একটা সকাল যেমন হয়
সাধারনত ঘুম থেকে সকাল সকাল উঠি। প্রতিদিন না পারলেও চেষ্টা করি। কিন্তু যখন শরীরটা ভালো থাকেনা তখন আর এই রুটিন মানা হয় না। যেমন গত কিছুদিন যাবত শরীরটা ভালো না জ্বর ঠান্ডা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার কারনে ১২ টায় ঘুমাই নয়টা-দশটায় উঠি দিনটায় যায় বাজে ভাবে।
তবে একটা সাধারন দিন যেদিন আমি সকালে উঠি ভোরে নামায শেষ করেই বের হয়ে যাই বাইরে। জাপান গার্ডেন সিটির উচু উচু বিল্ডিংগুলো যখন পার হই তখন ভাবি কবে একটা ভুমিকম্প হবে আর সব মুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়বে সব আর আমি হলিউডের নায়কদের মতো পেছনে তাকাতে তাকাতে দৌড়াবো। কি দারুন হবে সিনটা! কিন্তু শকুনের দোয়ায় যেমন গরু মরে না তেমন আমার ইচ্ছাতেও কিছু হয় না। কিন্তু জাপান গার্ডেনের লোকজনেরা মুরগীর খোপের মতো ঘরে থেকেও তারা ভাবের লোক। সকালে তারা গোসল করে একেবারে ধবধবে ইস্ত্রী করা জামা সদ্য শ্যাম্পু করা চুল বাতাসে উড়াতে উড়াতে সিএঞ্জি খুজে। কিন্তু সিএঞ্জি মামারাও মনে হয় এয়ারটেল সিম ব্যাবহার করে তাই তারা পার্টের লোকদের বাটে ফেলতে পারে ভালো ভাবেই। তখন সেইসব ভদ্রলোকেরা মান্নার মতো শুরু করে গালিগালাজ। কিন্তু বাঙ্গালী জাতি এখন আর গালিগালাজ নিয়ে চিন্তিত নয়। তারাও মাসুদ রানা অরফে মেজবাহ ভাইয়ের মতো আরও বড় মোরগা সন্ধানে ব্যস্ত থাকে। তবে সকালটা দুর্বিষহ স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের মায়েদের জন্য। কাকডাকা ভোরে উঠেই তারা নেমে পড়ে স্কুলে যাবার জন্য। রিকশাওয়ালারাও পাজেরো মালিকদের মতো ভাব নিয়ে বসে থাকে আর এদিকে রিকশার খোজে ছোট ছেলেমেয়েরা এই রিকশা যাবেন বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে তাও রিকশা মামাদের মন গলে না। শেষে অনেক মহিলা বাধ্য হয়ে সন্তানকে নিয়ে হাটা শুরু করে। তাতে দুইজনেরই চরম কষ্ট। প্রতিটা সকাল মানেই বাংলাদেশে যুদ্ধ অফিসে যাবেন বাসে ঝুলতে হবে যুদ্ধ করে,সন্তানকে নিয়ে স্কুলে যাবেন তাও এক বিশাল যুদ্ধ। তবে যাদের গাড়ী আছে তারাও সূখে নাই। একটূ দেরী করে বের হলেই বিশাল জ্যামে পড়ে থাকতে হবে। আমি বেকার মানুষ কাজ কাম নাই সকালে বের হই হাটতে আর দেখতে থাকি জনদূর্ভোগ এইসব। তবে অনেক সকালে রাস্তায় আমি প্রচুর সুন্দরী মেয়েদের দেখি ব্যাপক সাজগোজ করে বের হয়। আমি ভাবি এত সময় এরা পাই কই সকালে? অফিসে বা কলেজে যায় নাকি কোথাও বিয়ের দাওয়াত খেতে যায় তাই ভেবে পাই না। তখন আমার এক বান্ধবীর কথা মনে পড়ে যে সে অফিসে গেছে আর তার বস তাকে কিভাবে আরো সুন্দর লাগবে সে বিষয়ক বয়ান দিতেছে। কি আজব এই বাংলাদেশ। টাউন হলে গিয়ে বন্ধু হাসিবের দোকান আছে। হাসিব হলো আমার সেই রকমের বন্ধু যার সাথে কখনোই বন্ধুত্ব হবার কথা না। ঢাকা কলেজে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ে সাথে পত্রিকার দোকান চালায়। ওর সাথে রাজনীতি অর্থনীতি নিয়া কিছু সময় প্যাচাল পারি। লোকজন কেনো জানি আগ্রহ নিয়ে আমাদের প্যাচাল শুনে। নিজেকে তখন মাসুম ভাইয়ের মতো টকশো স্টার মনে হয়। এরপর নাস্তা করি হোটেলে খাওয়ায় হাসিব তারপর চায়ের দোকানে নিজের স্পেসে ফিরতে আবার হাটা দেই শেষ হয়ে যায় আমার সকালের গল্প।





পড়ে বেশ মজা পেলাম
আপনি বড় হয়া গেসেন
চমৎকার একটা লেখা পড়লাম শান্ত। বড় হওয়া ভালো। খুব ভালোভাবে সকালটা উপস্থাপন করেছো
তোমার লেখা মানেই একটা ঝরঝরে গল্প এবং পাঠকের চনমনে মিষ্টি অনুভূতি।
এবার সারাদিনের গল্প বলো।
নিজের নতুন ক্লাশের কাহিনিও জানাও।
মনের কথা খুব অকপটে গুছিয়ে বলেছেন। এই ধরনের লেখা পড়লে মনে অন্য ধরনের অনুভুতি অনুভব করি।
মন্তব্য করুন