে রেডিওই এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে সহজলভ্য এবং নির্ভরশীল। কিন্তু বাংলাদেশে বেতারের সংবাদ পরিবেশন এবং অনুষ্ঠান মান ক্রমশ কমতির দিকে। অলাভজনক খাত এবং কম পারিশ্রমিকের কারনে এখানে যোগ্য লোকরা কাজ করছেন না। ফলে এটি দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। এফ এম রেডিও চালু হচ্ছে। কিন্তু এখনও নির্ভরযোগ্যতার মাপকাঠি তারা পার হতে পারেনি। বিস্তারের ক্ষেত্রও সীমিত।
ইলেকট্রনিক মিডিয়া এখন অনেক দাপুটে। তারা তাৎক্ষণিক বার্তা পৌঁছে দিতে পারছেন মানুষের কাছে। আর যেহেতু এদেশে বিনোদনের সবচেয়ে সেরা উপাদান টেলিভিশন, তাই এটা খুব কার্যকর।
ব্লগ এর মধ্যে সবচেয়ে নবীন। কিন্তু এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটা হলো গণমানুষের অংশগ্রহণ। শুধু নেট সংযোগ থাকলেই ব্লগার হতে পারছেন, মত প্রকাশ করতে পারছেন যে কেউ। সারা বিশ্ব থেকেই তাৎক্ষণিক অংশগ্রহণ করতে পারছেন যে কেউ। তাই বলা যায় একমাত্র ব্লগেই গণমানুষের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি, কারিগরী কারণে এখনো না পারলেও গণমানুষের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি নিশ্চিত করতে পারবে ব্লগ। এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।
প্রতিদিনই ইন্টারনেট সংযোগ বাড়ছে, বাড়ছে ব্লগার। আশা করা যাচ্ছে একদিন মাটির কথা শেকড়ের কথাও ব্লগে আসবে।
দায়িত্বশীলতার কথা উঠেছে। যেখানে সবাই ব্লগার, সেখানে ব্লগারের কাছে দায়িত্বশীলতা আশা করাটা ন্যায্য নয়। আমার মতে ব্লগে দায়িত্বশীল হতে হবে পাঠককে। কোন ব্লগ পড়বো, কোনটা নির্ভরযোগ্য বিবেচনা করবো, তা পাঠকই স্থির করবেন। অনেকটা কাঁচা বাজারের মতো- হরেক পণ্য আছে, কোনটা কিনবেন বা কিনবেন না সে বিবেচনা আপনার, ঠকবেন কি ঠকবেন না সেই কৌশলও আপনাকেই নির্ধারণ করে নিতে হবে। দোকানি পঁচা মাল আপনাকে গছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেই পারে। সাবধান থাকতে হবে ক্রেতাকেই।
ব্লগে তেমনি পাঠককেই।
এখানে উল্টো একটা প্রশ্ন করা যায়- পত্রিকা বা ইলেকট্রনিক মিডিয়াও কি খুব দায়িত্বশীল? বরঞ্চ তারা কি দায়িত্বশীলতার লেবাস পরে অনেক ক্ষেত্রেই ভুল মতবাদ চাপিয়ে দিচ্ছে না জনগনের কাঁধে? ইচ্ছাকৃতভাবে?
এরচেয়ে সম্ভবত অদায়িত্বশীল ব্লগই নির্ভরযোগ্য।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়াকে রূপ পাল্টাতে হবে। দশ বছর আগের সংবাদপত্র আর আজকের সংবাদপত্রের মধ্যে বেজায় তফাৎ। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বা ব্লগের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সংবাদপত্রগুলোও নিজেদেরকে যুগোপযুগী করছে, অন্তত চেষ্টা করছে। যতদিন তারা এই চেষ্টা চালিয়ে যাবে, ততদিন টিকে থাকবে।
আজকে ব্লগকে গণমাধ্যমের সাম্প্রতিকতম সদস্য ভাবা হচ্ছে, কিন্তু প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগে কদিন পরেই যে নতুন কোনও মাধ্যম আসবে না তা কীভাবে বলি?
