ভালোবাসার দুশমন
ভালোবাসার দুশমন ছবি হচ্ছিলো এক অখ্যাত স্যাটেলাইট চ্যানেলে। বাংলাদেশে এখন এত চ্যানেল ট্র্যাক রাখাই যায় না। আর সবার কমন অনুষ্ঠান হলো দেশী সিনেমা আর সংবাদ। আর ঈদে হলো এক গাদা বিশেষ সেলিব্রেটি টকশো। সেখানে প্রশ্ন- চা না কফি? এক হাফ লেডিস নাম না জানা অভিনেতা উত্তর, কোনোটাই না। আমার তখন বারেক সাহেবের কাষ্টমার সত্তা জেগে উঠে বলি, মার লাত্থি। তো যাই হোক ভালোবাসার দুশমন শুনলেই মনে হয় খুলনার এক টিচারকে। যিনি ছেলেরা একটু ঢং করে কোনো এক্সকিউজ দিলেই বলতেন, তোর পীরিতের গুল্লি মারি। তো এখানে পীরিতের গুল্লি মারতে আছেন শাকিব খান। এটা শাকিব খানের শাবনুর যুগের ছবি। এক কালে শাকিব খান শাবনুরের সাথে অনেক ছবি করতেন। তখন রিয়াজ নাটকের দিকে, ফেরদৌস কলকাতায়। শাকিব খানও হয়তো ভুলে গেছে তাকে লিড হিরো করার পেছনে শাবনুরের অবদান অনেক। তখন অনেক গুলো সিনেমায় শাবনুর শাকিবকে কাষ্ট করতে বলেছে। আর মান্না মৃত্যু পরবর্তী যে গ্যাপ সেটা পূরণ আর কেউ ছিল না। তো এই ছবিতেও শাকিব কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত হয়, তাকে তার স্ত্রীর অভিনয় করে, ভালোবাসা দিয়ে বাঁচায় শাবনূর। শাকিব খান বাস্তব জীবনের মতো এখানেও নায়িকাকে প্রেগন্যান্ট করে ছেড়ে দেয়। তারপর যখন জানতে পারে শাবনূর তার আসল স্ত্রী না। মেলোড্রামার এক ক্রিন্জ ফেস্টে পরিনত হয়। এ সিনেমা যখন দেখছিলাম তখন আমি বই পড়ছি সুহান রিজওয়ানের। একদিকে ইলিয়াস, খোয়াব নামা, হিমেল নামের এক ফিল্ম রাইটারের গতিপথ আরেকদিকে রাজীব শাবনুর ও তখন বাইরে হচ্ছে আাযান। এক অদ্ভুত ক্যাওয়াসে পর্যবসিত হলাম। পরে দুটোই বন্ধ করে মাতার মন রক্ষায় শুক্রবারে নামাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে স্টেশনের এক চায়ের দোকানে চলে গেলাম।
সেখানে এক লোক শামগন্জ কালীবাড়ি যাবে এজন্য সবার পরামর্শ চাচ্ছে। এক শিশু চা খেতে খেতে কাপের তলায় লুকিয়ে থাকা বিস্কিটের তরল ভার্সন হাত দিয়ে বের করার কসরতে মত্ত। এমন সময় সেখানে টিভিতে শুরু হলো চাঁপাডাঙার বউ। চাঁপাডাঙার বৌ সিনেমাটা রিমেক হয়েছে নায়ক রাজ্জাক কর্তৃক। মূলত উত্তম কুমার সাবিত্রী রায়ের সিনেমা। মূল গ্রামীন সিনেমায় এত প্রমিত বাংলার ব্যবহার দেখতে দেখতে মনে হলো আমাদের চাঁপাডাঙার বৌ বেশী জীবনঘনিষ্ঠ। এত আলাপই আসতো না যদি আজ পান্নালাল ভট্টাচার্যের মৃতুবার্ষিকী নিয়ে না ভাবতাম। ৩৬ বছর বয়সে ১৯৬৬ সালে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। তাঁর আত্মহত্যা কারণও অদ্ভুত। কেউ বলেন হতাশা থেকে, কেউ বলে মাতৃ দর্শন হচ্ছে না সে থেকে। তার ভাইরা মাকে স্বপ্ন দেখে ফেলেছে, তিনি দেখতে পারেননি। এত কালী মা মা করেও, ভক্তিমূলক গানে রাজ করেও, তার মন থাকতো অতৃপ্ত। আপদমস্তক সংসারী এক মানুষ শ্মশানে বসে থাকতেন দিনের পর দিন। ১৮-১৯ বছর বয়সে বালিতে বারেন্দ্র পাড়ার মাঠে খেলতে খেলতে বল লেগেছিল পান্নালালের চোখে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ডাক্তারবাবুর কাছে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি বলেন মেডিকেল কলেজেই একমাত্র এর চিকিৎসা সম্ভব। সেখানে নিয়ে এসে চিকিৎসা করিয়েছিলেন ধনঞ্জয়। তখনকার দিনে একেকটি ৪৫০ টাকা দামের মোট ২৫টি ইনজেকশন দেওয়ার পর পান্নালালের চোখ বেঁচে গেল। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, চোখের মণি সামান্য সরে যাবে। তাঁর মৃত্যুর পর সংসার চালাতেন তার পিতৃসম ভাই ধনন্জয় ভট্টাচার্য। তিনিও বাংলা গানের কিংবদন্তি। অনেক চমৎকার সব গান তার গাওয়া। এই মুহুর্তে মনে পড়ছে ঝির ঝির বরষা কিংবা শোনো শোনো কথাটি শোনো। সলিল চৌধুরী তাকে পছন্দ করতেন। একবার অডিও কোম্পানি থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল তাকে শ্যামা সংগীত গাইবার। পান্না নাই, বাজার ফাঁকা। তিনি সাদরে প্রত্যাখ্যান করেন। গানের জলসাতেও শ্যামাসংগীত গাইতেন কম ভাই হারানোর জ্বালায়।





মন্তব্য করুন