এই মোটামুটির উপর পার করা একটা দিন!
লিখতে চাচ্ছিলাম আরেক জিনিশ কিন্তু এখন আর তা লেখতে মন টানছে না। আর জানাযার নামায পড়ে এসে কারো মন মেজাজ ভালো থাকবে এইটা শাওনের জামাই এর লেখা উপন্যাসের হিরোদের পক্ষেই সম্ভব আমার জন্য না। আমি গড় পড়তা একজন মানুষের চেয়েও সাধারন মানুষ তাই জানাযার নামায পড়ে এসে আমার মন ভালো থাকেনা। কিছুদিন আগে আমি মসজিদ ভাঙ্গা নিয়ে কিছু লেখছিলাম সেই মসজিদেরই বড় ইমাম মারা গেছে। সকাল বেলাতেই এই খবর পেয়েই ৭ টায় ঘুম ভাঙ্গছে। যিনি মারা গেছেন তিনি নোয়াখালীতে। তার লাশ সন্ধ্যায় আসবে তার বানানো মসজিদ মাদ্রাসার সামনে। তিনি কেমন লোক ছিলো আমি জানি না জানতেও চাই নাই কোনদিন। খালি আমার আর পুলকের সাথে দেখা হলেই বলতো বাজান আফনে কেমন আছেন? তার বলার স্টাইলে এত আন্তরিক যে মন খারাপ থাকলেও তাকে খুশি করার জন্য বলতে হয় জী হুজুর খুব ভালো আছি। দুই বন্ধু যেহেতু মসজিদের বিভিন্ন কাজ কামে জড়িত ছিলাম তাই কথা হতোই। উনি পুলকরে প্রায় বলতো বাজান আপনাদের মতো এডুকেটেড জোয়ান পোলারাই তো কিছু করতে পারবে। এই বুড়া ধুরা মাদ্রাসার পুলাপান দিয়া কিচ্ছু হয় না। পুলক আর আমি হাসতাম খালি। সেই লোকের জানাযার নামায পড়তে গেলাম হায়রে ভীড়। লোকজন লাশ দেখার সে কী আগ্রহ এইটা দেখে হলো মেজাজ খারাপ। লাশ দেখার ভিতরে কি শান্তি তা পাবলিকই বুঝে। কি শহীদ মিনার কি মোহাম্মদপুর সব জায়গাতেই এক কেস। ৮-৯ হাজার মানুষ ছিলো ঘেমে টেমে পুরা অস্থির অবস্থা। দাফন কাফনের কোনও গেঞ্জামে আমি কোনোদিন থাকি না তাই ফিরে আসলাম চায়ের দোকানে।
সেইখানেও ট্রাজেডী মোবাইল কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেটের গোয়ার্তুমিতে চায়ের দোকানটা ভেঙ্গে দিছে। তাই এখন ভাঙ্গা দোকানেই বসে চা খেতে হয়। চা খেতে খেতে মনে হয় যে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় কোনো চায়ের দোকানে বসে আছি। এই চায়ের দোকানে আবার কিছু বিরক্তিকর তরুন সমাজের আবির্ভাব হইছে। তারা একেকজন বাল খালি বড় বড় ফাপর। শালার বেটারা লন্ডন থেকে পইড়া আসছস বলে তোরা কী দুনিয়ার সব কিছু বেশী বুঝছ? চলতেছিলো ভালোই এর ভিতরে নাম মন্ট্রিল আমি ডাকি ওয়ালটন আবাল সে করতেছিলো বঙ্গবন্ধু নিয়ে তামাশা টিটকারী শেষে কইলো তিনি নাকি হিন্দুর সন্তান হাবিজাবি। আমি এই সব ক্ষেত্রে মেজাজ ঠান্ডা রাখতে পারি খুব কিন্তু জানাযার নামায আর গরমে মেজাজ খারাপ থাকার কারনেই সেই মন্ট্রিলরে কইলাম ভাই আপনে লন্ডনে থেকে পইরা আসেন আর যেইখান থেকেই আসেন থাকেন তো সোসাইটী ৮ এর ২২ নম্বর বাড়িতে সাত তলায়। চা বিড়ি খাইতেছেন খান যদি এরপর কোনোদিন এই সমস্ত কথা বলতে শুনি আল্লাহর কসম আপনারে আমি মাইর দিয়ে এই পচা খালে চুবাবো। আমি খালি আশায় ছিলাম একটা রিপিট দিক টেনসন ছাড়া পিটাবো। কিন্তু শান্তর কোনো আশাই পুরন হয় না তাই এইটাও হলো না। ছেলে সরী টরি বলে চলে গেলো। লোকজন যারা ছিলো তারা ভাবতে পারে আমি মনে হয় লীগ করি বা বড় নেতা খেতা। লীগের প্রতি আমার যে পরিমান ঘৃনা পোষন করি তা যদি হালারা বুঝতো কোনোকালে। এই সব ঝামেলা টামেলা নিয়েই জিগাতলায় আসলাম বন্ধু মাইজদি যাবে বাসে তুলি দিতে রিকসায় যাচ্ছিলাম