সংবাদপত্র, রেডিও টিভির আঁতুরঘর পেরুতে শতবর্ষ লাগলেও ব্লগকে আঁতুরঘর পার হতে হবে আরও অনেক দ্রুতগতিতে। সময়টাই এই গতি নির্ধারণ করে দিয়েছে।
অন্য সবগুলো মিডিয়াই বিজ্ঞাপন নির্ভর। এমনকী সরকারী ছাড়পত্র নির্ভরও। এই নির্ভরশীলতাই অন্য সবগুলো গণমাধ্যমকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্যারালাইজড করে রেখেছে। কেবলমাত্র ব্লগ এই নির্ভরশীলতার গণ্ডিমুক্ত। এখানেই ব্লগের শক্তি। এই শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।
কিন্তু ব্লগ এখনো সেই শক্তির জায়গাটা ধরতে পারেনি। পারস্পরিক বিদ্বেষ, অযথা ব্যক্তি আক্রমণ, গ্রুপিং, কাঁদা ছড়ানো- এসব নানাবিধ কারণে ব্লগ শক্তি হারাচ্ছে। ব্লগকে শক্তিশালী গণমাধ্যম হয়ে উঠতে হলে সবার আগে এই হীনমন্যতাগুলো পরিহার করতে হবে।
ধন্যবাদ লোকেন বোস।
আপনার এই মন্তব্যটিই আসলে একটি স্বতন্ত্র পোস্ট হতে পারতো। বেশ কিছু বিষয় এখান থেকে উঠে এসেছে। এখানে কিছু কিছু ব্যাপারে আমি আমার অবস্থানটা পরিষ্কার করি ও নিজের বক্তব্যটা তুলে ধরি।
১. পত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশনকে আপনি গণমাধ্যম বলছেন। কিন্তু আমি বলছি না। আমার কাছে মনে হয়েছে এগুলো এখনো গণমাধ্যমের চরিত্র অর্জন করতে পারে নি। এগুলো নিজেদের গণমাধ্যম বলে দাবি করলেও গণমাধ্যমের বৈশিষ্ট্যগুলো এর মধ্যে অনুপস্থিত। পত্রিকার ক্ষেত্রে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও সেগুলো কাটিয়ে উঠে চাইলে পত্রিকাগুলো গণমুখী চরিত্র অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে গণমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, গণমাধ্যম হওয়ার চেয়ে পত্রিকা, টেলিভিশন, রেডিও আসলে ব্যবসামাধ্যম হওয়ার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে বেশি। একাত্তরে সংবাদপত্রের ভূমিকা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য, কিন্তু বর্তমান সময়ের পত্রিকাগুলো কি সেই চেতনাটাও ধরে রাখতে পারছে? বেশ কিছুকাল আগেও এই মাধ্যমগুলোর গণমাধ্যম হওয়ার যে সম্ভাবনা ছিল, সেগুলো আস্তে আস্তে দূর হয়ে যাচ্ছে।
২. দায়িত্বশীলতার ক্ষেত্রে বলা যায়, অন্য মাধ্যমগুলো দায়িত্বশীল নয় বলেই ব্লগকে দায়িত্বশীল হতে হবে। পাঠকের দায়িত্বশীলতার কথা যেটা বলেছেন, সেটা খুবই ঠিক। কিন্তু প্রথম দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে লেখককে- আমার মতে। লেখক দায়িত্বশীল না হলে শুরুতেই ব্লগ বিশ্বাসযোগ্যতার মুখে পড়বে। আর ব্লগে পাঠক-লেখক সীমারেখাটা খুব ধূসর। এখানে পাঠকই-লেখক, লেখকই পাঠক। ব্লগে লিখেন না কিন্তু শুধু পড়েন, তাদের কাছে দায়িত্বশীলতা চাওয়ার অর্থ একরকম আর লেখকদের কাছ থেকে দায়িত্বশীলতা চাওয়ার অর্থ আরেকরকম। এবং এই দায়িত্বশীলতার শুরু হওয়া উচিত লেখকের কাছ থেকেই।
