আমি ঘরের হইনি বাহির আমায় টানে!
এমনিতেই কচ্ছপ গতির ইন্টারনেটে দিন চলে না তার ভিতরে জিপির মডেমও কানেক্ট হয় না। কি দিনকালে আছি আজ নিতান্তই কপালগুনে জিপি মডেম কানেক্ট হলো। তাই ভাবলাম পোষ্টটা লিখে ফেলি। কিন্তু জিপির নেট তাই ২০ মিনিটে পেজ লোড হলো। কি যে ধৈর্য নিয়ে থাকি তা পাবলিকরে কেমনে বুঝাই!
যাই হোক দিনগুলো কাটছে মন্দ না। সপ্তাহে দুইদিন ক্লাস থাকে করা হয় ঝামেলা ছাড়াই। তার ভিতরে গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে চারদিনের জন্য গেলাম চিটাগাং। কোন কারন ছাড়াই এ সফর। আমার বন্ধু রেজা সে যাবেনা তার টিকেটে বেহুদা চলে গেলাম আমি বাসায় না জানিয়ে। বাসায় না জানিয়ে মানে আব্বু আম্মুকে না বলে আর মামাকে উল্টা বুঝ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া। যদিও এর ভিতরে এডভেঞ্চার নাই তবুও আমি এডভেঞ্চার অনুভব করি। দুপুরে এসি ওয়ালা সিট সুবর্নে বসে গেলাম খুব সহজে যদিও প্রচন্ড জ্যাম ও ফরিদী সাহেবের মরার খবর পেয়ে মন মেজাজ খুব একটা ভালো ছিলো না তাও ঠিকঠাক মতোই চললো। ট্রেন ছাড়লো সময় মতোই জামালপুরের ট্রেনের মতো না। সর্ব শেষে সিট আমার বগিতে পাশে কেউ নাই অবশ্য আশাও করি নাই। সামনে আসলো সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা পরিবার। ব্যাটম্যান টাইপের লোকেরা স্যার স্যার বলতে ৬-৭টা লাগেজ তুললো। সামনে বসলো তাদের দুই গুনোধর ছেলে। তারা তো পুরাই অস্থির ট্রেনের ভিতরে কিউবির মডেম নিয়ে ল্যাপটপ আইপ্যাড খুলে পুরাই টেকি। আর খালি কিচির মিচির সুরে ইংরেজীতে ফাল পারতেছে। কথায় কথায় খালি লুক দিছ সাইড,লুক আদার সাইড বলতেছে। আমি কী আর করা মনের দুঃখে বনের যাওয়ার অবস্থা নিয়ে নোকিয়া হেডফোন লাগিয়ে গান শুনি ফকিরা সেটে। পেপারটেপার কিনে পড়তে পড়তে এসে পড়লাম চিটাগাং। তবে মধ্যে ডিস্টার্ব দিছে ট্রেনের খাবারওয়ালা তার অস্থির বিভিন্ন খাবারের প্রলোভনে আমি রাজি হই না। ট্রেনে আমি চা বাদে কিছুই খাই না তাও সে খাওয়াবেই আমিও নিলাম নায়ক দেবের মতো চ্যালেঞ্জ। সে যতবার সাধে আমি ততজোরে মানা করি। পরে সে আমারে বলেই ফেললো মামা আপনি খুব কিপটা নয়তো ঘাউরা কিসিমের লোক। আমি বললাম আপনার মনে যা লয়!
রাত ১০টার সময় পৌছেই দেখি আমার অপেক্ষায় আমার দুই দোস্তো বসে আছে প্রটোকল নিয়ে। নিজেরে তখন পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফী মিজানের মতোই ভাবের লোক মনে হয়তেছিলো। তারপর যখন দেখি বাইরে সিএঞ্জি খাড়ানো নিজের তখন এমন ভিয়াইপি মনে হচ্ছিলো যেনো চিটাগাং শহরটা আমার বাপের। গেলাম উঠলাম কামরূলের বাসায়। ট্রেন থেকে নেমে মনে হচ্ছিলো আমি খুব টায়ার্ড কিন্তু বাসাতে ঢুকেই দেখলাম সমস্ত ক্লান্তি শেষ। রাত তিনটা পর্যন্ত কামরুলের সাথে গুটুর গুটুর করে প্যাচাল পারতেই থাকলাম। তাও দেখি ঘুম আসে না কথাও শেষ হয় না। সকালে বের হয়েই দেখি বেকার সমিতির লোকজন সব হাজির। তারা এক মামার দোকানে আড্ডা দেয়। সেই মামার চা অতীব জঘন্য। ভয়াবহ রকমের অপরিস্কার কাপে থার্ড ক্লাস চা। যেহেতু চায়ের দোকানেই আমি দিন পার করি তাই এই সব চা খেতে খুব বিরক্ত লাগছে তাই চা পান করছি আর ফ্লাজীল ৪০০ মিলিগ্রাম খাইছি আল্লাহ না করুক যদি কিছু সমস্যা হয়।
এইভাবে চায়ের দোকান,পুরির দোকান,১৫ নাম্ভার এয়ারপোর্ট, পতেঙ্গা সী বিচ আর নেভী হাসপাতাল গেইটের বনফুল এইভাবেই দিন গেছে আড্ডায়। খুব বেশী লোককে জানায় নেই যে আমি চিটাগাং। যাদেরকে এমনিতেই পাওয়া গেছে তাদের সাথেই বসেছি। পোলাপাইন বেশীর ভাগ ইপিজেডের বিভিন্ন প্রতিষ্টানের অফিসার তাদের অফিসের গল্প শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা। তাও শুনছি কারন ওরা তো আর আমার মতো গল্পপুর্ন জীবন যাপন করে না।এই ভাবেই তিন দিন গেলো!
