যুদ্ধ পর্ব -৩
এই হল আমার বাংলাদেশ, ক্ষমতাবানদের সাথে আপোষ করে থাকতে হবে।, তারা যত অন্যায় আর ভুল ই করুক না কেন? তাদের ভুলের কারনে আমার আপনার জীবন, পরিবার সব ধ্বংস হয়ে যাক, তাও টু শব্দ করা যাবে না। সমযোতা করে চলতে হবে। যা বলে তাই মাথা পেতে নিতে হবে। নইলে মিথ্যা মামলার পর মিথ্যা মামলা হবে। আপনার কিছু করারা থাকবে না।। আদালত এইসব মিথ্যা মামলার চার্জ গঠন করবে, তারা বুঝতে ই পারবে না এই মামলা যে মিথ্যা।। আসলে তারা আসামি পক্ষের কথা না শুনে ই চার্জ গঠন করব.। অসহায় আমরা, আমাদের উকিল রা নিজের মাথার চুল ছিঁড়ব। কিন্তু কিছু করার থাকবে না।
আমি কেন এতো কথা বলছি। এই সব তো নতুন কিছু না।। । হ্যাঁ, তা নয়। কিন্তু আমি খুব খুব ভাবে ভুক্ত ভোগী । যতক্ষন সামাজিক নিয়ম নীতি যুক্তি দিয়ে বা জীবন চারনে সমাজে গ্রহণযোগ্য করে না তুলতে পারি, ততক্ষণ সমাজের এবং রাষ্ট্রের সকল নিয়ম মেনে চলা মানুষ আমি। । আইন হল সকল অনিয়মের বিপক্ষে একলা স্তম্ভ। সেই আইন যখন আব্দের সাথে অনিয়ম করে চলেছিল দিনের পর দিন, কি যে অসহায় লেগেছে, বলে বুঝানো যাবে না। । আমি জানি আমার পরিচিত অনেকে ই এই অসহায় অবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন আমাদের সাথে। আমরা এখন ও যাচ্ছি এর ভিতর দিয়ে। । গত শুনানিতে, আসিফ এর শুনানির পর আমাদের কেস উঠল আদালতে এবং আদালত কোন কথা ই শুনল না, বলল, চার্জ গঠন করে দেই। । কোন কিছু না জেনে, না শুনে চার্জ গঠন!! আমাদের উকিল প্রতিবাদ করল, কিছু না শুনে চার্জ গঠন?!! কিভাবে? আদালত বললেন, "চার্জ গঠন হবে ই, করে দেই"। ওনি কিছু শুনলেন না, জানলেন না, কিন্তু বিজ্গ আদালত শুধু এটা জানেন চার্জ গঠন করতে হবে । উকিল অনেক চিল্লা-পাল্লা করলেন, আর বললেন, আসিফ এর চার্জ গঠন যেহেতু পরের ডেট এ হবে, ঐ তারিখে আমাদের টা ও শুনে চার্জ গঠন করুন। তো আদালত একটু সদয় হলেন, আদালত আমাদের ব্লগারদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করবেন ই, কিন্তু পরের তারিখে।। যদি না এর ভিতর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়।
আমার ধারনা এর পরিবর্তন হবে না, কারন সবাই এখন ধার্মিক হতে ব্যস্ত ।। তারা যানে না, এক দিনে ধার্মিক হওয়া যায় না। পাঁচ অয়াক্ত নামাজ করে হজ্ব করে ও ধার্মিক হওয়া যায় না। ।এটা আংশিক ধর্ম। সারা দিন কুকর্ম করে, অন্যায় করে, ধর্মীয় জীবন বিধান মতো জীবন যাপন না করে শুধু আল্লাহ আল্লাহ জপলে, আল্লাহর নামের অপমান হয়। । কোন মানুষের সাথে ব্যক্তি পরযায়ে অন্যায় করলে স্বয়ং আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করতে পারবে না, যতক্ষন না ঐ ব্যাক্তি তোমাকে ক্ষমা করে।।
কি অদ্ভুত আদালত । এই আদালতে ই ব্লগারদের জামিন শুনানিতে, আইনগত ভাবে উপস্থাপিত যুক্তি খণ্ডন করতে ব্যর্থ হয়ে সরকারি উকিল বলেছিলেন, ওদের যামিন দেয়া যাবে না, high command এর নির্দেশ ছাড়া।। । তখন মনে হয়, আদালতে কেন এসেছি?!!! সরকার ই বা আমাদের কেন আদালতে এনেছে?!! এই সব সত্য বলার জন্য হয়তো আরও কিছু মামলা দিয়ে দিতে পারে, কে জানে!! তাই মুখ বন্ধ করে রাখা ই উত্তম।
ধন্যবাদ বাম মোর্চা, লিখিত প্রতিবাদ লিপির জন্য, হাজার হাজার মানুষের এতে অংশ গ্রহণ করা উচিৎ, গণ পিটিশন হওয়া উচিৎ। আইনকে আইনের হাতে ছেড়ে দেবার জন্য । সবার সরব হওয়া উচত। । আজ লিমন, কাল আমি, পরশু আপনি। । আমরা বা লিমন কখন ও কি ভেবেছি, এই অবস্থায় পড়ব। কে কখন ক্ষমতাবানদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাব, আমরা কেউ জানি না। এ এক অসম লড়াই, অসম পরিস্থিতি। তারা দরকারে এক ঘণ্টায় আইন বদলে ফেলবে।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-07-03/news/364877#Scene_3





যে ঝড় গেছে আপনাদের উপর দিয়ে তা ভাবলে শিউরে উঠি! এই রাষ্ট্র নিপীড়নমুলক তার পদে পদে আইন আদালতে খালি হয়রানির জন্যই!
মন্তব্য করুন