৩. ব্লগ মিডিয়াজগতের নতুন সদস্য। এবং সে কারণেই এর কাছে চাওয়াটা অন্যরকম। নতুন কোনো মিডিয়া আসলে তখন হয়তো সেটার প্রতি ভিন্ন কোনো চাওয়া থাকবে। ব্লগকে শক্তিশালী গণমাধ্যম হতে হলে যে ব্যক্তি-আক্রমণ, গ্রুপিং ইত্যাদি ত্যাগ করার কথা বলেছেন, সে ব্যাপারে আমি আপনার সাথে পুরোপুরিই একমত।
আপনাকে আবারও ধন্যবাদ জানাতে চাই কিছু বিষয় নিয়ে নতুন করে ভাবানোর জন্য। অনুরোধ থাকবে আপনার চিন্তাগুলোকে বিন্যস্ত করে এ বিষয়েই নতুন একটা পোস্ট দেন। এগুলো বেশি বেশি আলোচনা করা খুবই দরকার।
আপনার বিশ্লেষণ খুব ভালো লাগলো। অনেক বড় একটি বিষয়কে ব্লগে সীমিত পরিসরে যেভাবে তুলে ধরলেন তা দুর্দান্ত। এবি ব্লগে আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ লেখাটি পড়ে মন্তব্য করার জন্য ও স্বাগত জানানোর জন্য। ভালো থাকবেন।
ব্লগের অন্যতম যে সুবিধার কথা বললেন, লাইভ আপডেট। সেটা একটা সমস্যাও হতে পারে। সামুতে নিশ্চয় দেখেছেন, মেসি একটা চমৎকার পাস দিল, কিংবা, ঢাকার রাস্তায় একটা যানজট, সেটা নিয়েও মুহূর্তেই ৫/৭টা পোস্ট পরে যাচ্ছে, প্রথম পাতা ভর্তি হয়ে যাচ্ছে অনর্থক কিছু পোস্টে। সেটা নিশ্চয়ই কাম্য নয়।
আবার অধিকাংশ সময় যেটা দেখা যায়, কোন একটা পোস্ট পছ্ন্দ হল না, বা গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ, সেটা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পোস্টে কথা না বলে নিজের একটা পোস্ট দেবার প্রবণতা!!
এই ব্যাপারগুলো, পাঠক, ব্লগারদের সহনশীলতা যতদিন না আসছে, ততদিন ব্লগের ব্যাপারে আমাদেরকে আরো ধৈর্য্য ধরতে হবে।
চমৎকার পোস্ট দিয়ে এবিতে যাত্রা শুরুর জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ।
ব্লগের দায়িত্বশীলতার কথা বলছি আপনার উল্লিখিত ওই উদাহরণগুলোর কথা মনে রেখেই। তবে আপনি আরেকটি শব্দ ব্যবহার করেছেন- সহনশীলতা। এটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
ব্লগের চরিত্র শুরু থেকেই স্বাধীন, মানুষের মতামতই এখানে মূল বিষয়, সে হিসেবে এটা অলরেডী গণমাধ্যম। সমস্যাটা সম্ভবত এখন স্কেলে, যেটা সময়ের সাথে সাথে নিঃসন্দেহে বাড়বে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাবৃদ্ধি, কম্পিউটারে বাংলা ব্যবহারের সহজলভ্যতা, স্মার্ট মোবাইল ফোন / স্মার্ট গেজেটের ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে এই স্কেল বাড়বে, এবং একসময় এর ব্যবহার অন্যান্য মাধ্যমকে ছাড়িয়ে যাবে।
হয়তো গুগল বাংলায় একটা টপিক লিখে সার্চ দিলে সবার আগে ঐ টপিক নিয়ে লেখা ব্লগগুলোই চলে আসবে। জাপানে অলরেডী এ ফেনোমেনা দেখা দিয়েছে, প্রচুর ব্যক্তিগত ব্লগ আছে যেখানে দৈনিক হিট লাখের ওপর। লাইভ আপডেট, নানান পক্ষের মতামত, মিথস্ক্রিয়া, আনসেন্সরড "ভেতরের খবর", মুভাবিলিটি -- এসব ব্লগের শক্তি।