দেখলাম নুরজাহান রোডে গার্লস স্কুলের সামনে নতুন বানানো ফাস্টফুডের দোকানের সামনে এক গেঞ্জাম। দেখলাম গেঞ্জামকারী এক সাইটরে চিনি। বন্ধু অমির ফ্রেন্ড। নাম তামজীদ ব্র্যাকে পড়ে আমারে খুব একটা পাত্তা দেয় না। ছেলে তার গার্ল ফ্রেন্ডকে নিয়ে খাচ্ছিলো এলাকার পোলাপাইন টিজ মিজ করছে। আমি বন্ধু আবিরকে বললাম আমাদের কি কিছু করার আছে দাড়া রিকশা থামাই। নেমেই তো শুরু করলাম ভাব ভাই আপনাদের সমস্যা কি? আবির তো অসীম সাহসী ছেলে সে ধাম করে বললো সময় থাকতে ভাই সরী বলেন ক্ষমা চান নইলে কেমনি তা করাতে হয় তা আমরা জানি। সাথে সিয়াম নামে এক ছেলে আবিরের বন্ধু তারে ফোন দিলাম। তার বাসা পাশেই এলাকার পাতি নেতা সেও ভাব নিয়ে এসে শুরু করলো গালিগালাজ। পোলাপান সব ঠান্ডা। ১৫ মিনিটে কেস সল্ভড। ছেলেটা আমার হাত ধরে বললো ভাইয়া থ্যাঙ্কস অমিকে কারন ওর কারনেই একটা গ্যাঞ্জাম থেকে বাচালেন! থামিয়ে রাখা রিকসায় উঠে জিগাতলায় এসে বন্ধুকে নামিয়ে দিয়ে সেই রিকসাতেই বাসায় ফিরলাম। ফাকা রাস্তায় বিশাল চাঁদ আর বাতাস খেতে খেতে ভাবতেছিলাম জীবনটা কত সুন্দর। কত চমৎকার এই রাতটা। এইটা ভাবতেই ভাবতেই সারাদিনের সব মন খারাপ করা ঘটনাগুলো হারিয়ে গেলো নিমিষেই। এখনোতো ভালোই আছি কত চমৎকারভাবে দিন গুলো কাটছে। এই হলো মোটামুটি ভালো খারাপ মিশিয়ে পার করা একটা দিন!





প্রতিটা দিন এমন এমন করেই যায়। ভালোয় মন্দয়।
ধন্যবাদ ভাই। আপনার দিন কাটুক ভালোয় ভালোয়!
তোমার ব্লগের লেখা আর ফেসবুকের কর্মকান্ড দেখে মাঝে মাঝে ভাবি তোমার নাম শান্ত কে রেখেছিলো?
ছোটোবেলায় তো শান্ত ছিলাম কানতাম না সহজে তাই মায়ে নাম রাখছে শান্ত। বাপ মা মুরুব্বীদের সামনে আমি শান্তই থাকি। কিন্তু ফেসবুক ব্লগ নিজের পরিচিত গন্ডীতেই খালি একটু অস্থির। আর বন্ধু পরাগ বলে শান্ত নামের কোনো ছেলেই সাধারনত শান্ত হয় না!
পারফেক্ট ওয়েব্লগ
ধন্যবাদ ভাইজান। পারফেক্ট নাকি ডিফেক্ট জানি না লেখি নিজের মনে যা চায় যা করি তাই বলি!
সাবলীল.... চমৎকার। তোরে দেখলে মনে হয়না- তুই পোলাটা এরাম
আপনারা বড় ভাই মানুষ আপনেদের সামনে সুবোধ শান্ত ভদ্র বেকুব ছেলে হিসেবে থাকারই চেষ্টা করি(এম্নিতেও তাই)!
পারফেক্ট ওয়েব্লগ। লাইক করলাম।
ধন্যবাদ ভাইজান। শুভকামনা!
নিজে সুস্থ আছো জেনে ভাল লাগলো
সুস্থ আছি ভালো আছি মন মেজাজটা একটু খারাপ!
পড়িলাম ভ্রাত, আপনার সাবলীল ঝরঝরা নয়া লেখা।
থ্যান্কু আপু। আপনারা ভালো পান তাই তো এইসব আবুল মারকা কথা বারতা ব্লগে লিখে দেই!
ভালোমন্দের মিশানো দিনগুলো আছে বলেই লাগে বেচেঁ আছি সুখদুঃখ নিয়ে, যদি কেবল ভালো থাকাই থাক্তো ঝামেলাহীন, তাইলে কি একঘেয়ে পানসে হতো না জীবনটা!
ব্লগটা ভাল্লাগছে।
আপনার দিনকাল গুলো যেনো আরেকটু কম কষ্টে কাটে তাই কামনা করি আপু!
ভাই দেখা যায় চমৎকার ঝারি দেন। লাইক দিলাম।
অতো ভালো আর দিতে পারি কই? মেজাজটা খুব গরম থাকলেই শুধু এমুন ঝারি দিতে পারি!
আনন্দময় এবং প্রতিবাদী
ধন্যবাদ!
শান্তর লেখা আমার খুবই পছন্দ।
আপনার ঝালশো লেখালেখি সাথে মুভি নিয়া প্যাচাল আমার তার চেয়েও কয়েকশো গুন বেশী পছন্দ।
ভালো থাকেন ভাইয়া শুভকামনা। শরীর মন রঙ্গরসে ভরা থাকুক
মন্তব্য করুন