মহাধরা খেলাম চতুর্থ দিন এসে দেখি আমার সাবেক গার্লফ্রেন্ড আর তার বর্তমান এয়ারফোর্স অফিসার জামাই নিয়ে আমার দিকেই দাত কেলাতে কেলাতে আসতেছে। আমি কোন দিকে পালাবো নাকি না চেনার ভান করবো তা ভাবতে ভাবতেই শুনি ডাক "জাকারিয়া"। জাকারিয়া নামটা আবার আরেক ইতিহাস। আমার মায়ের দেয়া পুরা নাম ছিলো আলী আরাফাত জাকারিয়া। ডাকনাম শান্ত। খূলনা নেভী স্কুল থেকে ক্লাস সেভেনে ট্রান্সফার হয়ে টিসি নেয়ার সময় মহাকাবিল হেডমাস্টার বললো এত বড় নাম দিয়ে কি করবি তাই জাকারিয়া বাদ। ব্যাস জীবন থেকেই জাকারিয়া হাওয়া খালি বন্ধুরাই ডাকতো। কিন্তু সাবেক গার্লফ্রেন্ড তো শান্ত নামেই ডাকতো ২০০৮ সালে বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত। হয়তো হাজবেন্ডের সাথে তাই নিজের মডারেট করার জন্য ডাকলো। বস্তুত ২০০৮ এর পর থেকে তাকে আমি সতর্কতার সাথে এড়িয়ে চলি। কিন্তু সেই দিন কিভাবে ধরা খেয়ে গেলাম বুঝলাম না। তার বিবাহ হয়েছে দেড় বছর যাবত। আমি যখন ধর্মভীরু জীবন যাপন করি তখন সে আমাকে নাস্তিকতার বয়ান টয়ান দিতো এখন দেখি সেই হিজাব টিজাব পড়ে অস্থির অবস্থা। পরিচয় করিয়ে দিলো তার সোয়ামীর সাথে। সেই বলদ কয় আপনার কথা অনেক শুনেছি। আপনি তার সেরা বন্ধু ছিলেন এই কথা নাকি প্রায় বলে। আমি কইলাম বন্ধু আর কই ছিলাম এইতো ক্লাসমেট ভালো চেনাজানা (কত বড় মিছা কথা)। আমাকে ই্ন্টারভিউএর মতো জিগেস করলো বর্তমান খোজ খবর। আমি মাথা নিচু করে সব প্রশ্নের উত্তর দিলাম। মেয়ে বলে চাকরি করতেছো না কেনও? তোমার রেজাল্ট তো খুব ভালো আমি মনে মনে কই বেটি তুই কি বুঝবি আমার যন্ত্রনা বুঝলে তো আর হাত ছাড়তি না। সে হাসতে হাসতে বললো তুমি মোটেও দুনিয়াবী ছেলে না ভালোই করছি। এই কথা শুনে মেজাজটা প্রচন্ড মেজাজ খারাপ হলো রিপিট একটা দিতাম কিন্তু তার স্বামী উপস্থিত তাই কিছু না বলে বিদায় নিয়ে আসলাম। আমার এই ঘটনা শুনে পোলাপাইনের সেকি আনন্দ। আর গন পচানির শিকার হয়ে চুপ থাকলাম। যখন ছিলাম চিটাগাং এ তখন বন্ধু কামরুলের দুঃখের দিন। তার গার্লফ্রেন্ড সুমী যদিও সে প্রেম অস্বীকার করে তবুও তার বিয়ে। সুমী হিন্দু কামরুলে রো কোনকিছুই অনুকুলে না। তবুও সুমী বলছিলো যদি মনে করো আমাকে বিয়ে করতে পারবে তবে এক কাপড়ে বের হয়ে আসবো। কামরুলকে আমি অনেক সাহস দিলাম বললাম আমি তো আছি। কিন্তু কামরুল তার দুই ছোটবোনের দ্বায়িত্বের কথা মেনে নিয়ে কিছুই আর করলো না। আসলে জীবনে এই সব আসবেই এই সব নিয়েই চলতে চলতে এরচেয়ে কতো বড় বড় শোকে বিপর্যস্ত হতে হয়। তাই টেনশন নিলেই টেনশন, না নিলে কিছুই না। এই সব বুঝটুঝ দিয়ে পাচ দিনের মাথায় আমি এসে পড়লাম ঢাকায় বাসে করে। আর কানে ধরলাম সামনে চিটাগাং এ আসলে খুব সাবধান থাকতে হবে!