আরেকটা সমস্যা হতে পারে সরকারী বা প্রভাবশালীদের বাঁধা, নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা। এটাও ব্লগের সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিতে পারে।
সেজন্যই দায়িত্বশীলতার প্রসঙ্গ নিয়ে যেটা বললেন, তার সাথে দ্বিমত পোষন করছি। আমি দায়িত্বশীলতার ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তিত হবার প্রয়োজন নেই বলে মনে করি। কারণটা মূলত খুব ট্রিভিয়াল, "দায়িত্বজ্ঞানহীনহীন একজনকে ব্লগিংয়ে বাঁধা দেয়াটা কি ব্লগিংয়ের মূলসুরের সাথে যায়?" তাকে তার কাজ অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট দেয়া যেতে পারে, আল্টিমেইটলি বেশীরভাগ মানুষ যেরকম চাইবে ব্লগের চরিত্র সেভাবে গড়ে উঠবে।
ব্লগের সম্ভাবনাটা মূলত যে মুক্ত স্বাধীন চরিত্রে, তার ওপর কিছু আরোপ করাটা একটু স্লো স্পীডে হলেও ইভেনচুয়ালি তাকে অন্যান্য মাধ্যমের মতো একই গন্তব্যের দিকে পরিচালিত করবে। ব্লগে কেউ মিথ্যে লিখবে, কেউ সত্য, কেউ গালিগালাজ করবে, কেউ তথ্য-উপাত্ত দিয়ে তর্ক করবে, মানে সবকিছু চলবে -- এটাই ব্লগিংয়ের আলটিমেইট গোল। এখান থেকেই পাঠকরা বেছে নেবেন যার যার মতো।
অনেক সময় দেখা যায় শুরুতে কোনো কোনো মিডিয়া গণমাধ্যমের চরিত্র অর্জন করতে চাইলেও সময়ের ফেরে কিংবা ব্যবসায়িক চাপে সেগুলো আস্তে আস্তে সেই চরিত্র থেকে দূরে সরে আসে। ব্লগ গণমাধ্যম কিনা সেই স্কেলে মাপলে হয়তো ব্লগ গণমাধ্যম হিসেবেই যাত্রা শুরু করেছে, কিন্তু এটি যে সেই স্কেল ত্যাগ করবে না - সে আশঙ্কাও উড়িয়ে দিতে পারছি না। সে কারণেই এই কথাগুলো বলা।
আর দায়িত্বশীলতার ব্যাপারটা এতো কাঠামোগতভাবে নেওয়ার দরকার নেই। এটা চাপিয়ে দেয়ারও বিষয় নয়। আমি এখানে যে দায়িত্বশীলতার কথা বলেছি, সেটা মূলত আসা উচিত ব্লগ ও ব্লগারদের মধ্য থেকেই অর্থাৎ স্ব-দায়িত্বশীলতা। এটা থাকলে ব্লগের মুক্ত স্বাধীন চরিত্রে কোনো প্রভাব পড়বে না। আর মুক্ত বা স্বাধীনতার মানে তো এই নয় যে, যা খুশি তাই করা যাবে। আমরা কোথাও ১০০% স্বাধীন নই, কিছু না কিছু দায়িত্বশীলতা ও নিয়ম আমাদের পালন করতেই হয়। ব্যক্তি অপরের স্বাধীনতাকে সম্মান দেখিয়ে নিজ স্বাধীনতা পালন করলেই আসলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব হয়।
অনেক ধন্যবাদ।
ভাবগম্ভীর আলোচনা। আমি আবার গম্ভীর থাকতে পারি না
। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্লগ কতখানি গণমাধ্যম হয়ে উঠবে সে বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে। সামজিক জীবনে ব্লগ এখনও সেরকম প্রভাব বিস্তার করেনি। যার ফলে বাক স্বাধীনতার (রাজনৈতিক ক্ষেত্রে) সুবিধাটা আমরা এখনও উপভোগ করছি। কিন্তু ব্লগের বিস্তার পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর যদি সামাজিক এবং রাজনৈতিক চিন্তা চেতনার উপরও প্রভাব ফেলতে শুরু করে সে ক্ষেত্রে কি রাজনৈতিক প্রতিকুলতার মুখোমুখি হতে হবে না ব্লগারদের?
