সানডে অলওয়েজ কামস টু লেইট
ডেভিড বোওয়ির কথা মাঝেমধ্যে মনে পড়ে। একটা লোক ছিলেন বটে, কি সব অদ্ভুত গান গাইতেন। লাইফ অন মার্স কিংবা স্পেস অডিসি অথবা স্টারম্যান এবং ফাইভ ইয়ারস। একা একা বাসায় যখন শুনতাম খুব শুন্য লাগতো। এই মহাবিশ্বে কি ক্ষুদ্র এক মানুষ আমরা। কি আমাদের মুল্য? এই যে বেঁচে থাকাকে আমরা এত মহার্ঘ্য বস্তু বানিয়েছি এর আসলে মানে কি? তখন আমার কাছে মনে হয়েছে আমি বেঁচে আছি মায়ায়। এই জন্যই নাটক সিনেমায় এই শব্দের এত প্রয়োগ- মায়ার সংসার এবং মায়ার ঝন্ঝাল। কিন্তু করুণা শব্দটা থেকে সমস্যার শুরু। মানুষ করুণা চায় না, মানুষ চায় মায়া। যে যাকে মায়া করে তাই নিয়ে মায়ার বাঁধন। আর মায়া শব্দটা আমার ভালো লাগার কারন আরেকটা হলো মা থেকেই আমার মায়াটা বুঝতে শিখি। তবে লোকজন মায়া শব্দটার ব্যবহার করে না, ব্যবহার করে ভালোবাসা। ভালোবাসা শব্দটা অতি ব্যবহারে পচে গেছে। ভালোবাসি তাও কাঙ্ক্ষিত, শুনলে শরীর চমকে উঠে। কিন্তু ভালোবাসা শুনলে মনে হয় তিন বেড রুম দুই বাথরুম আর ড্রয়িং ডাইনিংয়ের একটা ভালো-বাসা।
ব্যাতিক্রম আছে, যেমন আছে শায়ানের গান-- ফিরতে ঘরে ভয়। ঘর মাঝে মধ্যে দোযখ হয়। তবে ব্যতিক্রম বাদে আমরা সবাই ঘরে ফিরতে চাই। ঘর যদি শুন্যও থাকে সেই ঘরেও মায়া থাকে, যে ঘরে আমার সবচেয়ে মায়াময় মানুষরা থাকে সেই ঘরেই ফিরতে চাই। নব্বই দশক কেন আমাদের কাছে এত মাহাত্ম্য কারন আমরা তখন সবাই একি পরিবারের মানুষ ছিলাম। প্রতিবেশীর ঘরকে কখনো মনে হয় নাই অন্যের ঘর, মনে হইছে আন্টির বাসা, ওমুক ভাইয়ের বাসা, মুন্নাদের বাসা, ডলারদের বাসা। যখন তখন যাওয়া সবার ঘরে। আন্টিরা এত অতিষ্ট থাকতো যে বাধ্য হয়ে বলতো-- যাও বাবা একটু ঘুমাও, বাইরে এখন খেললে শরীর খারাপ করবে। মানে উনি শুধু উনার সন্তানের সুস্থতা নিয়েই চিন্তিত না আমাকে নিয়েও চিন্তিত। এই যে মায়ার সংক্রামক ব্যাধিতে বড় হলাম আমরা তাই এখন সময়কে বড় অচেনা লাগে। আরো অচেনা লাগে যখন ভাবি ভাইয়ার কথা, ভাবীর কথা। আহ কি খারাপ সময়, সবাই আমরা জীবনের প্রয়োজনে কত দূরে দূরে।
কত মন খারাপ হয়। মন খারাপ লাগে আম্মু আব্বুর জন্য, এরপর লাগে ভাইয়া ভাবী মাহদীয়া মৌনিয়ার জন্য। ছোটবেলায় বন্ধুদের বাবার বদলী হলে মনে হতো দুনিয়া শেষ হয়ে গেল। বিকেল বেলা যখন বন্ধুটি জানাতো, আব্বার বদলী হইছে, সামনের মাসে আর থাকবো না। কিসের খেলা, কিসের কি, আমরা লাইন ধরে মুখে হাত দিয়ে বসে থাকতাম। ভাবতাম এরকম মন খারাপের বিকাল না আসলেও পারতো। আর এখন সেই আমি দিব্যি বেঁচে বর্তে আছি। এই হলো আমাদের বেঁচে থাকা। আমাদের বান্ধবীরাও ছিল অদ্ভুত মায়াময়। প্রিয় বন্ধুর চলে যাওয়ায় স্কুলে হাউমাউ করে কান্নাকাটি চলতো। ফেসবুকে দেখি দূর দুরান্তরে সবাই ভালোই আছে। এইসব ভালো থাকাথাকির ভানে ভানেই গেল জীবন। ভাইয়ের জন্মদিনে মনে পড়লো এসব। দিনে রাতে জামালপুর কারেন্ট থাকে না। ফ্যান বন্ধ হলেই আমার ঘুম ভেঙে যায় গরমে। ভ্যাপসা গরমে মনে হয় ফিরে গেছি কোনো ২০০২ এর সকালে। আমার ছোটবেলা থেকেই যা ধারনা ছিল তাই সত্যি, আম্মু তোমাকে বেশী আদর করে। কিন্তু কাছে থাকি বলে অপত্য আদর ও টক্সিক স্নেহ বেশী পাই আমি। এটাই একমাত্র যাপিত জীবনের সৌভাগ্য।





মন্তব্য করুন