শিরোনামটা লিমনের গান থেকে নেয়া। আমার সাথে মিলে যাওয়া এই অসাধারন গানটা খুব অনুভব করি/





সমস্যা তোমার পিসি'র বা এলাকার। হুদাই জিপির দোষ পারো কেন? আমি গত চাইর বছরে জিপির নেটে সেরকম মেজর কোনো প্রবলেম পাইনাই।
আমি দুর্ভাগা তাই আড়াই বছর যাবত গ্রামীনের মডেম চালাই খালি সমস্যাই।আমার পিসিতে হালকা পাতলা সমস্যা থাকতে পারে কিন্তু সমস্যা গ্রামীনেরই!কিন্তু গ্রামীন ছাড়া উপায় নাই!
ঘুরার চান্স না পাওনে ২০০৮ সালটা আমার খুব খারাপ কাটছে কিন্তু এখন সুখেই আছি!
তোমার এইসব প্যাচঘোচহীন মনের কথা'ওলা লেখাগুলা বেশ পছন্দের
জীবনের প্রতি তোমার পর্যবেক্ষণ আমাকে বরাবর মুগ্ধ করে।
জীবনের প্রতি না বলে ঘটণাবলীর প্রতি বললে কথা টা সম্পূর্ণ হয়। তোমার নতুন লেখা পাওয়া আমরা ব্লগ পড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
ধন্যবাদ আপু। আপনাদের এই ভালোবাসা মুগ্ধ করে খুব!
কথাটার সাথে একমত।
=================
সহমত জানানোর জন্য মুবারকবাদ। খানাপিনা কেমন চলতেছে?
জীবন
বড়ই মর্মান্তিক!
হাত ধরে নাই বাইচা গেছো
যা হইছে ভালোই হইছে বা আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে!
তোমার লেখাগুলো পড়তে ভীষণ ভালো লাগে। অকপটে কত কি বলে যাও! নিয়মিত লিখো।
থ্যাঙ্কস আপু। চেষ্টা করবো।
ভালো থাকেন!
আপনার লেখা খুবই ভালা পাইলাম আরাফাত শান্ত।
আগের দিনে পুরোনো বান্ধবী জামাইয়ের সাথে পুরোনো বন্ধুকে পরিচয় করাতে বাধ্য হলে পরিচয় দেয়ার ধরণ ছিলঃ "আমি যে ক্লাসে পড়তাম সেও ওই ক্লাসে পড়তো" কিংবা "আমি যে ইউনিতে পড়তাম উনিও ওই ইউনিতে পড়তেন"। এখন দেখি ধরণ বদলেছে।
জীবন নদীর মত, চলার পথে কত বাঁক পড়বে...ফিরে তাকানোর সময় কোথায়?
~
হুমম এখন দিনকাল ভালোই বদলেছে। এরকম সেইম কেসে আমার এক বন্ধু সহজেই বলে দিছে ও আমার বন্ধু নাহিদ। কলেজে চুটিয়ে প্রেম করেছি আমরা!
তোমার ট্রেনের খাবারওয়ালার অবস্থা আমার প্রায় হয়। প্রতি বছর আমার জন্মদিন আমার মনে থাকে না, নানা সংস্থা থেকে ফোন করে আমাকে দশটাকার জিনিস পাঁচ টাকায় উপহার দিতে চায়।
আর একবার দিল্লি ঘুরতে গেছি আমরা মিয়া বিবি, আমরা নিজেরা নিজেরা ঘুরতে চাই, ট্যুরিষ্ট গাইড নাছোড়বান্দা, বিরক্ত হয়ে আমাকে বলছে, ঠিক আছে দিদি, আপনাকে আমি মুফতে ম্যা ঘুরিয়ে দেখাচ্ছি।
গার্ল ফ্রেন্ডের জায়গাটা মহা জোশ হয়েছে। মাইন্ড খাইয়ো না, কারো পৌষমাস, কারো সর্বনাশ
সর্বনাশ না যা হয়ে গেছে তা মেনে নিছি মেলা আগেই। এখন সুখেই আছি নিজের মতো দিন যাপন করে!
বাংলাদেশের ট্রেনে একরকম জোর জবরদস্তি করে তাই তখনি মেজাজ টা খারাপ হয় কারন একে তো নিম্নমানের খাবার তারপর আবার বিশাল দাম প্যাকেজসহ!
“দুনিয়াবী ছেলে না” – বাক্যটা অসাধারণ...।

আর লেখাটি খুব ভালো লেগেছে।
এই গান টা অসাম।
ট্রেনে আমিও চা ছাড়া আর কিছু খাইনা খুব একটা, মনে হয় সবাই তাকায়া থাকে!
মন্তব্য করুন