বাকস্বাধীনতার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি, আমার ধারণা, এখনই হতে হচ্ছে, হয়তো সেটা সীমিত পর্যায়ে। কিন্তু এরকম বাধা তো থাকবেই, এগুলোকে কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে বা এগুলোকে আমলে নিয়ে কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যাবে, সেই স্ট্র্যাটেজিগুলোই আসলে ব্লগের ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও নির্ধারণ করবে। আর সামাজিক জীবনে ব্লগ এখনও প্রভাব বিস্তার না করলেও ভবিষ্যতে করার সম্ভাবনা আছে বলেই মনে হয়। সামাজিক জীবনের অনেক উপাদান ব্লগে চলে আসছে। আস্তে আস্তে এর সংখ্যা বাড়বে, বাড়বে এগুলো নিয়ে মানুষের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়তাও।
আপনি যথেষ্ট গম্ভীর হয়ে কথা বলেছেন।
এইবার একটা হাসি দেন। এইরকম 
প্রায় দেড় বছর ব্লগে লিখি , আমার এক্সপেরিয়েন্স বলে ব্লগগুলো যাই দাবি করুক না কেন রেগুলার ব্লগার সংখ্যা সব মিলিয়ে ২০০ ও না । তাই আমার ধারণা এ নিয়ে এখোনো কথা বলার মত ম্যাচুরিটির জায়গা আসেনি ব্লগ মিডিয়ার ।
-----------------------
খুব সুন্দর একটা লেখার মাধ্যমে শুরু করার জন্য বিশেষ অভিনন্দন । ভালো থাকবেন ।
..সব মিলিয়ে নিয়মিত ব্লগার ২০০-ও না- এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ। আমি যদিও মনে করি এই সংখ্যা আরেকটু বেশি হবে (যদিও এই মনে করার কোনো ভিত্তি নেই), কিন্তু তারপরও এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে হলে এখন থেকেই বলা দরকার। এখানে ম্যাচিউরিটির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ভবিষ্যতের দিকে তাকানো।
আচ্ছা, নিয়মিত ব্লগার আসলেই কতো এটা বের করা কি সম্ভব? যদি ধরে নিই, সব ব্লগ মিলিয়ে যার পোস্ট সংখ্যা কমপক্ষে ৫০, তাহলে কতোজন ব্লগার পাওয়া যাবে? অনেকের তো একাধিক নিক থাকে, সে হিসেবে এই সংখ্যাটা কতোটুকু উঠানামা করতে পারে? বিভিন্ন ব্লগের যারা অ্যাডমিন আছেন, তারা যৌথ উদ্যোগে এই পরিসংখ্যানগুলো ব্লগারদের জানাতে পারেন।
--- আপনাকেও ধন্যবাদ অভিনন্দন জানানোর জন্য।
ব্লগ - মত প্রকাশের স্থান হিসাবে একটা স্থান করে নেবে জাতীয় জীবনে, আমি সেটা মনে করি। কারন ইতমধ্যে চীন, ইরান সহ অনেক দেশেই ব্লগের ও ব্লগারের উপর সরকারের দৃষ্টি পড়েছে।
ঠিক। এই লেখাটা তৈরি করার সময় বিশেষ করে চীন ও ইরানের কথা মাথায় ছিল।
বাংলা যে সব কমিউনিটি ব্লগ গুলো কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কিন্তু স্বাধিন মতপ্রকাশে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সেটা এ মুহুর্তে সব গুলো ব্লগ বা ফোরামেরর জন্যই প্রযোজ্য। নানা রকম নীতিমালা দিয়ে অনেক সময়ই কিন্ত স্বাধীন মতপ্রকাশ বা তথ্য প্রকাশে বাধা দেয়া হয় খুবই নগ্ন ভাবে। হয়তো যে মতপ্রকাশ করা হচ্ছে বা তথ্য দেয়া হলো সেটা আমার মনপূত হলো না বা আদর্শিক ভাবে বিপরীত সেটাকে সহ্য করবার মতো ক্ষমতা আমার বা অন্যদের অনেকেরই এখন হয়নি। এজন্যই দল বেঁধে বুলিং করা বা ট্রলিং চলতে থাকে।
কমিউনিটি ব্লগের বদলে অনেক ব্যক্তিগত ব্লগ একসময় তথ্য প্রকাশে একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে। তবে সব কিছুর জন্যই সময় লাগবে।
গন মাধ্যম হতে হলে গনমানুষের অংশগ্রহন থাকতে হবে। সেটা আমাদের দেশে কোনো ব্লগেই নেই। প্রাযুক্তিক সীমাবদ্ধতা বা প্রযুক্তি ব্যবহার করার ক্ষমতা না থাকায় দেশের খুব কম মানুষই যেখানে তথ্য প্রযুক্তিতে অংশগ্রহন করতে পারে না সেখানে হাতে গোনা গুটিকয়েক শহুড়ে মানুষের লেখা ব্লগ কখনোই গনমাধ্যম হতে পারছে না।
যেখনে দেশের বেশীরভাগ মানুষ এখনো কৃষিজীবি , গ্রামে থাকে সেখানে তাদের অংশগ্রহন ব্লগে একদমই নেই। পরিপূর্ন গণমানধ্যম হতে হলে এই সংখ্যাগুরু মানুষের অংশগ্রহন হতে হবে।
নীতিমালা হয়তো এই সময়ের জন্য ঠিক আছে কিন্তু একটা সময় পরে গিয়ে এটা আর কাজ নাও করতে পারে। নীতিমালা ছাড়া স্বাধীনভাবে চলার যোগ্য আমরা নই। নীতিমালা না থাকলে কী হতে পারে সে উদাহরণ তো বাংলা ব্লগে আছেই।
শুধু গণমানুষের অংশগ্রহণ না; ব্লগকে বলতে হবে গণমানুষের কথা। তাহলেই কেবল এটি গণমাধ্যম হয়ে উঠবে।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আজকের যুগান্তরে আপনার লেখাটা আবার পড়লাম। চমৎকার এই চিন্তাজাগানীয়া লেখাটা পত্রিকায় দেখে খুব ভালো লাগলো। নিয়মিত লেখা পড়তে চাই
ব্লগ কি বিকল্প গণমাধ্যম হতে পারবে?
ধন্যবাদ টুটুল ভাই। আমি এইমাত্রই লীনা আপার কমেন্টের রিপ্লাই দিলাম। দিয়েই দেখি আপনার এই কমেন্ট।
...চেষ্টা থাকবে। আপনার কমেন্টে উৎসাহিত হলাম।
গৌতম ভাই, আমার মনে হয় এই লেখাটা যুগান্তর থেকে আপনি কপি করেছেন
জ্বি ভাই, তবে লেখাটা ওখানে আমার নামেই ছাপানো হয়েছে, এবং সেটা এবিতে প্রকাশের পরে।
মন্তব্য করুন